প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
ভারত-নিউজিল্যান্ড যৌথ বিবৃতি
प्रविष्टि तिथि:
11 JUL 2026 7:59AM by PIB Kolkata
নয়া দিল্লি, ১১ জুলাই ২০২৬
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের আমন্ত্রণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১০ ও ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে সরকারি সফরে রয়েছেন। গত ৪০ বছরের মধ্যে কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নিউজিল্যান্ডে এটিই প্রথম সফর; এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক এবং দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে এক নতুন যাত্রাপথের সূচনা।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মোদী 'গভর্নমেন্ট হাউস'-এ আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা লাভ করেন, প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন, নিউজিল্যান্ডের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের উদ্দেশে ভাষণ দেন এবং নিউজিল্যান্ডের ক্রীড়া-সংক্রান্ত উদ্ভাবনী কর্মসূচি প্রত্যক্ষ করেন।
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী ২০২৫ সালের মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের ভারত সফরের কথা স্মরণ করেন। সেই সফরেই ভারত ও নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট) বিষয়ক আলোচনা শুরু করেছিল এবং প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, শুল্ক, উদ্যানপালন, বনায়ন ও ক্রীড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল।
ভারত ও নিউজিল্যান্ডের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের মধ্যে গভীর সংযোগ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে উভয় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এর (স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ) পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই অনুযায়ী, তাঁরা আগামী চার বছরে যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার রূপরেখা হিসেবে ‘ভারত-নিউজিল্যান্ড কৌশলগত অংশীদারিত্ব: ২০৩০-এর রোডম্যাপ’-কে অনুমোদন করেন।
উভয় প্রধানমন্ত্রী এই কৌশলগত অংশীদারিত্বের জন্য একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী দীর্ঘমেয়াদী ভিশন বা লক্ষ্যের বিষয়ে একমত হন। এর লক্ষ্য হলো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া, এখনকার সহযোগিতার কাঠামোকে শক্তিশালী করা এবং দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক—উভয় ক্ষেত্রেই সহযোগিতা আরও গভীর করার নতুন পথ উন্মোচন করা।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী উচ্চ-পর্যায়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার ক্রমবর্ধমান গতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের মধ্যে নিয়মিত পারস্পরিক সফর ও বৈঠক আয়োজনে সম্মত হয়েছেন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কৌশলগত দিকনির্দেশ দেওয়া এবং ‘রোডম্যাপ টু ২০৩০’-এর আওতায় অগ্রগতির পর্যালোচনা করার লক্ষ্যে, প্রধানমন্ত্রীরা নিয়মিত ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপ’ (ফ্রেন মিনিস্টারস ডায়ালগ) চালু করতে এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক ও নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রকের মধ্যে বার্ষিক ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠক’ (সিনিয়র অফিসিয়ালস মিটিংস)-এর চর্চা সুদৃঢ় করতে সম্মত হয়েছেন।
উভয় প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক বোঝাপড়া গভীর করা এবং ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্কের গণতান্ত্রিক ভিত্তি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সংসদীয় আদান-প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁরা উভয় দেশের সংসদের মধ্যে নিয়মিত সম্পৃক্ততাকে উৎসাহিত করেছেন—যার মধ্যে রয়েছে ভারতীয় সংসদে নিউজিল্যান্ডের জন্য সদ্য গঠিত ‘পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ এবং সংসদ সদস্যদের পারস্পরিক সফর।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক ভারত-নিউজিল্যান্ড সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)-এর বাস্তবায়ন। তাঁরা প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন স্তরে নিয়মিত ও সুবিন্যস্ত যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছেন। তাঁরা ২০২৫ সালে ‘কম্বাইন্ড টাস্ক ফোর্স ১৫০’ (সিটিএফ- ১৫০)-এর আওতায় সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন; যেখানে নিউজিল্যান্ড কমান্ড বা নেতৃত্বের দায়িত্বে এবং ভারত ডেপুটি কমান্ডারের দায়িত্বে থাকবে। এই উদ্যোগটি মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাদক চোরাচালান, সন্ত্রাসবাদ এবং সমুদ্রপথে অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধের প্রচেষ্টায় সহায়তা করবে।
