প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর

আনলক ১.০-র পর উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক


আমরা জীবন ও জীবিকার দিকে নজর রাখবো; স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, নমুনার পরীক্ষা এবং শনাক্তকরণের সঙ্গে অর্থনৈতিক কাজকর্ম বাড়াবো : প্রধানমন্ত্রী

Posted On: 16 JUN 2020 5:35PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লী, ১৬ জুন, ২০২০

 



প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ আনলক ১.০ পর উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং কোভিড-১৯ মোকাবিলার নানা পন্থা-পদ্ধতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ ধরণের এটি ষষ্ঠ বৈঠক। এর আগে গত ২০শে মে, দোশরা এপ্রিল, ১১ই এপ্রিল, ২৭ এপ্রিল এবং ১১ই মে এ ধরণের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 


এই ভাইরাস মোকাবিলায় সময়োচিত সিদ্ধান্তঃ-


প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ভাইরাস মোকাবিলা করার জন্য সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে দেশজুড়ে এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ করা গেছে। আমরা যদি পিছনের দিকে ফিরে তাকাই, তাহলে মানুষের মনে থাকবে যে আমরা সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর একটি উদাহরণ সারা পৃথিবীর কাছে উপস্থাপিত করতে পেরেছি।   


আমরা প্রতিটি মানুষের জীবন রক্ষার চেষ্টা করেছি বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে পরিবহনের সব মাধ্যমই সচল হয়েছে। লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক তাঁদের গ্রামে ফিরে এসেছেন। হাজার হাজার ভারতীয় বিদেশ থেকে ফিরে এসেছেন এবং ভারতের বিপুল জনসংখ্যা সত্ত্বেও বিশ্বের বাকি অংশের মতো এখানে জীবনসঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেনি। তিনি বলেন, ভারতীয়রা যে শৃঙ্খলা দেখিয়েছেন, সারা বিশ্বের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তার প্রশংসা করেছেন। দেশে বর্তমানে সুস্থ হয়ে ওঠার হার ৫০ শতাংশের বেশি। তিনি আরও জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে পৃথিবীতে যেসব দেশে মৃতের সংখ্যা কম, ভারত তার মধ্যে অন্যতম। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকি এবং সমস্ত নিয়ম মেনে চলি তাহলে করোনা ভাইরাস আমাদের খুব কম ক্ষতি করতে পারবে౼এই শিক্ষাই আমরা পেয়েছি। তিনি মাস্ক/ফেস কভার ব্যবহারের গুরুত্বের কথা বলেন, এগুলি ছাড়া কারুর বাইরে বেরোনো উচিত নয়। এ সংক্রান্ত নিয়ম কোনো ব্যক্তি ছাড়াও তাঁর পরিবার এবং সম্প্রদায়ের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। ‘দু গজ দূরি’, নিয়মিত হাত সাবান দিয়ে ধোয়া এবং স্যানিটাইজার ব্যবহার করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। শৃঙ্খলা মানার ক্ষেত্রে কোনো শৈথিল্য দেখা দিলে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ দুর্বল হয়ে যাবে বলে শ্রী মোদী সতর্ক করে দেন।   


অর্থনীতিতে জোয়ারঃ-


প্রধানমন্ত্রী জানান বিগত কয়েক সপ্তাহে অর্থনৈতিক কাজকর্মে গতি লক্ষ্য করা গেছে। বিদ্যুতের ব্যবহার এর আগে কমে গেলেও এখন আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছরের মে মাসে সারের বিক্রি তাৎপর্যপূর্ণভাবে বেড়েছে, খরিফ শস্যের রোপন গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে, দু-চাকার গাড়ির উৎপাদন বেড়েছে, লকডাউনের আগে যেভাবে ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় লেনদেন হতো এখন আবার সেই হারেই তা হচ্ছে, মে মাসে কর আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রপ্তানীও বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এগুলি আমাদের ভবিষ্যতের জন্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।


আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের সুফলঃ-


প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজ্যগুলির কৃষি, উদ্যান পালন, মৎস্য পালন এবং অতিক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগে (এমএসএমই) গুরুত্ব দেওয়ায় আত্মনির্ভর ভারত অভিযানে সুবিধা হচ্ছে। এমএসএমই-গুলিকে সঠিক সময়ে ঋণ দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যাঙ্কার্স কমিটিগুলি এই বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিল্পসংস্থাগুলি দ্রুত কাজ শুরু করতে পারবে౼তারফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। ছোট ছোট কারখানাগুলির বিভিন্ন বিষয়ে যে পরামর্শের দরকার তাও নিশ্চিত করা হয়েছে। শ্রী মোদী বলেন, শিল্প ও বাণিজ্যে গতি আনতে বিভিন্ন মহলের একসঙ্গে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যগুলির বিশেষ বিশেষ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সবসময় সক্রিয় থাকা উচিত এবং অর্থনৈতিক কাজকর্মে আরও গতি আনার জন্য পণ্য সামগ্রী পরিবহণের ক্ষেত্রেও আরও তৎপর হতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। 


