প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর

মানবজাতির ইতিহাসে টিকাকরণের এই বিরাট কর্মযজ্ঞ অভাবনীয় : প্রধানমন্ত্রী

টিকার সুরক্ষা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ সুনিশ্চিত হওয়ার পর বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা ভারতেই উদ্ভাবিত টিকাগুলির আপতকালীন ব্যবহারে অনুমতি দিয়েছেন : প্রধানমন্ত্রী

সারা বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ শিশুই ভারতের জীবনদায়ী টিকা পেয়ে থাকে : প্রধানমন্ত্রী

Posted On: 16 JAN 2021 1:46PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লী, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশ জুড়ে কোভিড-১৯ টিকাকরণ অভিযানের সূচনা করেছেন। ভারতের সুবিশাল ভৌগলিক সীমার নিরিখে এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ টিকাকরণ কর্মসূচি।

 

প্রধানমন্ত্রী টিকাকরণের এই বিরাট কর্মযজ্ঞকে মানবজাতির ইতিহাসে অভাবনীয় ঘটনা বলে উল্লেখ করে জানান, অভিযানের প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩ কোটি মানুষের টিকাকরণ হবে। যে ৩ কোটি মানুষের টিকাকরণ হবে, তা বিশ্বের ১০০টি দেশের জনসংখ্যার তুলনায় বেশি। তিনি আরও বলেন, টিকাকরণের দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৩০ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এদের মধ্যে যেমন বয়স্ক ব্যক্তিরা রয়েছেন তেমনই রয়েছেন গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিরাও। প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বে মাত্র তিনটি দেশ রয়েছে- ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন, যাদের জনসংখ্যা ৩০ কোটির বেশি। তাই মানব জাতির ইতিহাসে টিকাকরণের ক্ষেত্রে এ ধরণের বিরাট কর্মযজ্ঞ কখনও পরিচালিত হয়নি। এই টিকাকরণ অভিযান থেকেই ভারতের সক্ষমতার দিকটিও প্রতিফলিত হয়। 

 

প্রধানমন্ত্রী ভারতে উদ্ভাবিত টিকাগুলি সম্পর্কে গুজব ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, টিকাগুলির সুরক্ষা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ সুনিশ্চিত হয়েই বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা আপকালীন পরিস্থিতিতে টিকার ব্যবহারে অনুমতি দিয়েছেন। ভারতীয় টিকা- বিজ্ঞানী, চিকিৎসা ব্যবস্থা, ভারতীয় প্রক্রিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা সারা বিশ্বে সফলভাবে টিকাকরণ অভিযান পরিচালনার জন্য সুনাম অর্জন করেছে। টিকাকরণ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে ভারতের অতীত রেকর্ড-ই তার প্রমাণ। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের ৬০ শতাংশ শিশুই ভারতে উদ্ভাবিত জীবনদায়ী টিকা পেয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, এই টিকাগুলিও একাধিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নীরিক্ষায় তার গুণমান প্রমাণ করেছে। 

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের টিকা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা এবং বৈজ্ঞানিক ধ্যান-ধারণা দেশেই উদ্ভাবিত করোনা টিকার ফলে আরও সুদৃঢ় হবে। ভারতীয় টিকাগুলি অন্যান্য বিদেশী টিকার তুলনায় কেবল দামের দিক থেকেই কম নয়, সেইসঙ্গে এই টিকাগুলির সঠিক পরিচালনাও তুলনামূলক সহজ। প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি বিদেশী টিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, এগুলির মূল্য কখনও কখনও ভারতীয় মুদ্রায় ৫ হাজার টাকার বেশি। এমনকি, বিদেশী টিকাগুলিকে স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে ৭০ ডিগ্রি কম তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করে রাখতে হয়। অন্যদিকে, ভারতীয় টিকাগুলি এমন প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যে প্রযুক্তি ভারতে বহু বছর ধরে সাফল্যের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়ে আসছে। ভারতীয় আবহাওয়ার উপযোগী এই টিকাগুলির সংরক্ষণ থেকে পরিবহণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে প্রযুক্তিতে ভারতীয় টিকাগুলির উদ্ভাবন হয়েছে তা করোনার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইয়ে এক নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে। 

 

শ্রী মোদী করোনার বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইকে স্বনির্ভর ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রত্যেক ভারতীয় এক্ষেত্রে হতাশার পরিবর্তে  দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশে করোনা ল্যাবের সংখ্যা এক থেকে বেড়ে এখন ২ হাজার ৩০০টি হয়েছে বলে উল্লেখ করে বলেন, দেশ আজ না কেবল মাস্ক, পিপিই কিট এবং ভেন্টিলেটর উপাদনে আত্মনিভর হয়ে উঠেছে, বরং এগুলি রপ্তানীও করছে।

 

 প্রধানমন্ত্রী সমগ্র টিকাকরণ অভিযানের সময় সাধারণ মানুষকে একই আত্মবিশ্বাস ও অনুরূপ সংযমের মানসিকতা দেখানোর আহ্বান জানান। 

***

 

 

CG/BD/NS



(Release ID: 1689109) Visitor Counter : 140