প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন
প্রকাশিত:
18 APR 2026 11:39PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
ভারতের মা, বোন ও কন্যাদের সঙ্গে সম্পর্কিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মহিলাদের অগ্রগতির পথে সৃষ্ট বাধার কারণে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারের সর্বাত্মক ও আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও 'নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম' সংশোধনীটি পাস হতে ব্যর্থ হয়েছে, যা কার্যত দেশের নারী সমাজের ন্যায্য স্বপ্নগুলোকে চূর্ণ করে দিয়েছে। শ্রী মোদী বলেন, "এই দুর্ভাগ্যজনক পরিণতির জন্য আমি জাতির সকল মা ও বোনদের কাছে গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি।"
জাতীয় স্বার্থই যে সর্বদা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায় - এ কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীর তীব্র সমালোচনা করেন; যারা দেশের কল্যাণের চেয়ে দলীয় স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
সারা দেশ জুড়ে যে গভীর হতাশা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বিলের ব্যর্থতা মহিলাদের আত্মসম্মানে এক প্রত্যক্ষ আঘাত - এমন এক অপমান যা মহিলা ভোটাররা চিরকাল তাদের স্মৃতিতে গেঁথে রাখবেন। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "মহিলারা হয়তো অন্য সবকিছু ভুলে যেতে পারেন, কিন্তু নিজেদের সম্মানে আঘাতের বিষয়টি তাঁরা কখনোই ভোলেন না।"
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, ভারতের মহিলারা এই অশুভ উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন এবং ভবিষ্যতে তাঁরা দোষী রাজনীতিবিদদের কঠোরভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনবেন। 'নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম' সংশোধনীর রূপান্তরমূলক দৃষ্টিভঙ্গির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই আইনটি ছিল একটি মহৎ প্রচেষ্টা - যার লক্ষ্য ছিল দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক অংশের জন্য দীর্ঘদিনের বকেয়া অধিকার নিশ্চিত করা এবং নতুন নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচন করা। তিনি পর্যবেক্ষণ করেন যে, এই বিলটির উদ্দেশ্য ছিল কাঠামোগত বাধাগুলো দূর করা এবং আকার বা ভৌগোলিক অবস্থান নির্বিশেষে - সকল রাজ্যের রাজনৈতিক ক্ষমতাকে সমানভাবে শক্তিশালী করা। শ্রী মোদী বলেন, "এই সংশোধনীটি ছিল ভারতের উন্নয়ন যাত্রায় মহিলাদের সমান সহযাত্রী হিসেবে যুক্ত করার একটি আন্তরিক প্রচেষ্টা।"
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ভারতের নাগরিকরা রাজনীতির এই কদর্য রূপটিকে পুরোপুরি চিনতে পেরেছেন এবং এর নেপথ্যের উদ্দেশ্যগুলোও সম্পূর্ণরূপে অনুধাবন করতে পেরেছেন। শ্রী মোদী বলেন, "মহিলাদের অধিকার হরণের উদ্দেশ্যে রাজনীতির যে কদর্য কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে, তা এখন পুরো দেশ স্পষ্টভাবে বুঝে গেছে।"
প্রধানমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, বংশতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো এই ভেবে ভীত যে - তাদের পরিবারের বাইরের কোনো ক্ষমতায়িত মহিলা উঠে এলে তা তাদের স্থানীয় নেতৃত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে পঞ্চায়েত স্তরে কর্মরত হাজার হাজার যোগ্য নারী - বংশতান্ত্রিক রাজনীতিবিদদের গভীর ও বদ্ধমূল নিরাপত্তাহীনতার সামনে এক প্রত্যক্ষ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন।
সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত মিথ্যা প্রচারগুলোকে খণ্ডন করে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, সরকার সুনির্দিষ্টভাবে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল যে - কোনো রাজ্যই তাদের প্রতিনিধিত্ব হারাবে না; বরং প্রতিটি রাজ্যের আসন সংখ্যাই সমান ও ন্যায্য অনুপাতে বৃদ্ধি পাবে। আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে হাতছাড়া হয়ে যাওয়া সুযোগগুলোর ওপর আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংশোধনীর ফলে তামিলনাড়ু, বাংলা এবং উত্তর প্রদেশের মতো রাজ্যগুলোর সংসদীয় আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেত।