প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষিক্ষেত্রে সংস্কারের মাধ্যমে কৃষকরা যাতে উপকৃত হন সেদিকে নজর দেওয়া হয়েছে। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি এবং আয় বৃদ্ধির ফলে অর্থনীতিতে চাহিদা তৈরি হবে। উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় কৃষি ও উদ্যান পালনে নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করা হবে। এই অঞ্চলে জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত সামগ্রীর নতুন বাজার, বাঁশ থেকে উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী এবং আদিবাসীদের তৈরি নানা জিনিস বাজারজাত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রী মোদী বলেন, স্থানীয় স্তরে উৎপাদিত জিনিসের জন্য ক্লাস্টার গঠনের ফলে রাজ্যগুলিও উপকৃত হবে, কারণ প্রতিটি জেলা এবং ব্লকে কোন কোন সামগ্রী উৎপাদিত হয় তা চিহ্নিত করে সেগুলির আরও ভালো বাজারজাতকরণের কাজ করা হবে। তিনি আত্মনির্ভর ভারত অভিযানকে দ্রুত সফল করার জন্য সকলের একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে জোর দেন।


মুখ্যমন্ত্রীদের বক্তব্যঃ-


আজকের আলোচনাটি দু-দিনের বৈঠকের প্রথম পর্ব। আজকের এই বৈঠকে পাঞ্জাব, আসাম, কেরালা, উত্তরাখন্ড, ঝাড়খন্ড, ছত্তিশগড়, ত্রিপুরা, হিমাচলপ্রদেশ, চন্ডীগড়, গোয়া, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, লাদাখ, পন্ডিচেরী, অরুণাচলপ্রদেশ, মেঘালয়, মিজোরাম, আন্দামান ও নিকোবর, দাদরা নগর হাভেলি দমন ও দিউ, সিকিম এবং লাক্ষ্মাদ্বীপের প্রতিনিধিরা দেন।


এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বকে মুখ্যমন্ত্রীরা স্বাগত জানান। সংকটের এই সময়ে তাঁরা একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁদের নিজ নিজ রাজ্যে বর্তমান স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামোর বিষয়ে এবং এই ভাইরাসের সংক্রমন আটকানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে আরও কি কি উন্নতি করা হচ্ছে তা নিয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। বিভিন্ন রাজ্যে যে সচেতনতা অভিযান চালানো হচ্ছে, যেসব পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ি ফিরে এসেছেন, আরোগ্য সেতু অ্যাপের ব্যবহার ও অর্থনৈতিক কাজকর্ম পুনরায় শুরু করার প্রসঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রীরা বিশদে জানিয়েছেন।   


জীবন ও জীবিকার প্রতি গুরুত্ব আরোপঃ-


মুখ্যমন্ত্রীদের বক্তব্য শোনার পর প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ধন্যবাদ জানান। তিনি জীবন ও জীবিকার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। শ্রী মোদী বলেন, একদিকে আমরা যখন স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতির জন্য কাজ করবো, পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষা, সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার বিষয়টি শনাক্তকরণ এবং অর্থনৈতিক কাজকর্মও বাড়াতে হবে। বর্তমানে চাহিদা মিটিয়ে ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।


প্রধানমন্ত্রী নেতৃবৃন্দকে জানান এই ভাইরাসের বিপদ এখনও দূর হয়নি। তাই অর্থনৈতিক কাজকর্ম শুরু করার সময়েও এর বিপদের বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।


কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ বলেন, এই মহামারির বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমরা এখনও পর্যন্ত সফল, তবে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে আগামীদিনেও মাস্ক/ফেস কভারের ব্যবহার, দু গজ দূরত্ব বজায় রেখে চলার পরামর্শগুলি মেনে চলতে হবে।


বিভিন্ন প্রস্তুতির বিষয়ে পর্যালোচনাঃ-


প্রধানমন্ত্রী, কোভিড-১৯ মহামারী প্রতিরোধে ১৩ই জুন মন্ত্রী এবং আধিকারিকদের সঙ্গে যে বৈঠক করেছিলেন তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ওই বৈঠকে জাতীয় স্তরে এই মহামারীর সর্বশেষ অবস্থা এবং মহামারী মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।


দেখা গেছে এই মহামারীর ফলে সংক্রমনের দুই-তৃতীয়াংশ ঘটনা দেশের ৫টি রাজ্যের বড় বড় শহরেই সীমাবদ্ধ। বড় বড় শহরগুলিতে যে সংকট দেখা দিয়েছে সেগুলি মোকাবিলা করার জন্য নমুনা পরীক্ষা, হাসপাতালের বেড এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা বাড়ানোর বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। এরফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সংক্রমনের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে তা যথাযথভাবে সামলানো যাবে। 


প্রধানমন্ত্রী শহর এবং জেলা স্তরে হাসপাতালের বেড, আইসোলেশন বেডের চাহিদার বিষয়ে ক্ষমতাশালী গোষ্ঠীর পরামর্শ বিবেচনা করে স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, তাঁরা যেন রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে পরামর্শ করে জরুরি ভিত্তিতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। শ্রী মোদী স্বাস্থ্য মন্ত্রককে আসন্ন বর্ষায় সম্ভাব্য পরিস্থিতির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শও দেন। 
 


 


CG/CB/NS



(Release ID: 1631992) Visitor Counter : 245