প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

দিল্লি-দেরাদুন অর্থনৈতিক করিডোরের উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বঙ্গানুবাদ

প্রকাশিত: 14 APR 2026 4:23PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

 

ভারত মাতা কি জয়।

ভারত মাতা কি জয়।

ভারত মাতা কি জয়।

উত্তরাখণ্ডের রাজ্যপাল শ্রী গুরমিত সিং, এখানকার জনপ্রিয় ও পরিশ্রমী তরুণ মুখ্যমন্ত্রী শ্রী পুষ্কর সিং ধামি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আমার সহকর্মী শ্রী নীতিন গড়করি ও শ্রী অজয় টামটা; প্রযুক্তির মাধ্যমে যুক্ত হওয়া উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী যোগী আদিত্যনাথ ও রাজ্যপাল শ্রী আনন্দীবেন; মঞ্চে উপস্থিত দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতী রেখা গুপ্তা ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি শ্রী মহেন্দ্র ভাট; প্রাক্তন রাজ্যপাল শ্রী ভগৎ সিং কোশিয়ারি; প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী—আমার ভাই—শ্রী রমেশ পোখরিয়াল, শ্রী বিজয় বহুগুণা, শ্রী তীরথ সিং রাওয়াত এবং শ্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াত; উত্তরাখণ্ড সরকারের মন্ত্রীরা, সাংসদ ও বিধায়কবৃন্দ; এবং বিপুল সংখ্যায় সমবেত আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা,

দেবভূমি উত্তরাখণ্ডের এই পুণ্যভূমিতে আপনাদের সকলকে জানাই আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম। বিপুল সংখ্যায় সমবেত শ্রদ্ধেয় সাধু-সন্তদেরও জানাই প্রণাম। উত্তরাখণ্ডের প্রিয় ছোট ভাই-বোন, বৌদি ও দিদিরা এবং প্রবীণজনেরা—আপনাদের সকলকে জানাই নমস্কার! আমার প্রিয় বড় ভাই, দিদি এবং দাদু-দিদিমারা—আপনাদের প্রত্যেককে জানাই আমার সশ্রদ্ধ অভিবাদন।

দিল্লি এবং উত্তর প্রদেশের অনেক মানুষও প্রযুক্তির মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন; আমি তাঁদের সকলকে স্বাগত জানাই। প্রথমেই আমি আপনাদের সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি— এখানে পৌঁছাতে আমার এক ঘণ্টারও বেশি দেরি হয়ে গেছে। আপনাদের সকলকে বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। আমি ঠিক সময়েই রওনা দিয়েছিলাম, কিন্তু কালী মন্দির থেকে শুরু করে এখানে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ রোড-শো বা শোভাযাত্রায় মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনা এতটাই প্রবল ছিল যে, দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাই, ধীরে ধীরে মানুষকে অভিবাদন জানাতে জানাতে এবং জনতা জনার্দনের আশীর্বাদ গ্রহণ করতে করতে, এখানে পৌঁছাতে আমার এক ঘণ্টারও বেশি দেরি হয়ে গেছে; আর এই বিলম্বের জন্য আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। এই প্রখর রোদের মধ্যেও ১২ কিলোমিটার জুড়ে মানুষের এই জনসমুদ্র—উত্তরাখণ্ডের মানুষের এই ভালোবাসা, মা ও বোনেদের এই আশীর্বাদ—আজ আমি উত্তরাখণ্ড থেকে এক নতুন শক্তি সঞ্চয় করে ফিরব, আমি এক নতুন অনুপ্রেরণা লাভ করব। আর এর জন্য আমি আমার অন্তরের গভীরতম স্থান থেকে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

বন্ধুগণ,

আজ সারা দেশে উৎসবের আমেজ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন বছরের উদযাপন। আমি দেশবাসীকে বৈশাখী, বোহাগ বিহু এবং পুথান্ডু উৎসবের শুভেচ্ছা জানাই!

