প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর

লেহতে ভারতীয় সশস্ত্র সেনা সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

Posted On: 03 JUL 2020 5:50PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ০৩ জুলাই, ২০২০

 



ভারতমাতাকি জয়, ভারতমাতাকি জয়,


বন্ধুগণ,


আপনাদের এই সাহস, আপনাদের শৌর্য আর ভারতমাতার মান সম্মান রক্ষার জন্য আপনাদের অবদান অতুলনীয়। আপনাদের প্রাণশক্তিও বিশ্বে কারো থেকে কোনো অংশে কম নয়। যে কঠিন পরিস্থিতিতে যে উচ্চতায় আপনারা ভারতমাতার বর্ম হয়ে তাকে রক্ষা করেন, তার সেবা করেন, তার তুলনা গোটা বিশ্বে কেউ করতে পারে না। আপনাদের সাহস, আপনারা যেখানে মোতায়েন রয়েছেন সেই উচ্চতার থেকেও উঁচু, আপনাদের দৃঢ়তা সেই উচ্চতা থেকেও কঠিন যাকে আপনারা প্রতিদিন নিজেদের পা দিয়ে মাপেন। আপনাদের বাহুগুলি আপনাদের চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা ওই পাহাড়গুলির পাথরের মতই শক্তিশালী। আপনাদের ইচ্ছাশক্তি ওই চারপাশের পর্বতের মতই অটল। আজ আপনাদের মাঝে এসে আমি এটা অনুভব করছি। সাক্ষাৎ নিজের চোখে তা দেখতে পাচ্ছি।


বন্ধুগণ,


যখন দেশের সুরক্ষা আপনাদের হাতে রয়েছে, আপনাদের প্রবল ইচ্ছেশক্তির মধ্যে রয়েছে, তখন আমাদের এক অটুট বিশ্বাসও আপনাদের ওপর আছে। শুধু আমার নয়, পুরো দেশের অটুট বিশ্বাস আছে আর দেশও নিশ্চিন্ত আছে। আপনারা যখন সীমান্তে সতর্ক রয়েছেন তখন এই বিষয়টাই প্রত্যেক দেশবাসীকে দেশের জন্য দিনরাত কাজ করতে প্রেরণা যোগায়। আত্মনির্ভর ভারতের সংকল্প আপনাদের জন্যেই, আপনাদের ত্যাগ, বলিদান ও বীরত্বের কারণে আজও দেশ শক্তিশালী হয়। আর সম্প্রতি আপনারা এবং আপনাদের বন্ধুরা যে বীরত্ব দেখিয়েছেন তা গোটা বিশ্বে এই বার্তাই দিয়েছে যে ভারতের কতটা শক্তিশালী ।
এখন আমার সামনে মহিলা সৈনিকদেরও দেখতে পাচ্ছি। যুদ্ধ ক্ষেত্রে সীমান্তে এই দৃশ্য নিজেই প্রেরণার উৎস। বন্ধুরা, রাষ্ট্রকবি রামধারী সিং দিনকরজী এজন্যই লিখে ছিলেন


‘যাদের সিংহনাদের কম্পনে আমাদের মাতৃভূমি রয়েছে সুরক্ষিত।


কলম আজ তাঁদের জয়গান করো, কলম আজ তাঁদের জয়গান করো।’


সেজন্য আমি আজ আমার বক্তব্যের মাধ্যমে আপনাদের জয়গান করছি, আপনাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি গলওয়ান উপত্যকায় শহীদ হওয়া আমাদের বীর জওয়ানদের পুনরায় শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই। এঁদের মধ্যে পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর থেকে দক্ষিণ দেশের সকল প্রান্তের বীরেরা নিজেদের শৌর্য দেখিয়েছেন। তাঁদের পরাক্রম, তাঁদের সিংহনাদে মাতৃভূমি এখনও তাঁদের জয়গান গাইছে। আজ প্রত্যেক দেশবাসী আপনাদের সামনে, আপনাদের বীর সৈনিকদের সামনে শ্রদ্ধায়, সামনে নত মস্তকে প্রণাম জানাচ্ছে। আজ প্রত্যেক ভারতবাসীর বুক, আপনাদের বীরত্ব ও পরাক্রমে গর্বে ফুলে উঠেছে।


