প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
বারাণসীর সিগরায় একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক উদ্যোগের সূচনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
প্রকাশিত:
07 JUL 2022 7:48PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ৭ জুলাই, ২০২২
হর হর মহাদেব!
কাশী ‘সাতবার নয়া তৌহার’ অর্থাৎ সপ্তাহে সাতদিনে নয়টি উৎসবের জন্য বিখ্যাত। প্রতিদিন নতুন নতুন উৎসব এখানে উদযাপিত হয়। আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে অভিনন্দন জানাই।
উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেলজি, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথজি, উত্তরপ্রদেশ সরকারের মন্ত্রীগণ, সাংসদগণ, বিধায়কগণ এবং আমার বেনারসের ভাই ও বোনেরা!
আমি প্রথমে আপনাদের সবাইকে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই। বিধানসভা নির্বাচনের সময় আমি আপনাদের কাছে এসেছিলাম এবং উত্তরপ্রদেশে আবারও সরকার গড়ার জন্য সাহায্য চেয়েছিলাম। যে অভূতপূর্ব সমর্থনে উত্তরপ্রদেশের মানুষ এবং বেনারসের মানুষ আমাদের ঋদ্ধ করেছেন তার জন্য আমি আপ্লুত। নির্বাচনের পর এই প্রথম আপনাদের কাছে আমি এসেছি। আমি কাশী, উত্তরপ্রদেশের জনসাধারণকে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই, অভিনন্দন জানাই।
আজ আবারও আমরা এখানে বিকাশের উৎসবে আরও গতির সঞ্চার করতে উদ্যোগী হয়েছি। গত আট বছর ধরে পবিত্র নতুন কাশীর বিকাশ অব্যাহত রয়েছে। কাশী সব সময়েই প্রাণবন্ত আর এখন সারা দেশের সামনে কাশী তার ঐতিহ্য ও উন্নয়নকে তুলে ধরছে। কাশীর মহান আধ্যাত্মিক ও উদ্ভাবনীমূলক ঐতিহ্যের সঙ্গে এ শহরের রাস্তাঘাট, পুকুর, ঘাট এমনকি, রেল স্টেশন ও বিমানবন্দরেও উন্নয়নের প্রতিনিয়ত ছোঁয়া লাগছে।
কাশীতে একটি প্রকল্পের কাজ শেষ হলেই চারটি নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। আজ এখানে ১,৭০০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস হয়েছে। রাস্তা, জল, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পয়ঃনিকাশি ও সৌন্দর্যায়নের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলছে।
ভাই ও বোনেরা,
কাশীর আত্মা অবিনশ্বর। আমরা এর কাঠামোতে প্রতিনিয়ত সংস্কারের কাজ চালাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হল কাশীর উন্নয়নকে আরও প্রাণবন্ত ও প্রগতিশীল করে তোলা। শিক্ষা, দক্ষতা, পরিবেশ, পয়ঃনিকাশি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি যখন ঘটে তখন কাশীর আধুনিক পরিকাঠামোর উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়ায় নতুন নতুন প্রতিষ্ঠানগুলি এই পবিত্র ভূমিতে গড়ে উঠছে। একইসঙ্গে দরিদ্র মানুষেরা এখানে বাড়ি, বিদ্যুৎ, জল, রান্নার গ্যাস ও শৌচাগারের সুবিধা পাচ্ছেন। নৌকা চালক, তন্তুবায়, হস্তশিল্পী, রাস্তার হকার, এমনকি গৃহহীনরাও এখানকার উন্নয়নের সুফল পাচ্ছেন যার মধ্য দিয়ে সর্বাত্মক উন্নয়ন নিশ্চিত হচ্ছে।
আজ যেসব প্রকল্পের সূচনা এবং শিলান্যাস হল তার মধ্য দিয়ে এ শহরের প্রাণশক্তি, প্রগতি এবং স্পর্শকাতরতার প্রতিফলন হচ্ছে। আমার কাশী ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস, সবকা প্রয়াস’-এর আদর্শ উদাহরণ।
ভাই ও বোনেরা,
আপনারা আমাকে আপনাদের সাংসদ হয়ে সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। যখন ভালো কোনও কিছু করা হয় তখন আমার আনন্দ দ্বিগুণ হয়। যখন কাশীর সচেতন নাগরিকরা দেশকে পথ দেখান তখন আমি খুব আনন্দ পাই। কাশীর নাগরিকরা সারা দেশের কাছে এই বার্তাই পাঠিয়েছেন যে শর্টকাট-এর মাধ্যমে দেশের উপকার হয় না। কিছু নেতার হয়তো উপকার হতে পারে, কিন্তু দেশের মানুষ তাতে উপকৃত হন না।
আমার এখনও মনে আছে, ২০১৪ সালে কাশীতে আসার পর লোকে বলতেন, “এখানে এত রকমের ঝামেলা, এগুলি কি করে মেটানো সম্ভব?” হ্যাঁ, মানুষ তাই-ই জিজ্ঞাসা করতেন। তাঁদের এই ভাবনার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। বারাণসীতে উন্নয়নের এবং পরিবর্তন আনার যথেষ্ট সুযোগ আছে। কিন্তু এই শহরের জন্য যুগ যুগ ধরে কোনও কিছু করা হয়নি। এহেন পরিস্থিতিতে সবথেকে সোজা উপায় হল শর্টকাট পদ্ধতি মেনে চলা। মানুষের হাতে কিছু সুযোগ সুবিধা দিয়ে দাও, সে এর থেকে বেশি আর কিছু ভাববে না। কঠোর পরিশ্রম কে করতে চায় বলুন তো?