বন্ধুগণ,

আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই যমুনোত্রী, গঙ্গোত্রী, বাবা কেদারনাথ এবং বদ্রীনাথ ধামের তীর্থযাত্রা শুরু হতে চলেছে। দেশের কোটি কোটি ভক্ত অত্যন্ত নিষ্ঠা ও ভক্তির সঙ্গে এই পবিত্র সময়ের অপেক্ষায় থাকেন। আমি পঞ্চ বদ্রী, পঞ্চ কেদার, পঞ্চ প্রয়াগ এবং এখানকার অধিষ্ঠাত্রী দেব-দেবীদের প্রতি সশ্রদ্ধ প্রণাম নিবেদন করছি। আমি সন্তলা মাতার চরণেও প্রণাম জানাই। এখানে আসার আগে, মা দাঁত কালীর দর্শন লাভের সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। দেরাদুন শহরের ওপর মা দাঁত কালীর অশেষ কৃপা বর্ষিত হচ্ছে। 'দিল্লি-দেরাদুন অর্থনৈতিক করিডোর'-এর মতো একটি বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে, মা দাঁত কালীর আশীর্বাদ এক অত্যন্ত বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

বন্ধুগণ,

উত্তরাখণ্ড রাজ্য তার প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্ণ করার পাশাপাশি এখন ছাব্বিশতম বছরে পদার্পণ করেছে। আজ দিল্লি-দেরাদুন এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই অগ্রগতির ধারায় আরও একটি বড় সাফল্য যুক্ত হলো। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, বাবা কেদারের দর্শনের পর আমার মুখ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই বেরিয়ে এসেছিল যে—এই শতাব্দীর তৃতীয় দশকটি হবে উত্তরাখণ্ডের দশক। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, 'ডাবল-ইঞ্জিন সরকারের' নীতিসমূহ এবং উত্তরাখণ্ডের জনগণের কঠোর পরিশ্রমের সুবাদে, এই নবীন রাজ্যটি উন্নয়নের নতুন নতুন শিখর স্পর্শ করছে। এই প্রকল্পটি উত্তরাখণ্ডের উন্নয়নের গতিকেও নতুন করে ত্বরান্বিত করবে। এই এক্সপ্রেসওয়ের একটি বিশাল অংশ উত্তরপ্রদেশের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত। এর ফলে গাজিয়াবাদ, বাগপত, বারৌত, শামলি এবং সাহারানপুরের মতো বহু শহরও ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। পর্যটনের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে, এই প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকল্পের জন্য আমি সমগ্র দেশবাসীকে অভিনন্দন জানাই।

বন্ধুগণ,

আজ ডক্টর বাবা সাহেব আম্বেদকরের জন্মবার্ষিকীও বটে। কোটি কোটি দেশবাসীর পক্ষ থেকে আমি বাবা সাহেবের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। বিগত এক দশকে আমাদের সরকার যেসব নীতি প্রণয়ন করেছে এবং যেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, তার মূল লক্ষ্যই ছিল সংবিধানের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা। ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর, আজ ভারতের সংবিধান সমগ্র দেশে সমভাবে প্রযোজ্য। দেশের যেসব জেলায় মাওবাদ বা নকশালবাদের অবসান ঘটেছে—এমন ডজনখানেক জেলায়ও এখন সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালিত হচ্ছে। সমগ্র দেশে একটি 'অভিন্ন দেওয়ানি বিধি' কার্যকর করা হোক—এটাই হলো আমাদের সংবিধানের প্রত্যাশা। উত্তরাখণ্ড সংবিধানের সেই চেতনার পথ ধরে এগিয়ে গিয়ে এবং সেই চেতনাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে সমগ্র দেশের সামনেই এক নতুন দিশা দেখিয়েছে।

বন্ধুরা,

বাবাসাহেবের জীবন দরিদ্র, বঞ্চিত এবং শোষিত মানুষের স্বার্থরক্ষার জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজে উৎসর্গীকৃত ছিল। আজ আমাদের সরকারও সেই একই উদ্দীপনা নিয়ে প্রতিটি দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের কাছে প্রকৃত সামাজিক ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। আর সামাজিক ন্যায়বিচারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো দেশের সুষম উন্নয়ন, সকলের জন্য সুযোগ-সুবিধা এবং সকলের সমৃদ্ধি। ঠিক এই কারণেই বাবাসাহেব আধুনিক পরিকাঠামো এবং শিল্পায়নের পক্ষে জোরালো সওয়াল করতেন।

