লিখিত নয়, স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিভা: বিধু বিনোদ চোপড়ার হাস্যরস, জ্ঞান এবং চলচ্চিত্র-বিস্ময়ে ইফি আলোকিত হলো
গল্পের ধারা বইল, আর দর্শক হাসলেন ও প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন
প্রাণবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে কামনা চন্দ্র নিজের জীবনের পথ তুলে ধরলেন
#IFFIWood, ২২ নভেম্বর ২০২৫
ইফিতে "Unscripted - The Art and Emotion of Filmmaking" শীর্ষক ‘ইন কনভারসেশন’ সেশনটি আজ কলা আকাডেমিকে একটি ফিল্ম সেটে পরিণত করেছিল। বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক বিধু বিনোদ চোপড়া প্রশংসিত চিত্রনাট্যকার অভিজাত যোশীর সঙ্গে একটি খোলামেলা কথোপকথনে মঞ্চে আসার সঙ্গে সঙ্গেই এক অবিস্মরণীয় সিনেমাটিক উদযাপন উন্মোচিত হয়। এই কথোপকথনটি দর্শকদের এমনভাবে ধরে রেখেছিল, যা সাধারণত শুক্রবার মুক্তিপ্রাপ্ত ব্লকবাস্টার ছবির জন্য সংরক্ষিত থাকে।
অনুষ্ঠানটি সংবর্ধনা দিয়ে শুরু হয়, যখন যুগ্ম সচিব (চলচ্চিত্র) ড. অজয় নাগভূষণ এমএন, চোপড়া এবং যোশীকে সম্মানিত করেন, এরপর বিশিষ্ট চলচ্চিত্র প্রযোজক শ্রী রবি কোটারাক্কারা দুজনকে শাল পরিয়ে দেন। ড. অজয় আশা প্রকাশ করেন যে চোপড়া তাঁর নিজের সততার সঙ্গে তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের পথ দেখানো চালিয়ে যাবেন। রবি, চোপড়ার ' পরিন্দা ' ছবিটিকে "গেম-চেঞ্জিং ছবি" হিসাবে প্রশংসা করেন, যা ভারতীয় সিনেমাকে নতুন করে লিখেছিল।
একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা তাঁর আত্মসত্তা থেকে সৃষ্টি করেন
কথোপকথনের শুরুতে অভিজাত যোশী বিধু বিনোদ চোপড়ার সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাতের দিনটির কথা স্মরণ করেন, যা একটি নভেম্বর মাসের দিন এবং তাঁর স্পষ্ট মনে আছে - এই মুহূর্তটিই শেষ পর্যন্ত ‘লাগে রাহো মুন্না ভাই’ এবং ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর মতো চলচ্চিত্রগুলিকে আকার দিয়েছিল। এরপর তিনি চোপড়াকে জিজ্ঞাসা করেন যে তাঁর শৈলী ‘পারিন্দা’ থেকে ‘টুয়েল্ভথ ফেল’ পর্যন্ত বিবর্তিত হয়েছে কিনা। চোপড়ার উত্তরটি ছিল যতটা অকপট, ততটাই ইঙ্গিতপূর্ণ।
তিনি বলেন, “প্রত্যেকটি ছবিই সেই সময়ে আমি কেমন ছিলাম, তা প্রতিফলিত করে। 'পারিন্দা’ যখন বানিয়েছিলাম, তখন আমি রাগী ছিলাম। সেই রাগ বা হিংসা ছবিতে দেখতে পাবেন। আজ আমি শান্ত।”
তিনি আরও যোগ করেন যে তাঁর চারপাশে দুর্নীতি দেখতে পেয়েই ‘টুয়েল্ভথ ফেল’ ছবিটি তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, “পরিবর্তনের জন্য সৎ হওয়া যাক - এই কথা বলার জন্যই ছবিটি ছিল আমার মাধ্যম। যদি আমি আমলাতন্ত্রের ১ শতাংশও পরিবর্তন করতে পারি, সেটাই যথেষ্ট।” তিনি আরও জানান যে, ‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’ ছবিটির নতুন পুনরুদ্ধার করা 8K সংস্করণটি দেখে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, এটি এমন একটি ছবি যা তিনি আজ তৈরি করতে পারবেন না, কারণ তিনি আর সেই আগের মানুষটি নেই।
দৃঢ় বিশ্বাসের সিনেমা
