কৃষিমন্ত্রক
ধরিত্রী রক্ষায় জাতীয় সংকল্প : ১লা জুন রাইসেন থেকে শুরু হচ্ছে ‘ক্ষেত বাঁচাও অভিযান’
প্রকাশিত:
31 MAY 2026 4:12PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ৩১ মে ২০২৬
মধ্যপ্রদেশের রাইসেন জেলার রামসিয়া গ্রাম থেকে ১ জুন শুরু হবে ‘ক্ষেত বাঁচাও অভিযান’-এর জাতীয় সূচনা। এর প্রাক্কালে, কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ এবং গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান আজ কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (কেভিকে), ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (আইসিএআর)-এর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কৃষি আধিকারিক এবং সারা দেশে কৃষকদের কল্যাণে কর্মরত অন্যান্যদের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভা করেন। সেই সভায় তিনি জনঅংশগ্রহণ, একটি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং জাতীয় দায়িত্ববোধের চেতনা নিয়ে এই অভিযানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। শ্রী চৌহান জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদেরও এই অভিযানের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
এই উপলক্ষে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান তাঁর প্রেরণাদায়ক ভাষণে বলেন, এটি কেবল একটি সরকারি কর্মসূচি নয়, এটি একটি জাতীয় অভিযান - যার লক্ষ্য হলো ধরিত্রী মাতাকে রক্ষা করা, কৃষির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের নির্বিচার ও ভারসাম্যহীন ব্যবহার, মাটির স্বাস্থ্যের অবনতি এবং ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট কৃষিক্ষেত্রে গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাই, সঠিক সময়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
শ্রী চৌহান ব্যাখ্যা করেন যে, রাইসেন জেলার রামসিয়া গ্রাম থেকে ১ জুন শুরু হতে চলা দেশব্যাপী ‘ক্ষেত বাঁচাও অভিযান’-এর মূল লক্ষ্য হবে কৃষকদের মধ্যে সারের সুষম ব্যবহার, মাটি পরীক্ষা, ‘সয়েল হেলথ কার্ড’, প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতি, ফসল নির্বাচন, জল সংরক্ষণ, সবুজ সার ব্যবহার, স্বল্প বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতিতে বিকল্প কৃষি পদ্ধতি এবং নকল সার, বীজ ও কীটনাশক শনাক্তকরণ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল উপদেশ দেওয়াই যথেষ্ট হবে না। মাঠপর্যায়ের প্রদর্শনী, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এবং বাস্তবসম্মত উদাহরণের মাধ্যমে কৃষকদের আত্মবিশ্বাসকে সুদৃঢ় করতে হবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী চৌহান বলেন, ৩০ জুন পর্যন্ত বিস্তৃত একটি বিস্তারিত রূপরেখা বা ‘রোডম্যাপ’ সারা দেশজুড়ে প্রস্তুত করা উচিত; যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে যে কোন আধিকারিক, বিজ্ঞানী, প্রতিষ্ঠান বা দল কোন গ্রামে এবং কোন তারিখে পরিদর্শন করবেন। তিনি নির্দেশ দেন যে, জেলা-স্তরের কর্মসূচিগুলো আগেভাগেই পরিকল্পনা করতে হবে; এর তদারকি বা পর্যবেক্ষণ হতে হবে 'ড্যাশবোর্ড-ভিত্তিক'; স্থানীয় স্তরে পর্যাপ্ত ব্যবস্থার নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে এবং এই প্রচারভিযানের প্রতিটি পর্যায়েই যেন কার্যকর সমন্বয় দৃশ্যমান হয়।
রাজ্য কৃষি দপ্তরগুলোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে শ্রী চৌহান বলেন, এই প্রচারভিযান কেবল তখনই সফল হতে পারে, যদি কেন্দ্র সরকার, রাজ্য সরকারগুলি, আইসিএআর, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রগুলি, জনপ্রতিনিধিগণ, শিক্ষার্থী এবং কৃষক-সহায়ক সংগঠনগুলি সমন্বিতভাবে ও একযোগে কাজ করে। তিনি এই প্রচারভিযানে সংসদ সদস্য, বিধায়ক এবং অন্যান্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন এবং তাঁদের প্রাকৃতিক কৃষি ও টেকসই কৃষি পদ্ধতির বাস্তব দৃষ্টান্ত তুলে ধরার জন্য উৎসাহিত করেন।
শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান আরও উল্লেখ করেন যে, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড, প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি, শস্য বিমা যোজনা, মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড, মিনি বীজ কিট, ডাল ও তৈলবীজ মিশন এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণ কর্মসূচির মতো বিভিন্ন প্রকল্পের সুফল যাতে কৃষকদের কাছে পৌঁছায় - তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই প্রচারভিযানটিকে একটি বহুমুখী রূপ দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, এর ফলে কেবল কৃষিজমিই সুরক্ষিত হবে না, বরং কৃষকদের আয়, সচেতনতার স্তর এবং কৃষি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাও শক্তিশালী হবে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রচার ও জনসংযোগের ওপর বিশেষ জোর দেন এবং এগুলিকে এই প্রচারভিযানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এটি একটি জাতীয় স্বার্থ-সম্পর্কিত কর্মসূচি; দেশের গ্রামগঞ্জে যত দ্রুত এর তথ্য পৌঁছে যাবে, এই প্রচারভিযান ততই অধিকতর কার্যকর হয়ে উঠবে। তিনি আধিকারিক ও বিজ্ঞানীদের প্রতি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে মুক্তভাবে মতবিনিময় করার আহ্বান জানান এবং উল্লেখ করেন যে, এই প্রচারভিযানটি দেশের ভূমি, কৃষি এবং জাতির অন্নদাতাদের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত।
শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, অতীতে কৃষি-সম্পর্কিত বিভিন্ন জনসংযোগ উদ্যোগ যেমন সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল, ঠিক তেমনই ‘ক্ষেত বাঁচাও অভিযান’-ও দেশব্যাপী কৃষি সংস্কার ও জনসচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে একটি সফল অধ্যায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকল অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানান - যাতে তাঁরা পূর্ণ নিষ্ঠা, প্রস্তুতি ও সংবেদনশীলতা নিয়ে গ্রামগঞ্জে যান, কৃষকদের সঠিক তথ্য প্রদান করেন এবং ‘ধরিত্রী মাতাকে রক্ষা করার’ সংকল্পকে একটি গণআন্দোলনে রূপান্তরিত করেন। শ্রী চৌহান আরও ঘোষণা করেন যে, এই প্রচারভিযান চলাকালীন তিনি নিজে বিভিন্ন রাজ্যের গ্রামগঞ্জে যাবেন এবং কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন।
এই ভার্চুয়াল মতবিনিময় অনুষ্ঠানে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের সচিব শ্রী আতিশ চন্দ্র এবং আইসিএআর-এর মহাপরিচালক ডঃ এম এল জাট-ও তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেন। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যবৃন্দ, বিজ্ঞানীগণ, আইসিএআর-এর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালকবৃন্দ, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞানীগণ, রাজ্য কৃষি দপ্তরের আধিকারিকবৃন্দ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকগণও বিপুল সংখ্যায় এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
SC/SB/AS
(রিলিজ আইডি: 2267350)
ভিজিটরের কাউন্টার : 2