রাষ্ট্রপতিরসচিবালয়
ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী দ্রৌপদী মুর্মুর সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে ভাষণ
प्रविष्टि तिथि:
25 JAN 2026 7:50PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬
আমার প্রিয় দেশবাসী,
নমস্কার!
আমরা, দেশ এবং বিদেশে বসবাসকারী ভারতের জনগণ, উৎসাহের সঙ্গে সাধারণতন্ত্র দিবস উদযাপন করতে যাচ্ছি। আপনাদের সবাইকে জাতীয় সাধারণতন্ত্র দিবসে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।
সাধারণতন্ত্র দিবসের পবিত্র উৎসব আমাদের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতে দেশের অবস্থা এবং দিকনির্দেশ অবলোকনের সুযোগ এনে দেয়। স্বাধীনতা সংগ্রামের শক্তিতে, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট, আমাদের দেশের অবস্থা পরিবর্তিত হয়েছিল। ভারত স্বাধীন হয়েছিল। আমরা আমাদের জাতীয় ভাগ্যের স্থপতি হয়েছিলাম।
১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে, আমরা আমাদের সাধারণতন্ত্রকে সাংবিধানিক আদর্শের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। সেই দিনে, আমরা আমাদের সংবিধানকে সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করেছি। গণতন্ত্রের মাতৃভূমি, ভারতভূমি, ঔপনিবেশিক আইন ও বিধিবিধান থেকে মুক্ত হয়েছিল এবং আমাদের গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র অস্তিত্ব লাভ করেছিল।
আমাদের সংবিধান, বিশ্ব ইতিহাসের বৃহত্তম সাধারণতন্ত্রের মৌলিক গ্রন্থ। আমাদের সংবিধানে নিহিত ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সাম্য এবং সৌভ্রাতৃত্বের আদর্শ আমাদের সাধারণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করে। সংবিধানের প্রণেতারা জাতীয়তাবাদ এবং জাতীয় ঐক্যের চেতনাকে বিভিন্ন সাংবিধানিক বিধানের শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করেছেন।
লৌহপুরুষ সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আমাদের জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। গত বছর, ৩১শে অক্টোবর, কৃতজ্ঞ দেশবাসী তাঁর ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উৎসাহের সঙ্গে উদযাপন করেছে। তাঁর ১৫০তম জন্মবার্ষিকীর শুভ উপলক্ষ্যে স্মরণ অনুষ্ঠান পালিত হচ্ছে। এই উদযাপনগুলি দেশবাসীর মধ্যে জাতীয় ঐক্য এবং গর্বের অনুভূতিকে শক্তিশালী করে। উত্তর থেকে দক্ষিণ এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে, আমাদের প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐক্যের ঐতিহ্যকে আমাদের পূর্বপুরুষরা বুনেছিলেন। জাতীয় ঐক্যের স্বরূপগুলিকে সজীব রাখার প্রতিটি প্রচেষ্টা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
গত বছরের ৭ই নভেম্বর থেকে, আমাদের জাতীয় সঙ্গীত 'বন্দে মাতরম' রচনার ১৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষেও উদযাপন করা হচ্ছে। ভারত মাতার ঐশ্বরিক রূপের স্তোত্র এই গানটি মানুষের হৃদয়ে দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলে। জাতীয়তাবাদের মহান কবি সুব্রহ্মণ্য ভারতী তামিল ভাষায় "বন্দে মাতরম ইয়েনবোম" গানটি রচনা করে বন্দে মাতরমের চেতনাকে আরও বিস্তৃত পরিসরে জনমানসের সঙ্গে জুড়েছিলেন, যার অর্থ "আসুন আমরা বন্দে মাতরম বলি।" অন্যান্য ভারতীয় ভাষায়ও এই গানের অনুবাদ জনপ্রিয় হয়েছিল। শ্রী অরবিন্দ "বন্দে মাতরম" ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন। ঋষিতুল্য বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত "বন্দে মাতরম" আমাদের রাষ্ট্রবন্দনার কণ্ঠস্বর।
দুই দিন আগে, ২৩শে জানুয়ারি, দেশবাসী নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছে। ২০২১ সাল থেকে, নেতাজির জন্মজয়ন্তীকে "পরাক্রম দিবস" হিসেবে পালন করা হয় যাতে দেশবাসী, বিশেষ করে যুবসমাজ, তাঁর অদম্য দেশপ্রেম থেকে অনুপ্রেরণা লাভ করে। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর 'জয় হিন্দ' স্লোগান আমাদের জাতীয় গর্বের ঘোষণা।
