পেট্রোলিয়ামওপ্রাকৃতিকগ্যাসমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রসমূহের সাম্প্রতিকতম তথ্য

প্রকাশিত: 04 APR 2026 3:06PM by PIB Kolkata

নয়া দিল্লি: ০৪ এপ্রিল ২০২৬

 

ভারত সরকার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রসমূহ জুড়ে সার্বিক প্রস্তুতি এবং সুষ্ঠু কার্যসম্পাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে। পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে, নিচের এই সাম্প্রতিকতম তথ্যে জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক কার্যক্রম এবং ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তার ক্ষেত্রে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে:

 জ্বালানি সরবরাহ এবং জ্বালানির সহজলভ্যতা

হরমুজ প্রণালী (স্ট্রেট অফ হরমুজ ) সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক দেশজুড়ে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য এবং এলপিজি-র নিরবচ্ছিন্ন সহজল্ভ্যতা সুনিশ্চিত করতে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী:
জনসাধারণের প্রতি পরামর্শ এবং নাগরিক সচেতনতা
✪· সরকার পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি-র সহজল্ভ্যতা সুনিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে; এমতাবস্থায় নাগরিকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যেন তাঁরা পেট্রোল ও ডিজেল কেনার ক্ষেত্রে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত ত্রস্ত কেনাকাটা (প্যানিক পারচেজ) না করেন এবং এলপিজি বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনীয় বুকিং দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।
·✪ নাগরিকদের প্রতি পরামর্শ হলো, তাঁরা যেন বিভিন্ন গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকেন এবং সঠিক তথ্যের জন্য শুধুমাত্র সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক সূত্রগুলোর ওপরই নির্ভর করেন।
·✪ এলপিজি-র ক্ষেত্রে, নাগরিকদের অনুরোধ করা হচ্ছে যেন তাঁরা সিলিন্ডার বুকিংয়ের জন্য ডিজিটাল মাধ্যমগুলো ব্যবহার করেন এবং একান্ত প্রয়োজন না হলে এলপিজি পরিবেশকদের (ডিস্ট্রিবিউটারদের) কার্যালয়ে সশরীরে যাওয়া থেকে বিরত থাকেন।
✪· যেখানে যেখানে সম্ভব, নাগরিকদের পিএনজি, ইন্ডাকশন কুকটপ এবং বৈদ্যুতিক চুলা বা কুকটপের মতো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।
✪ বর্তমান পরিস্থিতিতে, সকল নাগরিকের প্রতি অনুরোধ রইল যেন তাঁরা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে জ্বালানি বা শক্তির সাশ্রয় করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন।

 সরকারি প্রস্তুতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত পদক্ষেপসমূহ
·✪ বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও, সরকার গার্হস্থ্য এলপিজি এবং পিএনজি -কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে; পাশাপাশি হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও উচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।
✪ সরকার ইতিমধ্যেই সরবরাহ ও চাহিদা—উভয় ক্ষেত্রেই বেশ কিছু যৌক্তিককরণমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে শোধনাগারগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধি; শহরাঞ্চলে এলপিজি বুকিংয়ের মধ্যবর্তী ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন এবং গ্রামাঞ্চলে তা ৪৫ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা; এবং সরবরাহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার প্রদান করা।
✪ এলপিজি-র চাহিদার ওপর চাপ কমাতে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কেরোসিন ও কয়লার মতো বিকল্পগুলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
✪ কয়লা মন্ত্রক ইতিমধ্যেই 'কোল ইন্ডিয়া' এবং 'সিঙ্গারেণি কলারিজ'-কে নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা রাজ্যগুলোর জন্য কয়লার বরাদ্দ বৃদ্ধি করে, যাতে ছোট, মাঝারি এবং অন্যান্য শ্রেণীর গ্রাহকদের কাছে কয়লা বিতরণ করা সম্ভব হয়।
✪ রাজ্যগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন তারা গার্হস্থ্য ও বাণিজ্যিক—উভয় শ্রেণীর গ্রাহকদের জন্যই নতুন পিএনজি সংযোগ প্রদানের প্রক্রিয়াটি সহজতর করে তোলে।
✪ সম্প্রতি, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের (এমওপিএনজি) সচিব সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব এবং প্রধান সচিবদের (খাদ্য ও অসামরিক সরবরাহ) নিয়ে একটি বৈঠক করেন। এই বৈঠকে জ্বালানি সরবরাহের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয় এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরা হয়। রাজ্যগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা এলপিজি বিতরণের ক্ষেত্রে—বিশেষ করে গার্হস্থ্য ও জরুরি প্রয়োজনগুলোর ক্ষেত্রে—সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করে; একইসাথে মজুতদারি, অবৈধভাবে পণ্য পাচার (ডাইভারশান) এবং ভুল তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য 'এফটিএল' এলপিজি সরবরাহের বিষয়ে প্রাপ্ত কিছু প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে রাজ্যগুলো স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এলপিজি সরবরাহে এমন কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি যা পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রভাবিত করতে পারে; বরং সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে। সচিব আরও জানান যে, স্থানীয় চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলোর (ওএমসি’স) সহযোগিতায়, রাজ্যগুলো ৫ কেজি ওজনের 'এফটিএল' এলপিজি সিলিন্ডারগুলোর লক্ষ্যভিত্তিক বিতরণের বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে পারে।

 রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর সঙ্গে সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাসমূহ
✪ 'অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন, ১৯৫৫' (এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট, ১৯৫৫) এবং 'এলপিজি নিয়ন্ত্রণ আদেশ, ২০০০' (এলপিজি কন্ট্রোল অর্ডার, ২০০০)-এর আওতায়, যেকোনো ধরণের মজুতদারি ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্ণ ক্ষমতা রাজ্য সরকারগুলোর রয়েছে। পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি-সহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর সরকারকেই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হয়। ভারত সরকার একাধিক চিঠি এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে এই একই বিষয় পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
✪ সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য সচিব এবং অতিরিক্ত মুখ্য সচিব/প্রধান সচিব/সচিব (খাদ্য ও অসামরিক সরবরাহ)-দের প্রতি নিম্নলিখিত অনুরোধগুলো জানানো হচ্ছে:
✪ রাজ্য ও জেলা পর্যায়ে প্রতিদিনের সংবাদ সম্মেলনের (প্রেস ব্রিফিংস) একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা এবং নিয়মিতভাবে জনসাধারণের উদ্দেশ্যে পরামর্শমূলক বিজ্ঞপ্তি (পাব্লিক অ্যাদ্ভাইজারিস) জারি করা।
✪ এই সংক্রান্ত কাজের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুমস) অথবা হেল্পলাইন চালু করা।
✪ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভুয়া খবর বা ভুল তথ্যের ওপর সক্রিয়ভাবে নজরদারি করা এবং সেগুলোর যথাযথ প্রতিউত্তর বা খণ্ডন করা।
✪ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দৈনিক অভিযান জোরদার করা এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলোর (ওএমসি’স) সমন্বয়ে তল্লাশি ও পরিদর্শন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা।
✪ নিজ নিজ রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দের আদেশ জারি করা।
✪ রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত এসকেও -এর বরাদ্দের আদেশ জারি করা।
✪ সিজিডি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ দ্রুততর করা; যার অন্তর্ভুক্ত হলো—রাস্তা ব্যবহারের অধিকার (আর ও ডব্লিউ)/ভূমির অধিকার(আর ও ইউ)-সংক্রান্ত অনুমতি এবং ২৪ ঘণ্টা কাজ করার অনুমতির মতো বিষয়গুলো ত্বরান্বিত করা।

✪ পিএনজি -এর ব্যবহার এবং বিকল্প জ্বালানির প্রচারে উৎসাহিত করা।
✪ পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের  (এমওপিএনজি) সাথে সমন্বয় সাধনের জন্য ঊর্ধ্বতন নোডাল কর্মকর্তা মনোনীত করা।

