মন্ত্রিসভারঅর্থনৈতিকবিষয়সংক্রান্তকমিটি

২০২১-২২ বিপণন মরশুমে রবিশস্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে মন্ত্রিসভার অনুমোদন

Posted On: 21 SEP 2020 7:05PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

 


প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরহিত্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে ২০২১-২২ বিপণন মরশুমে গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত রবিশস্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে এই বৃদ্ধি। পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং ক্রমপরিবর্তনশীল খাদ্যাভাস তথা ডালশস্য ও তৈলবীজ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার রবিশস্যগুলির তুলনামূলক উচ্চ হারে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য স্থির করেছে।


ন্যুনতম সহায়ক মূল্যে লেনটিন শস্যের জন্য ক্যুইন্টাল প্রতি সর্বাধিক ৩০০ টাকা, ছোলা, সর্ষে এবং রাই সর্ষের জন্য ক্যুইন্টাল প্রতি ২২৫ টাকা তথা সাফ্লাওয়ারের জন্য ক্যুইন্টাল প্রতি ১১২ টাকা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য স্থির হয়েছে। এছাড়াও, বার্লি ও গমের ক্ষেত্রে যথাক্রমে  ক্যুইন্টাল প্রতি ৭৫ টাকা ও ৫০ টাকা ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে সংযোজনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। শস্য চাষে বৈচিত্র্য আনতে উৎসাহিত করার জন্যই লাভের বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখেই পৃথক পৃথক সহায়ক মূল্য স্থির করা হয়।


২০২১-২২ বিপণন মরশুমে রবিশস্যের সহায়ক মূল্যে বৃদ্ধির বিষয়টি সর্বভারতীয় স্তরে গড় উৎপাদন খরচের দেড় গুণ বেশি হারে স্থির করা হয়। এর ফলে, উৎপাদন খরচের তুলনায় কৃষকদের উপার্জন বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। সেই অনুযায়ী, গমের ক্ষেত্রে ১০৬ শতাংশ, সর্ষে ও রাই সর্ষের ক্ষেত্রে ৯৩ শতাংশ, ছোলা ও লেনটিনের ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচের তুলনায় ৭৮ শতাংশ বেশি আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইভাবে, বার্লির ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচের তুলনায় ৬৫ শতাংশ এবং সাফ্লাওয়ারের ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি আয়ের অনুমান করা হয়েছে।


মোটা জাতীয় দানাশস্যের ক্ষেত্রে ভারতীয় খাদ্য নিগম (এফসিআই) ও অন্যান্য স্বীকৃত রাজ্য এজেন্সিগুলি কৃষকদের মূল্য সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে। কেন্দ্রীয় সরকার ডালশস্য এবং দেশীয় ডালশস্য সংগ্রহের জন্য যে বাফার স্টক বা অতিরিক্ত মজুত ভান্ডার গড়ে তুলেছে, সেখানেও মূল্য স্থিতিশীলতা তহবিলের আওতায় এই জাতীয় দানাশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অন্নদাতা আয় সংরক্ষণ অভিযান, মূল্য সহায়তা কর্মসূচি, মূল্য ঘাটতি ক্ষেত্রে মাশুল প্রদান কর্মসূচি তথা বেসরকারি সংগ্রহ ও মজুত কর্মসূচির মাধ্যমে ডালশস্য ও তৈলবীজ সংগ্রহে সহায়তা করা হবে।


বিশ্ব জুড়ে কোভিড-১৯ মহামারী এবং দেশ জুড়ে লকডাউন সত্ত্বেও সময় মতো সরকারি হস্তক্ষেপের ফলে ২০২০-২১ রবি বিপণন মরশুমে প্রায় ৩ কোটি ৯০ লক্ষ টন গম সংগ্রহ করা হয়েছে, যা সর্বকালীন রেকর্ড। এই সংগ্রহ অভিযানের মাধ্যমে প্রায় ৪৩ লক্ষ কৃষক লাভবান হয়েছেন এবং সংগ্রহের পরিমাণ ২০১৯-২০-র রবি বিপণন মরশুমের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি। ২০১৯-২০ মরশুমে ৩ কোটি ৯০ লক্ষ টন সংগ্রহ করা হবে বলে স্থির হয়। অন্যদিকে, ২০১৯-২০-তে ১৫ লক্ষ মেট্রিক টন ডালশস্য সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়। এছাড়াও, ২০১৯-২০ মরশুম থেকে ১৮ লক্ষ মেট্রিক টন তৈল বীজ সংগ্রহ করার পরিকল্পনা ছিল।