বন্ধুগণ,


সিংহনাদের আশীর্বাদে এই মাটি পবিত্র হয়েছে। বীর সুপুত্রদের শৌর্য এবং পরাক্রম গাঁথায় এই মাটি সম্পৃক্ত হয়েছে। লে-লাদাখ থেকে শুরু করে কারগিল এবং সিয়াচিন পর্যন্ত লেজাংলার তুষারাবৃত শৃঙ্গগুলি থেকে গলওয়ান উপত্যকার হিমশীতল জলধারা পর্যন্ত প্রত্যেক শৃঙ্গ, প্রত্যেক পাহাড়, প্রত্যেক কন্দরে কন্দরে, প্রতিটি নুড়ি পাথড় ভারতীয় সৈনিকদের পরাক্রমের স্বাক্ষর দেয়। ১৪ কোর-এর পরাক্রমের বীরগাঁথা তো চারিদিকে বিরাজমান ।বিশ্ববাসী আপনাদের অদম্য সাহস দেখেছে, জেনেছে। আপনাদের শৌর্যগাঁথা বাড়িতে বাড়িতে গুঞ্জরিত হচ্ছে। আর ভারতমাতার শত্রুরা আপনাদের ‘শৌর্য’ দেখেছে, আর আপনাদের ‘পরাক্রম’।


বন্ধুগণ,


লাদাখের এই গোটা অংশ, এটি ভারতের মস্তক, ১৩০ কোটি ভারতবাসীর মানসম্মানের প্রতীক। এই ভূমি ভারতের জন্য সর্বস্ব ত্যাগের জন্য সর্বদা প্রস্তুত দেশভক্তদের ভূমি। এই মাটি পুশোকবকুলা রিনপোছে-র মত মহান রাষ্ট্রভক্ত দেশকে দিয়েছে। এই রিনপোছেজী-র কারণেই, যিনি শত্রুদের অশুভ ইচ্ছের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষদের ঐক্যবদ্ধ করেছেন। রিনপোছেজীর নেতৃত্বে এখানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমস্ত ষড়যন্ত্রকে লাদাখের দেশভক্ত জনগণ নস্যাৎ করে দিয়েছে। তাঁরই প্রচেষ্টার ফলে, ভারতীয় সেনা লাদাখ স্কাউট নামে ইনফ্রেন্ট্রি রেজিমেন্ট গঠনের প্রেরণা লাভ করে । আজ লাদাখের জনগণ প্রত্যেক স্তরে – সেনা থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক পর্যন্ত কর্তব্যপালনের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অতুলনীয় অবদান রাখছেন। বন্ধুগণ, আমাদের শাস্ত্রে বলা হয়, খড়গেন আক্রম্য বন্দিতা আক্রমনঃ পুণিয়া, বীরভোগ্য বসুন্ধরা।


অর্থাৎ বীর তাঁর অস্ত্রের শক্তিতেই ভূমিকে, মাতৃভূমিকে রক্ষা করে। এই মাটি বীরভোগ্যা, বীরেদের জন্য। এর রক্ষা আর নিরাপত্তার জন্য আমাদের সমর্থন এবং সামর্থ্য, আমাদের সংকল্প হিমালয়ের মতই উঁচু। এই সামর্থ্য ও এই সংকল্প এই সময়ে আমি এখন আপনাদের চোখে দেখতে পাচ্ছি, আপনাদের চেহারায় তা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। আপনারা সেই ভূমির বীর সন্তান যাঁরা হাজার বছর ধরে অসংখ্য আক্রমণকারীর হামলা ও অত্যাচারের উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন। আর এটা আমাদের পরিচয়, আমরা তারাই যারা বংশীধারী কৃষ্ণের পুজারী। আমরা তারাই, যারা সুদর্শন চক্রধারী কৃষ্ণকে আদর্শ মেনে চলি। এই প্রেরণা নিয়ে এবং আক্রমণের পর ভারত আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।