✪ ভারত সরকার গত ২৭.০৩.২০২৬ এবং ০২.০৪.২০২৬ তারিখের চিঠির মাধ্যমে সকল রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য সচিবদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে যেন তাঁরা সক্রিয় ও নিয়মিত জন-যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদার করেন। পাশাপাশি, ভুল তথ্য বা অপপ্রচারের কার্যকর মোকাবিলা করতে এবং এলপিজি-র পর্যাপ্ত প্রাপ্যতা ও সুষ্ঠু বিতরণ সম্পর্কে নাগরিকদের আশ্বস্ত করতে—উপযুক্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দৈনিক সংবাদ সম্মেলন (প্রেস ব্রিফিংস) আয়োজন এবং সামাজিক ও বৈদ্যুতিন মাধ্যমের সাহায্যে যথাসময়ে সঠিক তথ্য প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
·✪ বর্তমানে, ২১টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সংবাদ সম্মেলন বা প্রেস ব্রিফিংয়ের কার্যক্রম চলছে।

 অভিযান ও পর্যবেক্ষণমূলক কার্যক্রম

·✪ এলপিজি-র মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধে অনেক রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকালই ৩,৭০০-এরও বেশি তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
✪ মজুতদারি বা কালোবাজারির যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করার লক্ষ্যে, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলোর(পিএসইউ ওএমসি’স) কর্মকর্তাদের আকস্মিক পরিদর্শন ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
✪ রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলো এ পর্যন্ত বিভিন্ন এলপিজি ডিলারশিপ বা বিতরণ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ১,০০০টি কারণ দর্শানোর নোটিশ (শো কজ নোটিস) জারি করেছে। এছাড়া, এ পর্যন্ত ২৭টি এলপিজি ডিলারশিপের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

 এলপিজি সরবরাহ ও 
গার্হস্থ্য এলপিজি সরবরাহের অবস্থা

·✪ বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এলপিজি সরবরাহ কিছুটা প্রভাবিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও, কোনো এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরশিপে সিলিন্ডার সম্পূর্ণ ফুরিয়ে যাওয়ার (ড্রাই-আউট) কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
·✪ গতকাল শিল্পক্ষেত্র জুড়ে সামগ্রিকভাবে অনলাইন এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের হার বেড়ে ৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

·✪ ডিস্ট্রিবিউটর পর্যায়ে সরবরাহের অপব্যবহার বা অন্য খাতে চলে যাওয়া রোধ করতে, 'ডেলিভারি অথেন্টিকেশন কোড' (ডিএসি)-ভিত্তিক সরবরাহের হার ৫৩ শতাংশ থেকে (ফেব্রুয়ারি-২০২৬) বাড়িয়ে গতকাল ৮৯ শতাংশ করা হয়েছে।
✪ গতকাল প্রায় ৫১ লক্ষ গার্হস্থ্য এলপিজি সিলিন্ডার গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

 বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ এবং বরাদ্দ সংক্রান্ত পদক্ষেপসমূহ:
✪ ভারত সরকার গত ০১.০৪.২০২৬ তারিখের এক আদেশের মাধ্যমে ভারতের পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন শোধনকারী কোম্পানিগুলোকে (রিফাইনিং কম্পানিস) অনুমতি দিয়েছে, যাতে তারা 'সেন্টার ফর হাই টেকনোলজি' (সিএইচটি)-এর নির্ধারিত নির্দিষ্ট পরিমাণ ও শোধনকারী উৎসের ভিত্তিতে—ফার্মাসিউটিক্যালস বিভাগ, খাদ্য ও গণবন্টন বিভাগ, রসায়ন ও পেট্রোকেমিক্যাল বিভাগ ইত্যাদির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর জন্য—নির্দিষ্ট ন্যূনতম পরিমাণে সি-থ্রি ও সি-ফোর স্ট্রিম সরবরাহ করতে পারে।
·✪ ভারত সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বাণিজ্যিক এলপিজি -এর মোট বরাদ্দকে সংকট-পূর্ববর্তী সময়ের স্তরের ৭০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে; এর মধ্যে ১০ শতাংশ বরাদ্দ থাকবে সংস্কার-ভিত্তিক(রিফর্ম- বেসড)।
·✪ গতকাল ৭১,০০০-এরও বেশি ৫ কেজি ওজনের এফটিএল (ফ্রি ট্রেড এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে।
✪ গত ২৩শে মার্চ ২০২৬ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫.৭ লক্ষ ৫ কেজি ওজনের এফটিএল সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে।
·✪ এই ৫ কেজি ওজনের এফটএল সিলিন্ডারগুলো নিকটবর্তী এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরশিপগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে এবং যেকোনো বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে এগুলো কেনা যাবে। এর জন্য ঠিকানার প্রমাণপত্র (অ্যাদ্রেস প্রুফ) দেখানোর কোনো প্রয়োজন নেই।
✪ আইওসিএল, এইচপিসিএল এবং বিপিসিএল-এর নির্বাহী পরিচালকদের নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি কমিটি—রাজ্য কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প সংস্থাগুলোর সাথে পরামর্শক্রমে—বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে বাণিজ্যিক এলপিজি বিক্রয় সংক্রান্ত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে থাকে।
· ✪ গত ১৪ই মার্চ ২০২৬ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৭২,০৪৭ মেট্রিক টন বাণিজ্যিক এলপিজি বিক্রি হয়েছে।

