পেট্রোলিয়ামওপ্রাকৃতিকগ্যাসমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

পশ্চিম এশিয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রকের সাংবাদিক বৈঠক

প্রকাশিত: 07 APR 2026 5:41PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ৭ এপ্রিল ২০২৬ 

 

পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে ভারত সরকার আজ 'ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টার'-এ একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস; বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ; এবং বিদেশ – এই মন্ত্রকগুলির প্রতিনিধিরা জ্বালানির প্রাপ্যতা, সামুদ্রিক কার্যকলাপ এবং ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। পাশাপাশি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যে সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সে সম্পর্কেও তাঁরা জানান।

 

 এলপিজি গ্রাহকদের অনুরোধ করা হচ্ছে, তাঁরা যেন বুকিংয়ের জন্য ডিজিটাল মাধ্যমগুলো ব্যবহার করেন এবং সরাসরি ডিস্ট্রিবিউটর বা পরিবেশকদের কার্যালয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকেন।

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে সমস্ত নাগরিকের কাছে জ্বালানি সাশ্রয় করার জন্য বিশেষ আবেদন জানানো হয়েছে।

 

সরকার ইতিমধ্যেই সরবরাহ ও চাহিদা - উভয় ক্ষেত্রেই বেশ কিছু যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, শোধনাগারগুলির উৎপাদন বৃদ্ধি, এলপিজি বুকিংয়ের মধ্যবর্তী সময়সীমা শহরাঞ্চলে ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন এবং গ্রামাঞ্চলে ৪৫ দিন পর্যন্ত নির্ধারণ, এবং সরবরাহের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার প্রদান।

 

 ০৬.০৪.২০২৬ তারিখে (পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের সচিবের পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার এবং উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের সচিবদের উপস্থিতিতে) দুটি বৈঠক হয়।

 

জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রতিদিনের তদারকি ও অভিযানকে আরও জোরদার করা এবং তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়মিত তল্লাশি ও পরিদর্শন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। 

 

মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল কন্ট্রোল রুম এবং জেলা পর্যায়ের তদারকি কমিটি গঠন করেছে

 

এলপিজি-এর মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে দেশজুড়ে অভিযানঅব্যাহত রয়েছে। গতকাল সারা দেশে ৪,৩০০-এরও বেশি স্থানে অভিযান চালিয়ে ১,২০০-এরও বেশি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়।

 

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি আকস্মিক পরিদর্শন জোরদার করেছে; এর অংশ হিসেবে তারা ১,৭০০-এরও বেশি শো-কজ নোটিশ জারি করা হয়েছে। ১৬৮টি এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরশিপের ওপর জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। 

 

 শিল্পক্ষেত্রে অনলাইনে এলপিজি বুকিংয়ের হার বেড়ে প্রায় ৯৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

এলপিজি-র অবৈধ পাচার বা অপব্যবহার আটকাতে 'ডেলিভারি অথেন্টিকেশন কোড' (ডিএসি)-ভিত্তিক সরবরাহের হার বেড়ে প্রায় ৯০ শতাংশ হয়েছে।

 

ভারত সরকার ০৬.০৪.২০২৬ তারিখের একটি চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছে যে, প্রতিটি রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণের জন্য ৫ কেজি ওজনের এফটিএল সিলিন্ডারের দৈনিক পরিমাণ দ্বিগুণ করা হচ্ছে। 

 

২৩ মার্চ ২০২৬ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৭.৮ লক্ষ ৫ কেজি ওজনের 'ফ্রি ট্রেড এলপিজি' সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে।

 

০৬.০৪.২০২৬ তারিখে, সারা দেশে ১.০৬ লক্ষেরও বেশি ৫ কেজির এফটিএল সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে; যেখানে ফেব্রুয়ারি মাসে দৈনিক বিক্রির গড় ছিল ৭৭,০০০টি।

 

