প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর

ভারতের ৭৭তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালকেল্লার প্রাকার থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

Posted On: 15 AUG 2023 2:04PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১৫ অগাস্ট, ২০২৩ 


আমার প্রিয় ১৪০ কোটি পরিবার-পরিজন,
দেশের বৃহত্তম গণতন্ত্র ও জনসমষ্টির নিরিখে ‘আমরাই প্রথম’ এই আস্থা ও বিশ্বাস ইতিমধ্যেই অর্জন করেছি। এই ধরনের একটি বিরাট দেশ আজ তার ১৪০ কোটি ভাই, বোন এবং সমস্ত পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাধীনতার উৎসব পালন করছে। পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ এই মুহূর্তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে আমি অভিনন্দন জানাই। অভিনন্দন জানাই প্রতিটি মানুষকে যাঁরা আমাদের দেশকে ভালোবাসেন ও শ্রদ্ধা করেন এবং দেশের গর্বে গর্ব অনুভব করেন।
আমার প্রিয় পরিজনেরা,
আমাদের ‘পূজ্য বাপু’, পরম শ্রদ্ধেয় মহাত্মা গান্ধীজির নেতৃত্বে অসহযোগ, আইন অমান্য ও সত্যাগ্রহ আন্দোলনের সূচনা হয়। ভগৎ সিং, সুখদেব, রাজগুরু ও তাঁদের প্রজন্ম, সকলেই সেই স্বাধীনতা আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন। সেই প্রজন্মে বোধহয় এমন কেউই ছিলেন না যিনি তাতে যোগ দেননি। স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করে যাঁরা তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, আমি নতমস্তকে তাঁদের সকলের উদ্দেশে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাচ্ছি। আমাদের দেশকে স্বাধীন করার জন্য তাঁদের তপস্যা ও সাধনাকে আমি নতমস্তকে শ্রদ্ধা জানাই।
আজ ১৫ আগস্ট, একইসঙ্গে আবার মহান বিপ্লবী তথা আধ্যাত্মিক জীবনের অগ্রদূত শ্রীঅরবিন্দের সার্ধ শততম জন্মবার্ষিকী। স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর আজ ১৫০তম জন্ম জয়ন্তী। এই বছরটিতে সমগ্র জাতি উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে প্রবাদপ্রতিম নারী-যোদ্ধা রানী দুর্গাবতীর ৫০০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করতে চলেছে। ভক্তি ও যোগ-এর প্রবক্তা মীরাবাঈকেও তাঁর ৫২৫তম আধ্যাত্মিক সিদ্ধিলাভের মুহূর্তে স্মরণ করছি। আগামী ২৬ জানুয়ারি আমাদের সাধারণতন্ত্র দিবস। এই দিনটিতে স্বাধীনতার ৭৫তম বার্ষিকীর মাইলফলকটিতে আমরা উপনীত হব। নতুন প্রেরণা, নতুন চেতনাবোধ, নতুন নতুন সঙ্কল্প গ্রহণের মধ্য দিয়ে জাতীয় উন্নয়নের কাজে আমাদের সামিল হওয়ার এর থেকে বড় সময় আর কিছু হতে পারে না। কারণ, দেশের সামনে এখন অফুরন্ত সম্ভাবনা ও অফুরন্ত সুযোগ।
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
দুর্ভাগ্যবশত, এই সময়কালটিতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দেশের বহু অংশই অকল্পনীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সঙ্কটকালে যে সমস্ত পরিবার তাঁদের আত্মীয়-পরিজনকে হারিয়েছেন, তাঁদের আমি গভীর সমবেদনা জানাই। আমি তাঁদের এই মর্মে আশ্বাস দিতে চাই যে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার মিলিতভাবে তাঁদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে এবং যত দ্রুত সম্ভব তাঁদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করার চেষ্টা করবে। 
আমার প্রিয় পরিজনেরা,