বন্ধুরা,

ভবিষ্যতের পরিস্থিতি ও গতিপথ কেমন হবে—তা জানতে মানুষ প্রায়শই হাতের রেখার দিকে তাকায় বা হাত দেখিয়ে থাকে। যারা হস্তরেখাবিদ বা জ্যোতিষী, তারা হাতের রেখা বিচার করে প্রতিটি মানুষের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেন। আমি অবশ্য এই শাস্ত্র বা বিদ্যা সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানি না; তবে বলা হয়ে থাকে যে, এটিও এক ধরণের শাস্ত্র। এ তো গেল একজন ব্যক্তির ভাগ্যের কথা—যা তার হাতের রেখায় লিপিবদ্ধ থাকে; কিন্তু এই প্রসঙ্গটিকে যদি আমি জাতীয় জীবনের প্রেক্ষাপটে বিচার করি, তবে একটি জাতির ভাগ্যের রেখাগুলো আসলে কী? একটি জাতির ভাগ্যের রেখাগুলো হলো আমাদের এই রাস্তাঘাট, আমাদের মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, বিমানপথ, রেলপথ এবং জলপথ—এগুলোই হলো আমাদের জাতির ভাগ্যের রেখা। গত এক দশক ধরে আমাদের দেশ একটি উন্নত ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যে উন্নয়নের এই 'ভাগ্য রেখাগুলো' নির্মাণের কাজে নিরলসভাবে নিয়োজিত রয়েছে। উন্নয়নের এই রেখাগুলো কেবল আজকের দিনের সুযোগ-সুবিধাই নয়; বরং এগুলো হলো আগামী প্রজন্মের সমৃদ্ধির নিশ্চয়তা—আর এটাই হলো 'মোদীর গ্যারান্টি'। গত এক দশক ধরে আমাদের সরকার জাতির উন্নয়নের এই রেখাগুলোতে অভূতপূর্ব বিনিয়োগ করে চলেছে। আমি আপনাদের সামনে একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরছি। এইমাত্র নীতিন আপনাদের সামনে কেবল উত্তরাখণ্ড সম্পর্কিত অনেকগুলো পরিসংখ্যান তুলে ধরলেন। দেখুন, ২০১৪ সাল পর্যন্ত—এই ধরণের পরিকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে—সারা দেশে এক বছরে মোট ২ লক্ষ কোটি টাকাও খরচ করা হতো না। আমি সমগ্র ভারতের বাস্তব চিত্রটিই আপনাদের সামনে তুলে ধরছি—তখন এই ব্যয়ের পরিমাণ ২ লক্ষ কোটি টাকাও ছাড়াত না; অথচ আজ সেই ব্যয়ের পরিমাণ ছয় গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ১২ লক্ষ কোটি টাকারও অধিক হয়েছে। আর কেবল উত্তরাখণ্ডেই বর্তমানে ২ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পুরোদমে চলছে। ২০১৪ সালের আগে যেখানে সারা দেশের জন্য বরাদ্দ ছিল ২ লক্ষ কোটি টাকা; সেখানে আজ কেবল উত্তরাখণ্ডের জন্যই বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকা।  একসময় উত্তরাখণ্ডের গ্রামগুলোতে একটি রাস্তার অপেক্ষায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম কেটে যেত। আজ ‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকারের প্রচেষ্টায় রাস্তা এখন গ্রামে গ্রামে পৌঁছে যাচ্ছে; যে গ্রামগুলো একদা জনশূন্য হয়ে পড়েছিল, সেগুলো আবারও প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে। তা সে ‘চারধাম মহাসড়ক’ প্রকল্পই হোক, রেল প্রকল্পের সম্প্রসারণই হোক, কিংবা কেদারনাথ ও হেমকুণ্ড সাহিবের রোপওয়ে—উন্নয়নের এই ধারাগুলো এই অঞ্চলের প্রতিটি প্রান্তে মানুষের জীবনের ভাগ্যরেখায় পরিণত হচ্ছে।

