পেট্রোলিয়ামওপ্রাকৃতিকগ্যাসমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

পশ্চিম এশিয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রক সাংবাদিক সম্মেলন

প্রকাশিত: 30 MAR 2026 5:27PM by PIB Kolkata

 

নয়াদিল্লি, ৩০ মার্চ ২০২৬

 

 

পশ্চিম এশিয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে আজও আন্তঃমন্ত্রক পর্যায়ে বিবৃতি দেওয়া হল। সেখানে ছিলেন পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস, বন্দর-জাহাজ চলাচল-জলপথ এবং বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকরা। 

 

জানানো হয়েছে, সারের সরবরাহ ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত রাখতে সরকার একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে। দেশের সার আমদানির মধ্যে ২০-৩০ শতাংশ ইউরিয়া এবং ৩০ শতাংশ ডিএপি আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। এলএনজি আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশ হয় ওই এলাকাটি থেকে। তাছাড়া আসে সারের বিভিন্ন রকমের কাঁচামাল, যেমন অ্যামোনিয়া, সালফার, সালফিউরিক অ্যাসিড ইত্যাদি। এলএনজি সহ এইসব উপাদানের দাম সারা বিশ্বেই অনেকটা বেড়ে গেছে। দেশজ ইউরিয়া উৎপাদনেও কিছুটা প্রভাব পড়েছে পশ্চিম এশিয়ায় পরিস্থিতি জেরে। হিসেব অনুযায়ী ২০২৬-এর খরিফ মরশুমে সারের চাহিদা দাঁড়াবে ৩৯০ লক্ষ টনে। গত বছরের তুলনায় এ বছর মজুতের পরিমাণ বেশি- ১৮০ লক্ষ টন। আগেরবার পরিমাণটি ছিল ১৪৭ লক্ষ টন। ইউরিয়া উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে গ্যাসের সরবরাহ প্রথমে কমিয়ে ৬০ শতাংশ করা হলেও পরে তা বাড়িয়ে ৭৫-৮০ শতাংশ করা হয়েছে। এরফলে দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদনের পরিমান ১২০০০ থেকে ১৫০০০ টন বেড়েছে। ইউরিয়া সারের উৎপাদন মার্চে দাঁড়িয়েছে ১৮ লক্ষ টন। ফসফেট এবং পটাশিয়াম সারের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৯-১০ লক্ষ টন। আগের বছরের মার্চে এই পরিমাণ ছিল ২৪.৭৮ এলএমটি এবং ১১.৯০ এলএমটি। সার উৎপাদক সংস্থাগুলিকে পর্যাপ্ত সালফার সরবরাহের জন্য তেল শোধনাগারগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সারের সরবরাহের দিকে লক্ষ্য রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি কর্মীগোষ্ঠী গড়েছে সরকার। আমদানির বিকল্প উৎস খোঁজা হচ্ছে। 

 

আতঙ্কিত হয়ে সার কেনার প্রবণতা রুখতে রাজ্যগুলিকে উদ্যোগী হতে বলেছে কেন্দ্র। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সার মন্ত্রী ২৬ মার্চ বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে দেশে সব ধরনের সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট শুরু হওয়ার আগে কৃষকদের যে দামে সার সরবরাহ করা হত, এখনও সেই দামেই তা সরবরাহ করা হচ্ছে। 

 

পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক দেশে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়েও বিস্তারিত জানিয়েছে। দেশের সব শোধনাগার পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে। পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত এলপিজি-র উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। খুচরো বিপণন কেন্দ্রগুলি স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছে। পেট্রোল এবং ডিজেলে অন্তঃশুল্ক কমানোর পাশাপাশি সরকার ডিজেল রপ্তানির ওপর প্রতি লিটার ২১ টাকা ৫ পয়সা লেভি বসিয়েছে। বিমানে ব্যবহার্য জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রে লিটার প্রতি ২৯ টাকা ৫ পয়সা লেভি বসানো হয়েছে। অনেক জায়গাতে আতঙ্কিত হয়ে পেট্রোল ও ডিজেল কেনার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। গুজব প্রতিরোধ করতে রাজ্যগুলিকে অনুরোধ করেছে কেন্দ্র। সিএনজি এবং পিএনজি সরবরাহ অক্ষুন্ন রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। এলপিজি সরবরাহ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ দেখা গেলেও ডিস্ট্রিবিউটারদের কাছে মজুত ফুরিয়ে গেছে এমন খবর মেলেনি। রাজ্যগুলির জন্য অতিরিক্ত কেরোসিনের ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্র। জ্বালানির মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে রাজ্যগুলিকে উদ্যোগী হতে বলা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ২,৫০০টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ২০০০-এরও বেশি গ্যাস সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। 

 

বন্দর, জাহাজ চলাচল, জলপথ মন্ত্রক জানিয়েছে উপসাগরীয় এলাকায় থাকা ভারতীয় জাহাজগুলির নাবিকরা নিরাপদে রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় কোনও অনভিপ্রেত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পশ্চিম পারস্য উপসাগরে বর্তমানে ভারতের পতাকা লাগানো ১৮টি জাহাজ রয়েছে। তাতে নাবিক রয়েছেন ৮৫ জন। ৭২ ঘন্টা আগে সেখানে ছিল ভারতের পতাকা লাগানো ২০টি জাহাজ। নাবিক ছিলেন ৫৪০ জন। সেখান থেকে ভারতীয় জাহাজ এবং নাবিকদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলেছে ধারাবাহিকভাবে। 

 

বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কথা বলে চলেছেন। ওই অঞ্চলের ভারতীয় দূতাবাসগুলি সেখানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার দিকে সতর্ক নজর রেখে চলেছে। এখনও পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে ৮ জন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। ১ জন নিঁখোজ। 

 

 

SC/AC/NS…


(রিলিজ আইডি: 2247131) ভিজিটরের কাউন্টার : 7
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , Marathi , हिन्दी , Assamese , Gujarati , Telugu , Kannada , Malayalam