প্রিয় দেশবাসী,
আপনারা সকলেই আমাদের প্রাণবন্ত প্রজাতন্ত্রকে শক্তিশালী করে তুলছেন। আমাদের তিন সশস্ত্র বাহিনীর সাহসী সৈনিকরা মাতৃভূমি রক্ষার জন্য সর্বদা সজাগ থাকেন। আমাদের কর্তব্যনিষ্ঠ পুলিশকর্মী এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা দেশবাসীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর থাকেন। আমাদের অন্নদাতা কৃষকরা, দেশবাসীর জন্য পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী উৎপাদন করেন। আমাদের দেশের কর্মঠ এবং মেধাবী মহিলারা অনেক ক্ষেত্রে নতুন নতুন কীর্তি স্থাপন করছেন। আমাদের নিবেদিতপ্রাণ ডাক্তার, নার্স এবং সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মী আমাদের দেশবাসীর স্বাস্থ্যের যত্ন নেন। আমাদের নিষ্ঠাবান সাফাই মিত্ররা দেশকে পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আমাদের প্রবুদ্ধ শিক্ষকরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গঠন করেন। আমাদের বিশ্বমানের বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশলীরা দেশের উন্নয়নের নতুন দিকনির্দেশ করেন। আমাদের পরিশ্রমী ভাইবোনেরা দেশ পুনর্গঠন করেন। আমাদের মেধাবী যুবসমাজ এবং শিশুরা নিজেদের প্রতিভা এবং অবদানের মাধ্যমে দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করে। আমাদের প্রতিভাবান শিল্পী, কারিগর এবং লেখকরা আমাদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যগুলিকে আধুনিক অভিব্যক্তি দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা দেশের বহুমুখী উন্নয়নকে পথ দেখাচ্ছেন। আমাদের প্রাণশক্তিতে ভরপুর শিল্পোদ্যোগীরা জাতির উন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরতায় অবদান রাখছেন। নিঃস্বার্থভাবে সমাজের সেবা করা ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানগুলি অসংখ্য মানুষের জীবনে আলো সঞ্চার করছে। সরকারি ও বেসরকারি অফিস এবং প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল কর্তব্যনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ দেশ গঠনে তাঁদের সেবা উৎসর্গ করছেন। জনসেবায় নিবেদিতপ্রাণ জনপ্রতিনিধিরা দেশবাসীর আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কল্যাণ ও উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন করছেন। এভাবে, সকল সচেতন ও সংবেদনশীল নাগরিক আমাদের প্রজাতন্ত্রের অগ্রগতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। আমাদের প্রজাতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করা সকল দেশবাসীকে আমি আন্তরিকভাবে প্রশংসা জানাই। প্রবাসী ভারতীয়রা বিশ্ব মঞ্চে আমাদের গণতন্ত্রের ভাবমূর্তিকে গৌরব প্রদান করেন। আমি তাঁদেরকে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই।
প্রিয় দেশবাসী,
আজ, ২৫শে জানুয়ারি, আমাদের দেশে জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে পালিত হয়। আমাদের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকরা জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য উৎসাহের সঙ্গে তাঁদের ভোট দেন। বাবাসাহেব ডঃ ভীমরাও আম্বেদকর বিশ্বাস করতেন যে ভোটাধিকার প্রয়োগ রাজনৈতিক শিক্ষা সুনিশ্চিত করে। আমাদের ভোটাররা, বাবাসাহেবের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তাঁদের রাজনৈতিক সচেতনতা প্রদর্শন করছেন। ভোটদানে মহিলাদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ আমাদের প্রজাতন্ত্রের একটি শক্তিশালী দিক।
মহিলাদের সক্রিয় ও সমর্থ হওয়া দেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তাঁদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জাতীয় প্রচেষ্টার ফলে অনেক ক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। "বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও" অভিযান মেয়েদের শিক্ষাকে উৎসাহিত করেছে। ‘প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা’র অধীনে এখন পর্যন্ত ৫৭ কোটিরও বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যার মধ্যে মেয়েদের অ্যাকাউন্ট প্রায় ৫৬ শতাংশ।
