প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

নতুন দিল্লির কারিয়াপ্পা ময়দানে এনসিসি র‍্যালিতে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

Posted On: 28 JAN 2022 3:22PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২৮ জানুয়ারি, ২০২২

 

আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মাননীয় রাজনাথ সিং-জি, জাতীয় সমর শিক্ষার্থী বাহিনী (এনসিসি)-র ডায়রেক্টর জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল গুরবীর পাল সিং-জি, এখানে উপস্থিত সকল গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ, আধিকারিকগণ, সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেডে অংশগ্রহণকারী শিল্পীবৃন্দ, এনএসএস এবং এনসিসি-র বন্ধুগণ!

এই সময় দেশ তার স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসব পালন করছে। আজ যখন একটি নবীন দেশ এ ধরনের কোনও ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের সাক্ষী হয়, তখন তার উৎসবে একটি অন্য ধরনের উৎসাহ দেখা যায়। এই উৎসাহ এখন এই কারিয়াপ্পা ময়দানে দেখা যাচ্ছে। এটা ভারতের যুবশক্তির প্রদর্শন যা আমাদের সঙ্কল্পগুলিকে বাস্তবায়িত করবে আর ২০৪৭-এ যখন দেশ স্বাধীনতার শতবর্ষ পূর্তি উৎসব পালন করবে, তখন অনিন্দ্যসুন্দর ভারত নির্মাণ করবে।

আমি গর্বিত যে আমিও কখনও আপনাদেরই মতো এনসিসি-র সক্রিয় ক্যাডেট ছিলাম। কিন্তু যে সৌভাগ্য আপনাদের হয়েছে, তা আমার হয়নি। আমি এনসিসি-র যে প্রশিক্ষণ পেয়েছি তা থেকে জানতে ও শিখতে পেরেছি আর দেশের প্রতি আমার দায়িত্ব নির্বাহের সময় আমি সেই প্রশিক্ষণ থেকে পাওয়া শিষ্টাচারগুলি থেকে, সেই প্রশিক্ষণ থেকে অসীম শক্তি পাই। এইতো কিছুক্ষণ আগেই আমি এনসিসি-র অ্যালামনি বা প্রাক্তনীর কার্ডও পেয়েছি। আজ দেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি আমি এনসিসি-র প্রাক্তনী হিসেবেও আপনাদের সঙ্গী, আপনাদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। আমি এনসিসি-র সকল পদাধিকারীদের এবং সকল সতীর্থ ক্যাডেটদের এই শুভ অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্যালুট জানাই। আজ যে ক্যাডেটরা পুরস্কার পেয়েছেন, তাঁদেরকেও আমি আন্তরিক শুভকামনা জানাই। আজ মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী, ‘পাঞ্জাব কেশরী’ লালা লাজপত রায়জির জন্মজয়ন্তীও। আজকের দিনেই ফিল্ড মার্শাল কারিয়াপ্পাজিরও জন্মজয়ন্তী। দেশ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী দেশের এই বীর সুপুত্রদেরকেও আমি সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই।

বন্ধুগণ,

আজ যখন দেশ নতুন নতুন সঙ্কল্প নিয়ে এগিয়ে চলেছে, তখন দেশে এনসিসি-কে শক্তিশালী করার জন্যও আমাদের প্রচেষ্টা জারি রয়েছে। এর জন্য দেশ একটি ‘হাই-লেভেল রিভিউ কমিটি’ বা উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি স্থাপন করেছে। বিগত দু’বছর ধরে আমরা দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলি থেকে ১ লক্ষ নতুন ক্যাডেট তৈরি করেছি। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, এনসিসি ক্যাডেটদের ট্রেনিং-এ ‘সিমুলেশন’-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এনসিসি-র সঙ্গে যুক্ত করার জন্যও দেশ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে। সম্পূর্ণরূপে ‘সেলফ ফাইনান্সিং স্কিম’-এর মাধ্যমে ১ লক্ষ ক্যাডেটের আসন সারা দেশের কলেজগুলিতে করা হয়েছে। ১ লক্ষ ক্যাডেটস নিয়ে এই প্রচেষ্টা এখন স্কুলগুলিতেও শুরু করা হয়েছে।

