পেট্রোলিয়ামওপ্রাকৃতিকগ্যাসমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

পশ্চিম এশিয়ায় উদ্ভুত পরিস্থিতির বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রক সাংবাদিক সম্মেলন

প্রকাশিত: 16 MAR 2026 5:09PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ১৬ মার্চ, ২০২৬

 

পশ্চিম এশিয়ার ঘটনাবলি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রক  সাংবাদিক সম্মেলন  নিয়মিতভাবে 'ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টার'-এ আয়োজন করা হচ্ছে। আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে  (১৬ মার্চ ২০২৬), পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক, বন্দর, নৌ-পরিবহন ও জলপথ মন্ত্রক এবং বিদেশ মন্ত্রক জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক কাজকর্ম, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের কল্যাণ এবং সংশ্লিষ্ট জনসচেতনতা বা তথ্য প্রচারমূলক কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেছে। এর আগে ১১, ১২, ১৩ এবং ১৪ মার্চ তারিখেও অনুরূপ ব্রিফিং হয়।

জ্বালানি সরবরাহ এবং জ্বালানির প্রাপ্যতা

'হরমুজ প্রণালী' বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জ্বালানি সরবরাহের বর্তমান অবস্থা এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য ও এলপিজি-র নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমকে অবহিত করেছে। মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী:

অপরিশোধিত তেল এবং শোধনাগারসমূহ

দেশের সকল তেল শোধনাগারগুলি পূর্ণ ক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং সেখানে অপরিশোধিত তেলের পর্যাপ্ত মজুদ বজায় রাখা হয়েছে। পেট্রোল ও ডিজেল উৎপাদনে ভারত সম্পূর্ণভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ; ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য এই জ্বালানিগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করার কোনো প্রয়োজন নেই।

খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রসমূহ

তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলোর (অয়েল  মার্কেটিং কোম্পানীজ) পক্ষ থেকে কোনো খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রে জ্বালানির মজুদ সম্পূর্ণ ফুরিয়ে যাওয়ার (dry-out) কোনো খবর পাওয়া যায়নি; বরং পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ নিয়মিতভাবে বজায় রাখা হচ্ছে।

 পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, তাই জনগন যেন আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনা বা 'প্যানিক বাইয়িং'-এ লিপ্ত না হন সেজন্য তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রাকৃতিক গ্যাস

অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে—যার মধ্যে পিএনজি এবং সিএনজি ক্ষেত্রের জন্য শতভাগ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে । অন্যদিকে, শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য গ্যাসের সরবরাহ বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশের মধ্যে সীমিত বা নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়েছে।

প্রধান শহর ও শহরাঞ্চলগুলোতে অবস্থিত বাণিজ্যিক এলপিজি  গ্রাহকদের পিএনজি  সংযোগ গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, হাসপাতাল এবং ছাত্রাবাসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো অনুমোদিত 'সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন' (সি জি ডি) সংস্থাগুলোর মাধ্যমে পিএনজি সংযোগ গ্রহণ করতে পারে।

গ্রাহকরা ইমেইল, কাস্টমার পোর্টাল, চিঠিপত্র কিংবা সংশ্লিষ্ট সি জি ডি কোম্পানির কল সেন্টারের মাধ্যমে পিএনজি সংযোগের জন্য আবেদন করতে পারেন। যেসব এলাকায় পাইপলাইন নেটওয়ার্ক বা সংযোগ ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই রয়েছে, সেখানে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সংযোগ প্রদান করা সম্ভব।

পিএনজি সংযোগ গ্রহণের বিষয়টি জনপ্রিয় করে তোলার লক্ষ্যে বেশ কিছু সি জি ডি কোম্পানি বিভিন্ন ছাড়ের ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: 'ইন্দ্রপ্রস্থ গ্যাস লিমিটেড' এবং 'গেইল গ্যাস লিমিটেড' কর্তৃক গার্হস্থ্য গ্রাহকদের জন্য ৫০০ টাকা মূল্যের বিনামূল্যে গ্যাস সরবরাহ । 'মহানগর গ্যাস লিমিটেড'  গার্হস্থ্য পিএনজি গ্রাহকদের জন্য ৫০০ টাকার নিবন্ধন ফি –তে ছাড় এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য সিকিউরিটি ডিপোজিটে ছাড় এবং 'বিপিসিএল'  সকল বাণিজ্যিক সংযোগের ক্ষেত্রেই সিকিউরিটি ডিপোজিটে ছাড় দেওয়ার সুবিধা প্রদান করছে। সরকার সি জি ডি নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ করছে।

