প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর

ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্সের (আইসিসি) ২০২০র বার্ষিক প্লেনারি অধিবেশনে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী

আমাদের আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তুলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

Posted On: 11 JUN 2020 2:37PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লী, ১১ জুন, ২০২০

 

 



প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্সের (আই সি সি)  ৯৫-তম বার্ষিক প্লেনারি অধিবেশনে আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে  স্বাগত ভাষণ দিয়েছেন। 


কোভিড-১৯ মহামারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বের সঙ্গে ভারতও সাহসের সঙ্গে এই লড়াই লড়ছে। তিনি জানান লোকাস্ট-পঙ্গপালের হানা, শিলাবৃষ্টি, তৈলখনিতে আগুন, বেশ কয়েকটি ছোটখাট ভূমিকম্প এবং দুটি ঘূর্ণিঝড়ের মতো বিপর্যয়ও দেশ এখন মোকাবিলা করছে।


শ্রী মোদী বলেন, সংকটের এই সময়ে ভারতকে আরও দৃঢ় হতে হবে। তিনি বলেন, ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং একতাই হল জাতির শক্তি, এর সাহায্যেই দেশ সমস্ত সংকটের মোকাবিলা করবে। যেকোন রকমের সংকটই আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সুযোগ এনে দেয়।


আত্মনির্ভর ভারতঃ-


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আত্মনির্ভরতা ভারতের দীর্ঘদিনের অনুপ্রেরণা।


তিনি বলেন, ‘দেশের প্রতিটি গ্রাম ও জেলার আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার এখন সময় এসেছে।’ ভারতের অর্থনীতিকে এখন একদিকে চালিকাশক্তি ও অন্যদিকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করতে হবে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, রক্ষ্মণাত্মক মনোভাব নয়, এখন দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতামূলক অভ্যন্তরীণ সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরির  জন্য প্রচুর বিনিয়োগ করার সময় এসেছে। আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার জন্য তিনি তাঁর ভাষণে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রকে চিহ্নিত করেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ স্তরে নীতি গ্রহণ করতে হবে। করোনা মহামারী আমাদের শিখিয়েছে কিভাবে বিভিন্ন নীতি দ্রুত গ্রহণ করতে হয়। আর এই শিক্ষা থেকেই আত্মনির্ভর ভারত অভিযান শুরু হয়েছে।’


শ্রী মোদী বলেন, ভারতকে সমস্ত পণ্যের রপ্তানীকারক দেশ হিসেবে আমাদের গড়ে তুলতে হবে, যেগুলি আমরা এখন আমদানি করতে বাধ্য হই, সেগুলিও দেশে উৎপাদন করতে হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, যখন আমরা তাঁদের থেকে স্থানীয় স্তরে উপাদিত পণ্য সামগ্রী কিনি আমরা সেইসময় শুধু তাদের পণ্য ও পরিষেবার মূল্যই দিই না, তাঁদের অবদানকেও পুরস্কৃত করি।


স্বামী বিবেকানন্দের বাণী উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সবথেকে সহজভাবে কাজ করার উপায় হল ভারতীয়দের তাদের নিজেদের জিনিস তৈরি করতে হবে এবং অন্য দেশে ভারতীয় পণ্য সামগ্রীর বাজার তৈরি করতে হবে।’ কোভিড পরবর্তী বিশ্বে স্বামী বিবেকানন্দের এই বাণীই দেশের অনুপ্রেরণার উৎস।


আত্মনির্ভর ভারত অভিযানে যেসমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কথা ঘোষণা করা হয়েছে তার মধ্যে অতিক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগের (এমএসএমই) পরিধি বৃদ্ধি করা, এমএসএমই-ই জন্য বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা করা, ঋণ খেলাপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও বিনিয়োগ তদারকি করতে একটি প্রকল্প উন্নয়ন সেল তৈরি করার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন।


এপিএমসি আইনের সংশোধনঃ-


কৃষি ক্ষেত্রে বেশকিছু নীতির সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতিকে দীর্ঘ বছরের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করা হয়েছে। কৃষকরা এখন তাঁদের উৎপাদিত পণ্য দেশের যেকোন প্রান্তে বিক্রি করার স্বাধীনতা পেয়েছেন।


জৈব চাষের কেন্দ্র হিসেবে উত্তরপূর্ব ভারতঃ- 


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার, স্থানীয় স্তরে উৎপাদিত পণ্য কেনার সুযোগ সকলে যেন পান সেইজন্য উদ্যোগী হয়েছে। যেসব জেলায় ও ব্লকে এইসব পণ্য সামগ্রী উৎপাদিত হয় সেখানে ক্লাস্টার তৈরি করা হবে। শ্রী মোদী বলেন, ‘বাঁশ ও জৈব চাষে উৎপাদিত পণ্যের ক্লাস্টার তৈরি করা হবে। সিকিমের মতো গোটা উত্তরপূর্ব ভারত জৈব চাষের একটি বৃহৎ কেন্দ্র হয়ে উঠবে।’ তিনি বলেন, যদি এই চাষের ফলে উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী আন্তর্জাতিক স্তরে একটি ভালো বাজার তৈরি করতে পারে তাহলে উত্তরপূর্ব ভারতে জৈব চাষ একটি আন্দোলনে পরিণত হবে।