যোশী দৃঢ়ভাবে বলেন যে চোপড়ার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল তাঁর নিজের বিশ্বাসের প্রতি অবিচল আনুগত্য। তিনি বলেন, “তিনি কখনোই কোনো ছবির বাণিজ্যিক ভাগ্য নিয়ে চিন্তা করেন না, তিনি শুধুমাত্র এর শৈল্পিক মূল্যের কদর করেন,” - এই কথা বলে তিনি কথোপকথনটি ‘পারিন্দা’ এবং ‘টুয়েল্ভথ ফেল’-এর পেছনের সৃজনশীল প্রক্রিয়াগুলির দিকে নিয়ে যান।
তিনি প্রস্তুতি, দূরদর্শিতা এবং দৃশ্যের সত্যতার অনুসন্ধান নিয়ে আবেগপূর্ণভাবে কথা বলেন। তিনি ‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’-র একটি বিখ্যাত শট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং শ্রোতাদের উল্লাসের মধ্যে প্রাণ ঢেলে গানটি গেয়েও শোনান। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে পাহাড়ের চূড়া জুড়ে আসল পাখি উড়তে হবে, এবং তাঁর দল কীভাবে সেই দৃশ্য ধারণের জন্য রুটির টুকরা ছড়িয়েছিল, তা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, গতকাল 8K-তে সেই দৃশ্যটি দেখে “আনন্দ হয়েছিল।”
যেসব গল্পে হল হাসির বন্যায় ভেসেছিল
এরপর হাসি-ঠাট্টা এবং আন্তরিক স্মৃতির স্রোত বইল। চোপড়া স্মরণ করেন যে তিনি একটি ছোট এক-কামরার ফ্ল্যাটে ‘খামোশ’ লিখতেন, যেখানে তিনি ছাদ থেকে চিৎকার করে ডায়লগ বলতেন এবং “কাট, কাট!” বলে প্রতিবেশীদের ভয় পাইয়ে দিতেন। যোশী নিশ্চিত করে বলেন: “বিধু যখন কোনো ছবি নির্মাণের কথা ভাবেন, তখন তিনি শিশুর মতো উত্তেজিত হতে পারেন।”
দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় অন্য একটি গল্প ছিল অভিনেতা জ্যাকি শ্রফের সম্পর্কে - তিনি রিহার্সালের সময় ভুল করে অন্য একটি অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে পড়েন, এক হতচকিত মহিলাকে জাগিয়ে তোলেন এবং তাঁকে ফুল দেন। চোপড়া হেসে বলেন, “সেই মহিলা সবাইকে বলেছিলেন যে তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন জ্যাকি শ্রফ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।”
সঙ্গীত, উন্মাদনা, জাদু
'১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে চোপড়া আর. ডি. বর্মণের সঙ্গে কাজ করার তাঁর প্রবল সংকল্পের কথা বলেন, যদিও অনেকে দাবি করেছিল যে বর্মণের সময় শেষ হয়ে গেছে। বর্মণ যখন প্রথম সুরগুলি পেশ করেন, চোপড়া সেগুলি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, “আমি এটিকে বাজে বলেছিলাম। আমি এস. ডি. বর্মণের আত্মা চেয়েছিলাম।” কয়েক সপ্তাহ পরে “কুছ না কহো” গানটি আসে। তিনি মঞ্চে সুরটি গেয়ে শোনান এবং প্রবল করতালি পান। তিনি ঠাট্টা করে বলেন, “শুধুমাত্র আমার ওই একটি শব্দের জন্যই এই গানটির জন্ম।”
তিনি তাঁর বিখ্যাত জাতীয় পুরস্কারের গল্পটিও আবার বলেন। তিনি জানান, পুরস্কারের পাশাপাশি তিনি ৪,০০০ টাকা নগদ আশা করেছিলেন, কিন্তু পরিবর্তে পান আট বছরের একটি পোস্টাল বন্ড। এল. কে. আডবাণীর সঙ্গে তাঁর তর্কের সেই হাস্যকর পুনর্নির্মাণ হলকে হাসির গর্জনে ভরিয়ে তুলেছিল। তিনি আডবাণীর পরবর্তী সহায়তার কথাও স্বীকার করেন, যার মধ্যে অস্কারে যোগ দিতে সাহায্য করাও ছিল।
ক্লাসিকগুলির নেপথ্যের কণ্ঠস্বরও যোগ দেয়