গত কয়েক সপ্তাহে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মণিপুর এবং ভারতের আরও কিছু কিছু অংশে হিংসাত্মক ঘটনার বলি হয়েছেন বহু মানুষ। এমনকি, মা ও বোনেদের সম্মান ও মর্যাদাও লুন্ঠিত হয়েছে। তবে, গত কয়েকদিন ধরে আমাদের কাছে সেখানে শান্তি ফিরে আসার খবর আমরা প্রতিনিয়তই পাচ্ছি। সমগ্র জাতি এখন মণিপুরবাসীর পাশে। মণিপুরের জনসাধারণ গত কয়েকদিন ধরে সেখানে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি অক্ষুণ্ণ রেখেছে। তাঁরা শান্তির এই বাতাবরণ যাতে বিনষ্ট না হয় তার জন্য নিরন্তর চেষ্টাও চালিয়ে যাবেন। কারণ, শান্তিপূর্ণ উপায়েই যে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব। রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার মিলিতভাবে এই সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে সচেষ্ট রয়েছে। এই প্রচেষ্টাকে অবশ্যই অব্যাহত রাখা হবে।
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
আমরা যদি ইতিহাসের দিকে একবার ফিরে তাকাই তাহলে দেখব, এমন কিছু ঘটনা সেখানে ঘটেছে যার রেশ বহু শতাব্দী ধরেই রয়ে গেছে। সূচনায় এই ধরনের ঘটনাবলী খুবই ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু, তা থেকে জন্ম নেয় হাজারো সমস্যা। আমরা সকলেই জানি যে ১,০০০ থেকে ১,২০০ বছর আগে আমাদের দেশ আক্রান্ত হয়েছিল। ক্ষুদ্র একটি রাজ্য এবং সেখানকার রাজা যুদ্ধে পরাস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু, আমরা তখনও জানতে ও বুঝতে পারিনি যে এই একটিমাত্র ঘটনা ভারতকে হাজার হাজার বছর ধরে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে রাখবে। আমাদের সেই দাসত্বকালে যারাই এ দেশে এসেছে, তারাই আমাদের লুন্ঠন করেছে, আমাদের ওপর শাসন কায়েম করেছে। হাজার হাজার বছর ধরে তার প্রতিকূলতা আমাদের অনেকখানি পিছিয়ে দিয়েছে। 
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
একটি ঘটনাকে আমরা খুবই ছোট ঘটনা বলে হয়তো মনে করতে পারি, কিন্তু তার প্রভাব থেকে যায় হাজার হাজার বছর ধরে। আমি আজ একথার উল্লেখ করছি এই কারণে যে সারা ভারতের নির্ভীক হৃদয়ের অনেক মানুষ স্বাধীনতার আগুনকে কখনও নির্বাপিত হতে দেননি। তাঁরা প্রতিষ্ঠা করে গেছেন আত্মবলিদানের এক মহান ঐতিহ্য। ভারতমাতা এক সময় উঠে দাঁড়িয়েছেন, পরাধীনতার সেই শৃঙ্খলকে ভেঙে টুকরো টুকরো দিয়ে দিয়েছেন। নারীশক্তি, যুবশক্তি, কৃষক, সাধারণ গ্রামবাসী, শ্রমিক-কর্মচারী সহ প্রত্যেক ভারতীয়ই তখন শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে জীবনকে অনুভব করেছিলেন, সংগ্রাম করেছিলেন স্বাধীনতার স্বপ্নকে সফল করে তুলতে। স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে তখন এক অনবদমিত শক্তি জীবন উৎসর্গের জন্য ছিল প্রস্তুত। বহু মহান হৃদয় ব্যক্তি, যাঁরা তাঁদের যৌবন কারারুদ্ধ অবস্থায় অতিবাহিত করেছেন, নিরন্তরভাবে সংগ্রাম করে গেছেন, দাসত্ব শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়ার লক্ষ্যে। দেশের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে। 
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
এই ব্যাপক জনসচেতনতা, উৎসর্গ ও তপস্যার একনিষ্ঠ শক্তি জনসাধারণের মনে এক নতুন বিশ্বাসের জন্ম দিয়েছিল। অবশেষে ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। হাজার হাজার বছরের দাসত্ব তথা বশ্যতার পর লালিত স্বপ্নকে দেশ সফল করে তোলে। 