নতুন জাতীয় শিক্ষানীতির মাধ্যমে দেশের ৯০টি বিশ্ববিদ্যালয় এনসিসি-কে ‘ইলেক্টিভ সাবজেক্ট’ রূপে পাঠ্যক্রম চালু করেছে। আমি আজ এখানে বড় সংখ্যায় ‘গার্ল ক্যাডেটস’ দেখতে পাচ্ছি। এটা দেশের ক্রমপরিবর্তমান মেজাজের প্রতীক। দেশের প্রতি আজ আপনাদের বিশেষ অবদানের প্রয়োজন রয়েছে। দেশে আপনাদের জন্যও আজ অসীম সুযোগ রয়েছে। এখন দেশের মেয়েরাও সৈনিক স্কুলগুলিতে ভর্তি হতে পারছে। সেনাবাহিনীতে মহিলাদের বৃহত্তর দায়িত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের বিমানবাহিনীতে দেশের মেয়েরা যুদ্ধবিমান ওড়াচ্ছেন। এক্ষেত্রে আমাদের চেষ্টা থাকা উচিৎ যাতে এনসিসি-তেও বেশি সংখ্যায় মেয়েরা যোগদান করে। যে মেয়েরা নিজে থেকে এনসিসি-তে যোগদান করেছে, তারা অন্যদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে উঠতে পারে।

বন্ধুগণ,

দেশের প্রসিদ্ধ কবি মাখনলাল চতুর্বেদীর একটি কবিতায় তিনি লিখেছেন,

“ভূখণ্ড বিছা, আকাশ ওর, নয়নোদক লে, মোদক প্রহার,

ব্রহ্মাণ্ড হাতেলি পর উছাল, আপনি জীবন ধন কো নিহার।”

এই পংক্তি সামর্থ্যের পরাকাষ্ঠা বর্ণনা করে। শক্তি এমন হোক যা ভূখণ্ডকে বিছিয়ে দিতে পারে, আকাশ দিয়ে শরীর ঢাকতে পারে, ব্রহ্মাণ্ডকে হাতে নিয়ে লুফতে পারে। শক্তি এমন হবে যাতে কঠিন থেকে কঠিনতর পরিস্থিতিতেও হাসি মুখে, বুক চিতিয়ে মোকাবিলা করতে পারে। আজ ভারতমাতা ভারতের যুব সম্প্রদায়কে এই আহ্বান জানাচ্ছে।

“ভূখণ্ড বিছা, আকাশ ওর, নয়নোদক লে, মোদক প্রহার,

ব্রহ্মাণ্ড হাতেলি পর উছাল, আপনি জীবন ধন কো নিহার।”

আগামী ২৫ বছরের অমৃতকাল দেশভক্তির জোয়ারের অমৃতকাল। আজ চ্যালেঞ্জ এটা নয় যে বিশ্বে কেউ এই চ্যালেঞ্জ স্বীকার করবে কি করবে না। এই শক্তিকে আমাদের মহত্বে পরিণত করতে হবে। যখন বিশ্ব ভারতের দিকে এত আশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে, এত ভরসা নিয়ে প্রতীক্ষা করছে, তখন ভারত তার এই মহত্বের গুণেই কোনও প্রচেষ্টায়, কোনও দিক থেকে দুর্বল হয়ে পড়বে না।