এক আন্তরিক মুহূর্তে, ‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’-র ৯২ বছর বয়সী লেখক এবং চোপড়ার শাশুড়ি কামনা চন্দ্র, প্রযোজক যোগেশ ঈশ্বরকে সঙ্গে নিয়ে কথোপকথনে যোগ দেন। কামনা প্রতিটি ডায়লগ নিয়ে কঠোর পরিশ্রমের কথা বলেন এবং পুনরুদ্ধার করা সংস্করণটি দেখে তাঁর যে আবেগ হয়েছিল, সে সম্পর্কে বলেন। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়েছিল, আমি জীবনে কিছু একটা করেছি।”
যোগেশ ইতালিতে যত্ন সহকারে করা 8K পুনরুদ্ধারের সেই যাত্রার বিবরণ দেন, যেখানে ফ্রেম বাই ফ্রেম ছবিটি পরিষ্কার করা হয়েছিল এবং এর শব্দকে রিমাস্টার করা হয়েছিল। চোপড়া বলেন যে পুনরুদ্ধার করা সংস্করণটি “ঠিক যেমনটি আমি কল্পনা করেছিলাম, তেমনই লাগছে।”
অংশটি একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে শেষ হয়, কিন্তু এটা স্পষ্ট ছিল যে আসল জাদু ততক্ষণে ঘটে গেছে। দর্শকরা দশকের পর দশক ধরে সিনেমার মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করেছেন, চলচ্চিত্র নির্মাণের আনন্দ এবং উদ্ভট অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করেছেন এবং বিধু ও অভিজাতের মধ্যেকার সেই সৃজনশীল অংশীদারিত্বের সাক্ষী হয়েছেন যা ভারতের কিছু প্রিয় চলচ্চিত্রকে রূপ দিয়েছে।
ইফি সর্ম্পকে
১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ ইন্ডিয়া দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন এবং বৃহত্তম চলচ্চিত্র উৎসব হিসেবে পরিচিত। এটি ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের ন্যাশনাল ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন এবং গোয়া রাজ্য সরকারের এন্টারটেইনমেন্ট সোসাইটি অফ গোয়া দ্বারা যৌথভাবে আয়োজিত হয়। উৎসবটি এক আন্তর্জাতিক সিনেমাটিক শক্তিকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে পুনরুদ্ধার করা ক্লাসিকগুলি সাহসী পরীক্ষার সঙ্গে মিলিত হয় এবং কিংবদন্তি ওস্তাদরা নির্ভীক নতুনদের সঙ্গে স্থান ভাগ করে নেন। ইফিকে যা সত্যিই উজ্জ্বল করে তোলে তা হলো এর বৈদ্যুতিক মিশ্রণ - আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী, মাস্টারক্লাস, শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং ওয়েভস ফিল্ম বাজার, যেখানে ধারণা, চুক্তি এবং সহযোগিতাগুলি ডানা মেলে। ২০ থেকে ২৮শে নভেম্বর গোয়ার মনোরম উপকূলীয় পটভূমিতে অনুষ্ঠিত এই ৫৬তম সংস্করণটি ভাষা, ঘরানা, উদ্ভাবন এবং কণ্ঠস্বরের এক ঝলমলে বর্ণালী নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দেয় - যা বিশ্ব মঞ্চে ভারতের সৃজনশীল উজ্জ্বলতার এক মনোমুগ্ধকর উদযাপন।
বিশদ তথ্য জানতে এই লিংকগুলি দেখুন -
IFFI Website:http://https://www.iffigoa.org/
PIB’s IFFI Microsite: https://www.pib.gov.in/iffi/56new/
PIB IFFIWood Broadcast Channel:
https://whatsapp.com/channel/0029VaEiBaML2AU6gnzWOm3F
X Handles: @IFFIGoa, @PIB_India, @PIB_Panaji
SC/AS
रिलीज़ आईडी:
2194423
| Visitor Counter:
24
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें:
English
,
Urdu
,
Konkani
,
हिन्दी
,
Marathi
,
Assamese
,
Gujarati
,
Tamil
,
Telugu
,
Kannada
,
Malayalam