প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

বারাণসীতে অখিল ভারতীয় শিক্ষা সমাগম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

প্রকাশিত: 07 JUL 2022 8:43PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ০৭ জুলাই, ২০২২

 

উত্তর প্রদেশের রাজ্যপাল শ্রীমতী আনন্দীবেন প্যাটেল, রাজ্যের জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথজী, আমার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সহযোগী ধর্মেন্দ্র প্রধানজী, নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতির ড্রাফটিং কমিটির চেয়ারম্যান কে কস্তুরিরঙ্গনজী, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের অন্যান্য মন্ত্রীগণ, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্দেশকগণ, উপস্থিত শিক্ষকগণ, শিক্ষাবিদ এবং ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,

‘অখিল ভারতীয় শিক্ষা সমাগম’ – এর এই আয়োজন সেই পবিত্র ভুমিতে সম্পন্ন হচ্ছে, যেখানে স্বাধীনতার আগে দেশের অনেকগুলি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে। এই সমাগম আজ এমন একটি সময়ে হচ্ছে, যখন দেশ তার স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসব পালন করছে। অমৃতকালে দেশের অমৃত সংকল্পগুলি বাস্তবায়নের বড় দায়িত্ব আজ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও নবীন প্রজন্মের উপর ন্যস্ত হয়েছে। আমাদের উপনিষদেও বলা হয়েছে,

‘বিদ্যা অমৃতম অশনুতে’

অর্থাৎ বিদ্যাই অমৃত ও অমরত্বের পথে নিয়ে যায়। আমাদের দেশে জ্ঞানকেই মুক্তির একমাত্র পথ বলে মনে করা হয়। কাশীকেও মোক্ষলাভের নগরী বলে মনে করা হয়। শিক্ষা ও গবেষণার, বিদ্যা ও বোধের এত বড় মন্থন যখন এই কাশীনগরীতে আয়োজিত হচ্ছে, তখন এ থেকে উৎসারিত অমৃত অবশ্যই দেশকে নতুন পথ দেখাবে। আমি এই উপলক্ষে মহামতি মদন মোহন মালব্যজীর চরণে প্রণাম জানিয়ে এই আয়োজনের জন্য আপনাদের সকলকে শুভকামনা জানাই। আমি কাশীর সাংসদ। আমার কাশীতে আপনারা সকলে পদধূলি দিয়েছেন। আয়োজকদের পাশাপাশি, আপনারা আমারও অতিথি। আপনারা সবাই আমার আতিথেয়তা স্বীকার করুন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এখানকার ব্যবস্থাপনায় আপনাদের খুব একটা অসুবিধা হবে না। সবাই মিলে সুপরিকল্পিতভাবে আপনাদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা হয়েছে। তবু যদি কোনও ত্রুটি থেকে যায়, তা হলে হোস্ট হিসাবে সমস্ত দোষ আমার, সেজন্য আগে থেকেই আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে রাখছি।

বন্ধুগণ,

আমি এই মাত্র অন্য একটি অনুষ্ঠান থেকে এখানে এসে পৌঁছেছি। এখানে আমার সবার সঙ্গে মধ্যাহ্ন ভোজনের কথা ছিল। কিন্তু, ওখানে আমার কাশীর সরকারি বিদ্যালয়ে ১০-১২ বছর বয়সী শিশুদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। সেখান থেকে সরাসরি আপনাদের কাছে এসেছি। ওদের কাছ থেকে শুনে এসেছি আর আপনাদের শোনাতে এসেছি। মাত্র ১০-১৫ মিনিট ওদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলাম। এইটুকু সময়ের মধ্যেই ওরা আমার মনে এতটাই প্রভাব ফেলেছে যে, আমি তাদের শিক্ষকদের সঙ্গেও কিছুটা সময় কথা বলে এসেছি। তাদের মধ্যে যে প্রতিভা, আত্মবিশ্বাস, চিন্তাভাবনার বৈচিত্র্য দেখেছি – সরকারি স্কুলে আমাদের সাধারণ পরিবারের ছেলেমেয়েরা যে মানের প্রতিভা প্রদর্শন করেছে, তা দেখে আমি আশ্চর্য হয়েছি। আপনাদের বাড়িতেও যদি কোনও অতিথি আসেন, তখন আপনারা নাতি-নাতনিদের প্রতিভাকে অতিথির সামনে তুলে ধরতে চান। আমার এইসব বলার তাৎপর্য হ’ল – বর্তমান প্রজন্মের এই সামর্থ্য, তাদের ক্ষমতা, যখন তারা আপনাদের প্রতিষ্ঠানে পৌঁছবে, তখন হয়তো আপনারা থাকবেন না, ততদিনে হয়তো আপনারা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা আরও উঁচুতে তুলে অবসর নেবেন, তখন এই ছেলেমেয়েরাই এই প্রতিষ্ঠানগুলির কর্ণধার হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আগামী তিন দিনে এখানে যে আলাপ-আলোচনা হবে, এতে নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতির বাস্তবায়নকে কিভাবে নবীন প্রজন্মের সাধারণ পড়ুয়াদের বেশি উপকৃত করা যায়, সেই লক্ষ্যে কার্যকর দিশা-নির্দেশ করবে।