পূর্বে বিরোধিতার সম্মুখীন হওয়া বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগের তালিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে - 'জন ধন-আধার-মোবাইল' ত্রয়ী, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, জিএসটি এবং 'তিন তালাক' বিরোধী আইনের মতো পদক্ষেপগুলোও অতীতে প্রবল বাধার মুখে পড়েছিল। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, অতীতে সিএএ আইন নিয়েও ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং মাওবাদী সন্ত্রাস নির্মূলের প্রচেষ্টাও প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
ভারতের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক বিলম্বের কারণগুলো বিশ্লেষণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তগুলোকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার বা ধামাচাপা দেওয়ার যে দীর্ঘস্থায়ী কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল, তার ফলেই স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে অন্যান্য দেশ ভারতকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। তিনি আক্ষেপের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি, ওবিসি সংরক্ষণ এবং সেনাবাহিনীর জওয়ানদের জন্য 'এক পদ এক পেনশন' প্রকল্পের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সিদ্ধান্তগুলো আটকে রাখতে ৪০টি বছর ব্যয় করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, এই ধরনের সিদ্ধান্তহীনতা এবং প্রতারণার কারণে ভারতের প্রজন্মের পর প্রজন্ম গভীর দুর্ভোগ পোহাতে বাধ্য হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক লড়াইটি কেবল একটি নির্দিষ্ট আইনের বিষয় নয়, বরং এটি একটি অত্যন্ত নেতিবাচক ও সংস্কার-বিরোধী মানসিকতার বিরুদ্ধে পরিচালিত এক বৃহত্তর সংগ্রাম। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "আমার মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে, দেশের সকল বোন ও কন্যারা এই বিষাক্ত মানসিকতার সমুচিত জবাব দেবেন।"
বিলটি পাস না হওয়া সরকারের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে - এমন দাবিগুলোকে খারিজ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী পুনরায় উল্লেখ করেন যে, বিরোধী দলগুলো যদি কেবল এই আইনটিকে সমর্থন করত, তবে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদেরই এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দিতে তিনি বিন্দুমাত্র কুণ্ঠিত হতেন না। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "এই বিষয়টি কখনোই রাজনৈতিক কৃতিত্ব অর্জনের উদ্দেশ্যে ছিল না; বরং এর মূল লক্ষ্য ছিল নারীদের অধিকার নিশ্চিত করা।"
নারী ক্ষমতায়নের প্রতি নিজের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী লক্ষ লক্ষ নারীর মনে জমে থাকা হতাশা ও বেদনার প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি তাদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা সত্ত্বেও এই লক্ষ্য পূরণের ব্যাপারে তাঁর সংকল্প সম্পূর্ণ অটুট রয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, এই আইন বাস্তবায়নের পথে ভবিষ্যতে যত বাধা আসবে, তার প্রতিটিকেই তিনি অপসারণ করবেন; এবং দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন যে - দেশের ১০০ শতাংশ মহিলার আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে সরকার শেষ পর্যন্ত এই লক্ষ্য অর্জনে সফল হবেই। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক অংশের স্বপ্ন এবং দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বার্থেই আমাদের এই সংকল্প অবশ্যই পূরণ করতে হবে।"
SC/SB/AS
(রিলিজ আইডি: 2253440)
ভিজিটরের কাউন্টার : 12
এই রিলিজটি পড়তে পারেন:
Malayalam
,
English
,
Urdu
,
Marathi
,
हिन्दी
,
Assamese
,
Manipuri
,
Punjabi
,
Gujarati
,
Odia
,
Tamil
,
Telugu
,
Kannada