প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বাংলা রূপান্তর: সমবায় বিষয়ক একাধিক মূল উদ্যোগের শিলান্যাস ও উদ্বোধন
প্রকাশিত:
24 FEB 2024 2:38PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
গৃহ ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীমণ্ডলীর সহকর্মী শ্রী অর্জুন মুন্ডা ও শ্রী পিযূষ গোয়েল, জাতীয় সমবায় সমিতির কর্মকর্তাগণ, অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ এবং উপস্থিত সকলকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।
আজ ভারত মণ্ডপমে ‘অমৃত যাত্রা’র মধ্য দিয়ে ‘বিকশিত ভারত’ অভিযানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপিত হল। আমরা আজ ‘সমবায়ে সমৃদ্ধি’র সংকল্প বাস্তবায়নের পথে এক ধাপ অগ্রসর হলাম। কৃষি ও খামারের ভিত্তি বলিষ্ঠ করতে সমবায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উপলব্ধি থেকেই আমরা পৃথক সমবায় মন্ত্রক গঠন করেছি। আজকের এই অনুষ্ঠান সেই ভাবনারই প্রতিফলন।
আজ আমরা দেশের কৃষকদের জন্য বিশ্বের বৃহত্তম গুদাম প্রকল্পের সূচনা করেছি। এই কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রতিটি অঞ্চলে হাজার হাজার গুদাম ও সংরক্ষণাগার তৈরি হবে। একই সঙ্গে ১৮,০০০টি প্রাথমিক কৃষি ঋণ সমিতির কম্পিউটারাইজেশনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। এসব প্রকল্প কৃষি পরিকাঠামোয় নতুন গতি আনবে এবং কৃষিকাজকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করবে। এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের জন্য আপনাদের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।
সমবায়ের ধারণা ভারতবর্ষে বহু প্রাচীন। আমাদের শাস্ত্রে বলা হয়েছে, "অল্প সম্পদ একত্র করলে বৃহৎ কাজ সম্পন্ন হয়"। সেই প্রাচীনকাল থেকেই গ্রামীণ অর্থনীতিতে সমবায়ের এই ধারা প্রবাহিত হয়েছে। সমবায় কেবল একটি ব্যবস্থা নয়, এটি এক অনুভুতি, মানসিকতা। সমবায়ের চেতনা প্রায়শই প্রতিষ্ঠান ও সম্পদের সীমা অতিক্রম করে বিস্ময়কর ফল দেয়। এটি ক্ষুদ্র জীবিকা ব্যবস্থাকে বৃহৎ শিল্প সক্ষমতায় রূপান্তরিত করতে পারে। বিশেষত গ্রামীণ ও কৃষি অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় সমবায়। এই কারণেই পৃথক মন্ত্রকের মাধ্যমে আমরা দেশের এই বিচ্ছিন্ন শক্তিগুলিকে একত্রিত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।
কৃষক উৎপাদক সংগঠন বা এফপিও আজ এক অনন্য উদাহরণ। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র কৃষকরাও উদ্যোক্তা হয়ে উঠছেন, এমনকি তাঁদের পণ্য বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল ১০,০০০টি এফপিও গঠন করা। পৃথক সমবায় মন্ত্রক থাকার কারণে এখন পর্যন্ত ৮,০০০টি এফপিও কার্যকর হয়েছে। বহু এফপিওর সাফল্য এখন দেশ-বিদেশে আলোচিত। পাশাপাশি, সমবায়ের সুবিধা এখন পশুপালক ও জেলেদের কাছেও পৌঁছেছে। বর্তমানে মাছচাষে ২৫,০০০টিরও বেশি সমবায় ইউনিট কাজ করছে। আগামী পাঁচ বছরে ২,০০,০০০ সমবায় সংগঠন গঠনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যার একটি বড় অংশ মৎস্যচাষে হবে।
গুজরাটে সমবায়ের শক্তি আমি প্রত্যক্ষ করেছি। অমুলের সাফল্যের গল্প আজ সারা বিশ্বে পরিচিত। লিজ্জাত পাপড়ের নামও আজ আন্তর্জাতিক বাজারে সুপরিচিত। এই আন্দোলনগুলির নেতৃত্ব প্রধানত আমাদের দেশের নারীরাই দিয়েছেন। আজ লক্ষ লক্ষ নারী দুগ্ধ ও কৃষি বিষয়ক সমবায়ের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। নারীশক্তির সক্ষমতা বিবেচনা করে সরকার নীতিগতভাবেই তাঁদের অগ্রাধিকার দিয়েছে। সম্প্রতি বহুরাজ্যিক সমবায় সমিতি আইন সংশোধন করা হয়েছে। এখন থেকে বহুরাজ্যিক সমবায় সমিতির বোর্ডে নারী পরিচালক থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম পাস হলে তা দেশজুড়ে আলোচনার বিষয় হবে, কিন্তু আমরা সমবায় সমিতি সম্পর্কিত এমন এক গুরুত্বপূর্ণ আইন তৈরি করেছি যা নিয়ে খুব কম আলোচনা হয়।
