প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
আচার্য মহাপ্রাজ্ঞের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
প্রকাশিত:
19 JUN 2020 11:34AM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৯ জুন, ২০২০
নমস্কার।
আচার্য শ্রী মহাশ্রমণজি, তেরাপন্থী মহাসভার অধ্যক্ষ সুরেশ চন্দ্র গোয়েলজি এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত সকল সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ, সমস্ত বন্ধুরা!
এটা আমাদের সকলের সৌভাগ্য যে সন্ন্যাসীপ্রবর আচার্য শ্রী মহাপ্রজ্ঞাজির জন্ম শতাব্দীর পবিত্র অনুষ্ঠানে আমরা সকলেই একত্রিত হয়েছি। তাঁর কৃপা, তাঁর আশীর্বাদকে আপনারা, আমি, আমরা সবাই অনুভব করছি।
সন্ন্যাসীপ্রবর আচার্য শ্রী মহাপ্রজ্ঞাজিকে প্রণাম জানিয়ে, তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করে আমি আপনাদের সকলকেই অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আমি আচার্য শ্রী মহাশ্রবণজিকেও বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই।
এই করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি এই অনুষ্ঠানকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এত সুন্দরভাবে আয়োজন করেছেন।
বন্ধুগণ,
আপনাদের মধ্যে যেমন অনেকেই রয়েছেন, যাঁদের আচার্য শ্রী মহাপ্রজ্ঞাজির সৎসঙ্গ এবং সাক্ষাৎকারের সৌভাগ্য হয়েছে। সেই সময়ে আপনারা নিশ্চয়ই তাঁর আধ্যাত্মিক প্রাণশক্তি অনুভব করেছেন।
আমি একথা এজন্য বলছি কারণ, তাঁর জীবৎকালে আমার সারা জীবন ধরে আচার্যজির বিশেষ স্নেহ এবং আশীর্বাদ লাভের সৌভাগ্য হয়েছে।
আমার মনে পড়ে, যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম তখন তিনি গুজরাটে এসেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে অহিংসা যাত্রা, মানবতার সেবার উদ্দেশ্যে অভিযানে সামিল হওয়ার সুযোগ আমি পেয়েছি।
তখন আমি আচার্যপ্রবরকে সামনে গিয়ে বলেছিলাম, “আমি চাই যে আপনার ধর্মীয় দর্শন আমার ধর্মীয় দর্শন হয়ে উঠুক।”
আচার্য শ্রী মহাপ্রজ্ঞাজি অত্যন্ত স্নেহ সহকারে আমাকে বলেছিলেন, “আমার ধর্মীয় দর্শন এখন থেকে তোর ধর্মীয় দর্শন হয়ে গেল।” তখন থেকে আমি আচার্য শ্রী মহাপ্রজ্ঞাজির শিষ্য হয়ে পড়ি।
বন্ধুগণ,
আমি সব সময়েই তাঁর সান্নিধ্যে গিয়ে অনুভব করেছি যে তাঁর মতো যুগঋষির জীবনে নিজের বলতে কিছু থাকে না। তাঁর জীবন, তাঁর বিচার, তাঁর ভাবনা-চিন্তা - সবকিছু সমাজের জন্য, মানবতার জন্য সমর্পিত।
আচার্য শ্রী মহাপ্রজ্ঞাজি বলতেন, “আমি এবং আমার ছাড়ো, তাহলেই সবকিছু তোমার হবে।” তাঁর এই মন্ত্র, তাঁর এই দর্শন তাঁর নিজের জীবনে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। আমরা সকলেই দেখেছি তাঁর জীবনে তাঁর নিজের বলতে কিছু ছিল না। কিন্তু প্রত্যেকেই তাঁর অত্যন্ত আপন ছিল। তাঁর জীবনে কোন বস্তুর জন্য ‘চাহিদা ’ ছিল না। কিন্তু প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাঁর মনে ছিল প্রেম।