আমি বারাণসীর জনসাধারণকে সঠিক পথ দেখানো এবং সঠিক পথ বাছাই করার জন্য প্রশংসা করি। তাঁরা সেই ধরনের কাজের দাবি করেন যা বর্তমান সময়ের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানই শুধু করবে না, বহুদিন পরেও বারাণসীর উপকারে লাগবে।
আমার প্রিয় কাশীর ভাই ও বোনেরা,
এখন যে কাজগুলি হচ্ছে সেগুলি কি আগামীদিনের জন্যও কার্যকর? আগামী প্রজন্মের জন্যও কার্যকর? এই কাজের ফলে এখানকার যুব সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ কি উজ্জ্বল হবে? সারা দেশ কি কাশীর প্রতি আকৃষ্ট হবে? সারা দেশ কি কাশী ভ্রমণ করবে?
বন্ধুগণ,
আজ আমরা বুঝতে পারছি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সুফল কতটা। গত আট বছরে কাশীর পরিকাঠামোর কতটা উন্নতি হয়েছে? কৃষক, শ্রমিক এবং ব্যবসায়ীদের জন্য এই উন্নয়ন যথেষ্ট কাজে লেগেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, আর্থিক লেনদেন বেড়েছে এবং পর্যটনের প্রসার ঘটেছে।
একজন রিক্সাচালক আমাকে বলেছেন, “বাবু, এখন আমি সারাদিনে যথেষ্ট কাজ পাই।” একজন ব্যবসায়ী বলেছেন, “সাহেব, মাত্র এক মাসে যত পণ্যসামগ্রী বিক্রি হয়েছে তা আগে ছয় মাসে বিক্রি হত।” আপনারা বলুন এটা সত্যি কিনা! আজ যেভাবে এখানে রাস্তা তৈরি হচ্ছে, দরিদ্রদের জন্য বাড়ি বানানো হচ্ছে, পাইপলাইন বসানো হচ্ছে, তার ফলস্বরূপ ছোট দোকানদারদের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ছে, সিমেন্ট ও ইস্পাতের মতো নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সামগ্রীর বিক্রি বাড়ছে। সোজা কথায়, বারাণসীর সমগ্র অঞ্চলে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বারাণসীর মানুষের দূরদর্শিতার সুফল গোটা অঞ্চলের মানুষ পাচ্ছেন। আজ কাশীর চারদিকে দেখুন – রিং রোড, ব্রড ন্যাশনাল হাইওয়ে, বাবতপুর সিটি লিঙ্ক রোড, আশাপুর রেল ওভারব্রিজ, চৌকাঘাট-লোহারতারা উড়ালপুল এবং মাহমুরগঞ্জ-মান্ডুয়াদি উড়ালপুল বারাণসীর মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ করে তুলেছে। বরুণা নদীর ওপর রেল সেতুর কাজ শেষ হলে মানুষের আরও সুবিধা হবে।
আজ কাশীতে আরও তিনটি রাস্তা চওড়া করার কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে মউ, আজমগড়, গাজিপুর, বালিয়া, ভাদোসি, মির্জাপুর সহ বিভিন্ন জেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে। কাশী শহরের যানজটও কমবে।
ভাই ও বোনেরা,
শহরের সঙ্গে আশপাশের গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা চওড়া রাস্তার মাধ্যমে গড়ে তোলার জন্য নয়টি সড়ক প্রকল্পের আজ শিলান্যাস করা হয়েছে। এই রাস্তাগুলি বর্ষাকালে আশপাশের গ্রামের কৃষক এবং যুব সম্প্রদায়ের সকলের পক্ষে বেনারসে পৌছানোটা সহজ করে তুলবে।
যোগীজির সরকার জেলা সদরগুলির সঙ্গে মহকুমা ও ব্লকের মধ্যে রাস্তাগুলিকে চওড়া করার যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা প্রশংসনীয়। আজ সেবাপুরী ও বেনারসের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী রাস্তাটি প্রশস্ত করার কাজ শুরু হল। যখন এই প্রকল্প শেষ হবে তখন বেনারস জেলার সমস্ত মহকুমা ও ব্লকের মধ্যে সাত মিটার চওড়া রাস্তা মানুষ ব্যবহার করতে পারবেন।
ভাই ও বোনেরা,