আমাদের বোন ও কন্যারা পরম্পরাগত কুসংস্কারগুলি ভেঙে এগিয়ে যাচ্ছেন। মহিলারা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখছেন। ১০ কোটিরও বেশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত বোনেরা উন্নয়নকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছেন। মহিলারা মাঠ-ঘাট থেকে মহাকাশ পর্যন্ত, স্ব-রোজগার থেকে শুরু করে সশস্ত্র বাহিনী পর্যন্ত তাঁদের প্রভাবশালী পরিচিতি গড়ে তুলছেন। খেলাধুলার ক্ষেত্রে, আমাদের কন্যারা বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন কীর্তি স্থাপন করেছেন। গতবছর নভেম্বরে, ভারতের কন্যারা আইসিসি মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপ এবং তারপরে দৃষ্টিহীন মহিলাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে সোনালি ইতিহাস রচনা করেছেন। গত বছরই, দাবা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ ভারতেরই দুই কন্যার মধ্যেই খেলা হয়েছিল। এই উদাহরণগুলি ক্রীড়া জগতে আমাদের কন্যাদের আধিপত্যের প্রমাণ। এহেন কন্যাদের জন্য দেশবাসী গর্বিত।
পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠানগুলিতে মহিলা জনপ্রতিনিধিদের সংখ্যা প্রায় ৪৬ শতাংশ। মহিলাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নকে নতুন উচ্চতা প্রদানকারী 'নারী শক্তি বন্দন আইন', মহিলাদের নেতৃত্বের মাধ্যমে উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গিকে অভূতপূর্ব শক্তি প্রদান করবে। উন্নত ভারত গঠনে মহিলারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাঁদের ক্রমবর্ধমান অবদানের মাধ্যমে, আমাদের দেশ লিঙ্গ সমতার উপর ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রজাতন্ত্রের উদাহরণ স্থাপন করবে।
অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে, সুবিধাবঞ্চিতদের কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য অসংখ্য প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। গত বছর, ১৫ নভেম্বর, দেশবাসী, ধরতি আবা ভগবান বিরসা মুন্ডার জন্মজয়ন্তীর দিন পঞ্চম "জনজাতি গৌরব দিবস" উদযাপন করেছে এবং ১৫০তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে উদযাপিত উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। "আদি কর্মযোগী" অভিযানের মাধ্যমে, জনজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে নেতৃত্বের দক্ষতা গড়ে তোলা হয়েছে।বিগত বছরগুলিতে, সরকার জনজাতি সম্প্রদায়ের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে দেশবাসীকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য জাদুঘর নির্মাণ সহ অসংখ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁদের কল্যাণ ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। " জাতীয় সিকেল সেল অ্যানিমিয়া নির্মূল মিশন" এর অধীনে, এখন পর্যন্ত ৬ কোটিরও বেশি স্ক্রিনিং করা হয়েছে। একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয়গুলিতে প্রায় ১,৪০,০০০ শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করছে এবং অনেকেই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। এই ধরনের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অভিযান জনজাতি সম্প্রদায়গুলির ঐতিহ্য এবং উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। 'ধরতি আবা জনজাতি গ্রাম উৎকর্ষ অভিযান' এবং 'প্রধানমন্ত্রী-জনমন যোজনা'র মাধ্যমে পিভিটিজি সম্প্রদায় সহ সকল জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়ন হয়েছে।