বন্ধুগণ,
বিশ্বে জীবনযাপনের দর্শন তো অত্যন্ত সহজেই পাওয়া যায়, কিন্তু এ ধরনের জীবনযাপনকারী মানুষ সহজেই পাওয়া যায় না। জীবনকে এই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক তপস্যার প্রয়োজন হয়। সমাজ আর সেবার জন্য আত্মোৎসর্গের প্রয়োজন হয়। এটা কোন সাধারণ কথা নয়। অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষই এই ‘অসাধারণ’কে চরিতার্থ করতে পারেন।
যেজন্যই রাষ্ট্র কবি রামধারী সিং দিনকর বলতেন, “আচার্য মহাপ্রজ্ঞাজি আধুনিক যুগের বিবেকানন্দ।”
এভাবে দিগম্বর পরম্পরার মহান সন্নাসী আচার্য বিদ্যানন্দজি মহাপ্রজ্ঞাজির তুলনা ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনজির মতো দার্শনিকের সঙ্গে করতেন।
আচার্য শ্রী মহাপ্রজ্ঞাজি যে সাহিত্য রচনা করেছেন, তা ছিল অতুলনীয় ।
আমাদের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধেয় অটলজি, যিনি নিজেও সাহিত্য এবং জ্ঞানের ভাণ্ডার ছিলেন, তিনি প্রায়ই বলতেন, “আমি আচার্য শ্রী মহাপ্রজ্ঞাজির সাহিত্য, তাঁর সাহিত্যের গভীরতা, তাঁর জ্ঞান এবং শব্দের অনেক বড় প্রেমিক।” তাঁর বক্তব্যের সৌম্যতা, মন্ত্রমুগ্ধকর আওয়াজ, শব্দ চয়নে ভারসাম্য – যেন তিনি ঈশ্বরের বরদান পেয়েছিলেন।
বন্ধুগণ,
আপনারা যদি আচার্য শ্রী মহাপ্রজ্ঞাজি রচিত সাহিত্য পাঠ করেন, তাঁর সাহিত্যের স্বাদ নিতে পারেন, তাহলে আপনারাও অনুভব করবেন কত মহাপুরুষের সমন্বয় তাঁর মধ্যে ছিল, তাঁর জ্ঞান কত ব্যাপক ছিল।
তিনি যত গভীরতা নিয়ে আধ্যাত্ম বিষয়ে লিখেছেন, ততটাই ব্যাপক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর দর্শন, রাজনীতি, মনস্তত্ত্ব এবং অর্থনীতির মতো বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনাতেও প্রতিভাত হয়।
এই বিষয়গুলি নিয়ে মহাপ্রজ্ঞাজি সংস্কৃত, হিন্দি, গুজরাটি, ইংরেজিতে ৩০০টিরও বেশি বই লিখেছেন। আর, আপনাদের সকলেরই মতো হয়তো তাঁর লেখা একটি বইয়ের কথা মনে আছে - ‘দ্য ফ্যামিলি অ্যান্ড দ্য নেশন’। এই বইটি শ্রদ্ধেয় মহাপ্রজ্ঞাজি ডঃ এ পি জে আব্দুল কালামজির সঙ্গে মিলিতভাবে লিখেছিলেন।
একটি পরিবার কিভাবে সুখী পরিবার হয়ে উঠবে, একটি সুখী পরিবার কিভাবে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র নির্মাণ করতে পারে, সেই দৃষ্টিভঙ্গি এই দুই মহাপুরুষ মিলে এই বইয়ের মধ্যে লিখে গেছেন।
আমার সেদিনের কথা মনে আছে যখন আমি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ডঃ এ পি জে আব্দুল কালাম গুজরাটে এসেছিলেন। তখন আমিও তাঁর সঙ্গে আচার্যপ্রবরের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। সেদিন আমার একসঙ্গে দুই মহাপুরুষের সান্নিধ্য লাভের সৌভাগ্য হয়েছে।