বন্ধুগণ,

আপনারা সবাই জানেন যে, নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতির মূল ভিত্তি শিক্ষাকে সঙ্কীর্ণ ভাবনার আওতা থেকে বের করে তাকে একবিংশ শতাব্দীর ভাবনাগুলির সঙ্গে যুক্ত করা। আমাদের দেশে কখনোই মেধার অভাব ছিল না। কিন্তু, দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দেশে এমন ব্যবস্থা তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে পড়াশুনার উদ্দেশ্য যেন শুধুই চাকরি পাওয়া। ইংরেজরা তাদের শাসনকালে তাদের প্রয়োজন মেটাতে শিক্ষা ব্যবস্থায় এ ধরনের বিকৃত মানসিকতা গড়ে তুলেছিল। স্বাধীনতার পর এই মানসিকতায় সামান্য পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই কিন্তু অনেক কিছুই অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। ব্রিটিশ শাসকদের তৈরি ব্যবস্থা কখনও স্বাধীন ভারতে মূল স্বভাবের অংশ ছিল না। আর হওয়াও সম্ভব ছিল না। পুরনো দিনে আমাদের দেশে শিক্ষায় ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা ছিল। আমাদের কাশী এর জীবন্ত উদাহরণ। এই শহর শুধু জ্ঞান কেন্দ্র ছিল না, এখানে অনেক গুরুকুল ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। এখানে জ্ঞান ও শিক্ষা বহুমাত্রিক ছিল। শিক্ষা প্রদান ব্যবস্থার এই বৈচিত্র্য আমাদের আজকের শিক্ষা ব্যবস্থাকেও যেন প্রেরণার যোগায়। আমরা যেন শুধুই ডিগ্রিধারী যুবক-যুবতী তৈরি না করি। এর বদলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যত ধরনের মানবসম্পদ প্রয়োজন আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা যেন দেশের জন্য তত ধরনের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলে। আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে এই সঙ্কল্পের নেতৃত্ব দিতে হবে। আমাদের শিক্ষক-শিক্ষিকারা যত দ্রুত এই মানসিকতা গড়ে তুলতে পারবেন, আগামী দিনে তাঁরা পড়ুয়াদের ততটাই দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতের জন্যও তৈরি করতে পারবেন। দেশও ততটাই উপকৃত হবে।

বন্ধুগণ,

নতুন ভারত গড়ে তুলতে নতুন নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং তাতে বিভিন্ন আধুনিক ব্যবস্থার সম্মিলন অত্যন্ত প্রয়োজন। যা আগে কখনও হয়নি, যে লক্ষ্য নির্ধারণের কথা দেশ কখনও কল্পনা করেনি, তেমন অনেক কিছুও আজকের ভারতে বাস্তবে আমাদের সামনে গড়ে উঠছে। যেমন – এত বড় বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে আমরা শুধু যে দ্রুতগতিতে লড়াই করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পেরেছি, তা নয়। আজ ভারত বিশ্বের সর্বাধিক দ্রুতগতিতে উন্নতি করতে থাকা বড় অর্থনীতির দেশগুলির অন্যতম। আজ আমরা বিশ্বের তৃতীয় সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ইকো সিস্টেম। মহাকাশ প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে যেখানে আগে সরকারই সবকিছু করতো, সেখানে আজ বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমেও যুবক-যুবতীদের জন্য একটি নতুন বিশ্ব গড়ে উঠছে, সমগ্র অন্তরীক্ষ এখন তাদের আরও কাছে চলে আসছে। দেশের মহিলাদের জন্য আগে যে ক্ষেত্রটি উন্মুক্ত ছিল না, আজ সেখানেও মহিলারা তাঁদের প্রতিভার উন্মেষ দেখাতে পারছেন।