উভয় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, সমুদ্রতীরবর্তী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত ও নিউজিল্যান্ড একটি অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিষয়ে অভিন্ন স্বার্থ ও লক্ষ্য পোষণ করে। সেই অনুযায়ী, তাঁরা সামুদ্রিক সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সদ্য সম্পাদিত ‘সামুদ্রিক সহযোগিতা ব্যবস্থা’ (মেরিটাইম কো-অপারেশন অ্যারেঞ্জমেন্ট), ‘জললেখচিত্রণ(হাইড্রোগ্র্যাফি) ও নটিক্যাল কার্টোগ্রাফি’ বিষয়ক বাস্তবায়ন চুক্তি এবং সমুদ্র-কেন্দ্রিক ‘পারস্পরিক লজিস্টিক সহায়তা ব্যবস্থা’। তাঁরা এমসিএ-র অংশ হিসেবে দ্বিপাক্ষিক নৌ-মহড়াসহ বিভিন্ন নৌ-কার্যক্রমকেও স্বাগত জানিয়েছেন।
‘ইন্দো-প্যাসিফিক ওশেনস ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় নিউজিল্যান্ড কর্তৃক ‘সামুদ্রিক নিরাপত্তা’কে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্র হিসেবে মনোনীত করার বিষয়টিকে ভারত স্বাগত জানিয়েছে এবং উভয় পক্ষই এই ক্ষেত্রের আওতায় সুনির্দিষ্ট সহযোগিতামূলক কার্যক্রম অন্বেষণে সম্মত হয়েছে। এছাড়া, সহযোগিতা, সমন্বয় ও তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করার লক্ষ্যে তাঁরা একটি বার্ষিক ‘সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংলাপ’(মেরিটাইম সিকিউরিটি ডায়ালগ) আয়োজনেও সম্মত হয়েছেন।
উভয় প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদ দমন, সাইবার নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে তাঁদের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সহনশীলতা বা স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করার লক্ষ্যে, তারা প্রাসঙ্গিক আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক ফোরামে সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে আরও নিবিড় সম্পৃক্ততার সুযোগগুলো খতিয়ে দেখতে সম্মত হয়েছেন।
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী আন্তঃসীমান্ত ও সংঘবদ্ধ অপরাধ—যার মধ্যে রয়েছে অবৈধ মাদক পাচার, আর্থিক অপরাধ, সাইবার-অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অপরাধ এবং মানব পাচার ও চোরাচালান—মোকাবিলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছেন। এছাড়া, ভারত ও নিউজিল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে মাদক-বিরোধী কার্যক্রম ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়টি দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করতেও তারা সম্মত হয়েছেন।
বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিদ্যমান গতিশীলতাকে স্বাগত জানান এবং একইসাথে স্বীকার করেন যে, এই সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তাঁরা ২০৩০ সালের মধ্যে পণ্য ও পরিষেবার ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করে ৭ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার (প্রায় ৩৫,০০০ কোটি ভারতীয় রুপি)-তে উন্নীত করার উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য অর্জনে কাজ করতে সম্মত হন। তাঁরা উভয় দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করতে, নতুন সুযোগ অন্বেষণ করতে এবং দুই অর্থনীতির মধ্যকার পারস্পরিক পরিপূরক সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
উভয় দেশের ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, ব্যাপক এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন ও স্বাক্ষরের বিষয়টিকে স্বাগত জানান। তাঁরা এই চুক্তিটি দ্রুত কার্যকর ও সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করতে সম্মত হন।
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারে এফটিএ-র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্বীকার করেন; যার মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য বাধা দূর করা, সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ভারতে নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগ প্রসারের বিষয়টি। তাঁরা উল্লেখ করেন যে, বাণিজ্য, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবন, পরিচ্ছন্ন শক্তি, ক্রীড়া ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার মাধ্যমে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার ‘বিকশিত ভারত’ লক্ষ্য অর্জনে নিউজিল্যান্ড সহায়তা করতে পারে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে পর্যটনের ইতিবাচক ভূমিকার কথা স্বীকার করে, তাঁরা পর্যটন বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টিকে স্বাগত জানান। তাঁরা পুনরায় বিমান সংস্থাগুলোকে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে সরাসরি ও বিরতিহীন ফ্লাইট পরিষেবা চালুর জন্য উৎসাহিত করেন।
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী উদ্যানপালন, বনায়ন, পশুপালন ও দুগ্ধশিল্পসহ প্রাথমিক শিল্পখাতগুলোতে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানান। তাঁরা উল্লেখ করেন যে, এই সহযোগিতা উৎপাদনশীলতা, খাদ্য নিরাপত্তা, টেকসই ব্যবস্থা, ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা এবং ভ্যালু চেইন বা মূল্য-শৃঙ্খল উন্নয়নের ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের বিশ্বস্বীকৃত দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং এটি ভারতের টেকসই কৃষি প্রবৃদ্ধির অগ্রাধিকারগুলোকে সহায়তা করছে।