একসঙ্গে দু’জনের উপস্থিতিতে আমি প্রত্যক্ষ অনুভব করেছিলাম যে আমাদের দেশে একজন ঋষি কিরকম বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন হয়ে উঠতে পারেন, আর একজন বৈজ্ঞানিক কতটা ঋষিপ্রতীম এবং ঋষি প্রেমিক হয়ে উঠতে পারেন।
মহাপ্রজ্ঞাজি সম্পর্কে ডঃ কালাম বলেছেন, “তাঁর জীবনে একটাই উদ্দেশ্য, হাঁটো, অর্জন করো এবং দাও।” অর্থাৎ, সর্বদা সফর করো, জ্ঞান অর্জন করো এবং যা কিছু জীবনে অর্জন করেছো পুরোটাই সমাজকে দাও।
বন্ধুগণ,
মহাপ্রজ্ঞাজি নিজের জীবনে হাজার হাজার কিলোমিটার সফর করেছেন, পদযাত্রা করেছেন। জীবনের অন্তিম দিনগুলিতেও তিনি অহিংসা যাত্রায় পথ হেঁটেছেন।
তিনি বলতেন, “আত্মা আমার ঈশ্বর, ত্যাগ আমার প্রার্থনা, মৈত্রী আমার ভক্তি, সংযম আমার শক্তি এবং অহিংসা আমার ধর্ম।”
এই জীবনশৈলী নিয়ে তিনি নিজে বেঁচেছেন আর, লক্ষ-কোটি মানুষকেও এভাবে বাঁচার পথ শিখিয়ে গেছেন। যোগের মাধ্যমে লক্ষ-কোটি মানুষকে তিনি অবসাদমুক্ত জীবনযাপন শিখিয়েছেন। এটাও একটা কাকতালিয় সংযোগ যে আর একদিন পরেই আমাদের সামনে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস রয়েছে।
আমাদের জন্য সেদিনও একটি বড় সুযোগ আসবে যখন আমরা সবাই “সুখী পরিবার এবং সমৃদ্ধ রাষ্ট্র” – মহাপ্রজ্ঞাজির এই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেওয়ার জন্য যোগানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে নিজেদের অবদান রাখব। তাঁর ভাবনাগুলিকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেব।
বন্ধুগণ,
আচার্য শ্রী মহাপ্রজ্ঞাজি আমাদের সবাইকে আরেকটি মন্ত্র দিয়ে গেছেন। তাঁর এই মন্ত্র ছিল – ‘সুস্থ ব্যক্তি, সুস্থ সমাজ, সুস্থ অর্থ ব্যবস্থা’। আজকের পৃথিবীতে তাঁর এই মন্ত্র আমাদের সকলের জন্য একটি বড় প্রেরণার উৎস।
আজ দেশবাসী তাঁর এই মন্ত্রকে শিরধার্য করে আত্মনির্ভর সঙ্কল্প নিয়ে এগিয়ে চলেছে।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যে সমাজ এবং রাষ্ট্রের আদর্শ আমাদের মুণি-ঋষিরা, আমাদের সন্নাস্যী মহাত্মারা আমাদের সামনে রেখে গেছেন, আমরা দেশবাসী যত শীঘ্র সম্ভব এই সঙ্কল্পকে বাস্তবায়িত করব। আপনারা সবাই এই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করবেন। আপনারা সবাই সুস্থ থাকবেন, আনন্দে থাকবেন, সন্ন্যাসীপ্রবর আচার্য শ্রী মহাপ্রজ্ঞাজির জীবনের বার্তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবেন, এই শুভেচ্ছা জানিয়ে আপনাদের সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ!
CG/SB/DM
(রিলিজ আইডি: 1632619)
ভিজিটরের কাউন্টার : 211
এই রিলিজটি পড়তে পারেন:
English
,
Urdu
,
हिन्दी
,
Marathi
,
Assamese
,
Manipuri
,
Punjabi
,
Gujarati
,
Odia
,
Tamil
,
Telugu
,
Kannada
,
Malayalam