আমাদের অন্নদাতা কৃষকরা, আমাদের সমাজ এবং অর্থনীতির মেরুদণ্ড। পরিশ্রমী কৃষকরা কয়েক প্রজন্ম ধরে আমাদের দেশকে খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন। তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই আমরা কৃষি পণ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছি। অনেক কৃষক সাফল্যের চিত্তাকর্ষক উদাহরণ স্থাপন করেছেন। আমাদের কৃষকরা যাতে তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান, রেয়াতি সুদে ঋণ পান, কার্যকর বিমাসুরক্ষা পান, কৃষির জন্য ভালো বীজ পান, সেচের সুবিধা পান, অধিক উৎপাদনের জন্য সার পান, তাঁদেরকে যাতে আধুনিক কৃষি পদ্ধতিগুলির সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং জৈব চাষকে উৎসাহ জোগানো হয়, এইসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। 'প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি' আমাদের কৃষক ভাই-বোনদের অবদানকে স্বীকৃতি দেয় এবং তাঁদের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।
বহু দশক ধরে দারিদ্র্যের সঙ্গে যুঝতে থাকা কোটি কোটি দেশবাসীকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে তুলে আনা হয়েছে। একইসঙ্গে সেই প্রয়াসও চালানো হচ্ছে, যাতে তাঁরা আবার দারিদ্র্য পীড়িত না হন। অন্ত্যোদয়ের চেতনাকে বাস্তবায়িত করা বিশ্বের বৃহত্তম প্রকল্প, "প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যাণ অন্ন যোজনা", এই ভাবনার উপর ভিত্তি করে তৈরি যেন আমাদের ১৪০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার দেশে কেউ ক্ষুধার্ত না থাকেন। এই প্রকল্পটি প্রায় ৮১ কোটি সুবিধাপ্রাপককে সহায়তা প্রদান করছে। দরিদ্র পরিবারের জন্য বিদ্যুৎ, জল এবং শৌচাগার সুবিধা সহ চার কোটিরও বেশি পাকা ঘর নির্মাণ করে, তাঁদের একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবন এবং অগ্রগতির ভিত্তি প্রদান করা হয়েছে। দরিদ্রদের কল্যাণের জন্য এই ধরনের প্রয়াস মহাত্মা গান্ধীর সর্বোদয়ের আদর্শকে বাস্তবায়িত করে।
বিশ্বের বৃহত্তম যুব জনসংখ্যা আমাদের দেশে রয়েছে। এটা গর্বের বিষয় যে আমাদের যুবসমাজের মধ্যে প্রচুর প্রতিভা রয়েছে। আমাদের তরুণ স্ব-উদ্যোগী, ক্রীড়াবিদ, বিজ্ঞানী এবং পেশাদাররা দেশে নতুন প্রাণশক্তি সঞ্চার করছেন এবং বিশ্বব্যাপী তাদের পরিচিতি তৈরি করছেন। আজ, আমাদের যুবসমাজের একটি বিশাল অংশের স্ব-কর্মসংস্থান সাফল্যের চিত্তাকর্ষক উদাহরণ তৈরী করছে। আমাদের যুবসমাজ আমাদের দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রার পতাকা বহন করে নিয়ে চলেছে। 'মেরা যুবা ভারত' বা 'মাই ভারত' প্রযুক্তি- নির্ভর এক অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা। সেটি নেতৃত্ব এবং দক্ষতা উন্নয়ন সহ অনেক ক্ষেত্রে সুযোগের সঙ্গে যুবসমাজকে সংযুক্ত করে। আমাদের দেশে স্টার্ট-আপগুলির চিত্তাকর্ষক সাফল্যের মূল কৃতিত্ব আমাদের তরুণ শিল্পোদ্যোগীদের। তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা নীতি এবং কর্মসূচি দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। আমি নিশ্চিত যে ২০৪৭ এর মধ্যে, যুবশক্তি একটি উন্নত ভারত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
প্রিয় দেশবাসী,
ভারত বিশ্বের সবচাইতে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়া বড় অর্থ-ব্যবস্থা। বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও, ভারতে সুস্থায়ী অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি হচ্ছে। আমরা অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার লক্ষে এগিয়ে যাচ্ছি।
বিশ্বমানের পরিকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগের মাধ্যমে, আমরা আমাদের অর্থনৈতিক কাঠামোকে উচ্চ স্তরে পুনর্নির্মাণ করছি। অর্থনৈতিক ভাগ্য গঠনের এই যাত্রাপথে, আত্মনির্ভরতা এবং স্বদেশী আমাদের মূল মন্ত্র।
স্বাধীনতার পর থেকে দেশের অর্থনৈতিক সংহতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, পণ্য ও পরিষেবা কর ব্যবস্থা বাস্তবায়ন, এক জাতি, এক বাজারের ধারণা প্রতিষ্ঠা করেছে। পণ্য ও পরিষেবা কর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত আমাদের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। শ্রম সংস্কারের ক্ষেত্রে চারটি শ্রম কোড জারি করা হয়েছে। এর ফলে আমাদের শ্রমজীবী ভাইবোনেরা উপকৃত হবেন এবং শিল্পোদ্যোগের উন্নয়নকেও ত্বরান্বিত করবে।