বন্ধুগণ,

যখন দেশের মেজাজ ও গতি এরকম হয়, তখন আমাদের নবীন প্রজন্মকেও খোলা আকাশে ডানা মেলার জন্য নতুন প্রাণশক্তিতে ভরপুর করে তুলতে হবে। এতদিন পর্যন্ত আমাদের ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে কী করবে, তা তাদের বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বই-পুঁথির মাধ্যমে নির্ধারিত হ’ত। কিন্তু, নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতি বাস্তবায়নের পর, নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। পাশাপাশি, আমাদেরও দায়িত্ব বেড়েছে। আমরা যেন ক্রমাগত নবীন প্রজন্মের মানুষদের স্বপ্নগুলিকে বাস্তবায়নের জন্য উৎসাহিত করি, তাঁদের খোলা আকাশে ডানা মেলতে সাহায্য করি, তাঁদের মন ও আকাঙ্খাকে বুঝি; তবেই তো সেই অনুসারে গোড়ায় সার ও জল দিতে পারবো। না হলে সবকিছু তাঁদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। একথা মাথায় রেখে আমাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপযুক্ত পরিকাঠামো, উপযোগী মানবসম্পদ উন্নয়নের আবহ গড়ে তোলার জন্য নিজেদের সাজিয়ে তুলতে হবে। নতুন নীতিতে শিশুদের প্রতিভা এবং পছন্দ অনুসারে তাদের দক্ষ করে তোলার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমাদের যুবসম্প্রদায় যেন দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী, বাস্তবোচিত এবং হিসেবি হয়ে উঠতে পারে, তার উপযোগী আবহ আমাদের নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতি গড়ে তুলছে।

বন্ধুগণ,

দেশে দ্রুতগতিতে প্রবর্তিত শিক্ষা ব্যবস্থায় আপনাদের মতো সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার উদাহরণ-স্বরূপ আমি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন একটি অভিজ্ঞতার কথা শোনাচ্ছি। আমি তখন সবে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি, সরকার ও প্রশাসন এর সঙ্গে আমার আগে কোনও সম্পর্ক ছিল না, হঠাৎ-ই দায়িত্ব পেয়েছি। আমি তখন প্রত্যেক বিভাগের সচিবদের ডেকে বলি যে, আপনারাই আপনাদের বিভাগের মুখ্যমন্ত্রী। আপনারা চিন্তাভাবনা করে বলুন, আগামী পাঁচ বছরে আপনাকে এই বিভাগকে কোথায় নিয়ে যেতে চান, কিভাবে নিয়ে যাবেন, কিভাবে আপনাদের স্বপ্নগুলি বাস্তবায়ন করবেন? এর মাধ্যমে গুজরাটের সাধারণ মানুষের জীবনে কী লাভ হবে? এ বিষয়ে আপনাদের বিস্তারিত চিন্তাভাবনা সহ রূপরেখা তৈরি করুন। এরপর থেকে প্রতিদিন বিকেল ৫টায় নিয়ম করে আমার মন্ত্রিসভার সমস্ত মন্ত্রী এবং সমস্ত সচিবদের নিয়ে আমি বসতাম। আর একেকজন সচিব এসে তাঁদের বিভাগের সম্পূর্ণ রূপরেখা তুলে ধরতেন। এরপর সেটা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হ’ত। আমার সঙ্গে তখন যিনি কৃষি বিভাগের সচিব ছিলেন, তিনিও আজ এখানে বসে আছেন। সবাই নিজ নিজ ভাবনার কথা তুলে ধরতেন। বিতর্ক হ’ত। মন্ত্রীদের সঙ্গে সচিবদের আলাপ-আলোচনা ও বিতর্ক শুনে আমি শেখার চেষ্টা করতাম। এই কর্মসূচি প্রায় কয়েক মাস ধরে চলেছিল। বিকেল ৫টায় শুরু হ’ত আর রাত ১০টা নাগাদ বাড়ি যেতাম। সম্ভবত ভারতের ইতিহাসে প্রথমবার এমনটা হয়েছে। সবার আগে শিল্প জগতের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। আগামী দিনগুলিতে তাঁরা শিল্প জগতে কী ধরনের উত্থান-পতনের সম্ভাবনা দেখছেন, আগামী দিনগুলিতে শিল্প ক্ষেত্রে উন্নয়ন কিভাবে হবে – এই সমস্ত বিষয় নিয়ে কথা চলছিল। যখন এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ হয়, তখন শিক্ষা সচিব আমার কাছে আসেন, কারণ পরদিনই তাঁর কর্মসূচি ছিল। তিনি বলেন, সাহেব আমি আগামীকাল করতে পারবো না। আমি বলি, কি বলছেন! এক মাস আগে আপনাকে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, আর আপনি শেষ মুহূর্তে বলছেন যে, আসতে পারবো না। তিনি বলেন, প্রস্তুতি তো আছে। আমি করতেও পারবো। কিন্তু, আজ আমি শিল্প বিকাশের উদ্দেশ্যে যে রূপরেখা দেখেছি, তার সঙ্গে আমার প্রস্তুতির কোনও মিল নেই। আমি বাম দিকে গেলে তাঁরা ডান দিকে যাচ্ছেন। কাজেই এর আলোতে আমার রূপরেখাকে নতুনভাবে তৈরি করতে আমার আরও সময় চাই। তবেই আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষা ও শিল্প জগতকে এক সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো। সেজন্য আমার গোটা বিশ্বে শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলি সম্পর্কে জানতে হবে।