বন্ধুগণ,
হাজার বছরের এই ইতিহাস ও ঘটনাকে আমি তুলে ধরছি একটি বিশেষ কারণে। দেশের সামনে আরও একটি সুযোগ এখন উপস্থিত। আমরা বাস করছি এমন এক সময়ে, এমন এক যুগে যখন এক বিশেষ সুযোগ আমাদের সামনে উপস্থিত। আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা এখন ‘অমৃতকাল’-এর মধ্য দিয়ে চলেছি। এই সময়কালে যে কাজই আমরা করি না কেন, যে পদক্ষেপই আমরা গ্রহণ করি না কেন, যেভাবেই উৎসর্গের মানসিকতায় আমরা উদ্বুদ্ধ হই না কেন, যে তপস্যা ও সাধনাতেই আমরা ব্রতী হই না কেন, তা আমাদের উত্তরাধিকার তথা পরম্পরার এক বিশেষ সংজ্ঞা নির্ধারণ করে যাবে। 
‘সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়’। একটির পর একটি সিদ্ধান্তে আমরা উপনীত হব এবং আগামী ১ হাজার বছরের ভারতের ইতিহাস তার মধ্য থেকেই উঠে আসবে। এই সময়কালের ঘটনাবালী পরবর্তী হাজার বছরের ওপর তার ছাপ রেখে যাবে। দেশ এখন দাসত্বের মানসিকতা থেকে মুক্ত। ‘পঞ্চপ্রাণ’ অর্থাৎ, পাঁচটি বিশেষ সঙ্কল্প পূরণের লক্যেীক দেশ এখন নিবেদিতপ্রাণ। তাই, নতুন এক আত্মবিশ্বাসের মধ্য দিয়ে আমরা এখন এগিয়ে চলেছি। নতুন নতুন সঙ্কল্প পূরণে সমগ্র জাতি মন-প্রাণ দিয়ে কাজ করে চলেছে। আমাদের ভারতমাতা এক সময় ছিলেন অনন্ত শক্তির এক বিশেষ ভাণ্ডার। কিন্তু পরে তার সেই শক্তি হারিয়ে না গেলেও সুপ্ত ছিল ছাইচাপা আগুনের মতো। কিন্তু ১৪০ কোটি দেশবাসীর প্রয়াস, সচেতনতা এবং কর্মোদ্যমের মধ্য দিয়ে তার আবার পুনর্জাগরণ ঘটেছে। মা ভারতী এখন জেগে উঠেছেন এবং গত ৯-১০ বছরে আমরা অনুভব ও উপলব্ধি করেছি যে এই সময়কাল হল এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত যখন নতুন আস্থা, নতুন বিশ্বাস, নতুন আশা এবং নতুন আকর্ষণ নিয়ে ভারত নিজেকে মেলে ধরেছে বিশ্ববাসীর সামনে। সমগ্র বিশ্ব এখন ভারতের সম্ভাবনার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। ভারত থেকে উন্নয়নের যে আলো জ্বলে উঠবে, তাতে বিশ্ব নিজেকে আলোকিত করে তুলতে পারবে। এমনই একটি নতুন আস্থা ও বিশ্বাস আজ বিশ্বজুড়ে জন্ম নিয়েছে। 
আমাদের সৌভাগ্য যে পূর্বসূরীদের কাছ থেকে আমরা অনেককিছুই উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করতে পেরেছি। সেইসঙ্গে বর্তমান যুগটিতেও আরও নতুন নতুন সম্ভাবনা ও সাফল্য আমরা দেখতে পাচ্ছি। আজ শুধু আমাদের এক জনগোষ্ঠীই নয়, আমাদের রয়েছে এক উজ্জ্বল গণতন্ত্র ও অনুপম বৈচিত্র্য। এই তিনে মিলে ভারতের যে কোনো স্বপ্নকে সফল করে তুলতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন এক প্রাচীন ও ভগ্নপ্রায় কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে, ভারত তখন তার যৌবনসুলভ কাঠামো গড়ে তুলতে পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু করে দিয়েছে। আমরা গর্বিত যে ভারতে এখন রয়েছে অনুর্ধ্ব ৩০ বছর বয়সী এক বৃহত্তম জনসংখ্যা। আমাদের দেশে রয়েছে কোটি কোটি হাত, কোটি কোটি মেধা, কোটি কোটি স্বপ্ন, কোটি কোটি সঙ্কল্প। তাই, আমার প্রিয় ভাই-বোনেরা, আমার প্রিয় পারিবারিক পরমাত্মীয়রা, কাঙ্খিত ফল আমাদের কাছে এখন আর অধরা নয়। 
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