বন্ধুরা,

একবিংশ শতাব্দীর ভারত আজ যে গতি ও পরিসরে কাজ করছে, তা নিয়ে সমগ্র বিশ্বেই আলোচনা চলছে। আমি আপনাদের সামনে উত্তরাখণ্ড, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ এবং দিল্লির উদাহরণ তুলে ধরছি। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই দিল্লি মেট্রোর সম্প্রসারণ করা হয়েছে; মীরাটে মেট্রো পরিষেবা চালু হয়েছে; দিল্লি-মীরাট ‘নমো ভারত রেল’ জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে; নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়েছে; বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সুবিধার কাজ শুরু হয়েছে; আর আজ উদ্বোধন হচ্ছে দেরাদুন-দিল্লি এক্সপ্রেসওয়ের।

বন্ধুরা,

এতটুকু একটি ভৌগোলিক পরিসরে, এত অল্প সময়ের মধ্যে এই সবকিছু ঘটে চলেছে। আপনারা একবার কল্পনা করে দেখুন—দেশজুড়ে ঠিক কত বিশাল পরিসরে পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে! আর ঠিক এই কারণেই আমি বলি—একবিংশ শতাব্দীর ভারত আধুনিক পরিকাঠামোর যে নতুন যুগে প্রবেশ করছে, তা সত্যিই নজিরবিহীন এবং অকল্পনীয়।

বন্ধুরা,

আজ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তকে সংযুক্তকারী বহু ‘অর্থনৈতিক করিডর’ বা অর্থনৈতিক সংযোগপথ নির্মাণের কাজ পুরোদমে চলছে। যেমন—দিল্লি-মুম্বাই শিল্প করিডর, বেঙ্গালুরু-মুম্বাই শিল্প করিডর, পূর্ব উপকূল অর্থনৈতিক করিডর এবং অমৃতসর-কলকাতা শিল্প করিডর—এভাবেই দেশে আরও অনেক অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তোলা হচ্ছে। এই অর্থনৈতিক করিডরগুলো হলো অগ্রগতির নতুন দ্বার, সমৃদ্ধির প্রবেশপথ। আর মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার সুতোটিও এই করিডরগুলোর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে। এই অর্থনৈতিক করিডরগুলো কেবল সড়কপথই তৈরি করে না, বরং নতুন বাণিজ্য ও ব্যবসার জন্যও নতুন নতুন পথ উন্মুক্ত করে দেয়। এগুলি কলকারখানা এবং গুদামঘরের একটি বিশাল নেটওয়ার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে।

বন্ধুরা,

এই সমগ্র অঞ্চলের রূপান্তর বা আমূল পরিবর্তন দেরাদুন-দিল্লি অর্থনৈতিক করিডরের মাধ্যমেই সাধিত হতে চলেছে। এর প্রথম সুফলটি হলো—এর ফলে মানুষের সময় বাঁচবে; যাতায়াত হবে আরও সাশ্রয়ী ও দ্রুতগতির; মানুষের পেট্রোল ও ডিজেলের খরচ কমবে এবং যাতায়াত ভাড়াও হ্রাস পাবে। আর এর দ্বিতীয় বড় সুফলটি হলো—কর্মসংস্থান। এই করিডরটি নির্মাণের কাজে বর্তমানে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার শ্রমিক কাজের সুযোগ পেয়েছেন। এর পাশাপাশি, ইঞ্জিনিয়ার, অন্যান্য দক্ষ কর্মী এবং পরিবহণ ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত অংশীদাররাও বিপুল পরিমাণে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। এখন থেকে কৃষক ও পশুপালকদের উৎপাদিত পণ্য অত্যন্ত দ্রুতগতিতে দেশের বড় বড় মান্ডি এবং বৃহৎ বাজারগুলোতে পৌঁছে যাবে।

বন্ধুগণ,

এই চমৎকার এক্সপ্রেসওয়েটির ফলে উত্তরাখণ্ডের পর্যটন শিল্প ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। দেরাদুন, হরিদ্বার, ঋষিকেশ, মুসৌরি এবং চারধাম যাত্রার জন্য এটিই হয়ে উঠবে সবচেয়ে প্রধান পথ। আর আমরা সবাই জানি, যখন পর্যটনের বিকাশ ঘটে, তখন কমবেশি সবারই কিছু না কিছু রোজগার হয়। তা সে হোটেল মালিক হোন, ধাবা মালিক হোন, ট্যাক্সি বা অটোচালক হোন, কিংবা হোমস্টে-র মালিক—সবাই এর সুফল ভোগ করেন।