সমবায় সংগঠনগুলির যৌথ শক্তি ব্যবহার করে কৃষকের ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান সম্ভব। সংরক্ষণের পরিকাঠামো না থাকায় কৃষকের বড় ক্ষতি হতো। পূর্ববর্তী সরকারগুলি এই দিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। আজ সমবায় সমিতির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম গুদাম প্রকল্পের অধীনে আগামী পাঁচ বছরে ৭ কোটি মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার সংরক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। খরচ হবে প্রায় ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে কৃষক রা নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী ফসল সংরক্ষণ করতে পারবে, ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে সুবিধা হবে, এবং উপযুক্ত সময়ে বাজারে বিক্রি করে লাভবান হতে পারবে।
‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে কৃষিক্ষেত্রের আধুনিকীকরণও সমান প্রয়োজনীয়। প্রাথমিক কৃষি ঋণ সমিতিগুলিকে নতুন ভূমিকায় প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই সমিতিগুলি এখন প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র, প্রধানমন্ত্রী কৃষক সমৃদ্ধি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। অনেক সমিতি এখন পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রয় কেন্দ্র চালাচ্ছে। বহু সমবায় সমিতি এলপিজি বিতরণেও যুক্ত। বহু গ্রামে প্যাকস এখন ‘পানি সমিতি’ হিসেবেও কাজ করছে। অর্থাৎ সমিতির উপযোগিতা বাড়ছে, আয়ের পথও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি, এগুলি এখন কমন সার্ভিস সেন্টার হিসেবে বিভিন্ন সরকারি সেবা দিচ্ছে। এতে গ্রামীণ অঞ্চলে প্রযুক্তি-ভিত্তিক কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
‘বিকশিত ভারত’ গঠনের লক্ষ্যে সমবায় সংগঠনগুলির ভূমিকা অপরিহার্য। আমি জানি আপনাদের সক্ষমতা কতটা, তাই আপনাদের কাছ থেকে আমার প্রত্যাশাও বেশি। আশা তাদের কাছেই করা যায় যারা কাজ করে। আপনারা যত সক্রিয়ভাবে ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর পথে কাজ করবেন, তত দ্রুত আমাদের লক্ষ্য পূরণ হবে। আত্মনির্ভর ভারত ছাড়া বিকশিত ভারত সম্ভব নয়।
উদাহরণস্বরূপ, আমি প্রস্তাব দিচ্ছি- কোন কোন পণ্য আমরা বিদেশ থেকে আমদানি করি এবং যেগুলি দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব সমবায় সংগঠনগুলো তার একটি তালিকা তৈরি করুক। যেমন, তিলচাষ থেকে উৎপাদিত তেল দেশেই তৈরি করা যায়। জ্বালানির ক্ষেত্রেও আমদানি কমাতে হবে। ইথানল উৎপাদন, সংগ্রহ ও মিশ্রণ গত দশকে বহুগুণ বেড়েছে। চিনিকলগুলির মাধ্যমে উৎপাদিত ইথানল এখন সরকার কিনছে। সমবায় সমিতিগুলিও এতে যুক্ত হতে পারে। একইভাবে ডাল আমদানি কমাতেও সমবায় সংগঠনগুলি বড় ভূমিকা নিতে পারে।
জৈব কৃষিকাজেও সমবায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কৃষক যেন খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি, শক্তি ও সার উৎপাদকও হয়—এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমবায় সংগঠনগুলি দ্রুত ফল দিতে পারে। ছোট সৌর প্যানেল বা ছাদের প্যানেল স্থাপন করে সমবায় ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। উৎপাদিত বিদ্যুৎ কৃষক ও সরকার উভয়ের কাছে বিক্রি করা যেতে পারে। গোবরধন প্রকল্পেও সমবায় সংগঠন যুক্ত হতে পারে। বর্জ্য থেকে সম্পদ সৃষ্টি, গোবর থেকে বায়োগ্যাস তৈরি, জৈব সার উৎপাদন—এসব ক্ষেত্রেও সমবায় এগিয়ে আসতে পারে। এতে সার আমদানির চাপও কমবে।
সমবায় সংগঠনগুলি কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্যের বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিংয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গুজরাটে আমুলের সাফল্য তার উদাহরণ। আজ আমুল একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ‘শ্রী অন্ন’ তথা মিলেটকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডে পরিণত করা। কেন ভারতের মিলেট ব্র্যান্ড বিশ্বের প্রতিটি ভোজসভায় থাকবে না? এই লক্ষ্যে সমবায় সংগঠনগুলোকে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।