এই ধরনের ঘটনাবলী দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের সূচক। আমাদের এই শক্তি দেশের ভাগ্যকে বদলে দিতে পারে। হাজার বছরের দাসত্ব এবং হাজার বছরের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ - এই দুইয়ের মাঝামাঝি সময়কালে আমরা এখন দাঁড়িয়ে রয়েছি। আমরা এখন রয়েছি এমন এক যাত্রাপথে যখন থেমে থাকার কোনো অবকাশ নেই। সমস্যা কখনই আমাদের এখন আর পেছনের দিকে ঠেলে দিতে পারবে না। 
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
আমাদের ঐতিহ্যে আমরা গর্বিত। অতীতে যা আমরা হারিয়েছি বর্তমানে আমরা তা পুনরুদ্ধার করেছি। হৃত সমৃদ্ধিকে আমরা আবার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। তাই, আসুন আমরা এই বিশ্বাসে বলীয়ান হই যে আমাদের প্রতিটি কাজ, আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ, আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত, পরবর্তী হাজার বছরের ভারতের লক্ষ্য ও দিশা স্থির করবে। আমরাই হব ভারতের ভাগ্যবিধাতা। আমি দেশের যুব সমাজ, পুত্র-কন্যা – সকলের উদ্দেশেই বলতে চাই যে তোমরা সত্যিই ভাগ্যবান। যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা আজ আমাদের তরুণ ও যুবকদের সামনে উপস্থিত তা পাওয়া সত্যিই খুব দুর্লভ ভাগ্যের বিষয়। আমরা তাই তাকে কোনভাবেই হারাতে চাই না। দেশের যুবশক্তির ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমাদের যুবশক্তির রয়েছে অফুরন্ত ক্ষমতা, অফুরন্ত সম্ভাবনা। আমাদের নীতি এবং আমাদের পথ এই যুবশক্তিকে তথা শক্তির বাতাবরণকে আরও আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
আজ আমাদের যুবশক্তি ভারতের চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। এই শক্তিই বিশ্বের মানচিত্রে দেশকে এক নতুন অবস্থানে উন্নীত করবে। ভারতের এই শক্তি বৃদ্ধিতে সমগ্র বিশ্বের যুব সমাজ আজ বিস্মিত, চমৎকৃত। বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তি-নির্ভর এবং আগামী ভবিষ্যতও প্রযুক্তিকে অবলম্বন করেই এগিয়ে যাবে। তাই আমরা এমন একটি মঞ্চে এখন উপস্থিত যেখানে ভারতের মেধাশক্তি তার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এক নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চলেছে।
বন্ধুগণ,
সম্প্রতি জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন সূত্রে আমি বালি সফর করে এসেছি। সেখানে বিশ্বের সর্বাপেক্ষা বেশি সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশগুলি ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ সম্পর্কে অগাধ কৌতুহল নিয়ে উপস্থিত ছিল। তারা ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র সাফল্য কিভাবে সম্ভব হল তা জানতে ছিল উৎসুক। আমি তখন তাদের কাছে ব্যাখ্যা করি যে ভারত যে বিস্ময় আজ সমগ্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে তা শুধুমাত্র দিল্লি, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের যুবশক্তিই তৈরি করেনি, দেশের অন্যান্য শহরগুলির তরুণ ও যুবকরাও এই বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। আজ আমি গভীর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি যে ভারতের এই নতুন সম্ভাবনা এখন সর্বত্র দৃশ্যমান। আমাদের ছোট ছোট শহরগুলি আকারে হয়তো ছোট, জনসংখ্যার দিক দিয়ে খুব বেশি বড় নয়, কিন্তু সেখানেও আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রয়াস ও প্রচেষ্টা এবং তার ফলাফল একথাই প্রমাণ করেছে যে কোনো দিক থেকেই আমরা এখন পিছিয়ে নেই। ছোট