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ‘কৃষি উৎপাদনশীলতা অংশীদারিত্ব’-কে ব্যবহারিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে স্বাগত জানান; যার মধ্যে রয়েছে কিউই ফল, আপেল ও মধুর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কর্মপরিকল্পনা নিয়ে নিউজিল্যান্ড ও ভারতের যৌথ কর্মসূচি। তাঁরা ভারতে কিউই ফল বিষয়ক ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ বা উৎকর্ষ কেন্দ্র স্থাপনে নিউজিল্যান্ডের সহায়তার বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার উদ্যোগগুলোকে স্বাগত জানান, যা কৃষি ক্ষেত্রে উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শক্তিশালী শিল্প-সংযোগ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। এছাড়া, উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী পশুপালন ও দুগ্ধশিল্প বিষয়ক সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টিকেও স্বাগত জানান। উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী নাবিকদের দক্ষতা সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি জোরদার করার লক্ষ্যে ভারতের ‘ডাইরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং’ (বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রক) এবং ‘মেরিটাইম নিউজিল্যান্ড’-এর মধ্যে চলমান আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা উল্লেখ করেন যে, নাবিকদের দক্ষতা সনদের স্বীকৃতি বৃদ্ধি পেলে তা নাবিকদের অবাধ চলাচলে সহায়তা করবে, সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করবে এবং উভয় দেশের সামুদ্রিক শিল্পের সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।
জনগণ, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত ও নিউজিল্যান্ডের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান দৃঢ় সম্পর্ককে সাধুবাদ জানান। তাঁরা স্বীকার করেন যে, নিউজিল্যান্ডে বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায় দেশটির বৈচিত্র্যময় সমাজের একটি অবিচ্ছেদ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে একটি জীবন্ত সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি এবং জনজীবন ও ক্রীড়াঙ্গনে এই সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য অবদানের কথা তাঁরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন।
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালে ‘ক্রীড়ার মাধ্যমে ঐক্যের ১০০ বছর’ (হান্ড্রেড ইয়ারস অফ ইউনিটি থ্রু স্পোর্ট) উদযাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাঁরা ক্রীড়া বিষয়ক ভারত-নিউজিল্যান্ড যৌথ কর্মপরিকল্পনাকেও স্বাগত জানান; এই পরিকল্পনাটি দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া সম্পর্ক জোরদার করার জন্য একটি কার্যকর কাঠামো প্রদান করে। এর আওতায় উচ্চ-মানের ক্রীড়া কার্যক্রম (হাই – পারফরম্যান্স স্পোর্ট), প্রশিক্ষণ (কোচিং), ক্রীড়া বিজ্ঞান, অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, ক্রীড়া-বাণিজ্য এবং জাতীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আদান-প্রদানের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানান। এর মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে যৌথ কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা বা ব্যবস্থার সূচনা এবং ভারতের লোথালের ‘ন্যাশনাল মেরিটাইম হেরিটেজ কমপ্লেক্স’ ও ‘নিউজিল্যান্ড মেরিটাইম মিউজিয়াম’-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক। তাঁরা উল্লেখ করেন যে, এই উদ্যোগগুলো জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদার এবং উভয় দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সমসাময়িক সৃজনশীলতা ও দীর্ঘদিনের সামুদ্রিক সম্পর্ক উদযাপনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে।
শিক্ষা, গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন যে শিক্ষা, গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন হলো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল দিক। তাঁরা কৃষি, জলবায়ু, ডিজিটাল রূপান্তর, বিজ্ঞান, উদ্ভাবন এবং নতুন ও উদীয়মান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতকে উৎসাহিত করেন।
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে এই সম্পর্কের একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃতি দেন, যা জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। তাঁরা উভয় দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংযোগকে স্বাগত জানান এবং এমনভাবে সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হন যা শিক্ষার্থীদের অবাধ চলাচল (স্টুডেন্ট মোবিলিটি), প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব, উদ্ভাবন ও পারস্পরিক বোঝাপড়াকে সহায়তা করে। তাঁরা ‘২০২৫ শিক্ষা সহযোগিতা চুক্তি’ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে গড়ে ওঠা বিভিন্ন কার্যক্রম ও নতুন প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের বিষয়গুলো স্বীকার করেন।