এল পি জি

সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এল পি জি সরবরাহের ওপর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

এল পি জি বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে মজুত সম্পূর্ণ ফুরিয়ে যাওয়ার (ড্রাই-আউটস) কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

অনলাইনে এল পি জি সিলিন্ডার বুকিংয়ের হার প্রায় ৮৪% থেকে বেড়ে ৯০%-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে।

বিতরণকারী্র তরফে সিলিন্ডারের অপব্যবহার বা অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়া রোধ করতে, 'ডেলিভারি অথেন্টিকেশন কোড' (ডি এ সি)-এর ব্যবহার সংকট পূর্ববর্তী ৫৩% থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৭২%-এ উন্নীত করা হয়েছে।
বিহার, দিল্লি, হরিয়ানা, রাজস্থান, মণিপুর এবং মহারাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভারত সরকারের নির্দেশিকা মেনে অ-গার্হস্থ্য (নন ডমেস্টিক) এল পি জি বরাদ্দের বিষয়ে নির্দেশ জারি করেছে।


রাজ্য সরকারগুলোর আয়োজিত বৈঠকসমূহ

পেট্রোল, ডিজেল এবং এল পি জি -সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের ওপর নজরদারির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

অধিকাংশ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুমস) স্থাপন করেছে এবং নাগরিকদের অবহিত  করতে নিয়মিত সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করছে।


আইন প্রয়োগকারী পদক্ষেপসমূহ

পেট্রোল, ডিজেল এবং এল পি জি-এর মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধে রাজ্য সরকারগুলো কঠোর আইন প্রয়োগকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

এল পি জি -এর মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, আসাম এবং মিজোরামসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে অভিযান চালানো হচ্ছে।

সরকার-নিয়ন্ত্রিত তেল বিপণন সংস্থাগুলোর (পি এস ইউ অয়েল মার্কেটিং কোম্পানীস) আধিকারিকরা নির্বিঘ্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং অনিয়ম রোধ করতে ১,১০০-এরও বেশি খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র ও এল পি জি বিতরণ কেন্দ্রে আকস্মিক পরিদর্শন চালিয়েছেন।

সরকারের অন্যান্য পদক্ষেপ

সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো গার্হস্থ্য এল পি জি -এর নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা—সাধারণ পরিবার এবং হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলোর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

তেল শোধনাগারগুলো থেকে গার্হস্থ্য এল পি জি-এর উৎপাদন প্রায় ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

২০২৬ সালের ১৪ মার্চের সংশোধিত 'এল পি জি নিয়ন্ত্রণ আদেশ' (এল পি জি কন্ট্রোল অর্ডার অনুযায়ী, যেসব গ্রাহকের পি এন জি সংযোগ রয়েছে, তাঁদের নিজেদের গার্হস্থ্য এল পি জি সংযোগটি জমা দিতে এবং তাঁরা নতুন করে কোনো এল পি জি সংযোগ গ্রহণ করতে পারবেন না।

এল পি জি-এর সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বুকিংয়ের মধ্যবর্তী সময়ের (বুকিং ইন্টারভেলস) নিয়ম সংশোধন করা হয়েছে। এখন শহরাঞ্চলে প্রতি বুকিংয়ের মধ্যে ব্যবধান ২৫ দিন এবং গ্রামাঞ্চলে তা ৪৫ দিন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর জন্য অতিরিক্ত ৪৮,০০০ কিলোলিটার ( কে এল) কেরোসিন বরাদ্দ করা হয়েছে; এছাড়া এল পি জি-এর চাহিদার ওপর চাপ কমাতে কেরোসিন ও কয়লার মতো বিকল্প জ্বালানিগুলোও সহজলভ্য করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলো ডিজিটাল মাধ্যমে এলপিজি রিফিল বুকিংকে উৎসাহিত করছে এবং আতঙ্কিত হয়ে বুকিং করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছে।  অন্যদিকে, অনিয়ম রোধে সমন্বিত পরিদর্শন চালানোর জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জনসাধারণের প্রতি পরামর্শ

জনগনকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কারণ সরকার পরিবার এবং জরুরি পরিষেবা ক্ষেত্রের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে এলপিজি সরবরাহ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পূর্বে সীমিত করা বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের বিক্রি আংশিকভাবে পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিতরণের জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর সরকারের কাছে সহজলভ্য করা হয়েছে।
এলপিজি সিলিন্ডারগুলো আই ভি আর এস এস এম এস হোয়াটস অ্যাপ ,তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর মোবাইল অ্যাপ এবং জনপ্রিয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মতো ডিজিটাল মাধ্যমগুলোর সাহায্যে বুক করা যেতে পারে।

আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত বুকিং করা থেকে বিরত থাকতে জনগনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।,  তারা যেন ডিজিটাল বুকিং প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করেন এবং এলপিজি সরবরহকারীদের দপ্তরে অপ্রয়োজনীয়  আসা-যাওয়া এড়িয়ে চলেন।

যেখানে সম্ভব, সেখানে পি এন জি এবং ইন্ডাকশন বা বৈদ্যুতিক কুকটপের মতো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে শক্তি সাশ্রয়ের জন্য গ্রাহকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

সরকার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন কোম্পানিগুলো নিরবচ্ছিন্ন এলপিজি রিফিল সরবরাহ সম্পর্কে সচেতনতা প্রচার অব্যাহত রেখেছে; পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমগুলোকে অনুরোধ করা হচ্ছে যেন তারা ভুল তথ্য এবং অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক এড়াতে কেবল সরকারি সূত্রগুলোর ওপরই নির্ভর করেন।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং জাহাজ চলাচল কর্মসূচি

বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রক পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক পরিস্থিতি এবং ভারতীয় জাহাজ ও নাবিকদের সুরক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে  তথ্য প্রদান করেছে। মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী:

এই অঞ্চলে অবস্থানরত সকল ভারতীয় নাবিক নিরাপদ রয়েছেন এবং গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারতীয় নাবিকদের সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের পশ্চিমাংশে ৬১১ জন নাবিকসহ ভারতের ২২টি জাহাজ অবস্থান করছে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং—জাহাজ মালিক,  আর পি এস এল সংস্থা এবং বিদেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসগুলোর  সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে পরিস্থিতির ওপর সর্বক্ষণ নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

ভারতের যে দুটি এলপিজি ট্যাঙ্কার গত ১৪ মার্চ প্রায় ৯২,৭১২ মেট্রিক টন এলপিজি বহন করে 'হরমুজ প্রণালী' অতিক্রম করেছিল, সেগুলোর মধ্যে 'শিবালিক' জাহাজটির আজ বিকেল ৫টার (১৭০০ ঘটিকা) নাগাদ মুন্দ্রা বন্দরে নোঙর করার কথা রয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পণ্য খালাস নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। অন্যদিকে, অপর জাহাজ 'নন্দা দেবী' -এর আগামীকাল খুব ভোরে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

ভারতীয় জাহাজ 'জগ লাড়কি'  প্রায় ৮০,৮০০ মেট্রিক টন 'মুরবান ক্রুড অয়েল' বহন করছে। গত ১৪ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে  এটি ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে এবং বর্তমানে নিরাপদে গন্তব্যের পথে রয়েছে। জাহাজটি এবং জাহাজে অবস্থানরত সকল ভারতীয় নাবিক সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন। ডিজি শিপিং কন্ট্রোল রুম চালু হওয়ার পর থেকে, নাবিক, তাদের পরিবারবর্গ এবং সামুদ্রিক ক্ষেত্রের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে সাহায্য চেয়ে মোট ৩,০৩০টি ফোন কল এবং প্রায় ৫,৪৯৭টি ই-মেইল গ্রহণ করেছেও সেগুলির নিষ্পত্তি করেছে। এরমধ্যে গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ৩১০টিরও বেশি কল এবং ৫৯৭টি ই-মেইল রয়েছে।