স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বর্তমান মহামারীর প্রেক্ষিতে কৃষকরা যে সমস্ত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তা দূর করতে সরকার সর্বাত্মক প্রয়াস নিচ্ছে। এই প্রয়াসগুলির মধ্যে রয়েছে –

• ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে বৃদ্ধির পাশাপাশি, সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে জোরদার করা হয়েছে, যাতে আরও বেশি সংখ্যক কৃষক সহায়ক মূল্যের সুবিধা পান।


• কোভিড মহামারীর সময় গম, ডালশস্য তথা তৈলবীজ সংগ্রহ কেন্দ্রের সংখ্যা দেড় গুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।


• মহামারীর সময় ৭৫ হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে ৩ কোটি ৯০ লক্ষ টন গম সংগ্রহ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি।


• পিএম কিষাণ সম্মান নিধি যোজনার মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি কৃষক লাভবান হয়েছেন। যোজনার আওতায় কৃষকদের প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকা সাহায্য দেওয়া হয়েছে।


• পিএম কিষাণ কর্মসূচির আওতায় কোভিড মহামারীর সময় প্রায় ৯ কোটি কৃষক ৩৮ হাজার কোটি টাকা সাহায্য পেয়েছেন।


• গত ৬ মাসে ১ কোটি ২৫ লক্ষ নতুন কিষাণ ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হয়েছে।


• ই-জাতীয় কৃষি বাজারের সংখ্যা ৫৮৫ থেকে বাড়িয়ে কোভিডের সময় ১ হাজার করা হয়েছে।


• গত ৫ বছরে ১০ হাজার কৃষক উৎপাদক সংগঠন গড়ে তুলতে ৬ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।


• গত ৪ বছরে ফসল বিমা যোজনার আওতায় কৃষকরা প্রিমিয়াম হিসাবে প্রদেয় ১৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার পরিবর্তে দাবি-দাওয়া বাবদ ৭৭ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন।


• ফসল বিমা যোজনাকে ঐচ্ছিক করে তোলা হয়েছে।


• কিষাণ রেল পরিষেবা শুরু হয়েছে।

কৃষি পণ্য লেনদেন ও বাণিজ্য উন্নয়ন অধ্যাদেশ, ২০২০ এবং মূল্য নিশ্চয়তা তথা কৃষি খামার পরিষেবা সংক্রান্ত কৃষকদের সম্মতি অধ্যাদেশ ২০২০ জারি করা হয়েছে। এর ফলে, কৃষকরা তাঁদের পছন্দ মতো জায়গায় লাভজনক মূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয়ের সুবিধা পাবেন। এছাড়াও, কৃষিজ পণ্য সরবরাহ-শৃঙ্খল গড়ে তুলতে তথা মূল্য সংযোজন ব্যবস্থায় আরও বেশি বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে অত্যাবশ্যক পণ্য (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২০ জারি করা হয়েছে।


কৃষি পরিকাঠামো তহবিলের আওতায় ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি বার্ষিক ৩ শতাংশ হারে সুদ ছাড় হিসাবে ঋণ সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়াও, ক্রেডিট গ্যারান্টি কভারেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিক্ষুদ্র ও ছোট শিল্প সংস্থাগুলির জন্য ঋণ নিশ্চয়তা তহবিল ট্রাস্ট অনুযায়ী ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সহায়তা দেওয়ার সংস্থান রয়েছে। এই কর্মসূচি কার্যকর হলে কৃষকদের পাশাপাশি, কৃষক উৎপাদক সংগঠন, কৃষি সংক্রান্ত শিল্পোদ্যোগী এবং কৃষি সহায়ক ক্ষেত্রের সঙ্গ যুক্ত ব্যক্তিরা লাভবান হবেন। সেই সঙ্গে, ফসল ঘরে তোলা পরবর্তী সময়ে উপযুক্ত কৃষি পরিকাঠামো তৈরি করা সহজ হবে।

 



CG/BD/SB



(Release ID: 1657480) Visitor Counter : 83