আজ স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসবে ভারত যে সঙ্কল্পগুলি গ্রহণ করেছে, যেসব অভিযান শুরু করেছে, সেগুলি নিরন্তর নতুন নতুন প্রাণশক্তি যাতে অর্জন করতে পারে, তার অনেক বড় দায়িত্ব আমাদের দেশের কোটি কোটি নবীন প্রজন্মের মানুষদের কাঁধে ন্যস্ত রয়েছে। আজ এই সময় যত যুবক-যুবতী, ছাত্র-ছাত্রীরা এনসিসি-তে রয়েছেন, এনএসএস-এ রয়েছেন, তাদের মধ্যে অধিকাংশই বর্তমান শতাব্দীতেই জন্মগ্রহণ করেছেন। আপনাদেরকেই ভারতকে ২০৪৭ পর্যন্ত অত্যন্ত শৌর্য ও বীর্যের সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। সেজন্য আপনাদের প্রচেষ্টা, আপনাদের সঙ্কল্প, সেই সঙ্কল্পগুলির সিদ্ধি, ভারতের সিদ্ধিতে পরিণত হবে, ভারতের সাফল্যে পরিণত হবে। রাষ্ট্রভক্তি থেকে বড় কোনও ভক্তি হয় না। রাষ্ট্রহিত থেকে বড় কোনও হিত হয় না। দেশকে সবার ওপরে রেখে আপনারা যা-ই করবেন তা দেশের উন্নয়নকে সাহায্য করবে। আজ আমাদের নবীন প্রজন্ম ভারতকে স্টার্ট-আপ-এর বিশ্বে সর্বোচ্চ তিনটি দেশের অন্যতম করে তুলেছে। করোনার এই সঙ্কটকালেও ভারতে যতগুলি ইউনিকর্ন কোম্পানি গড়ে উঠেছে তা ভারতের যুব সম্প্রদায়ের অপার শক্তির প্রদর্শন। আপনারা কল্পনা করতে পারেন, ৫০টিরও বেশি ইউনিকর্ন, এই করোনাকালের মধ্যেই যারা যাত্রা শুরু করেছিল, তারা আজ ভারতের নাম উজ্জ্বল করছে। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, এক একটি ইউনিকর্ন, এক একটি স্টার্ট-আপ-এর পুঁজি ৭,৫০০ কোটি টাকারও বেশি। এই ক্ষমতা, এই সামর্থ্য আজ দেশে অনেক বড় বিশ্বাস জাগিয়ে তুলেছে। আপনারা জানেন, এতে সবচাইতে গর্ব করার মতো বিষয় কোনটি? সবচাইতে গর্ব করার মতো বিষয় হল, এই হাজার হাজার স্টার্ট-আপ দেশের কোনও না কোন বিশেষ প্রয়োজন মেটানোর জন্যই চালু হয়েছে। কোনোটি কৃষিক্ষেত্রে নতুন কিছু করছে, কোনোটি সরবরাহ শৃঙ্খলকে উন্নত করার জন্য নতুন কিছু করছে। কোনোটি আবার শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তনের জন্য নতুন কিছু করছে। এদের প্রত্যেকের মধ্যেই দেশের জন্য কিছু করার উৎসাহ রয়েছে, কিছু করে দেখানোর উদ্দীপনা রয়েছে।

বন্ধুগণ,

যে দেশের যুব সম্প্রদায় ‘দেশ সর্বাগ্রে’, এই ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে, সেই দেশকে বিশ্বের কোনও শক্তিই থামিয়ে রাখতে পারবে না। আজ ক্রীড়া ময়দানে ভারতের সাফল্যও এই উৎসাহ ও উদ্দীপনারই উদাহরণ। খেলোয়াড়দের প্রতিভা, খেলোয়াড়দের সঙ্কল্প – এই সকল বিষয়ের একটা নিজস্ব গুরুত্ব তো রয়েছেই। খেলোয়াড়দের পরিশ্রমও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার হার-জিতের সঙ্গে যখন ১৩০ কোটি দেশবাসী যুক্ত হয়ে পড়েন, ভারতের যুব সম্প্রদায় যখন যে কোনও ময়দানে যে কারোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়, তখন গোটা দেশ তার পেছনে একজোট হয়ে দাঁড়ায়। খেলোয়াড়দের মনেও এই ভাবনা প্রবল হয়ে ওঠে যে আমি পুরস্কারের জন্য খেলছি না, নিজের দেশের জন্য খেলছি। এই ভাবনা নিয়ে প্রত্যেক ক্ষেত্রে ভারতের যুব সম্প্রদায়কে, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে হবে।