 প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ এবং পিএনজি সম্প্রসারণ উদ্যোগসমূহ
·✪ প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে; যার অংশ হিসেবে গার্হস্থ্য পিএনজি (ডি- পিএনজি) এবং পরিবহন খাতের সিএনজি-তে ১০০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
·✪ গ্রিডের সাথে সংযুক্ত শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ তাদের গড় ব্যবহারের ৮০ শতাংশ হারে বজায় রাখা হয়েছে। · বর্তমানে চালু ইউরিয়া কারখানাগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ গত ৬ মাসের গড় চাহিদার প্রায় ৭০-৭৫ শতাংশে স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমান মজুদ এবং নির্ধারিত এলএনজি কার্গো আগমনের বিষয়টি বিবেচনা করে, ০৬.০৪.২০২৬ তারিখ থেকে সার কারখানাগুলোর জন্য সামগ্রিক গ্যাসের সরবরাহ বাড়িয়ে গত ছয় মাসের গড় চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এছাড়াও, ০৬.০৪.২০২৬ তারিখ থেকে সিজিডি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরবরাহসহ অন্যান্য শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাসের সরবরাহ আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে।
✪ সার কারখানাগুলোসহ সকল শিল্প গ্রাহককে তাদের অতিরিক্ত গ্যাসের চাহিদার বিষয়টি 'স্পট বেসিসে' জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে গ্যাস বিপণনকারী সংস্থাগুলো সেই অনুযায়ী সরবরাহের ব্যবস্থা করতে পারে।
✪ বাণিজ্যিক এলপিজি -এর প্রাপ্যতা সংক্রান্ত উদ্বেগ নিরসনের লক্ষ্যে, ভারত সরকার সিজিডি সংস্থাগুলোকে তাদের আওতাধীন সকল এলাকায় রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং ক্যান্টিনের মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পিএনজি সংযোগ প্রদানের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
✪ আইজিএল, এমজিএল, গেইল গ্যাস এবং বিপিসিএল-এর মতো সিজিডি কোম্পানিগুলো আবাসিক ও বাণিজ্যিক পিএনজি সংযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রণোদনা বা ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে।
·✪ সিজিডি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদনগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ভারত সরকার বিভিন্ন রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রকগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছে।
✪ ১৮.০৩.২০২৬ তারিখের একটি চিঠির মাধ্যমে ভারত সরকার সকল রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে; তবে শর্ত হলো, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোকে এলপিজি থেকে পিএনজি-তে দীর্ঘমেয়াদী রূপান্তর প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে হবে। পিএনজি সম্প্রসারণ সংক্রান্ত সংস্কারমূলক পদক্ষেপের আওতায় বর্তমানে ১২টি রাজ্য অতিরিক্ত বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দ পাচ্ছে। এছাড়া, আরও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আবেদন পাওয়া গেছে এবং বর্তমানে সেটি যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।
✪ ২৩.০৩.২০২৬ তারিখের একটি আদেশের মাধ্যমে পিএনজিআরবি (পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ন্ত্রক বোর্ড) সকল সিজিডি সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে যে, যেসব এলাকায় পাইপলাইন পরিকাঠামো খুব কাছাকাছিই রয়েছে, সেখানে আবাসিক স্কুল ও কলেজ, ছাত্রাবাস (হস্টেলস), কমিউনিটি কিচেন, অঙ্গনওয়াড়ি রান্নাঘর ইত্যাদিতে পিএনজি সংযোগ প্রদানের লক্ষ্যে ৫ দিনের মধ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
✪ ২৪.০৩.২০২৬ তারিখের একটি চিঠিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, তারা ৩ মাসের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে "সিজিডি পরিকাঠামোর জন্য ত্বরান্বিত অনুমোদন কাঠামো" (আক্সেলারেটেড অ্যাপ্রুভাল ফ্রেমওয়ার্ক) গ্রহণ করেছে, যার আওতায় সিজিডি পরিকাঠামো সংক্রান্ত আবেদনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রক্রিয়াজাত করা হবে। · ভারত সরকার ২৪.০৩.২০২৬ তারিখের গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে, ১৯৫৫ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের (অ্যাসেনসিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট) অধীনে ‘প্রাকৃতিক গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিতরণ (পাইপলাইন ও অন্যান্য পরিকাঠামো স্থাপন, নির্মাণ, পরিচালনা এবং সম্প্রসারণের মাধ্যমে) আদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। এই আদেশে সারা দেশজুড়ে পাইপলাইন স্থাপন ও সম্প্রসারণের জন্য একটি সুবিন্যস্ত ও সময়সীমা-বদ্ধ রূপরেখা প্রদান করা হয়েছে; এর ফলে অনুমোদন প্রাপ্তি ও জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সৃষ্ট বিলম্বের সমস্যার সমাধান হবে এবং আবাসিক এলাকাসহ সর্বত্র প্রাকৃতিক গ্যাস পরিকাঠামোর দ্রুততর বিকাশ সম্ভব হবে। আশা করা হচ্ছে যে, এই পদক্ষেপ পিএনজি নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণকে ত্বরান্বিত করবে, প্রান্তিক পর্যায়ের সংযোগ ব্যবস্থাকে (লাস্ট- মাইল কানেক্টিভিটি) উন্নত করবে এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির (ক্লিনার ফ্যুয়েলস) দিকে উত্তরণের প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে—যার ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুদৃঢ় হবে এবং ভারতের গ্যাস-ভিত্তিক অর্থনীতির অগ্রগতি সাধিত হবে।
✪ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ২৭.০৩.২০২৬ তারিখের একটি পত্রের মাধ্যমে একটি স্বল্পমেয়াদী নীতি সংশোধন জারি করেছে, যা ৩০ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে; এই সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য হলো সমস্ত আবাসিক এলাকায় পিএনজি পরিকাঠামো স্থাপনের কাজকে ত্বরান্বিত করা।