বন্ধুগণ,

আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, আজ উত্তরাখণ্ড শীতকালীন পর্যটন, শীতকালীন খেলাধুলা এবং 'Wed in India'—অর্থাৎ বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে উঠছে।

বন্ধুগণ,

উত্তরাখণ্ডের অর্থনীতির জন্য সারা বছর ধরে চলা পর্যটন ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। আর ঠিক এই কারণেই, শীতকালে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় যাত্রাগুলোর বিষয়ে আমি বরাবরই অত্যন্ত জোর দিয়ে এসেছি। আমি দেখে আনন্দিত যে, প্রতি বছরই এই যাত্রাগুলোতে অংশগ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, ২০২৩ সালে আমি আদি কৈলাস এবং ওম পর্বতের তীর্থযাত্রায় গিয়েছিলাম। আগে আমি প্রায়ই সেখানে যেতাম; মাঝখানে বেশ কিছুদিন যাওয়া হয়ে ওঠেনি, দীর্ঘ বিরতির পর আমি আবার সেখানে গিয়েছিলাম। মুখ্যমন্ত্রী আমাকে বলছিলেন—মাঝখানে রাজ্যপাল মহোদয়ও এসেছিলেন, তিনিও একই কথা বলছিলেন যে, ২০২৩ সালে আমার সেই সফরের পর থেকে এখন বিপুল সংখ্যক ভক্ত সেখানে তীর্থযাত্রায় যাচ্ছেন। আগে শীতকালে সেখানে তীর্থযাত্রার জন্য মাত্র কয়েকশ মানুষ যেতেন। অথচ ২০২৫ সালে, এই পবিত্র স্থানগুলোতে প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ তীর্থভ্রমণ করেছেন। একসময় তো এই সংখ্যাটা এক হাজারও ছাড়াত না; সেখানে এখন যদি ৪০ হাজার মানুষ পৌঁছান, তবে এখানকার স্থানীয় মানুষদের জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে তা কতটা বড় শক্তি ও ভরসা জোগায়, তা সহজেই অনুমেয়। একইভাবে, ২০২৪ সালের শীতকালীন চারধাম যাত্রায় প্রায় ৮০ হাজার ভক্ত সমবেত হয়েছিলেন। আর ২০২৫ সালে, এই সংখ্যাটি বেড়ে দেড় লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে।

বন্ধুগণ,

আমরা এমন একটি উন্নত ভারত গড়ে তোলার কাজে নিয়োজিত, যেখানে প্রগতি, প্রকৃতি এবং সংস্কৃতি—এই তিনেরই সার্থক মেলবন্ধন থাকবে। আর ঠিক এই কারণেই, বর্তমানে যত নির্মাণকাজ বা পরিকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে, তার প্রতিটিই 'ত্রিবেণী'—অর্থাৎ প্রগতি, প্রকৃতি এবং সংস্কৃতির মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে তোলা হচ্ছে। পরিকাঠামোর মাধ্যমে মানুষের জন্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হবে, একই সঙ্গে সেখানে বসবাসকারী বন্যপ্রাণীদের যেন কোনো অসুবিধা না হয়—তাও দেখতে হবে। আর ঠিক এই কারণেই এই এক্সপ্রেসওয়েতে প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি এলিভেটেড বন্যপ্রাণী করিডোরও নির্মাণ করা হয়েছে। যাতে হাতিদেরও কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা হয়েছে।

বন্ধুরা,

আজ আমি সারা দেশের পর্যটক এবং তীর্থযাত্রীদের কাছে একটি বিশেষ আবেদন জানাতে চাই। আমাদের এই পর্বতমালা, এই অরণ্যভূমি এবং এই 'দেবভূমি'-র ঐতিহ্য—এগুলি অত্যন্ত পবিত্র স্থান। এই স্থানগুলিকে পরিচ্ছন্ন ও নির্মল রাখা আমাদের সকলেরই কর্তব্য—তা সে এখানকার স্থানীয় বাসিন্দা হোন কিংবা দূর থেকে আগত পর্যটক। এই অঞ্চলগুলিতে প্লাস্টিকের বোতল কিংবা আবর্জনার স্তূপ জমে ওঠা 'দেবভূমি'-র পবিত্রতাকে ক্ষুণ্ণ করে। আমরা যেন 'দেবভূমি'-র এই স্থানগুলিকে—আমাদের এই পবিত্র তীর্থক্ষেত্রগুলিকে—পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখি।