বন্ধুগণ,

করোনার এই কঠিন সময়ে গোটা বিশ্বের সামনে আমরা ভারতীয়দের অনুশাসন, ভারতীয়দের সমাজশক্তির পরিচয় তুলে ধরেছি। যখন জনতা কারফিউ ঘোষণার মাধ্যমে সমগ্র দেশ করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য একজোট হয়ে গিয়েছিল, তখন গোটা বিশ্ব অবাক হয়ে গিয়েছিল। কেউ কেউ আমাদের সমাজকে ঈর্ষ করে, অভিশম্পাত দেয় কারণ এই সমাজ দেখিয়ে দিয়েছে, যখন দেশের ব্যাপার থাকে, তখন কারোর সামনে এর থেকে বড় আর কিছু থাকে না। যখন সঠিক দিশা পায়, সঠিক উদাহরণ পায়, তখন আমাদের দেশবাসী কত কিছু করে দেখাতে পারে, এটা তার উদাহরণ।

আপনারা, এনসিসি এবং এনএসএস-এর যুবক-যুবতীরাও এই সঙ্কটে নিজেদের সেবার মনোভাবের মাধ্যমে সকলের হৃদয় জয় করেছেন। এখন আপনাদের ওপর এই দায়িত্বও বর্তায় যে আপনারা এনসিসি-তে যা কিছু শিখেছেন, তা যে শুধু ইউনিফর্ম পরলেই কাজে লাগবে তা নয়, এই শিক্ষা আপনাদের সমগ্র জীবনে এরকমই অনুশাসন নিয়ে কিভাবে বজায় রাখবেন আর যথাসময়ে কিভাবে সদ্ব্যবহার করবেন তা নিয়ে নিজেদেরকেই ভাবতে হবে। এটা ভাবতে হবে যে ক্যাডেট হিসেবে যা যা শিখেছি, তা দিয়ে কী করে সমাজের উপকার করব। যেমন, আপনি যদি কোনও গ্রামে বসবাস করেন, তাহলে আপনি সেই গ্রামে কত ছাত্রছাত্রী স্কুলছুট হয়েছে, সেই খোঁজ নিতে পারবেন। আপনি সেই স্কুলছুট হওয়া ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দেখা করে তাদের সমস্যাগুলির কথা শুনবেন, বোঝার চেষ্টা করবেন। যদি তারা আবার পড়া শুরু করে বা পড়া শুরু করার চেষ্টা করে তাহলে কিভাবে তা সম্ভব। নিজের এনসিসি থেকে পাওয়া ভাবনা নিয়ে আপনিও হাত বাড়ান।

আপনারা পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে উৎসাহ যোগানোর জন্য গ্রামে গ্রামে নিজেদের এলাকাগুলিতে বা পার্শ্ববর্তী গ্রাম, শহর বা এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন টিম বানিয়ে কাজ করতে পারেন। আপনাদের মধ্যে যেহেতু লিডারশিপ বা নেতৃত্বের গুণ থাকে, এখন সেই গুণকে সমাজে প্রয়োগ করতে হবে। যেভাবে আপনাদের মধ্যে অনেকে দেশের সমুদ্রতটগুলিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছেন, ‘পুনিত সাগর অভিযান’ শুরু করেছিলেন, তা থেকে অনেক প্রশংসা পেয়েছেন, এই কর্মধারা এনসিসি-র কর্মকালের পরেও জারি রাখতে হবে। যেমন আজকাল দেশে ‘ক্যাচ দ্য রেইন’ বা বর্ষার জলকে ধরো শীর্ষক একটি জন-আন্দোলন চালু হয়েছে। বৃষ্টির জলকে আমরা কিভাবে বাঁচাব, আমাদের যত পুকুর, যত সরোবর রয়েছে, সেগুলির জলকে কিভাবে পরিচ্ছন্ন রাখব, সেই লক্ষ্যেও আপনারা কাজ করে যেতে পারেন।

বন্ধুগণ,

স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় মহাত্মা গান্ধী দেশের সাধারণ মানুষকে এমন সব প্রবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন, যেগুলি মানুষের দৈনন্দিন রোজগার সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশভক্তির আন্দোলনেও গতি প্রদান করেছিল। যেমন, কেউ সুতো কাটার কাজ করতেন। কেউ বা আবার প্রৌঢ় শিক্ষায় যুক্ত ছিলেন। আবার কেউ পরিচ্ছন্নতার কাজই করতেন। এ সকল বিষয়কে গান্ধীজিও স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। এভাবে স্বাধীনতার অমৃতকালে আজ থেকে শুরু করে আগামী ২৫ বছর ধরে আমাদের সবাইকে, আপনাদের নিজস্ব প্রবৃত্তিকেও নিজেদের কাজের সঙ্গে, দেশের উন্নয়নের সঙ্গে, দেশের প্রত্যাশার সঙ্গে ও দেশের আকাঙ্ক্ষাগুলির সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন। আজ দেশ আত্মনির্ভর ভারতের সঙ্কল্প নিয়ে এগিয়ে চলেছে। আজ সকল যুবক-যুবতী ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর অভিযানে অনেক বড় ভূমিকা পালন করতে পারেন।