অপরিশোধিত তেলের অবস্থান এবং শোধনাগারের কার্যক্রম
✪ সমস্ত শোধনাগার পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং সেখানে অপরিশোধিত তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। দেশটিতে পেট্রোল ও ডিজেলেরও পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখা হচ্ছে।

✪ অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে শোধনাগারগুলো থেকে এলপিজি (LPG)-এর অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়েছে।

•    খুচরা জ্বালানির প্রাপ্যতা এবং মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত পদক্ষেপসমূহ

✪    সারা দেশ জুড়ে সমস্ত খুচরা জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্র (রিটেইল আউটলেট) স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
✪    মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের ফলে অপরিশোধিত তেলের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটেছে। এই প্রভাব থেকে ভোক্তাদের সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে, ভারত সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর অন্ত: শুল্ক (এক্সাইজ ডিউটি) লিটার প্রতি ১০ টাকা কমিয়ে এই আর্থিক বোঝার একটি অংশ নিজে বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

✪     এছাড়া, অভ্যন্তরীণ বাজারে এই জ্বালানি পণ্যগুলোর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারত সরকার ডিজেলের ওপর লিটার প্রতি ২১.৫ টাকা এবং এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (এটিএফ)-এর ওপর লিটার প্রতি ২৯.৫ টাকা হারে রপ্তানি শুল্ক (এক্সপোর্ট লেভি) আরোপ করেছে।

✪    গুজবের কারণে কিছু কিছু এলাকায় 'প্যানিক বাইং' বা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যার ফলে খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে অস্বাভাবিক ভিড় এবং বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, এ বিষয়ে জানানো হচ্ছে যে, দেশের সমস্ত পেট্রোল পাম্পেই পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