জনসাধারণ, পৃথিবী ও লাভ ౼ পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্তঃ- 


আগে বাংলার নির্মাণ শিল্পের যে খ্যাতি ছিল তা পুনরুদ্ধারের ডাক দেন প্রধানমন্ত্রী। ‘বাংলা আজ যা ভাবছে ভারত তা আগামীকাল চিন্তা করে’- এই ভাবনায় অনুপ্রাণিত হয়ে শিল্পমহলকে এগিয়ে চলার জন্য  তিনি আহ্বান জানান। শ্রী মোদী বলেন, জনসাধারণ, পৃথিবী এবং লাভ পরস্পর, পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এই তিন উপাদানের একসঙ্গে উন্নয়ন  হয় এবং এরা সহাবস্থান করে। এ বিষয়ে আরও ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৬ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে এলইডি বাল্বের দাম কমে গেছে, এরফলে প্রতি বছর বিদ্যুতের বিলে ১৯ হাজার কোটি টাকার সাশ্রয় হচ্ছে। যে কারণে জনসাধারণ এবং পৃথিবী উভয়েই উপকৃত হচ্ছে। শ্রী মোদী বলেন, বিগত ৫-৬ বছর ধরে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প এবং সিদ্ধান্ত জনসাধারণ,  পৃথিবী এবং লভ্যাংশের ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। জলপথ থেকে মানুষ কিভাবে উপকৃত হচ্ছেন সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরফলে লজিস্টিকের ব্যয় যেমন হ্রাস পাচ্ছে পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানী কম ব্যবহৃত হওয়ায় পৃথিবী উপকৃত হচ্ছে।   


জনমুখী, জনগণ পরিচালিত ও পৃথিবী বান্ধব উন্নয়নের লক্ষ্যেঃ-


প্রধানমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক মুক্ত দেশ গড়ার অভিযানের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ এরফলে উপকৃত হবে, কারণ এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে পাট শিল্পের উন্নতি হবে। তিনি শিল্প মহলকে এই সুযোগ আরও কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। শ্রী মোদী বলেন, দেশের প্রশাসনিক কাজ বর্তমানে জনমুখী, জনগণ পরিচালিত ও পৃথিবী বান্ধব উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। ‘জনসাধারণ, পৃথিবী ও লাভের ধারণার সঙ্গে ‘আমাদের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন সঙ্গতি বজায় রাখতে সাহায্য করে।’


রূপে কার্ড এবং ইউপিআইঃ-


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা নগদ বিহীন ও সংস্পর্শহীন হয়ে উঠেছে। এখন ইউপিআই-এর মাধ্যমে ২৪ ঘন্টাই কাজ হচ্ছে। ভিম অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন নতুন এক রেকর্ড গড়ে তুলেছে। দরিদ্র মানুষ, কৃষক, মধ্যবিত্ত সহ সমাজের প্রতিটি অংশের মানুষের কাছে রুপে কার্ড অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আত্মনির্ভর ভারত গড়ার জন্য তিনি রূপে কার্ড ব্যবহার করার আহ্বান জানান। শ্রী মোদী বলেন, দেশে বর্তমানে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে যা আগে ছিলনা। সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পাঠানো, জনধন আধার মোবাইলের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ সুবিধাভোগী উপকৃত হওয়ার ফলে এটি সম্ভব হয়েছে।


গর্ভনমেন্ট ই-মার্কেট প্লেস౼ জিইএম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কিভাবে ছোট ছোট স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং এমএসএমই-রা তাদের পণ্য ও পরিষেবার বিক্রিতে লাভবান হচ্ছে তিনি সেই প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। 


দেশে সোলার প্যানেলে বিদ্যুতের সঞ্চয়ের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভালো ব্যাটারি তৈরির উদ্দেশে শিল্পমহলকে গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগের তিনি আহ্বান জানান। তাঁর ভাষণে এই কাজে এমএসএমই-গুলিকেও এগিয়ে আসার তিনি প্রস্তাব দেন। 
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘নতুন যুগের ভোর’ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে শ্রী মোদী শিল্প মহলকে বর্তমান সংকটে কি কি সুযোগ তৈরি হবে সেগুলি খুঁজে দেখার পরামর্শ  দেন। তিনি বলেন, সম্মুখে এগিয়ে চলার মধ্য দিয়ে নতুন পথ তৈরি হবে। তাই আর দেরি করা উচিত নয়। 


প্রধানমন্ত্রী পূর্ব ভারত এবং উত্তরপূর্বের শিল্পের বিকাশে আইসিসি-র অবদানের প্রশংসা করেন।
 

 



CG/CB/NS



(Release ID: 1630901) Visitor Counter : 40