যদি ভারতের যুব সম্প্রদায় দৃঢ় নিশ্চয় হয়ে পড়ে, তাহলে যে জিনিস উৎপাদনে কোনও ভারতীয়ের শ্রমের প্রয়োজন হচ্ছে, তাতে যে যে  ভারতবাসীর ঘামের গন্ধ রয়েছে, শুধু তাঁরাই সেগুলিকে ব্যবহার করতে পারবেন। এরকম করে দিলেই ভারতের ভাগ্য তীব্র গতিতে পরিবর্তিত হতে পারে। ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর মন্ত্র সরাসরি দেশের যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে। যখন জনগণ স্থানীয় পণ্য কিনবেন, তখন স্থানীয় পণ্যের উৎপাদনও বাড়বে আর উৎপাদন বাড়লে উৎকর্ষও বাড়তে থাকবে। যখন স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, তখন সেজন্যই স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানের নতুন নতুন উপায়ও বাড়বে।

বন্ধুগণ,

এই সময়টি হল প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের। এই সময় হল ডিজিটাল বিপ্লবের। এই যুগে যদি কেউ নায়ক হন, তাঁরা হলেন আপনাদের মতো আমার সমস্ত নবীন বন্ধুরা। সেজন্য এই রূপান্তরণের সময়ে এনসিসি ক্যাডেট হিসেবে আপনাদের স্কন্ধে বেশ কিছু নতুন দায়িত্ব ন্যস্ত হয়েছে। আপনাদের এই বিপ্লবে ভারতকে নেতা করে তোলার জন্য দেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে, আর তার পাশাপাশি, এই চ্যালেঞ্জ নিতে গিয়ে যত প্রতিকূলতার সম্মুখীন হবেন, সেগুলির মোকাবিলাও করতে হবে। আজ একদিকে যেমন ডিজিটাল প্রযুক্তি আর তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত অসংখ্য ইতিবাচক সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনই অন্যদিকে ‘মিস ইনফরমেশন’ বা ভুল তথ্যের ভয়ও রয়েছে। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ যাতে কোনও গুজবের শিকার না হন, সেটা দেখাও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এনসিসি ক্যাডেটরা সেজন্য একটি সচেতনতা অভিযান চালাতে পারেন। একদিকে সেইসব প্রতিকূলতা যেগুলি আজকের যুবকদের সামনে রয়েছে যেমন ভার্চ্যুয়াল আর রিয়েল লাইফের মধ্যে ক্রমতলায়মান ভারসাম্যহীনতা! এনসিসি-কে তাঁদের ক্যাডেটদের জন্য এই সামঞ্জস্য রক্ষার প্রশিক্ষণ দেওয়ার পদ্ধতি রচনা করতে হবে, যা দেশের নবীন প্রজন্মের অন্যান্য যুবক-যুবতীদের জন্যও সহায়ক, পথ প্রদর্শক হবে।

বন্ধুগণ,

আরও একটি বিষয় আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। এই বিষয়টি হল ড্রাগস, মাদক দ্রব্যের নেশা। মাদক দ্রব্যের নেশা আমাদের নবীন প্রজন্মকে কতটা সর্বনাশ করছে, তা আপনারা খুব ভালোভাবেই জানেন। সেজন্য যেসব স্কুল-কলেজে এনসিসি রয়েছে, এনএসএস রয়েছে, সেখানে যেন ড্রাগস বা যে কোনও মাদক দ্রব্য যেন কোনভাবেই পৌঁছতে না পারে। আপনারা দেশভক্ত ক্যাডেট রূপে নিজেরা ড্রাগস থেকে মুক্ত থাকবেন, তার পাশাপাশি নিজেদের ক্যাম্পাসকেও মাদকমুক্ত রাখবেন। আপনাদের বন্ধুবান্ধব, যাঁরা এনসিসি বা এনএসএস-এ নেই, তাঁদেরকেও এ থেকে মুক্ত রাখবেন আর যাঁরা এতে অভ্যস্ত তাঁদের এসব কু-অভ্যাস ত্যাগ করতে সাহায্য করবেন।