বন্ধুরা,


দেশের, বিশ্বের, মানবতার প্রগতির জন্য শান্তি ও বন্ধুত্ব প্রত্যেকেই স্বীকার করেন, প্রত্যেকেই মানেন এবং এটা খুব জরুরি। কিন্তু এটা আমরা এটাও জানি নির্বল কখনও শান্তি বজায় রাখতে পারেনা। দুর্বল, শান্তির জন্য উদ্যোগ নিতে পারেনা। বীরত্বই শান্তির প্রাথমিক শর্ত। ভারত আজ জল, স্থল, আকাশ ও অন্তরীক্ষেও যদি তার শক্তি বাড়িয়ে থাকে তবে তার মূল উদ্দেশ্য হল মানবকল্যাণ । ভারত আজ আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নির্মাণ করছে। বিশ্বের উন্নত থেকে উন্নততর প্রযুক্তি ভারতীয় সেনার জন্য নিয়ে আসছে। এর পেছনে ভাবনা এটাই। ভারত যদি আধুনিক পরিকাঠামোর দ্রুত গতিতে উন্নয়ণ করে থাকে এর পেছনে বার্তা এটাই। বিশ্ব যুদ্ধের কথা যদি আমরা মনে করি, বিশ্ব যুদ্ধ হোক কিংবা শান্তির কথা – যখনই প্রয়োজন পড়েছে, বিশ্ববাসী আমাদের বীরদের পরাক্রম দেখেছে। আর বিশ্ব শান্তির জন্য তাঁদের প্রয়াসকে অনুভবও করেছে। আমরা সর্বদা মানবতাকে, মনুসত্যকে, মানবিকতাকে রক্ষা ও সুরক্ষিত রাখার জন্য কাজ করেছি, জীবন দিয়েছি। আপনারা সবাই ভারতের এই লক্ষ্যকে, ভারতের এই পরম্পরাকে, ভারতের এই মহান সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠাকারী অগ্রণী নেতৃত্ব।


বন্ধুরা,


মহান সন্ন্যাসী তিরুবল্লুবরজী হাজার বছর আগে বলেছেন,
ম্হারা মাণমাঁড
বড়ী চেলা কুটুম ইয়ে নানোগে
ইয়ে মম পঢ়াই কহা


অর্থাৎ শৌর্য, সম্মান, মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহারের পরম্পরা আর বিশ্বস্ততা, এই চারগুণ যে কোনো দেশের সেনার প্রতিবিম্ব হয়। ভারতের সেনারা সর্বদাই এই পথেই চলেছে।


বন্ধুগণ,


সাম্রাজ্যবাদের যুগ শেষ হয়ে গেছে। এই যুগ উন্নয়ণবাদের। দ্রুত পরিবর্তনশীল সময়ে উন্নয়ণবাদই প্রাসঙ্গিক। উন্নয়ণবাদের জন্যই সুযোগ আছে। আর উন্নয়ণবাদই ভবিষ্যতের ভিত্তিও। বিগত শতাব্দীতে সাম্রাজ্যবাদই মানবতার সব থেকে বেশি ক্ষতি করেছে। মানবতার বিনাশের চেষ্টা করেছে। সাম্রাজ্যবাদের জেদ যখন কারো মাথায় চেপে বসেছে, সে সর্বদাই বিশ্বশান্তির সামনে বিপদ ডেকে এনেছে।


আর বন্ধুগণ, এটা ভুলবেন না, যে ইতিহাস সাক্ষী আছে এমন শক্তিরা ধ্বংস হয়ে গেছে অথবা মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্ববাসীর সর্বদা এই অভিজ্ঞতা হয়েছে আর এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এখন আরেকবার গোটা বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রস্তুত করে নিয়েছে। আজ বিশ্ব উন্নয়ণবাদে সমর্পিত, আর উন্নয়ণের উন্মুক্ত প্রতিযোগিতাকে স্বাগত জানাচ্ছে।


বন্ধুগণ,


যখন যখন আমি দেশরক্ষার সঙ্গে জড়িত যে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবি, তখন আমি সবার আগে দুই মায়ের কথা স্মরণ করি। যখনই আমি রাষ্ট্র সুরক্ষার কথা ভাবি আমি সবার আগে দুই মায়ের কথা স্মরণ করি। প্রথম আমাদের সকলের ভারতমাতা, আর দ্বিতীয় সেই বীর মায়েদের কথা যাঁরা আপনাদের মত প্রবল পরাক্রমী যোদ্ধাদের জন্ম দিয়েছেন। আমি সেই দুই মাকে স্মরণ করি। আমার চলার পাথেয় এটাই, এই পথে চলেই দেশ আপনাদের সম্মান, আপনাদের পরিবারের সম্মান এবং ভারতমাতার সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।