ডিজি শিপিং এখন পর্যন্ত উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ২৮৬ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছে।এর মধ্যে গত ৪৮ ঘণ্টয় ৩৩ জন নাবিককে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

দেশজুড়ে অবস্থিত প্রধান বন্দরগুলো জাহাজের চলাচল এবং পণ্য খালাস ও বোঝাইয়ের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি তারা শিপিং কোম্পানি এবং পণ্য পরিবহনের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সহায়তা প্রদান করছে।  এর মধ্যে নোঙর ,বার্থ ভাড়া এবং পণ্য সংরক্ষণের মাশুলে ছাড় প্রদান অন্যতম।

পণ্য পরিবহনের কাজকর্মকে নির্বিঘ্ন করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ শুল্ক বিভাগ (কাস্টমস) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করছে।

জেএনপিএ মধ্যপ্রাচ্যগামী কন্টেইনারগুলোর জন্য সাময়িক 'ট্রান্সশিপমেন্ট স্টোরেজ' বা স্থানান্তরের মধ্যবর্তী সংরক্ষণের সুবিধা প্রদান করেছে। এছাড়া জেএনপিএ থেকে যাত্রা শুরু করা কন্টেইনারগুলোর ক্ষেত্রে, ১৫ দিন পর্যন্ত 'গ্রাউন্ড রেন্ট' (জমি ভাড়া) এবং 'ডুয়েল টাইম চার্জ' (বন্দরে অবস্থানের মাশুল)-এর ওপর ১০০ শতাংশ  এবং 'রিফার কন্টেইনার প্লাগ-ইন চার্জ'-এর ওপর প্রায় ৮০ শতাংশ ছাড় প্রদান করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশের কোনো প্রধান বন্দরেই কন্টেইনার বা জাহাজের জট (কনজেসন) নেই। জেএনপিএ-তে রপ্তানি হবে এমন কন্টেইনারের সংখ্যা প্রায় ৫,৬০০ থেকে কমে বর্তমানে প্রায় ৩,৯০০-তে নেমে এসেছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলগামী যেসব পণ্যবোঝাই জাহাজ বর্তমানে যাত্রা করতে পারছে না, বন্দর কর্তৃপক্ষ সেগুলোর নিরাপদ নোঙরের ব্যবস্থাও করে দিচ্ছে।

পরিচালনগত সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে 'ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং'-এর অধীনে একটি আন্তঃমন্ত্রক দল গঠন করা হয়েছে।  এই দলে শুল্ক বিভাগ, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সামুদ্রিক ক্ষেত্রের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং বন্দরের কাজকর্মের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে মন্ত্রক, বিদেশ মন্ত্রক, বিদেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসসমূহ, শিপিং কোম্পানি এবং সামুদ্রিক ক্ষেত্রের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করে চলেছে।

এই অঞ্চলে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা

বিদেশ মন্ত্রক এই অঞ্চলে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি তথ্য প্রদান করেছে এবং জানিয়েছে যে, ভারতীয় মিশনগুলো স্থানীয় ভারতীয় জনগনের  সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখেছে। মন্ত্রক জানিয়েছে:

ভারত সরকার ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে চলেছে।  তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ইরানে অবস্থানরত ৫৫০-এরও বেশি ভারতীয় নাগরিক তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সহায়তায় স্থলসীমান্ত দিয়ে আর্মেনিয়ায় প্রবেশ করেছেনএবং ৯০-এরও বেশি নাগরিক আজারবাইজানে প্রবেশ করেছেন।

তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পূর্ণোদ্যমে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

গত কয়েক দিনে, দূতাবাস কর্তৃপক্ষ তেহরানের বাইরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সরিয়ে ইরানেরই অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানগুলোতে নিয়ে গেছে।

ইরানে কর্মরত ভারতীয় নাবিক এবং মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার তাদের নিয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে; পাশাপাশি, সকল ভারতীয় নাগরিককে দূতাবাসের নির্দেশিকা বা পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিদেশ মন্ত্রক পশ্চিম এশিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। এই অঞ্চলে বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, কল্যাণ এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