বন্ধুগণ,

দেশে এরকম সামগ্রিক প্রচেষ্টাকে নতুন প্রাণশক্তি প্রদানের জন্য কয়েক বছর আগে একটি পোর্টালও চালু করা হয়েছিল। সেই পোর্টালটির নাম হল - ‘Self4Societyportal’। এই পোর্টালে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি এসে, ভিন্ন কোম্পানি এসে, ভিন্ন ভিন্ন সংগঠন এসে সমাজ সেবার যত কাজ হয়, সেসব কাজে তারা সহযোগিতা করে। বিশেষ করে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি এবং টেক কোম্পানিগুলি এই লক্ষ্যে খুব ভালো কাজ করেছে। আজ এই পোর্টালের সঙ্গে ৭ হাজারেরও বেশি সংগঠন এবং ২ লক্ষ ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ যুক্ত রয়েছেন, যাঁরা কোনও না কোন সমাজ সেবা করেন। এনসিসি / এনএসএস-এর লক্ষ লক্ষ ক্যাডেটদেরও এই পোর্টালের সঙ্গে অবশ্যই যুক্ত হওয়া উচিৎ।

ভাই ও বোনেরা,

আমাদের একদিকে এনসিসি ক্যাডেটদের সংখ্যা বাড়াতে হবে, অন্যদিকে ক্যাডেটদের কর্মোদ্যমকেও বাড়াতে হবে। এই কর্মোদ্যমের প্রাণশক্তি প্রত্যেক নাগরিকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে, গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দিতে হবে। এটা আমাদের সকলের দায়িত্ব। আমি মনে করি, এতে এনসিসি অ্যালামনিদের, বা আমার মতো প্রাক্তনীদেরও অনেক বড় ভূমিকা থাকা উচিৎ। এনসিসি অ্যালামনি অ্যাসোসিয়েশন-এর এই কাজে একটি সেতুর ভূমিকা, একটি নেটওয়ার্কের ভূমিকা পালন করা উচিৎ। যেহেতু আমি নিজে এই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য, সেজন্য দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা আমার মতো সমস্ত প্রাক্তনী বন্ধুদের আবেদন জানাই যে আপনারা এই মিশনের সক্রিয় অঙ্গ হয়ে উঠুন কারণ, ‘ওয়ান্স আ ক্যাডেট, অলওয়েজ আ ক্যাডেট’। যাঁরা প্রাক্তনী তাঁরা মনে-প্রাণে জানেন যে তাঁরা কোনদিনই নিজেদের ক্যাডেট সত্ত্বা থেকে বেরোতে পারেন না। আমরা যেখানেই থাকি না কেন, যে ক্ষেত্রেই নিজের পরিষেবা দিই না কেন, আমাদের অভিজ্ঞতা দেশ এবং নতুন প্রজন্মের অনেক কাজে লাগতে পারে। আমাদের অভিজ্ঞতা একটি সংগঠন রূপে এনসিসি-কেও আগের থেকে উন্নত করে তোলার মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। এতে এনসিসি-র কর্মোদ্যোগ আর কর্তব্য ভাবনা সমাজের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়বে।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসবে আমাদের এই প্রচেষ্টা নতুন ভারত গড়ে তোলার প্রাণশক্তি হয়ে উঠবে আর এক্ষেত্রে এনসিসি ক্যাডেটরা অনেক বড় ভূমিকা পালন করবেন। এই বিশ্বাস নিয়ে আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

ভারতমাতার জয়!

ভারতমাতার জয়!

ভারতমাতার জয়!

বন্দে মাতরম, বন্দে মাতরম!

 

CG/SB/DM/



(Release ID: 1793430) Visitor Counter : 72