✪ পেট্রোল ও ডিজেলের নিয়মিত খুচরা মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে।
✪ সরকার আবারও জনগণকে গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। গুজব প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে, রাজ্য সরকারগুলোকেও সংবাদ সম্মেলনের (প্রেস ব্রিফিংস) মাধ্যমে সঠিক তথ্য প্রচার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

•    কেরোসিনের প্রাপ্যতা এবং বিতরণ সংক্রান্ত পদক্ষেপসমূহ
✪ সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর জন্য নিয়মিত বরাদ্দের অতিরিক্ত হিসেবে আরও ৪৮,০০০ কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ করা হয়েছে।
✪    ভারত সরকার গত ২৯.০৩.২০২৬ তারিখের এক গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে, যেসব রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সাধারণত PDS-এর মাধ্যমে কেরোসিন (এসকেও) বরাদ্দ করা হয় না—সেসব অঞ্চলেও শুধুমাত্র রান্নাবান্না ও আলোকসজ্জার উদ্দেশ্যে পিডিএস-এর আওতায় কেরোসিন বিতরণের ব্যবস্থা করেছে।
✪    প্রতিটি জেলায় সর্বোচ্চ দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থার (পিএসইউ ওএমসি) বিক্রয়কেন্দ্রকে (বিশেষত যেগুলো 'কোম্পানি মালিকানাধীন ও কোম্পানি পরিচালিত' বা কোকো প্রকৃতির) ৫,০০০ লিটার পর্যন্ত পিডিএস কেরোসিন মজুত রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

✪ প্রতিটি জেলায় এই নির্দিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন বিক্রয়কেন্দ্রগুলোকে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার অথবা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন কর্তৃক মনোনীত করা হবে।
✪ ১৮টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল কেরোসিন বরাদ্দের আদেশ জারি করেছে। এছাড়া, হিমাচল প্রদেশ এবং লাদাখ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তাদের রাজ্যে বা অঞ্চলে বর্তমানে কেরোসিনের কোনো প্রয়োজন নেই। 
সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নৌ-চলাচল কার্যক্রম
✪ বন্দর, নৌ-পরিবহন ও জলপথ মন্ত্রক এই অঞ্চলে চলাচলকারী ভারতীয় জাহাজ এবং নাবিকদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।


 মন্ত্রক থেকে জানানো হয়েছে যে:
✪ বন্দর, নৌ-পরিবহন ও জলপথ মন্ত্রক সামুদ্রিক বাণিজ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি জাহাজ চলাচল, বন্দরের কার্যক্রম এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে চলেছে।

✪এই অঞ্চলে অবস্থানরত সকল ভারতীয় নাবিক নিরাপদে আছেন; গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারতীয় পতাকাবাহী কোনো জাহাজের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

✪ এলপিজি -বাহী জাহাজ ‘গ্রিন সানভি’ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে; জাহাজটিতে ৪৬,৬৫০ মেট্রিক টন এলপিজি পণ্য এবং ২৫ জন নাবিক ছিলেন।

✪ পশ্চিম পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মোট ১৭টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ অবস্থান করছে, যেগুলোতে ৪৬০ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন; নৌ-পরিবহন মহাপরিদপ্তর (ডিজি শিপিং), জাহাজ মালিক, আরপিএসএল সংস্থা এবং ভারতীয় মিশনগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতিটি সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

✪ নৌ-পরিবহন মহাপরিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষটি দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই সচল রয়েছে এবং চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৫,০১৫টি ফোন কল ও ১০,৪২৫টি ইমেইল গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করেছে; গত ২৪ ঘণ্টায় এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ৩১টি ফোন কল এবং ১২৯টি ইমেইল এসেছে।

✪ নৌ-পরিবহন মহাপরিদপ্তর এ পর্যন্ত ১,৩২০ জনেরও বেশি ভারতীয় নাবিকের নিরাপদে দেশে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করেছে; এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও স্থান থেকে ১৯০ জন নাবিক দেশে ফিরেছেন।

✪ ভারতের বিভিন্ন বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে এবং কোথাও কোনো যানজট বা স্থবিরতার খবর পাওয়া যায়নি; গুজরাট, মহারাষ্ট্র, গোয়া, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পুদুচেরির রাজ্য সামুদ্রিক বোর্ডগুলো বন্দরের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

