পেট্রোলিয়ামওপ্রাকৃতিকগ্যাসমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

পশ্চিম এশিয়ার ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে মূল ক্ষেত্রসমূহের হালনাগাদ তথ্য

প্রকাশিত: 15 MAR 2026 3:50PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১৫ মার্চ ২০২৬

 

পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার কর্তৃক গৃহীত প্রস্তুতি ও সাড়াদানমূলক পদক্ষেপগুলোর হালনাগাদ তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো। এই পদক্ষেপগুলো মূলত জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক কার্যক্রম, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের কল্যাণ এবং জনযোগাযোগমূলক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।

জ্বালানি সরবরাহ এবং জ্বালানির প্রাপ্যতা

সারা দেশে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য এবং এলপিজি-র স্থিতিশীল প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়মিত সরবরাহ ও বিতরণের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিম্নরূপ:

অপরিশোধিত তেল/শোধনাগারসমূহ

 সকল শোধনাগার পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং অপরিশোধিত তেলের পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখছে। পেট্রোল ও ডিজেল উৎপাদনে আমাদের দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ রয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য পেট্রোল ও ডিজেল আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই।

খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রসমূহ

 তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার (ড্রাই -আউট) কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি এবং পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ নিয়মিতভাবে বজায় রাখা হচ্ছে।

 দেশজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকায়, নাগরিকদের আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটা (প্যানিক বায়িং) না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

প্রাকৃতিক গ্যাস

 অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ সুরক্ষিত রাখা হয়েছে—যার মধ্যে পিএনজি এবং সিএনজি ক্ষেত্রে ১০০% সরবরাহ নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্ত; অন্যদিকে, শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে গ্যাসের সরবরাহ প্রায় ৮০%-এ সীমিত রেখে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

 প্রধান শহর ও শহরাঞ্চলগুলোর বাণিজ্যিক এলপিজি গ্রাহকদের পিএনজি সংযোগ গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে; তাঁরা ই-মেল, চিঠিপত্র কিংবা 'সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন' (সিজিডি) কোম্পানিগুলোর গ্রাহক পোর্টালের মাধ্যমে এর জন্য আবেদন করতে পারেন।

 পিএনজি সংযোগের বর্তমান অবস্থা এবং এলপিজি থেকে পিএনজি-তে রূপান্তরের অগ্রগতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে, ২০২৬ সালের ১৪ই মার্চ 'পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক'-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পিএনজিআরবি এবং বিভিন্ন সিজিডি সংস্থার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এলপিজি

 প্রচলিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এলপিজি সরবরাহের বিষয়টি নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

 এলপিজি  বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার (ড্রাই -আউট) কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

 এলপিজি  বুকিংয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে; গত ১৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে যেখানে ৮৮.৮ লক্ষ বুকিং রেকর্ড করা হয়েছিল, সেখানে গতকাল প্রায় ৭৭ লক্ষ বুকিং নথিবদ্ধ হয়েছে।

 অনলাইনে এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের হার ৮৪% থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৮৭%-এ পৌঁছেছে।

 বিহার, দিল্লি, হরিয়ানা এবং রাজস্থানসহ বেশ কয়েকটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সরকারি নির্দেশিকা মেনে অ-গার্হস্থ্য (নন - ডোমেস্টিক) এলপিজি বরাদ্দের নির্দেশ জারি করেছে।

 অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিতরণের লক্ষ্যে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারগুলো সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলোর এক্তিয়ারে ন্যস্ত করা হয়েছে এবং বর্তমানে ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের গ্রাহকদের জন্য এগুলো সহজলভ্য।

রাজ্য সরকারসমূহ কর্তৃক আয়োজিত বৈঠকসমূহ

 পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি (এলপিজি)-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর সরবরাহ তদারকিতে রাজ্য সরকারসমূহ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

 এলপিজি সরবরাহের পরিস্থিতি পর্যালোচনা, বিতরণের ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ এবং কালোবাজারি ও আতঙ্কবশত অগ্রিম বুকিং রোধ করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 পরিস্থিতি তদারকির জন্য ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করেছে; এছাড়া নাগরিকদের অবহিত রাখার উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি রাজ্য গণমাধ্যমের সামনে ব্রিফিং-ও পরিচালনা করছে।

বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা

 পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি-র মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধে রাজ্য সরকারগুলি বিভিন্ন বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

 এলপিজি সিলিন্ডারের মজুতদারি ও কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণে অন্ধ্রপ্রদেশ ও বিহারসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে অভিযান চালানো হচ্ছে।

 সরকার-নিয়ন্ত্রিত তেল বিপণন সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারাও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং অনিয়ম রোধে এলপিজি বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শন চালাচ্ছেন।

সরকারের অন্যান্য পদক্ষেপ 

 সরকার গার্হস্থ্য গ্রাহকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে এবং বিশেষ করে গৃহস্থালি এবং হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রগুলিতে নিরবচ্ছিন্ন এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করছে।