ভারতীয় নাগরিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার উত্তর প্রদানের লক্ষ্যে বিদেশ মন্ত্রকের একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম ) সর্বক্ষণ চালু রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর সঙ্গেও প্রয়োজনীয় সমন্বয়  অব্যাহত রয়েছে।

এই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ভারতীয় মিশন এবং কূটনৈতিক দপ্তরগুলো ২৪ ঘণ্টাই চালু থাকা হেল্পলাইনগুলোর মাধ্যমে সেবা প্রদান করে চলেছে। এছাড়া তারা স্থানীয় ভারতীয় সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং নিয়মিতভাবে নির্দেশিকা জারি করছে।

ভারতীয় মিশনগুলো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে এবং সেখানে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিক ও স্বল্পমেয়াদী দর্শনার্থীদের বিভিন্নভাবে সহায়তা প্রদান করছে—যার মধ্যে রয়েছে ভিসাসংক্রান্ত সহায়তা, লজিস্টিক বা আনুষঙ্গিক সহায়তা এবং ট্রানজিট বা যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিতকরণ। এই অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে নৌ-পরিবহন, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রকের সঙ্গেও প্রয়োজনীয় সমন্বয় বজায় রাখা হয়েছে। 

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত, পশ্চিম এশিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রায় ২,২০,০০০ যাত্রী ভারতে ফিরে এসেছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (ইউ এ ই) দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান চলাচল আজ দিনের শুরুতে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল তবে তা এখন ধীরে ধীরে পুনরায় চালু হচ্ছে।

আবু ধাবি, রাস আল খাইমাহ এবং ফুজাইরাহ থেকেও ভারতীয় ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর বিমান সংস্থাগুলোর সীমিত সংখ্যক ফ্লাইট চলাচল করছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আজ ভারতের বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ৪৫টিরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। যাত্রীদের যথাযথ সময়সূচি জানতে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সহায়তার জন্য তাঁরা ২৪-ঘণ্টা হেল্পলাইনের মাধ্যমে আবুধাবিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস কিংবা দুবাইয়ের কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

সৌদি আরব ও ওমানের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে ভারতের বিভিন্ন গন্তব্যে বিমান চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

কাতারের আকাশপথ আংশিকভাবে উন্মুক্ত রয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে যে, কাতার এয়ারওয়েজ আজ ও আগামীকাল ভারতের উদ্দেশ্যে ৩টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কুয়েতের আকাশপথ বন্ধ রয়েছে। আশা করা হচ্ছে যে, সৌদি আরবের আল কাইসুমা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাজিরা এয়ারওয়েজের বিশেষ অনির্ধারিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলো ভারতের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হবে।

আকাশপথ বর্তমানে বন্ধ থাকায় বাহরাইন ও ইরাকে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সৌদি আরবের মধ্য দিয়ে ট্রানজিট বা যাতায়াতের সুবিধা প্রদান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

২০২৬ সালের ১৩ মার্চ ওমানের সোহর শহরে সংঘটিত হামলায় দুজন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারানোর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, মাস্কাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস নিহতদের পরিবারবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট ওমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শীঘ্রই সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দূতাবাস আহত ভারতীয় নাগরিকদের শারীরিক অবস্থার ওপরও নজর রাখছে। আহতদের কেউই বর্তমানে আশঙ্কাজনক নন।

বসরায় অবস্থিত ভারতীয় মিশনের দলটি ‘সেফসি বিষ্ণু’ জাহাজের ১৫ জন ভারতীয় ক্রু সদস্যকে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে ।  এই ক্রু সদস্যদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁরা বসরায় একটি হোটেলে রয়েছেন।  তাঁদের দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এবং নিহত ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ইরাকের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করছে দূতাবাস।

সরকার পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে, তারা পশ্চিম এশিয়ার সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় বজায় রেখে চলেছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পূর্ণ প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

SC/PM/SKD 


(রিলিজ আইডি: 2240930) ভিজিটরের কাউন্টার : 19