সেনার জন্য আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র হোক, অথবা আপনাদের জন্য জরুরি যুদ্ধ-সরঞ্জাম, এই সব বিষয়গুলিকেই আমরা গভীরভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি। এখন দেশে সীমান্ত পরিকাঠামো খাতে খরচ প্রায় তিনগুণ করে দেওয়া হয়েছে। এতে সীমান্ত এলাকা উন্নয়ণ এবং সীমান্তে সড়ক পথ ও সেতু নির্মাণের কাজও দ্রুত গতিতে হয়েছে। এর একটি বড় লাভ এটাও হয়েছে, এখন আপনাদের কাছে সমস্ত সামগ্রী কম সময়ে পৌঁছে যায়।


বন্ধুগণ,


সেনাবাহিনীগুলির মধ্যে উন্নত সমন্বয়ের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে যে প্রত্যাশা ছিল সেই চিফ অফ্ ডিফেন্স পদ সৃষ্টি করার বিষয় হোক কিংবা জাতীয় যুদ্ধ স্মারক নির্মাণ, এক পদ এক পেনশন-এর সিদ্ধান্ত হোক, কিংবা আপনাদের পরিবারের দেখাশোনা থেকে শুরু করে আপনাদের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার সঠিক ব্যবস্থার জন্য লাগাতার কাজ, দেশ আজ প্রত্যেক স্তরে নিজের সেনা ও সৈনিকদের মজবুত করছে।


বন্ধুগণ,


ভগবান গৌতমবুদ্ধ বলেছেন, সাহসের সম্পর্ক দায়বদ্ধতার সঙ্গে রয়েছে, ‘কনভিকশন’-এর সঙ্গে রয়েছে সাহসই করুনা, সাহসই ‘কমপেশন’। সাহস হল তা, যা আমাদের নির্ভীক এবং অটল হয়ে সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে শেখায়। সাহস হল তা, যা আমাদের সঠিককে ঠিক বলতে আর করতে প্রাণশক্তি যোগায়।


বন্ধুগণ,


দেশের বীর সুপুত্ররা গলওয়ান উপত্যকায় যে অদম্য সাহস দেখিয়েছেন, তা পরাক্রমের উদাহরণ  স্বরূপ। দেশ আপনাদের নিয়ে গর্বিত, আপনাদের জন্য সম্মানিত। আপনাদের সঙ্গেই আমাদের আইটিবিপি-র সৈনিকরা, বিএসএফ-এর বন্ধুরা, আমাদের বিআরও এবং অন্যান্য সংগঠনের সদস্যরা, কঠিন পরিস্থিতিতে কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার কিংবা শ্রমিক, আপনারা সকলে অসাধারন কাজ করছেন। প্রত্যেকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভারতমাতাকে রক্ষা করতে, ভারতমাতার সেবায় সমর্পিত।


আজ আপনাদের সকলের পরিশ্রমে দেশ অনেক বিপর্যয় থেকে একসঙ্গে এবং সম্পূর্ণ দৃঢ়তার সঙ্গে লড়াই করছে। আপনাদের সবার থেকে প্রেরণা নিয়ে আমরা মিলেমিশে প্রত্যেক সমস্যার, কঠিন থেকে কঠিনতর সমস্যার মোকাবিলায় বিজয়লাভ করে চলেছি, বিজয়লাভ করে যাব। যে ভারতের সামনে, আর আমরা সবাই যে ভারতের স্বপ্ন নিয়ে, আর বিশেষ রূপে আপনারা সবাই সীমান্তে দেশের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করছেন, আমরা সেই স্বপ্নের ভারত গড়ে তুলব। আপনাদের স্বপ্নের ভারত গড়ে তুলব। ১৩০ কোটি দেশবাসীও পেছনে থাকবেন না। এটাই আজ আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে এসেছি। আমরা একটি শক্তিশালী এবং আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তুলব এবং গড়ে তুলবই। এবং আপনাদের থেকে যখন প্রেরণা পাওয়া যায় তখন আত্মনির্ভর ভারতের সংকল্পও আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।


আমি আরেকবার আপনাদের সকলকে হৃদয় থেকে অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই। অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। আমার সঙ্গে সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে বলুন –


ভারতমাতা কি – জয়
ভারতমাতা কি - জয়
বন্দেমাতরম্
বন্দেমাতরম্
বন্দেমাতরম্


ধন্যবাদ

 

 



CG/SB/SKD



(Release ID: 1636283) Visitor Counter : 26