 শোধনাগার থেকে গার্হস্থ্য এলপিজি উৎপাদন সর্বাধিক করা হয়েছে এবং সরবরাহ ও চাহিদা-সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

 ১৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে জারি করা এলপিজি নিয়ন্ত্রণ আদেশের একটি সংশোধনী অনুসারে পিএনজি সংযোগধারী গ্রাহকদের তাদের গার্হস্থ্য এলপিজি সংযোগ ত্যাগ করতে হবে এবং পিএনজি গ্রাহকদের জন্য নতুন এলপিজি সংযোগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 সুষম বন্টন নিশ্চিত করার জন্য শহরাঞ্চলে বুকিং ব্যবধান ২৫ দিন এবং গ্রামাঞ্চলে সর্বোচ্চ ৪৫ দিন পর্যন্ত যুক্তিসঙ্গত করা হয়েছে।

 বিকল্প জ্বালানির চাহিদা মেটাতে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে ৪৮,০০০ কিলোলিটার কেরোসিনের অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

 এলপিজি সরবরাহের উপর চাপ কমাতে আতিথেয়তা এবং রেস্তোরাঁ সহ কিছু ক্ষেত্রের জন্য কেরোসিন এবং কয়লার মতো বিকল্প জ্বালানি সক্রিয় করা হয়েছে।

 রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি ডিজিটাল বুকিং প্রচার করছে, আতঙ্কিত বুকিং নিরুৎসাহিত করছে এবং মসৃণ সরবরাহ সহজতর করার জন্য রবিবার এলপিজি বিতরণকারী সংস্থাগুলি খোলা রাখছে।

জনসাধারণের জন্য পরামর্শ

 নাগরিকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কারণ সরকার গৃহস্থালি এবং প্রয়োজনীয় খাতের জন্য পর্যাপ্ত এলপিজি সরবরাহ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 আইভিআরএস কল, এসএমএস বুকিং, হোয়াটসঅ্যাপ বুকিং এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলির মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন সহ একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এলপিজি সিলিন্ডার বুক করা যেতে পারে।

 গ্রাহকদের আতঙ্কিত হয়ে বুকিং করা এড়াতে, ডিজিটাল বুকিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে এবং এলপিজি বিতরণকারীদের কাছে অপ্রয়োজনীয় পরিদর্শন এড়াতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

 নাগরিকদের যতটা সম্ভব পিএনজির মতো বিকল্প জ্বালানি বেছে নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

 সরকার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি নিরবচ্ছিন্ন এলপিজি সরবরাহ এবং সাম্প্রতিক প্যানিক বুকিং হ্রাস সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

 অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক এড়াতে নাগরিক এবং মিডিয়া সংস্থাগুলিকে সরকারী তথ্য উৎসের উপর নির্ভর করতে এবং সঠিক তথ্য প্রচারে সহায়তা করতে অনুরোধ করা হচ্ছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নৌ-চলাচল কর্মসূচি
এই অঞ্চলে চলাচলকারী ভারতীয় নৌযান ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বিঘ্নে সামুদ্রিক কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প-মহলের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে।

 এই অঞ্চলের সকল ভারতীয় নাবিক নিরাপদ রয়েছেন এবং গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারতীয় নাবিকদের সংশ্লিষ্ট কোনো নৌ-দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

 ২০২৬ সালের ১৪ মার্চ, যখন ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ 'জগ লাডকি' ফুজিরা সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং-এ অপরিশোধিত তেল বোঝাই করছিল, ঠিক সেই সময় ফুজিরা তেল টার্মিনালে একটি হামলা চালানো হয়। জাহাজটি আজ ভারতীয় সময় সকাল ১০:৩০ মিনিটে ফুজিরা থেকে নিরাপদে যাত্রা শুরু করেছে; এটি প্রায় ৮০,৮০০ মেট্রিক টন 'মুরবান' অপরিশোধিত তেল বহন করছে এবং ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। জাহাজটি এবং জাহাজে অবস্থানরত সকল ভারতীয় নাবিক নিরাপদ রয়েছেন।

 ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি এলপিজি বহনকারী জাহাজ—'শিবালিক' এবং 'নন্দা দেবী'—প্রায় ৯২,৭১২ মেট্রিক টন এলপিজি নিয়ে ২০২৬ সালের ১৪ মার্চ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছিল, বর্তমানে ভারতের পথে রয়েছে। জাহাজ দুটির যথাক্রমে ১৬ মার্চ মুন্দ্রা বন্দরে এবং ১৭ মার্চ কান্দলা বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

 বর্তমানে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের পশ্চিমে ভারতীয় পতাকাবাহী ২২টি জাহাজ অবস্থান করছে, যেগুলোতে মোট ৬১১ জন নাবিক রয়েছেন। 'ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং' জাহাজ মালিক, আরপিএসএল সংস্থা এবং ভারতের কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে পরিস্থিতির ওপর সর্বক্ষণ নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

 'ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং'-এর নিয়ন্ত্রণ কক্ষটি (কন্ট্রোল রুম) চালু হওয়ার পর থেকে, নাবিক, তাদের পরিবারবর্গ এবং সামুদ্রিক ক্ষেত্রের সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের কাছ থেকে তথ্য ও সহায়তা চেয়ে আসা ২,৯৯৫টি ফোন কল এবং ৫,৩৫৭টিরও বেশি ই-মেইলের জবাব দেওয়া হয়েছে।

 'ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং' এখন পর্যন্ত উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ২৭৬ জন ভারতীয় নাবিকের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করেছে; এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন বিমানবন্দর ও আঞ্চলিক অবস্থান থেকে ২৩ জন নাবিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

 পরিবর্তনশীল সামুদ্রিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে, দেশের বিভিন্ন বন্দরে জাহাজ চলাচল এবং পণ্য খালাস ও বোঝাইয়ের কার্যক্রমের ওপর নিবিড় নজরদারি রাখা হচ্ছে।

সামুদ্রিক বাণিজ্য ও বন্দরের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক—পররাষ্ট্র মন্ত্রক, ভারতের কূটনৈতিক মিশনসমূহ, জাহাজ কোম্পানি এবং সামুদ্রিক ক্ষেত্রের অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করে চলেছে।
এই অঞ্চলে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা
ভারতীয় মিশন ও কেন্দ্রসমূহ ভারতীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং যেখানেই প্রয়োজন, সহায়তা প্রদান করছে। ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলি ধারাবাহিকভাবে জারি করা হচ্ছে।

 বিদেশ মন্ত্রক পশ্চিম এশিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। এই অঞ্চলে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা, কল্যাণ এবং সুরক্ষা সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 ভারতীয় নাগরিক এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার উত্তর প্রদানের লক্ষ্যে বিদেশ মন্ত্রকের একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) সর্বক্ষণ সচল রাখা হয়েছে; পাশাপাশি রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর সঙ্গেও নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে।

 এই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ভারতীয় মিশন ও দপ্তরগুলো দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই (২৪×৭) কাজ করে চলেছে; তারা ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন পরিচালনা করছে, ভারতীয় কমিউনিটি সংগঠনগুলোর সাথে যোগাযোগ রাখছে এবং নিয়মিত পরামর্শ বা নির্দেশিকা (অ্যাডভাইসারিস) জারি করছে।

 ভারতীয় মিশনগুলো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিক ও স্বল্পমেয়াদী দর্শনার্থীদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করছে—যার মধ্যে রয়েছে ভিসা সংক্রান্ত সহায়তা, যাতায়াত ও রসদ সংক্রান্ত সহায়তা এবং ট্রানজিট বা যাত্রাপথ সহজতর করার ব্যবস্থা। এছাড়া, এই অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদেরও মিশনগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে।

 ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত, এই অঞ্চল থেকে প্রায় ১,৯৪,০০০ যাত্রী ভারতে ফিরে এসেছেন।

 সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে (ইউএই), সে দেশের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা মেনে বিমান সংস্থাগুলো একটি সংশোধিত ও সীমিত উড়ানসূচি অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আবুধাবি, দুবাই, রাস আল খাইমাহ, শারজাহ এবং ফুজাইরাহ থেকে ভারতের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচল করছে। যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে, হালনাগাদ উড়ানসূচি বা সময়সূচি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তাঁরা যেন সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে নেন।

 সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে ভারতের বিভিন্ন গন্তব্যে বিমান চলাচল করছে।

 ওমান থেকেও ভারতের বিভিন্ন গন্তব্যে বিমান চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

 কাতারের আকাশপথ বর্তমানে আংশিকভাবে উন্মুক্ত রয়েছে; কাতার এয়ারওয়েজ ভারতের উদ্দেশ্যে সীমিত সংখ্যক উড়ান পরিচালনা করছে—যার মধ্যে আজ দিল্লির উদ্দেশ্যে একটি উড়ান চালানো হচ্ছে।

 বাহরাইন, কুয়েত এবং ইরাকে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রে—যেসব দেশে আকাশপথ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে—সৌদি আরবের মধ্য দিয়ে তাঁদের ট্রানজিট বা যাতায়াতের ব্যবস্থা সহজতর করা হচ্ছে।

 পূর্ববর্তী বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে, চলমান সংঘাতের ফলে দুর্ভাগ্যবশত পাঁচজন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং একজন ভারতীয় নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান এবং মৃত ভারতীয় নাগরিকদের মৃতদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ওমান, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে অবস্থিত ভারতীয় মিশনগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে।

সরকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে চলেছে এবং মূল ক্ষেত্রসমূহ জুড়ে প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

 

SC/SB/NS…


(রিলিজ আইডি: 2240435) ভিজিটরের কাউন্টার : 16