বন্ধুরা,

আগামী বছর হরিদ্বারে 'কুম্ভমেলা'-রও আয়োজন করা হবে। শ্রদ্ধার এই মহামিলন ক্ষেত্রটিকে দিব্য, বিশাল এবং পরিচ্ছন্ন করে তোলার লক্ষ্যে আমাদের প্রয়াসের কোনো ত্রুটি রাখা চলবে না।

বন্ধুরা,

উত্তরাখণ্ডে 'নন্দা দেবী রাজ জাত যাত্রা'-ও অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এটি কেবল একটি শ্রদ্ধাপূর্ণ উৎসবই নয়, আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনার এক জীবন্ত নিদর্শনও বটে। এই যাত্রায় মা নন্দাকে কন্যারূপে গণ্য করা হয় এবং পূর্ণ শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে তাঁকে বিদায় জানানো হয়। এই যাত্রায় আমাদের বোন ও কন্যাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এটিকে আরও বিশেষ করে তোলে। মা নন্দার চরণে প্রণাম জানিয়ে, আমি সারা দেশের বোন ও কন্যাদের উদ্দেশেও একটি বিশেষ বার্তা দিতে চাই। একটি উন্নত ভারত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি দেখছি যে, এই দেশের কন্যাদের, এই দেশের মায়েদের এবং বোনেদের ভূমিকা ক্রমশই অত্যন্ত বড় হয়ে উঠছে। আর আমাদের বোন ও কন্যাদের সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা—এই 'ডাবল-ইঞ্জিন সরকার'-এর কাছে এক অত্যন্ত বড় অগ্রাধিকার। আপনারা তো এখনই দেখছেন, সারা বিশ্বে বর্তমানে কী এক বিশাল সংকট নেমে এসেছে। এমনকি বিশ্বের উন্নত দেশগুলিতেও এই সংকটের কারণে কী প্রবল হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও আমাদের বোনেদের যাতে ন্যূনতম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়—তা নিশ্চিত করাই সরকারের নিরন্তর প্রচেষ্টা।

বন্ধুরা,

বোন ও কন্যাদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এখন দেশের সামনে উপস্থিত। চার দশকের অপেক্ষার পর, সংসদ 'নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম' পাস করেছে। এর মাধ্যমে বিধানসভা এবং লোকসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হয়েছে। সমস্ত রাজনৈতিক দল এগিয়ে এসে এই গুরুত্বপূর্ণ আইনটিকে সমর্থন জানিয়েছে। এখন যেহেতু মহিলারা এই অধিকারটি পেয়েছেন, তাই এটি বাস্তবায়নে আর কোনো বিলম্ব হওয়া উচিত নয়। এখনই এটি কার্যকর করা প্রয়োজন। ২০২৯ সালে যে লোকসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—ঠিক তখন থেকেই—এবং এরপর যেসব বিধানসভা নির্বাচন আসবে—যে নির্বাচনই আসুক না কেন—২০২৯ সাল থেকেই এই আইনটি কার্যকর করা উচিত। এটিই দেশের জনভাবনা; দেশের প্রতিটি বোন ও কন্যার একান্ত ইচ্ছা এটিই। এই 'মাতৃশক্তির' ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে, ১৬ এপ্রিল থেকে সংসদে একটি বিশেষ আলোচনার দিন ধার্য করা হয়েছে। সমস্ত রাজনৈতিক দলের উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে ও সর্বসম্মতিক্রমে দেশের বোন ও কন্যাদের অধিকার সংক্রান্ত এই কাজটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং তা সম্পন্ন করা। আজ আমি দেশের সমস্ত বোনের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছি; সম্ভবত আমার এই চিঠিটি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আপনাদের কাছে পৌঁছে গেছে; এও সম্ভব যে, টিভি ও সংবাদপত্রের সংবাদকর্মীরাও হয়তো এই চিঠিটির কথা উল্লেখ করছেন। আমি দেশের মা ও বোনদের অত্যন্ত জোরের সঙ্গে আহ্বান জানিয়েছি, যাতে তাঁরা এই মহৎ কাজে সক্রিয় অংশীদার হন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, আমার দেশের মা ও বোনেরা অবশ্যই এই চিঠিটি পড়বেন। তাঁরা চিঠির প্রতিটি শব্দ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবেন এবং এমন একটি বিশাল ও পবিত্র কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে, ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল সংসদে উপস্থিত হতে চলা সাংসদদের তাঁরা তাঁদের আশীর্বাদ প্রদান করবেন। আজ এই 'দেবভূমি' থেকে, আমি আবারও দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলের কাছে আবেদন জানাচ্ছি—আপনারা অবশ্যই 'নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম'-এর সংশোধনীটিকে সমর্থন করুন। ২০২৯ সালে—আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ—অর্থাৎ আমাদের মা, বোন ও কন্যারা—আসুন, আমরা তাঁদের প্রাপ্য অধিকারটি তাঁদের হাতে তুলে দিই।