১৪ মার্চ ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৮৬,৪৩৯ মেট্রিক টন বাণিজ্যিক এলপিজি (যা ৪৫.৫ লক্ষেরও বেশি ১৯ কেজির সিলিন্ডারের সমতুল্য) বিক্রি হয়েছে। গতকাল, ৬৫৩০ মেট্রিক টন বাণিজ্যিক এলপিজি (যা ৩.৪ লক্ষেরও বেশি ১৯ কেজির সিলিন্ডারের সমান) বিক্রি হয়েছে।

 

৬ এপ্রিল ২০২৬ থেকে সার কারখানাগুলির সামগ্রিক গ্যাস বরাদ্দ বাড়িয়ে তাদের গত ছয় মাসের গড় ব্যবহারের প্রায় ৯০ শতাংশে উন্নীত করার ফলে বর্তমানে চালু থাকা ইউরিয়া কারখানাগুলিতে গ্যাসের সরবরাহ তাদের গত ছয় মাসের গড় ব্যবহারের প্রায় ৮০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

 

পিএনজি সম্প্রসারণের গতি অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে, পিএনজিআরবি 'ন্যাশনাল পিএনজি ড্রাইভ ২.০'-এর মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে।

 

 মার্চ ২০২৬ থেকে, প্রায় ৩.৭৬ লক্ষ পিএনজি সংযোগে গ্যাস সরবরাহ চালু করা হয়েছে এবং প্রায় ৪.১ লক্ষ অতিরিক্ত গ্রাহক নতুন সংযোগের জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন।

 

সমস্ত শোধনাগার পূর্ণ ক্ষমতায় এবং পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের মজুত নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে; পাশাপাশি পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুতও বজায় রাখা হচ্ছে।

 

পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরা মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে এবং বিক্রয় কেন্দ্রগুলিতে এর দামে কোনও বৃদ্ধি ঘটেনি।

 

নিয়মিত বরাদ্দের অতিরিক্ত হিসেবে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য ৪৮,০০০ কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ করা হয়েছে।

 

১৮টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এসকেও বরাদ্দের আদেশ জারি করেছে; অন্যদিকে, হিমাচল প্রদেশ ও লাদাখ তাদের কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই বলে জানিয়েছে।

 

উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত সব ভারতীয় নাবিক নিরাপদ রয়েছেন এবং গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারতীয় পতাকাবাহী কোনও জাহাজে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

 

বর্তমানে পশ্চিম পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ৪৩৩ জন ভারতীয় নাবিকসহ ১৬টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ অবস্থান করছে। 

 

 ডিজি শিপিং এখন পর্যন্ত ১,৬৯১ জনেরও বেশি ভারতীয় নাবিকের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের (স্বদেশে ফিরে আসার) ব্যবস্থা করেছে; এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও স্থান থেকে ৯২ জন নাবিককে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

 

বিদেশ মন্ত্রক উপসাগরীয় এবং পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের ঘটনাবলির ওপর নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রেখেছে; এক্ষেত্রে ভারতীয়দের নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

এই অঞ্চলে অবস্থানরত ভারতীয় নাবিকদের মিশনগুলি সহায়তা প্রদান করছে; এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় সাধন, কনস্যুলার সহায়তা প্রদান এবং ভারতে ফিরে আসার আবেদনগুলির প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করা।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই পর্যন্ত, ওই অঞ্চল থেকে প্রায় ৭,৬০,০০০ যাত্রী ভারতে ফিরে এসেছেন।

 

কুয়েতের আকাশপথ বন্ধ রয়েছে; এই অস্থায় জজিরা এয়ারওয়েজ এবং কুয়েত এয়ারওয়েজ সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দর থেকে ভারতে অনিয়মিত ফ্লাইট চলাচল চালু রেখেছে। 

 

তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ১,৮৬২ জন ভারতীয় নাগরিককে ইরান থেকে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান হয়ে ভারতে ফিরে আসার ব্যবস্থা করে দিয়েছে; এই নাগরিকদের মধ্যে ৯৩৫ জন ভারতীয় শিক্ষার্থী রয়েছেন।

 

 

 

SC/MP/AS


(রিলিজ আইডি: 2249908) ভিজিটরের কাউন্টার : 6