গ্রামের আয় বাড়াতে সমবায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুগ্ধ শিল্পে আমরা তার প্রমাণ পেয়েছি। আমুলের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠান করেছি, তার পরদিন বারাণসীতে বেনারস ডেয়ারির উদ্বোধন করেছি। দেখা গেছে দুগ্ধ সমবায়ে যুক্ত নারীদের আয় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমি গুজরাটে সমবায় সংগঠনগুলিকে মধু শিল্পে যুক্ত হতে আহ্বান করেছি। আমরা সাদা বিপ্লব করেছি, এখন মিষ্টি বিপ্লব হোক। গত দশ বছরে মধু উৎপাদন ৭৫ হাজার মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ১.৫ লক্ষ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে, রপ্তানিও ২৮ হাজার থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। এতে নাফেড, ট্রাইফেড ও রাজ্য সমবায় সংগঠনগুলির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
গুজরাটে আমরা দেখেছি, দুধ বিক্রির টাকা সরাসরি বোনেদের অ্যাকাউন্টে গেলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। এখন প্রাথমিক কৃষি ঋণ সমিতিগুলি সম্পূর্ণ কম্পিউটারাইজড, তাই লেনদেন ডিজিটাল হওয়া উচিত। বিশেষত সমবায় ব্যাংকগুলো দ্রুত ডিজিটাল প্রযুক্তি গ্রহণ করুক। সয়েল হেলথ কার্ড বা, মাটি স্বাস্থ্য কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্যাকসগুলিকে ছোট মাটি পরীক্ষাগার স্থাপন করতে হবে। কৃষকদের জমির স্বাস্থ্য নিয়মিত পরীক্ষার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
যুবক ও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সমবায়ে যুক্ত কৃষকেরা তাঁদের লভ্যাংশ ও সুবিধার সঙ্গে বিনামূল্যে মাটি পরীক্ষা সেবা পেতে পারেন। এতে তাঁদের ফসল উৎপাদনে দক্ষতা বাড়বে।
এই উদ্যোগে সমবায়ে নতুন প্রাণ ও শক্তি সঞ্চারিত হবে। দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি সমান জরুরি। প্রতিটি সমিতিকে অন্যের কাছ থেকে শেখার সুযোগ নিতে হবে। বহু উদ্ভাবনী উদ্যোগের খবর অন্য অঞ্চলে পৌঁছায় না। এজন্য একটি সাধারণ অনলাইন পোর্টাল তৈরি করা যেতে পারে যেখানে সেরা অনুশীলন ও অভিজ্ঞতা ভাগ করা যাবে। অনলাইন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা উচিত।
সমবায় নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনা অত্যন্ত প্রয়োজন। এতে মানুষের আস্থা বাড়বে, অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পাবে।
সরকার সমবায় সমিতিগুলির আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করছে। আগে কোম্পানিগুলির তুলনায় সমবায়গুলির সেস হার বেশি ছিল। এখন এক কোটি থেকে দশ কোটি টাকার আয়বিশিষ্ট সমবায়ের সেস হার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। বিকল্প কর ব্যবস্থায়ও হার ১৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এক কোটি টাকার বেশি অর্থ তোলায় যে টিডিএস কাটতে হতো, সেই সীমা তিন কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এই সুবিধাগুলি সদস্যদের কল্যাণে কাজে লাগবে।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দেশের শক্তিকে একত্রিত করে সমবায়ের মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন অধ্যায় রচনা করবে।
এই শুভকামনা-সহ আমি আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আজ লক্ষ লক্ষ মানুষ বিভিন্ন কেন্দ্রে এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছেন—তাঁদেরও ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাই। আসুন, প্রকৃত সমবায় চেতনায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, ধাপে ধাপে এগিয়ে যাই বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে।
ধন্যবাদ।
স্বীকৃতি: এটি প্রধানমন্ত্রীর মূল হিন্দি ভাষণের আনুমানিক বাংলা অনুবাদ।
***
SSS/RS
(রিলিজ আইডি: 2177216)
ভিজিটরের কাউন্টার : 29
এই রিলিজটি পড়তে পারেন:
English
,
Urdu
,
Marathi
,
हिन्दी
,
Manipuri
,
Assamese
,
Punjabi
,
Gujarati
,
Odia
,
Tamil
,
Telugu
,
Kannada
,
Malayalam