বন্ধুরা,

উত্তরাখণ্ডে এসে সেনাবাহিনী প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা না করলে, আমার এই সফর বা আলোচনা অসম্পূর্ণই থেকে যায়। এই 'গড়হি ক্যান্টনমেন্ট' এবং আমাদের এই সভার স্থানটি—উত্তরাখণ্ডের গৌরবোজ্জ্বল সামরিক ঐতিহ্যেরই এক জীবন্ত প্রমাণ।  এখানকার অদূরেই দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত বহু প্রতিষ্ঠান অবস্থিত; ১৯৬২ সালের যুদ্ধে শহীদ যশবন্ত সিং রাওয়াতের বীরত্ব দেশ কখনোই ভুলতে পারবে না।

বন্ধুগণ,

সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিই হোক, কিংবা আমাদের সৈনিক পরিবারগুলোর সুযোগ-সুবিধা ও সম্মান নিশ্চিত করাই হোক—আমাদের সরকার নিরন্তর সেই লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। ‘এক পদ এক পেনশন’ প্রকল্পের মাধ্যমে, আমাদের সরকার এ পর্যন্ত প্রাক্তন সৈনিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় সোয়া এক লক্ষ কোটি টাকা জমা করেছে। উত্তরাখণ্ডের হাজার হাজার পরিবার এই সুবিধা লাভ করেছে। এছাড়া, এই বছর প্রাক্তন সৈনিকদের জন্য নির্ধারিত স্বাস্থ্য প্রকল্পের বাজেটও ছত্রিশ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাক্তন সৈনিকদের জন্য বাড়িতে বসেই ওষুধ পাওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রাক্তন সৈনিকদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য প্রদত্ত অনুদান দ্বিগুণ করা হয়েছে। কন্যাদের বিবাহের জন্য আর্থিক সহায়তাও ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লক্ষ টাকা করা হয়েছে।

বন্ধুগণ,

দেশপ্রেম, ঈশ্বরভক্তি এবং প্রগতির মতো প্রতিটি মাত্রাকে একসূত্রে গেঁথে আমাদের দেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে। দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশের জনগণকে—এবং সমগ্র দেশবাসীকে—এই চমৎকার এক্সপ্রেসওয়ের জন্য আমি আবারও জানাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

আমার সঙ্গে সমস্বরে বলুন—

ভারত মাতা কি জয়!

ভারত মাতা কি জয়!

বন্দে মাতরম!

বন্দে মাতরম!

বন্দে মাতরম!

বন্দে মাতরম!

বন্দে মাতরম!

বন্দে মাতরম!

বন্দে মাতরম!

অনেক অনেক ধন্যবাদ!


এটি প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার একটি আনুমানিক অনুবাদ। মূল বক্তৃতাটি হিন্দিতে দেওয়া হয়েছিল।


SC/SD/SKD


(রিলিজ আইডি: 2252170) ভিজিটরের কাউন্টার : 13