আর কয়েকদিন পরেই বর্ষা শুরু হচ্ছে। দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে বাবার ভক্তরা বিপুল সংখ্যায় কাশীতে জড়ো হবেন। বিশ্বনাথ ধাম প্রকল্প শেষ হওয়ার পর এটিই প্রথম শ্রাবণ উৎসব। গত কয়েক মাস ধরে বিশ্বনাথ ধামের প্রতি মানুষের আগ্রহ কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে তা আপনারা বুঝতে পেরেছেন।
যোগীজি আমাকে বলছিলেন, প্রচন্ড গরম সত্ত্বেও লক্ষ লক্ষ ভক্ত প্রতিদিন কাশী বিশ্বনাথ ধামে এখন আসছেন। এই সময়কালে বাবার ভক্তরা এমন এক মহান ও নতুন কাশী উপলব্ধি করতে পাবেন যা আধ্যাত্মিকতায় পূর্ণ।
ভাই ও বোনেরা,
বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের ভক্ত ও পর্যটকদের কাশীর আধ্যাত্মিক পরিবেশের আস্বাদন দিতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। আগে ভক্তরা যখন আমাদের এই জায়গায় আসতেন তখন গ্রামের মানুষ তাঁদের বাড়িতে ভক্তদের আমন্ত্রণ জানাতেন, খাওয়ার ব্যবস্থা করতেন। তাঁরা ভক্তদের সব ধরনের সহায়তা করতেন। কাশীর এই ঐতিহ্যের অর্থ কোনও ভক্ত যাতে কখনও কোনও সমস্যায় না পড়েন।
আমাদের সরকারও এই একই মনোভাব নিয়ে কাজ করে চলেছে। কাশী ভৈরব যাত্রা, নবগৌরী যাত্রা, নবদুর্গা যাত্রা, আস্থা বিনায়ক যাত্রার মতো প্রতিটি যাত্রায় ভক্তরা যাতে কোনও সমস্যায় না পড়েন তার জন্য সরকার নানা ব্যবস্থা করছে। পাঁচকোশী পরিক্রমায় ভক্তরা যাতে বিভিন্ন জায়গায় বসে বিশ্রাম নিতে পারেন তার জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে। গঙ্গাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে যে সঙ্কল্প নেওয়া হয়েছে তা পূরণে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে।
ভাই ও বোনেরা,
আমাদের কাছে উন্নয়নের অর্থ শুধু ঢাক পেটানো নয়। আমাদের কাছে উন্নয়নের অর্থ দরিদ্র, পিছিয়ে পড়া, অবহেলিত, প্রান্তিক মানুষ, আদিবাসী, মা ও বোনেদের ক্ষমতায়ন। আজ ‘পিএম আবাস যোজনা’য় বারাণসীর ৬০০টি দরিদ্র পরিবার পাকা বাড়ি পেয়েছেন। অর্থাৎ, ৬০০ জন নতুন লাখোপতি আমাদের মধ্যে উপস্থিত। নিজের বাড়িতে থাকার স্বপ্ন যাঁদের আজ পূরণ হল, তাঁদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। এই পরিবারগুলির মা ও বোনেদের বিশেষ করে অভিনন্দন জানাই কারণ এই বাড়িগুলি তৈরির সময় যাতে মা ও বোনেদের নাম থাকে আমরা সেটি নিশ্চিত করেছি।
প্রত্যেক দরিদ্র মানুষ যাতে পাকা বাড়ি পান, গ্রামাঞ্চলে প্রত্যেক পরিবার যাতে নলবাহিত জলের সংযোগ পান তা নিশ্চিত করতে আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। জল জীবন মিশনের আওতায় বহু জল প্রকল্পের কাজ চলছে। হাজার হাজার পরিবার, বিশেষত আমাদের বোনেরা এই প্রকল্পগুলি থেকে উপকৃত হবেন। ‘সকলের জন্য উন্নয়ন’ – এই ভাবনায় অসহায় মা, বোন ও মেয়েদের জন্য আশ্রয়স্থল তৈরি করা হবে।
ভাই ও বোনেরা,
এই ধরনের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়ন আসলে সুপ্রশাসনের উদাহরণ। আপনারা দেখুন, ছোট ব্যবসায়ী এবং রাস্তার হকাররা আগে কত সমস্যার সম্মুখীন হতেন। এখন গোদালিয়া থেকে দশাশ্বমেধ পর্যন্ত গৌরব পথ নির্মাণ করা হয়েছে। দশাশ্বমেধে একটি কমপ্লেক্স তৈরির কাজ চলছে। আগামীদিনে এই কমপ্লেক্সে রাস্তার হকাররা তাঁদের পণ্যসামগ্রী বিক্রি করতে পারবেন। এছাড়াও, চৌকাঘাট-লোহারতারা উড়ালপুলের নিচে ২ কিলোমিটার দীর্ঘ অঞ্চলে হকারদের জন্য একটি বিশেষ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। আজ থেকে সারনাথের বৌদ্ধ সার্কিট নির্মাণের কাজ শুরু হল। সেখানেও রাস্তার হকারদের জন্য বেশ কিছু উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