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন এবং স্বল্প-নির্গমন ও জলবায়ু-সহনশীল অর্থনীতির দিকে রূপান্তরের ক্ষেত্রে যৌথ চ্যালেঞ্জগুলোর কথা স্বীকার করেন। তাঁরা ‘ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স’ (আন্তর্জাতিক সৌর জোট) এবং ‘কোয়ালিশন ফর ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ (দুর্যোগ-সহনশীল পরিকাঠামো বিষয়ক জোট)-এর মাধ্যমে সহযোগিতা আরও গভীর করতে সম্মত হন। প্রধানমন্ত্রী মোদী ‘গ্লোবাল বায়োফুয়েলস অ্যালায়েন্স’-এ (বৈশ্বিক জৈব-জ্বালানি জোট) নিউজিল্যান্ডের যোগদানকে স্বাগত জানান।
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতের ‘ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’ (জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ) এবং নিউজিল্যান্ডের ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি’ (জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা)-র মধ্যে একটি ‘মেমোরেন্ডাম অফ কো-অপারেশন’ (সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক) স্বাক্ষরের বিষয়টিকে স্বাগত জানান। উভয় দেশের জনগোষ্ঠী, অবকাঠামো ও প্রতিষ্ঠানের সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, প্রস্তুতি, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার এবং সহনশীলতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার গুরুত্ব তাঁরা পুনর্ব্যক্ত করেন।
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী আরও টেকসই, উৎপাদনশীল এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থাকে সহায়তা করার লক্ষ্যে গবেষণা, উদ্ভাবন ও কার্যকর সমাধান এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বিষয়ক তাঁদের নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং একটি অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি তাঁদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন—যেখানে সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করা হয় এবং নিয়ম-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা সমুন্নত রাখা হয়।
আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে ১৯৮২ সালের ‘রাষ্ট্রসংঘ সমুদ্র আইন কনভেনশন’(ইউএনক্লস )-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাঁরা নৌ-চলাচল ও আকাশপথের অবাধ ব্যবহার এবং সমুদ্রের অন্যান্য বৈধ ব্যবহারের অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেন। উভয় পক্ষ আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে ইউএনক্লস -এর আলোকে বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর পুনরায় জোর দেয়। তাঁরা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে একত্রে কাজ করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী আসিয়ান-নেতৃত্বাধীন এবং অন্যান্য আঞ্চলিক ফোরাম—যার মধ্যে রয়েছে ইস্ট এশিয়া সামিট, আসিয়ান রিজিওনাল ফোরাম এবং আসিয়ান ডিফেন্স মিনিস্টারস মিটিং প্লাস—সেগুলোতে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা আসিয়ানের কেন্দ্রীয় ভূমিকা (আসিয়ান সেন্ট্রালিটি) এবং ‘ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক আসিয়ান দৃষ্টিভঙ্গি’ (আসিয়ান আউটলুক অন দ্য ইন্দো-প্যাসিফিক)-এর গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রসংঘ-কেন্দ্রিক একটি কার্যকর বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তাঁরা রাষ্ট্রসংঘের সাহসী ও কার্যকর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সমসাময়িক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাকে আরও ভালোভাবে প্রতিফলিত করার লক্ষ্যে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী—উভয় ক্যাটাগরিতেই সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে তাঁদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। এ প্রসঙ্গে, নিউজিল্যান্ড একটি সংস্কারকৃত ও সম্প্রসারিত রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ লাভের বিষয়ে তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।
উভয় পক্ষ বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, সর্বজনীন, বৈষম্যহীন ও যাচাইযোগ্য পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের বৈশ্বিক কাঠামো সমুন্নত রাখার বিষয়ে তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে ভারতের নির্ভরযোগ্য অবস্থানের প্রেক্ষাপটে, ‘নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপ’-এ ভারতের অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীরা পুনরায় স্বীকার করেন।