আমাদেরও আজ শিক্ষা ক্ষেত্রে পৃথিবী কিভাবে এগিয়ে চলেছে, কোন দিকে যাচ্ছে আর সেক্ষেত্রে আমাদের দেশ কোথায়, আমাদের যুবসম্প্রদায় কতটা সফল, আগামী ১৫-২০ বছরে যে ছেলেমেয়েদের হাতে দেশের দায়িত্ব আমাদের তুলে দিতে হবে, তাদেরকে কিভাবে আমরা প্রস্তুত করবো – এটা আমাদের অনেক বড় দায়িত্ব। এই প্রেক্ষিতে আমাদের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজেদেরকেই জিজ্ঞেস করতে হবে যে, আমরা ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত কিনা! আমরা আজ পড়াশুনা করাচ্ছি, পরীক্ষা নিচ্ছি, সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করছি; আমি যে পদে কর্মরত আমার কি শুধু এটাই কাজ, নাকি আমাদের কাজ হ’ল – এমন প্রতিষ্ঠান তৈরি করে দিয়ে যাওয়া, যে আমাদের বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা পড়াশুনা করবে, সেখান থেকে শিক্ষিত হয়ে তারা স্বাধীনতার অমৃতকালে বা যখন অমৃতকাল সমাপণে স্বাধীনতার শতবর্ষ পূর্তি হবে, তখন যায়ে দেশকে আধুনিক বিশ্বের নিরিখে সুযোগ্য নেতৃত্ব দিতে পারে, তার উপযোগী করে তুলতে পারবো। আপনাদের সবাইকে বর্তমানকে সামলাতে হবে, আগে থেকে যা করে আসছেন, তা তো করে যেতেই হবে। এর পাশাপাশি, আজ যা করছেন, তা যেন ভবিষ্যতের উপযোগী নাগরিক গড়ে তুলে সেরকম সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ, আজকের ছেলেমেয়েদের জিজ্ঞাসা ভিন্ন রকম হয়। কিছুক্ষণ আগেই যে পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলে এসেছি, আপনাদের বাড়িতেও ছোট ছোট নাতি-নাতনিরা আপনাদেরকে যেসব প্রশ্ন করে তার উত্তর দিতে আপনাদের দু’বার ভাবতে হয়। কেউ হয়তো ভাবেন, আরে উল্টো-পাল্টা প্রশ্ন করছে। ওরা ভুল প্রশ্ন করছে না মশাই। আপনারাই তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন না। তারা গুগলে ১০টি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে উত্তর জানে। তারপর আপনি যদি ভুল উত্তর দেন, তখন বলবে যে, গুগল তো এই কথা বলছে, আপনি এই কথা বলছেন কেন। এই ছেলেমেয়েরাই যখন ১০ বছর পরে আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবে, তখন কী অবস্থা হবে আপনাদের? সেজন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। আমরা যদি তাদের যোগ্য না হয়ে উঠি, তা হলে তাদের সঙ্গে বড় অন্যায় হয়ে যাবে বন্ধুগণ।

সেজন্য আমাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাদের উপযোগী পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। আমি কিছুদিন আগেই ডিজিটাল ইন্ডিয়া অভিযানের মাধ্যমে গান্ধীনগরে একটি প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলাম, সেখানেও সরকারি স্কুলে দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণী পড়ুয়ারা বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে এসেছিল। তাদের সেই প্রকল্পগুলি দেখে তাদের সঙ্গে কথা বলে আমি বোঝার চেষ্টা করছিলাম। আর খুবই প্রভাবিত হয়েছিলাম। আমি অনুভব করছিলাম যে, তাদের মধ্যে গবেষণার অনেক অঙ্কুর, অনেক সম্ভাবনা কম বয়সেই এ ধরনের উদ্ভাবনের কথা শুনে আমি অবাক হই। বেশ কিছু ছেলেমেয়ে সেখানে জৈব প্রযুক্তি এবং জেনেটিক্স নিয়ে তাদের আগ্রহের কথা বলেছে। তাদের ক্লাসে যখন বিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়গুলি পড়ানো হচ্ছে, তখন তারা জিন মানচিত্রায়ন, এফিনিটি ক্রোমাটোগ্র্যাফি এবং জেনেটিক লাইব্রেরী-ভিত্তিক নানা টুলস্‌ নিয়ে কথা বলছিল। এই দুটির মধ্যে কতটা ব্যবধান আপনারা কল্পনা করুন। তাদের সঙ্গে কথা বলে আমি ভাবছিলাম যে, এরা যখন উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে পৌঁছবে, তখন কি আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের উপযোগী শিক্ষাদানে প্রস্তুত থাকবে। না হলে তো বিশ্বের উন্নত দেশের ছাত্রছাত্রীদের তাদের তুলনায় এগিয়ে যাবে। সেজন্য আমাদের এখনই ভাবতে হবে। যে বয়সে ছেলেমেয়েদের মনে উৎসাহ ও উদ্দীপনা রয়েছে, সেই বয়সে যাতে তারা যথাযথ গাইডেন্স ও সম্পদ পায় – সেই ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। আর আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলিতে তেমন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ করতে হবে।