বন্ধুগণ,
আপনারা এর আগে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং অর্থনৈতিক করিডরের মতো বিভিন্ন প্রকল্পের কথা শুনেছেন আর আজ আপনারা দেখতে পাচ্ছেন রাস্তার হকারদের জন্য কাশীতে বিশেষ অঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে। এই প্রথম রাস্তার হকাররা ‘পিএম স্বনিধি যোজনা’র মাধ্যমে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পাচ্ছেন। এ পর্যন্ত দেশে প্রায় ৩৩ লক্ষ হকার এই ঋণ পেয়েছেন যার মধ্যে কাশীর হাজার হাজার বন্ধুও রয়েছেন।
বন্ধুগণ,
আমাদের সরকার দরিদ্র মানুষদের সব সমস্যার সমাধান করতে এবং সব ধরনের সহায়তা করতে সর্বদাই সচেষ্ট। বিনামূল্যে করোনার টিকাদান, দরিদ্র মানুষদের বিনামূল্যে রেশন বিতরণ করা হচ্ছে – সরকার আপনাদের সেবায় সর্বদাই নিয়োজিত। গত কয়েক বছর ধরে যে ডিজিটাল পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে তার থেকে দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত মানুষরা প্রচুর সুযোগ পেয়েছেন।
আজ মোবাইল ফোন সস্তা হয়েছে, মোবাইলের মাধ্যমে ফোন করতে প্রায় কোনও পয়সাই লাগছে না। বারাণসীর মানুষ এইসব সুবিধাগুলি পাচ্ছেন। এখন ইন্টারনেট খুব সস্তা হয়ে গেছে। ফলে, নতুন নতুন জীবিকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। ফল হিসেবে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটছে।
খুব কম অর্থ বিনিয়োগ করে আজ যুব সম্প্রদায় নতুন নতুন কর্ম সংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। দরিদ্র মানুষেরা ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন। আগে অর্থের অভাবে দরিদ্র মানুষেরা চিকিৎসা করাতে পারতেন না, আজ তাঁরা চিকিৎসা করাতে পারছেন। এর ফলে হাসপাতালের চাহিদা বাড়ছে, মেডিকেল কলেজের চাহিদা বাড়ছে। গত কয়েক বছরে আমরা উত্তরপ্রদেশেই প্রচুর মেডিকেল কলেজ স্থাপন করেছি। কাশীতেই ক্যান্সার সহ অন্যান্য চিকিৎসার অত্যাধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
বন্ধুগণ,
একদিকে আমরা যেমন সিএনজি-চালিত যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর মধ্য দিয়ে শহরকে ধোঁয়ামুক্ত করছি, অন্যদিকে আমরা নৌকা চালকদেরও এই সুযোগ দিচ্ছি। ঘাটে সিএনজি স্টেশন দেশের মধ্যে কাশীতেই প্রথম তৈরি করা হয়েছে। কাশী এর জন্য গর্বিত। গঙ্গায় ৬৫০টি ডিজেল এবং পেট্রোল-চালিত নৌকার মধ্যে ৫০০টিতে সিএনজি-চালিত যন্ত্র লাগানো হয়েছে।
এর ফলে, পর্যটকরা গঙ্গাবিহারের আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন এবং পরিবেশও কম দূষিত হবে। একইসঙ্গে নৌকা চালকদের জ্বালানি-বাবদ কম অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এর ফলে কম অর্থ ব্যয় করে রোজগার বেড়েছে।
ভাই ও বোনেরা,