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা প্রশমন ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তাঁরা হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে অবাধ নৌ-চলাচল ও বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য প্রবাহ পূর্ণরূপে পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান এবং জাহাজ চলাচলের ওপর যেকোনো ধরনের বিধিনিষেধের বিরোধিতা করেন। সংঘাতের শান্তিপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে তাঁরা সংলাপ, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীরা স্থিতিশীল, স্বচ্ছ এবং সহনশীল (রেসিলিয়েন্ট) সরবরাহ শৃঙ্খলের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নেটওয়ার্কের সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতা জোরদারে ভারত যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তাঁরা তা স্বীকার করেন। তাঁরা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং উল্লেখ করেন যে, এই অঞ্চলের জন্য বৈশ্বিক সরবরাহ রুটের স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি। তাঁরা উল্লেখ করেন যে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষত প্রকট; কারণ এসব দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তেলের উচ্চমূল্যের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জাহাজ চলাচল, পরিবহন, কৃষি ও মৎস্য খাতের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সামাজিক কল্যাণ ও আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে।
ইউক্রেন প্রসঙ্গে নেতারা চলমান যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা ব্যাপক মানবিক দুর্ভোগ ও বৈশ্বিক প্রভাব সৃষ্টি করে চলেছে। তাঁরা রাষ্ট্রসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের নীতির ওপর ভিত্তি করে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে একটি সামগ্রিক, ন্যায়সঙ্গত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জনের প্রচেষ্টায় সমর্থন অব্যাহত রাখবেন। উভয় নেতা সন্ত্রাসবাদের সকল রূপ ও প্রকাশ—যার মধ্যে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদও অন্তর্ভুক্ত—তার প্রতি তাঁদের তীব্র নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পাহালগামে ২২ এপ্রিল ২০২৫-এ সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলা এবং নয়াদিল্লির লাল কেল্লার কাছে ১০ নভেম্বর ২০২৫-এর সন্ত্রাসবাদী ঘটনার কঠোর নিন্দা জানান এবং জোর দিয়ে বলেন যে, এসব হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। তাঁরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘শূন্য-সহনশীলতা’ (জিরো - টলারেন্স) ও ধারাবাহিক নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি, তাঁরা সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের নেটওয়ার্ক ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল ধ্বংস করা, অনলাইনসহ সন্ত্রাসবাদের পরিকাঠামো উপড়ে ফেলা এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ দমনে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে উভয় নেতা সম্মত হন। তাঁরা সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী বিষয়ে একটি ‘যৌথ কার্যনির্বাহী গোষ্ঠী’ (জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ – জেডব্লিউজি) গঠনের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক (মোয়া) স্বাক্ষরের বিষয়টিকে স্বাগত জানান; এই গোষ্ঠীটি তথ্য ও জ্ঞান বিনিময়ের জন্য একটি কাঠামো প্রদান করবে।
উভয় নেতা রাষ্ট্রসংঘ(ইউএন) এবং ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স(এফএটিএফ)-সহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতা জোরদারে তাঁদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁরা জোর দিয়ে বলেন যে, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটির তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠন ও ব্যক্তি—এবং তাদের সহযোগী, প্রক্সি, পৃষ্ঠপোষক, অর্থায়নকারী ও সহায়তাকারীদের—বিরুদ্ধে সকল দেশকে অবিলম্বে, ধারাবাহিকভাবে, সমন্বিত ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
উপসংহার
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যেন তাঁরা নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখেন এবং ‘রোডম্যাপ টু ২০৩০’-এ বর্ণিত উদ্যোগগুলোর সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেন। তাঁরা সম্মত হন যে, মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে এই অগ্রগতির পর্যালোচনা করবেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁকে ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ আতিথেয়তা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী লাক্সন এবং নিউজিল্যান্ডের সরকার ও জনগণের প্রতি ধন্যবাদ জানান। উভয় নেতা উচ্চ-পর্যায়ের পারস্পরিক সফর ও যোগাযোগের গতি বজায় রাখতে এবং ভারত-নিউজিল্যান্ড কৌশলগত অংশীদারিত্বের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সম্মত হন।
*
SC/SB/DM
(रिलीज़ आईडी: 2283745)
आगंतुक पटल : 6
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें:
English
,
Urdu
,
हिन्दी
,
Marathi
,
Manipuri
,
Assamese
,
Gujarati
,
Odia
,
Tamil
,
Telugu
,
Kannada
,
Malayalam