বন্ধুগণ,

এ মাসের শেষে ২৯ জুলাই তারিখে নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতি দু’বছর পূর্তি হতে চলেছে। একটু আগেই ধর্মেন্দ্রজী বলছিলেন, অনেক দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা প্রক্রিয়ার পরই এই নতুন শিক্ষা নীতি প্রবর্তিত হয়েছে। এক্ষেত্রে কস্তুরিরঙ্গনজী খুব ভালো নেতৃত্ব দিয়েছেন। এত বৈচিত্র্যময় দেশ, এদেশে নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতিকে যেভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে – এটাই একটা অনেক বড় সাফল্য। কিন্তু এর বৈশিষ্ট্য দেখুন, এটির রচনা করতে গিয়ে যত পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে, তা সত্যিই অভিনব। সাধারণতঃ, সরকারি কাজের একটা নিজস্ব প্রকৃতি রয়েছে, একটি নথি তৈরি হয়ে গেলে সেটাকে সময়ের ভরসায় ছেড়ে দেওয়া হয়, সেই নথি কিছুদিন আপনাদের টেবিলের শোভা বাড়ায়। তারপর একদিন নতুন কোনও নথি এসে পুরনো নথির স্থান নিয়ে দেয়।এই অভিজ্ঞতা এখানে বসে থাকা সবারই আছে। কিন্তু আমরা এমনটি হতে দিই নি। আমরা প্রতি মুহূর্তে এই নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিকে জীবিত রেখেছি। আমি নিজেই এত কম সময়ে কমপক্ষে ২৫টি সেমিনারে উপস্থিত থেকেছি। ২৫বারেরও বেশি এই বিষয়ে বক্তব্য রেখাছি। এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও স্বয়ং কস্তূরীরঙ্গনজী নিয়মিত এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কথাবার্তা বলে যাচ্ছেন। কারও কোনও জিজ্ঞাস্য থাকলে তাঁদের বোঝাচ্ছেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রেক্ষিত কী, কোন দূরদৃষ্টি থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা বোঝাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত বিভাগ নিয়মিত চেষ্টা করে যাচ্ছে। কারণ, এই নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতি ৩০ বছর পর এসেছে। কোনও তথ্য শুধু কিছু কাগজের গোছা হিসাবে আমাদের কাছে পৌঁছে গেলে চলবে না। এখানে আগামী তিন দিন আপনারা যখন আলাপ-আলোচনা করবেন, তার আগে নিশ্চয়ই এই নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতিকে সম্পূর্ণভাবে পড়ে নিয়েছেন, আর অনেক সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয় নিয়ে বা কিছু নতুন পদ্ধতি নিয়ে নিজেদের পরামর্শ দেবেন বা এগুলির প্রয়োগ নিয়ে বিতর্কে অংশগ্রহণ করবেন। সেজন্য নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ও এরকম ক্রমাগত চিন্তাভাবনার মন্থনের পরিকল্পনা রচনা করে এখান থেকে ফিরে যাবেন। এখানে এসে শুধু সকলের কথা শুনে ফিরে যাবেন না। আপনার সমস্ত সহকর্মীদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা করবেন আর সেই আলাপ-আলোচনার মন্থন থেকে যে সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসবে, তা গোটা প্রক্রিয়াকে সমৃদ্ধ করবে। এটাই প্রয়োগের ক্ষেত্রে সমস্ত সমস্যা দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সেজন্য প্রতিটি বিষয়কে আমাদের অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে অনুধাবন করতে হবে।

বন্ধুগণ,

আজ যখন আমরা কোনও কাজ হাতে নিই, তখন সম্ভাব্য সমস্যাগুলির সমাধানের কথাও আমরা ভেবে রাখি। সমস্যাকে ভয় করলে সমাধান কখনও বেরোবে না। বন্ধুগণ, এই দু’বছরে নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতি কার্যকর করার লক্ষ্যে দেশে অনেক দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই সময়ে অ্যাক্সেস কোয়ালিটি অ্যান্ড ফিউচার রেডিনেস – এর মতো প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি নিয়ে আয়োজিত কর্মশালাগুলি থেকে অনেক সাহায্য পাওয়া গেছে। দেশ-বিদেশের শিক্ষাবিদদের সঙ্গে আমাদের দেশের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রীদের এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের যে আলাপ-আলোচনা হয়েছে, তাও এর বাস্তবায়নকে আরও গতি দিয়েছে। কিছুদিন আগে আমাদের ধর্মেন্দ্রজী সারা দেশের শিক্ষা মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যেভাবে আপনাদের সঙ্গে কথা বলছেন, সেভাবেই তাঁদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। সকলে মিলে নিয়মিত চেষ্টা করে যাচ্ছেন, যাতে আমরা কিভাবে নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতিকে ১০০ শতাংশ বাস্তবায়িত করতে পারি। রাজ্য সরকারগুলিও নিজেদের স্তরে এই লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। আজ সকলের প্রচেষ্টার ফলে দেশ ও বিশেষ করে, দেশের নবীন প্রজন্ম এই বড় পরিবর্তনের অংশীদার হয়ে উঠছে।