কাশী জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার শহরই শুধু নয়, এ শহর খেলাধূলার জন্যও বিখ্যাত। আজ বিমানবন্দর থেকে এখানে আসার পথে আমার সঙ্গে খেলোয়াড়দের সাক্ষাৎ হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আমি উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখতে পেয়েছি। আমার বিশ্বাস, এই স্টেডিয়াম আগামীদিনে কাশীকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে। এখানে ব্যায়াম এবং কুস্তির মতো সুস্থ থাকার বিভিন্ন শারীরিক কসরতের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আজ নাগপঞ্চমীতে তার কিছু নিদর্শন আমরা দেখেছি।
কিন্তু খেলাধূলা তো শুধু শরীরকে ফিট রাখা আর বিনোদনের জন্য নয়, খেলাধূলা দেশের গর্ব বৃদ্ধি করে, আরও ভালো কেরিয়ারের পথ দেখায়। বছরের পর বছর ধরে বারাণসী সহ পূর্বাঞ্চলের বহু খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক স্তরে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। অলিম্পিকের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি খেলাকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। কাশীতেও এ ধরনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
আজ যে স্টেডিয়ামে আমরা সভা করছি, খুব শীঘ্রই এখানে আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে। একবিংশ শতাব্দীর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাকে এই স্টেডিয়ামে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এখানে ২০টিরও বেশি ইন্ডোর গেম-এর ব্যবস্থা করা হবে। তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ফিটনেস সেন্টার এবং হস্টেল গড়ে তোলা হবে।
ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের জন্য একটি ‘কিডস জোন’-এরও ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে শিশুরা খেলাধূলা এবং শরীরচর্চার প্রতি আগ্রহী হবে, অল্প বয়স থেকেই পেশাদারী খেলায় তাদের আগ্রহ তৈরি হবে। এই কমপ্লেক্সে ভিন্নভাবে সক্ষমদের খেলাধূলার জন্য অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাও তৈরি করা হবে। ডঃ ভীমরাও আম্বেদকর স্পোর্টর্স কমপ্লেক্স বাস্কেটবল সহ অ্যাথলিটিক্সে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করায় তরুণ খেলোয়াড়দের সুবিধা হবে।
ভাই ও বোনেরা,
গঙ্গার মতো কাশীরও উন্নয়নের প্রবাহকে অব্যাহত রাখতে আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু কাশী এবং গঙ্গার পরিচ্ছন্নতার জন্য যে সঙ্কল্প আমরা গ্রহণ করেছি তা ভুলে গেলে চলবে না। আপনাদের সেই সঙ্কল্প মনে আছে তো? আপনারা দু’হাত তুলুন আর বলুন আপনাদের মনে আছে কিনা! আমাদের কাশী কি পরিচ্ছন্ন থাকবে? আমাদের মা গঙ্গাকে কি পরিচ্ছন্ন থাকবেন – হ্যাঁ কি না? কেউ নদীকে দূষিত করবেন না, তাই তো? কেউ অন্য কাউকে দূষিত করতেও দেবেন না। আমাদের কাশী – আমাদের তাকে রক্ষা করতে হবে। কাশীকে গড়ে তুলতে হবে। আমরা একযোগে এই কাজ করব।
এই শহরের রাস্তাঘাট এবং বাজারগুলিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের। বাবা বিশ্বনাথের আশীর্বাদ এবং কাশীর মানুষের আস্থার মাধ্যমে আমরা প্রত্যেকটি সঙ্কল্প পূরণ করব, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত। আরও একবার আপনাদের অভিনন্দন জানাই।
হর হর মহাদেব! ধন্যবাদ!
(প্রধানমন্ত্রী মূল ভাষণটি হিন্দিতে দিয়েছেন)
PG/CB/DM/
(রিলিজ আইডি: 1840971)
ভিজিটরের কাউন্টার : 278
এই রিলিজটি পড়তে পারেন:
English
,
Urdu
,
Marathi
,
हिन्दी
,
Manipuri
,
Assamese
,
Punjabi
,
Gujarati
,
Odia
,
Tamil
,
Telugu
,
Kannada
,
Malayalam