প্রিয় দেশবাসী,
প্রাচীনকাল থেকে, সমগ্র মানবজাতি আমাদের সভ্যতা, সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য থেকে উপকৃত হয়েছে। আয়ুর্বেদ, যোগ এবং প্রাণায়াম বিশ্ববাসীর সমাদর পেয়েছে এবং গৃহীত হয়েছে। অনেক মহান ব্যক্তিত্ব আমাদের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক ঐক্যের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহে অবদান রেখেছেন। কেরালায় জন্মগ্রহণকারী মহান কবি, সমাজ সংস্কারক এবং আধ্যাত্মিক জ্যোতির্বিদ শ্রীনারায়ণ গুরুর মতে, সেই স্থানকে আদর্শ বলে মনে করা হয় যেখানে সকল মানুষ জাতি ও ধর্মের বৈষম্য থেকে মুক্ত হয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একসঙ্গে বসবাস করেন। আমি শ্রীনারায়ণ গুরুর এই চিন্তাভাবনাটি তাঁর নিজের ভাষায় পুনরাবৃত্তি করার চেষ্টা করছি:
জাতি-ভেদম্ মত-দ্বেষম্ , এদুম্-ইল্লাদে সর্বরুম্ /সৌদ-রত্নেন ওয়াড়ুন্ন মাত্রুকা-স্থান মানিত।
এটা গর্বের কথা যে আজকের ভারত, নতুন আত্মবিশ্বাসে নিজের গৌরবময় ঐতিহ্যগুলি সম্পর্কে সচেতন থেকে এগিয়ে চলেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আমাদের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের সঙ্গে জুড়ে থাকা পবিত্র স্থানগুলি জন-চেতনার সঙ্গে জুড়ে ফেলা হয়েছে।
একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাসসুলভ মানসিকতার চিহ্ন থেকে নিজেদের মুক্ত করার জন্য সময়য়ানুগ সংকল্প নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যে দর্শন, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত, সাহিত্য এবং শিল্পের সমৃদ্ধ অতীত যুক্ত রয়েছে। এটা গর্বের বিষয় যে "জ্ঞান ভারতম মিশন"-এর মতো প্রয়াস ভারতীয় ঐতিহ্যে পাওয়া সৃজনশীলতার সংরক্ষণ এবং প্রচার করছে। এই মিশন লক্ষ লক্ষ অমূল্য পাণ্ডুলিপিতে সঞ্চিত ভারতের ঐতিহ্যকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে এগিয়ে নিয়ে যাবে। ভারতীয় ভাষা এবং ভারতীয় জ্ঞানের ঐতিহ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে, আমরা আত্মনির্ভরতার প্রচেষ্টাগুলিকে জন্য একটি সাংস্কৃতিক ভিত্তি প্রদান করছি।
ভারতের সংবিধান এখন অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত সকল ভারতীয় ভাষায় পাওয়া যায়। ভারতীয় ভাষায় সংবিধান পাঠ এবং উপলব্ধির অবকাশ দেশবাসীর মধ্যে সাংবিধানিক জাতীয়তাবাদের উৎসাহ সঞ্চারিত করবে এবং আত্মসম্মানের অনুভূতিকে শক্তিশালী করবে।
সরকার এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে দূরত্ব ক্রমাগত হ্রাস করা হচ্ছে। পারস্পরিক বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে সুশাসনের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অনেক অপ্রয়োজনীয় নিয়ম বাতিল করা হয়েছে, অনেক সম্মতির বাধ্যবাধকতা দূর করা হয়েছে এবং জনসাধারণের স্বার্থে ব্যবস্থা সরলীকৃত করা হয়েছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে সুবিধাপ্রাপকদের সরাসরি সুযোগ-সুবিধায় যুক্ত করা হচ্ছে। দৈনন্দিন জীবনযাত্রার উন্নতির লক্ষ্যে সহজ জীবনযাত্রাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
গত দশক জুড়ে, জনসাধারণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় লক্ষ্য অর্জনের প্রয়াস গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উদ্যোগগুলি গণআন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছে। গ্রামে গ্রামে, শহরে শহরে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রগতিশীল পরিবর্তনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। একটি উন্নত ভারত গড়ে তোলা সকল নাগরিকের মিলিত দায়িত্ব। সমাজের অসীম ক্ষমতা রয়েছে। সরকারী প্রচেষ্টাগুলিতে সমাজের সক্রিয় সমর্থন বিপ্লবী পরিবর্তন আনে। উদাহরণস্বরূপ, আমাদের দেশবাসী বৃহৎ পরিসরে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আজ, বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি ডিজিটাল লেনদেন ভারতে হয়। ছোট ছোট দোকানে পণ্য কেনা থেকে শুরু করে অটো-রিকশার ভাড়া পরিশোধ পর্যন্ত, ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বিশ্ব জনসমাজের কাছে এক চিত্তাকর্ষক উদাহরণ হয়ে উঠেছে। আমি আশা করি যে, সমস্ত নাগরিক একইভাবে অন্যান্য জাতীয় লক্ষ্য অর্জনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