বন্ধুগণ,

নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতির জন্য দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি বড় পরিকাঠামোগত সংস্কারের কাজও হয়েছে। আজ দেশের সর্বোত্র অনেক নতুন নতুন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে। নতুন নতুন আইআইটি এবং আইআইএম স্থাপন করা হচ্ছে। ২০১৪ সালের পর থেকে দেশে মেডিকেল কলেজগুলির সংখ্যা ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। নবীন প্রজন্মকে বেশি সুযোগ দেওয়ার জন্য আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে সমমান বজায় রাখার জন্য এ বছর থেকে কমন ইউনিভার্সিটি এন্ট্রান্স টেস্ট-ও চালু করা হয়েছে। এরকম আরও অনেক সংস্কার আনা হয়েছে। এই সমস্ত প্রচেষ্টার ফলেই ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং-এ ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। এই পরিবর্তন একটি সূত্রপাত মাত্র। এখন এই লক্ষ্যে অনেক দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হবে।

বন্ধুগণ,

আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, এই নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতি এখন মাতৃভাষায় উচ্চ শিক্ষার নতুন নতুন পথ খুলছে। এভাবে সংস্কৃতের মতো প্রাচীন ভারতীয় ভাষাগুলিকেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমি এখানে দেখতে পাচ্ছি, এই আয়োজনেও সংস্কৃত ভাষার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। কাশীর মাটিতে আয়োজিত এই শুভ সূচনা নিশ্চিতভাবেই ভারতীয় ভাষাগুলি এবং ভারতীয় সংকল্পগুলিকে নতুন প্রাণশক্তি প্রদানের কাজ করবে।

বন্ধুগণ,

আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, আগামী দিনে ভারত বিশ্বে আন্তর্জাতিক শিক্ষার একটি বড় কেন্দ্র হয়ে উঠে আসতে পারে! ভারত শুধু বিশ্বের যুবসম্প্রদায়ের জন্য শিক্ষালাভের গন্তব্য হয়ে উঠবে না, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের যুবসম্প্রদায়ের জন্য নতুন নতুন সুযোগ গড়ে তুলতে পারে। এই লক্ষ্যে আমাদের নিজেদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের করে প্রস্তুত করতে হবে। এই লক্ষ্যে দেশ নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উচ্চ শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানের করে তুলতে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশ জারি করা হয়েছে। প্রায় ১৮০টি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক বিষয়গুলি নিয়ে বিশেষ কার্যালয় স্থাপনের কাজও করা হয়েছে। আমি চাই যে, আপনারা সকলে এই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আলাপ-আলোচনা করবেন। আর ভারতের বাইরের ব্যবস্থাগুলি সম্পর্কে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করবেন। এই নতুন ব্যবস্থা ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাগুলির সঙ্গেও যুক্ত করার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে।

বন্ধুগণ,

এই তিন দিনে আপনারা বিভিন্ন অধিবেশনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। আমি চাইবো যে, সেই আলোচনাগুলি থেকে নতুন নতুন ক্ষেত্রে নতুন নতুন পথ খুলুক আর দেশের নবীন প্রজন্ম দিক-নির্দেশ পাক। বিশ্বের অনেক দেশ ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে যে গতিতে এগিয়ে চলেছে, তার পেছনে সেসব দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অবদান অনস্বীকার্য। বিশ্ববিদ্যালয়গুলি নিয়মিত সামাজিক অর্থনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলি নিয়ে গবেষণা করায়, সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়। আমাদের দেশেই সেই সংস্কৃতি, এই কর্মপদ্ধতি বিকশিত করার প্রয়োজন রয়েছে। এভাবে নবীন প্রজন্ম দেশের নীতিগুলি ভালোভাবে বুঝতে পারবে। সেগুলির সম্ভাবনাগুলির সঙ্গেও পরিচিত হবে। আমি বরাবরই মনে করি, দেশের নবীন প্রজন্মের উদ্ভাবক ভাবনা এবং নতুন নতুন চিন্তা থেকে গড়ে ওঠা নতুন ব্যবস্থা রচনা করা উচিত। এতে তাজা প্রতিভাসম্পন্ন নবীন প্রজন্ম থেকে তাজা ভাবনার যোগান আসে। আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০-১০০ কিমি পরিধিতে স্থানীয় প্রয়োজন অনুসারেও ছাত্রছাত্রীদের প্রস্তুত করতে হবে।