✪ নাবিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে এবং সামুদ্রিক কার্যক্রমের নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখতে মন্ত্রকটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন ভারতীয় মিশন এবং সামুদ্রিক খাতের সংশ্লিষ্ট জনদের সাথে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করে চলেছে।

✪ এই অঞ্চলে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা
সমগ্র অঞ্চল জুড়ে, ভারতীয় মিশন ও দপ্তরগুলো স্থানীয় ভারতীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে এবং একই সঙ্গে তাঁদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান ও পরামর্শ জারি করে যাচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:

✪  ইরানে আটকা পড়া একদল ভারতীয় মৎস্যজীবী আজ আর্মেনিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরছেন; আশা করা হচ্ছে, তাদের বিমানটি আজ সন্ধ্যায় ভারতে এসে পৌঁছাবে।

✪ পররাষ্ট্র মন্ত্রক উপসাগরীয় ও পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রেখে চলেছে, যেখানে ভারতীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

✪ মন্ত্রকের অভ্যন্তরে একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক চালু রয়েছে; ভারতীয় মিশনগুলোর পাশাপাশি রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে।

✪মিশন ও দপ্তরগুলো দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন পরিচালনা করছে, নিয়মিত পরামর্শ বা নির্দেশিকা জারি করছে এবং ভারতীয় সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমিতি, কোম্পানি ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।

✪ আকাশপথের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের মধ্যেও মিশনগুলো ভিসা প্রাপ্তি, কনস্যুলার সেবা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্য দিয়ে ট্রানজিট বা যাতায়াতের সুবিধা করে দিচ্ছে; পাশাপাশি যেখানে প্রয়োজন, সেখানে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তাও প্রদান করছে।
✪ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা একটি অগ্রাধিকারমূলক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে; তাদের বিভিন্ন উদ্বেগ ও সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে মিশনগুলো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, ভারতীয় স্কুল, শিক্ষা বোর্ড এবং 'ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি'-র সাথে সমন্বয় সাধন করছে।

✪ বিভিন্ন জাহাজে কর্মরত ভারতীয় ক্রু বা কর্মীদের সঙ্গে মিশনগুলো প্রতিনিয়ত যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে এবং তাদের কনস্যুলার সহায়তা প্রদান, পরিবারের সাথে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেওয়া ও দেশে ফেরার অনুরোধগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করছে।

✪ বিমান চলাচল ব্যবস্থা ক্রমশ স্বাভাবিক হয়ে আসছে; গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই অঞ্চল থেকে প্রায় ৬,৭৫,০০০ যাত্রী ভারতে যাতায়াত করেছেন।

✪ সংযুক্ত আরব আমিরশাহী(UAE): সীমিত পরিসরে অনির্ধারিত(নন- শিডিউল্ড) বিমান চলাচল অব্যাহত রয়েছে; ভারতে আসার জন্য প্রায় ৯০টি বিমানের ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে।

✪  সৌদি আরব ও ওমান: এই দেশগুলোর একাধিক বিমানবন্দর থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে বিমান চলাচল করছে।

✪  কাতার: আকাশপথ আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার ফলে আজ ভারতের উদ্দেশ্যে প্রায় ৮ থেকে ১০টি বিমান চলাচল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

✪ কুয়েত ও বাহরাইন: এই দেশগুলোর আকাশপথ এখনো বন্ধ রয়েছে; সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলো সৌদি আরবের দাম্মাম হয়ে বিমান পরিচালনা করছে।

✪ ইরান: আকাশপথ বন্ধ থাকার কারণে আর্মেনিয়া ও আজারবাইলানের মধ্য দিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

✪ ইজরায়েল: আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে মিশর ও জর্ডানের মধ্য দিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

✪ কুয়েত ও বাহরাইনের আকাশপথ বন্ধ থাকার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের মধ্য দিয়ে যাতায়াতের সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।

✪ আবুধাবিতে সংঘটিত একটি হামলায় পাঁচজন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছিলেন; তাঁদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং একজন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে মিশন আহতদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে চলেছে।
 
***
SC/SB/DM


(রিলিজ আইডি: 2249075) ভিজিটরের কাউন্টার : 8