প্রিয় দেশবাসী,
গত বছর, আমাদের দেশ, অপারেশন সিন্দুরের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের ঠিকানাগুলিতে সুনির্দিষ্ট আক্রমণ করেছে। অসংখ্য সন্ত্রাসবাদীর আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে এবং অসংখ্য সন্ত্রাসবাদীকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। নিরাপত্তা ক্ষেত্রে আমাদের আত্মনির্ভরতা অপারেশন সিন্দুরের ঐতিহাসিক সাফল্যকে শক্তি যুগিয়েছিল।
সিয়াচেন বেস ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর, আমি সাহসী সৈন্যদের সবচেয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দেশকে রক্ষার জন্য সম্পূর্ণ তৎপর এবং উৎসাহী থাকতে দেখেছি। ভারতীয় বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান, সুখোই এবং রাফালে ওড়ানের আরোহী হওয়ার সুযোগও পেয়েছি। আমি বিমান বাহিনীর যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হয়েছি। আমি ভারতীয় নৌবাহিনীর স্বদেশে নির্মিত বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্তের অসাধারণ ক্ষমতা প্রত্যক্ষ করেছি। আমি নৌবাহিনীর সাবমেরিন আইএনএস ভাগশিরে চড়ে সমুদ্রের গভীরে প্রবেশ করেছি। সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং নৌবাহিনীর শক্তির উপর ভিত্তি করে, আমাদের দেশবাসীর আমাদের নিরাপত্তা সক্ষমতার উপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
প্রিয় দেশবাসী,
পরিবেশ সংরক্ষণ আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। আমি গর্বিত যে ভারত পরিবেশগতভাবে সংশ্লিষ্ট অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববাসীকে পথ দেখিয়েছে। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনশৈলী ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি অংশ। এই জীবনশৈলী বিশ্ববাসীকে দেওয়া আমাদের বার্তা: "পরিবেশের জন্য জীবনশৈলী" বা "লাইফ"-এর ভিত্তি। আমাদের এমন চেষ্টা করতে হবে যাতে পৃথিবী মাতার মূল্যবান সম্পদগুলি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সহজলভ্য থাকে।
আমাদের ঐতিহ্যে, সমস্ত সৃষ্টি জুড়ে শান্তির জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে একটি শান্তিপূর্ণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই মানবতার ভবিষ্যৎ নিরাপদ হতে পারে। বিশ্বের অনেক অংশে ব্যাপ্ত অস্থিরতার মধ্যেও, ভারত বিশ্ব শান্তির বার্তা ছড়িয়ে যাচ্ছে।
প্রিয় দেশবাসী,
আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা ভারত-ভূমির বাসিন্দা। আমাদের জননী জন্মভূমি সম্পর্কে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন:
ও আমার দেশের মাটি, তোমার ’পরে ঠেকাই মাথা।
অর্থাৎ,...হে আমার দেশের মাটি , তোমার পায়ে আমার মাথা নত করছি।
আমি বিশ্বাস করি যে সাধারণতন্ত্র দিবস দেশপ্রেমের এই দৃঢ় অনুভূতিকে আরও শক্তিশালী করার সংকল্প নেওয়ার একটি উপলক্ষ। আসুন, আমরা সকলে 'দেশ সর্বাগ্রে ' এই ভাবনা নিয়ে কাজ করে আমাদের গণতন্ত্রকে আরও গৌরবময় করে তুলি।
আমি আরেকবার, আপনাদের সকলকে, সাধারণতন্ত্র দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আপনাদের জীবন সুখ, শান্তি, নিরাপত্তা এবং সৌহার্দ্যে পরিপূর্ণ থাকবে। আপনাদের সকলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য মঙ্গল-কামনা করছি।
ধন্যবাদ !
জয়হিন্দ!
জয় ভারত !
(रिलीज़ आईडी: 2218587)
आगंतुक पटल : 14
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें:
Tamil
,
Malayalam
,
Assamese
,
English
,
Khasi
,
Urdu
,
Marathi
,
हिन्दी
,
Punjabi
,
Gujarati
,
Odia
,
Kannada