গুজরাটের সর্দার প্যাটেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা গ্রামোন্নয়ন নিয়ে অনেক গবেষণা করে বেশ কিছু বই লিখেছেন, সেগুলি আমাকে উপহার দিয়েছেন।সেগুলি পড়ে আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে আমাদের কাজ আর ছাত্রছাত্রীদের ভাবনার মধ্যে ব্যবধান খুঁজে বের করা আর তা শুধরানোর কাজ দিই।এতে আমাদের কাজকে আরও বেশি জনস্বার্থের অনুকূল করে তুলতে পেরেছি। বাতানুকুল কামরায় বসে সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়া আর তৃণমূল স্তরে সরেজমিনে খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যে গবেষকরা মাঠেময়দানে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন, শিক্ষকদের সাহায্যে সেগুলি বিশ্লেষণ করে যেসব পরামর্শ দেন, সেগুলি যে কোনও প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আমাদের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির গবেষণাগারে কাজ করে গবেষকরা যেসব নিবন্ধ লেখেন, সেগুলি যেন আন্তর্জাতিক মানের হয়, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে লেখা হয়, আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিনগুলিতে ছাপা হয়, এই দিকটা তো আপনারা দেখবেনই। এর পাশাপাশি ডিগ্রিলাভের পর, এই নিবন্ধগুলি যাতে গবেষণাগারেই পড়ে না থাকে, দেশের উন্নয়নের পথচিত্র রচনায় কাজে লাগে, ‘ল্যাব টু ল্যান্ড’বা গবেষণাগার থেকে জমিতে – এই দিকটাও আপনাদের দেখতে হবে। আবার দেশের ঐতিহ্যগত অভিজ্ঞতাগুলিকেও আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে ছাত্রছাত্রীরা যাতে তাঁদের গবেষনাকে সমৃদ্ধ করতে পারে! যেমন, আমাদের ঐতিহ্যগত ঔষধি আয়ুর্বেদের জ্ঞানকে কেউ অস্বীকার করতে পারেন না। বিশ্বের বেশ কিছু দেশ ঐতিহ্যগত ঔষধি ক্ষেত্রে আমাদের থেকে এগিয়ে গেছে। সেজন্য শুধু মুখে বললে হবে না যে, আমাদের আয়ুর্বেদিক জরি-বুটি অনেক বেশি সুফলদায়ক! প্রমাণ দিতে হবে। পরিণামের পাশাপাশি, আমাদের কাছে সাফল্যের ডেটাবেস থাকতে হবে। এর সম্পূর্ণ বিস্তারিত রেকর্ডই বিশ্ববাসীর কাছে এই সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরতে পারবে। আমাদের আবেগ দিয়ে বিশ্বকে বদলাতে পারবো না। বিশ্বের সামনে একে মডেল হিসাবে তৈরি করতে হলে প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে। আর এই প্রমাণ সংগ্রহের কাজ করবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি। এই প্রমাণের নথি তৈরি করার ব্যবস্থা তাদেরকেই বিকশিত করতে হবে। প্রমাণ-ভিত্তিক ঐতিহ্যগত ঔষধি নিয়ে গবেষণার কাজও এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলি খুব ভালোভাবে করতে পারে।

বন্ধুগণ,

আমাদের দেশে জনসংখ্যাগত সুবিধা আমাদের অনেক বড় শক্তি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলি এই বিষয় নিয়ে চর্চা করতে পারে। কিভাবে আগামী ২০-৩০ বছরে এই জনসংখ্যাগত সুবিধাকে কাজে লাগাতে পারবো। এখন বিশ্বের সমৃদ্ধ দেশগুলি তাদের জনগণের ক্রমবর্ধমান আয়ুকে দেশের কাজে লাগানো নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে। বয়স বৃদ্ধি একটা সমস্যা। পাশাপাশি, তাদের দেশে নবীন প্রজন্মের সংখ্যাল্পতা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে। তুলনামূলকভাবে আমাদের দেশ নবীন প্রজন্মের সংখ্যায় অনেক সমৃদ্ধ। আমাদের দেশেও ভবিষ্যতে এমন দিন আসতে পারে, যখন নবীনদের তুলনায় বৃদ্ধদের সংখ্যা বেশি হবে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য উন্নত দেশগুলি কোন পথ বেছে নিয়েছে, আমরা এখন থেকেই কী কী পদক্ষেপ নিলে এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হব না, তা নিয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির গবেষকরা কাজ করতে পারেন। একইভাবে, আবহাওয়া পরিবর্তন নিয়েও কাজ করার অসীম সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের দেশ সিডিআরআই প্রকল্প রচনা করেছে। আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত সমস্যাগুলি প্রতিরোধে আমরা পরিকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। কিন্তু, বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় আর কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে, সে সম্পর্কেও আপনাদের গবেষণা অনেক কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। আজ সারা বিশ্ব সৌরশক্তির দিকে এগোচ্ছে। ভারত ভাগ্যবান যে, আমাদের দেশে নিয়মিত সূর্যের আলো আমরা পাই। এই সূর্যের আলোর যথাযোগ্য ব্যবহার যাতে আমরা করতে পারি, সেদিকে লক্ষ্য রেখে সরকারি নীতিতে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। কিন্তু, আপনারা গবেষণার মাধ্যমে নতুন যুগের প্রয়োজন অনুসারে এই সৌর জ্বালানীর ব্যবহার কিভাবে আরও বাড়ানো যেতে পারে এবং সৌরশক্তি উৎপাদনকে আরও কিভাবে সুলভ করা যেতে পারে, সে বিষয়ে নতুন নতুন অনুসন্ধান করুন। একইভাবে, বন্ধুগণ স্বচ্ছ ভারতের বিষয়গুলি নিয়ে কোনও সমঝোতা করা উচিৎ নয়। পাশাপাশি, আমরা বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরণের ক্ষেত্রে আরও কত নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করতে পারি, তা দেখতে হবে। নতুন নতুন প্রয়োগ, নতুন নতুন উদ্ভাবন এক্ষেত্রে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এই সাফল্য আমাদের সার্কুলার ইকনোমিকে স্থানীয় স্তরে আরও শক্তিশালী করবে। এই সার্কুলার ইকনমিও আজকের ছত্রাছাত্রীদের জন্য একটি নতুন বিষয়। একইভাবে, ক্রীড়া ক্ষেত্রে আজ দেশ নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে নতুন নতুন সাফল্য অর্জন করছে। দেশে নতুন নতুন ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠছে কিন্তু এর মানে এই নয় যে, বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পড়ুয়াদের সঙ্গে খেলাধূলার কোনও সম্পর্ক থাকবে না। আমাদের প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠগুলি যেন বিকেলবেলায় ছাত্রছাত্রীদের খেলার সাক্ষী থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহ এমন হওয়া উচিৎ  যাতে ছাত্রছাত্রীরা সেখান থেকে বাড়ি না ফিরতে চায়। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় তার পড়ুয়াদের জন্য কতগুলি ক্রীড়া ক্ষেত্রে স্বর্ণ পদক ও অন্যান্য পদক আনতে পারবে, তার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী, ছাত্রছাত্রীদের জন্য পরিকাঠামো ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। পড়ুয়ারা যত বেশি ক্রীড়া ক্ষেত্রে নিজেদের উন্নত মানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলার সুযোগ পাবে, ততই তারা নিজেদেরকে ক্রীড়া সম্পদ হিসাবে গড়ে তুলতে পারবে। নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতির ফলে এরকম অনেক নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বন্ধুগণ,

আমাদের সকলকে মনে রাখতে হবে যে, দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতির নেতৃত্ব এখন আপনাদের সকলের হাতে রয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই অখিল ভারতীয় শিক্ষা সমাগমে আপনাদের আলাপ-আলোচনার মন্থন থেকে যে অমৃত বেরিয়ে আসবে, সেসব পরামর্শ দেশকে একটি নতুন দিশায় এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। যে নবীন প্রজন্মকে নিয়ে আপনারা কাজ করছেন, তাদেরকে আপনারা আজকের জন্য নয়, ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করছেন। তারা ভবিষ্যতের জন্য তৈরি হলে তবেই আপনার প্রতিষ্ঠান আগামী ১০০ বছরের জন্য নাগরিক তৈরির জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবে। এই মনোভাব নিয়েই আজ আপনারা সকলে কাশীর এই পবিত্র ভূমিতে এসেছেন। এই মা গঙ্গার তীরে সম্পূর্ণ সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নতুন চেতনা এবং প্রেরণাদায়ী ঐতিহ্য রয়েছে। সেই ঐতিহ্য থেকে কিছু অমৃতবিন্দু আপনাদের ভাগ্যেও রয়েছে। এই অমৃতবিন্দুগুলি আপনারা সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন, নিজেদের সঙ্গে রাখবেন। তখন আপনাদের কাছে আসা আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাও অমৃতকালে ভারতের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। আমি আরেকবার বিভাগের আয়োজনে এই সুন্দর কর্মসূচি রচনার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আপনারা সকলে যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন, তা যেন সফল হয়। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই তিন দিনে আপনারা ক্লান্ত হবেন না। আমি এখানে বসে এই কর্মসূচি দেখছিলাম। আমার মনে হচ্ছিল, তিন দিন পর আপনাদের না জানি কী অবস্থা হবে! কিন্তু আপনারা শিক্ষা জগতের মানুষ, আপনারা নিশ্চয়ই এই তিন দিনকে প্রত্যেকের জন্য সফল করে তুলবেন। আপনাদের সকলকে আমার অনেক অনেক শুভকামনা। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

 

PG/SB/SB


(রিলিজ আইডি: 1840624) ভিজিটরের কাউন্টার : 331