ছোট শহরগুলিরও এখন রয়েছে অনেক অভিনব পরিকল্পনা। নতুন নতুন অ্যাপ তৈরি করা, প্রযুক্তিগত সমাধান খুঁজে বের করা এবং প্রযুক্তিগত নকশা তৈরি করার মতো চিন্তাভাবনাও রয়েছে এই শহরগুলির যুব ও মেধাশক্তির। আমাদের খেলাধূলার আঙিনাটি কিভাবে প্রসার লাভ করেছে তাও আজ সকলের কাছে দৃশ্যমান। যে ছেলেটি উঠে এসেছে একটি বস্তি থেকে সেও আজ বিশ্বের ক্রীড়া আঙিনায় তাঁর শক্তি ও সাফল্যকে তুলে ধরতে পেরেছে। ছোট ছোট শহর, ছোট ছোট গ্রাম এবং সেখানে বসবাসকারী আমাদের পুত্র-কন্যা তথা তরুণ ও যুবকরা এই আঙিনায় নতুন নতুন বিস্ময় জাগিয়ে তুলেছে। আমাদের দেশে রয়েছে এমন অনেক স্কুল যেখানকার ছেলে-মেয়েরা আজ কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরিতে সিদ্ধহস্ত। একদিন না একদিন তাদের এই সাফল্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটবেই। আমাদের দেশের হাজার হাজার টিঙ্কারিং ল্যাব থেকে উঠে আসছেন নতুন নতুন বিজ্ঞানী। এই গবেষণাগারগুলি লক্ষ লক্ষ ছেলে-মেয়ের মধ্যে প্রেরণার বীজ বপন করে চলেছে যাতে তাঁরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পথ ধরে এগিয়ে যেতে পারে। 
দেশের যুব সমাজের উদ্দেশে আমি বলতে চাই যে আমাদের সামনে এখন সুযোগ-সুবিধার কোনো অভাব নেই। যে ধরনের সুযোগ-সুবিধাই তোমরা প্রত্যাশা করো না কেন, আমরা তা দিতে এখন প্রস্তুত। আমাদের সুযোগ সম্ভাবনা তাই এক কথায় আকাশচুম্বী।
আজ লালকেল্লার এই প্রাকার থেকে আমি আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাই আমার মা, বোন ও কন্যাদের। মা-বোনেদের বিশেষ ক্ষমতা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ফলেই দেশ আজ বর্তমান স্তরে পৌঁছে গেছে। দেশ এখন অগ্রগতির পথে। তাই, আমি অভিনন্দন জানাই আমার কৃষক ভাই ও বোনেদের। দেশের শ্রমজীবীদের উদ্দেশে জানাই আমার প্রণাম ও নমস্কার। তাঁরাও আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন। যে কোটি কোটি মানুষ শ্রমের মাধ্যমে অসাধ্যসাধন করছেন, তাঁরা সকলেই আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিম। দেশ এখন আধুনিক থেকে আরও আধুনিক হওয়ার পথে। আমাদের শক্তি ও ক্ষমতা এখন বিশ্বমঞ্চে তুলনার দাবি রাখে। দেশের অগণিত শ্রমজীবী মানুষের অবদান ছাড়া এই পরিস্থিতি কখনই সম্ভব হত না। আজ তাই আমাদের সামনে এমন এক সুযোগ উপস্থিত যখন লালকেল্লার এই প্রাকার থেকে তাঁদের নিরলস শ্রম ও প্রচেষ্টাকে আমি অভিবাদন জানাই। অভিনন্দন জানাই তাঁদের প্রত্যেককে এবং সকলকেই।
দেশের ১৪০ কোটি নাগরিক তথা আমাদের আমার পরিবার-পরিজনকে আমি সম্মান জানাই। শ্রমিক-কর্মী, রাস্তার হকার ও খুচরো বিক্রেতা, এমনকি ফল ও সবজি বিক্রেতাদেরও আমি সম্মান জানাই। পেশাদারিত্বের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত তাঁরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁরা ভারতকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির এক নতুন উচ্চতায় ক্রমশ উপনীত করছেন। তাঁরা বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষক, বিদগ্ধজন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুকুলের অধ্যাপক – প্রত্যেকেই তাঁদের যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন ভারতমাতার ভবিষ্যৎকে উজ্জ্বল করে তুলতে।
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
জাতীয় চেতনা হল এমন একটি শব্দ যা আমাদের সমস্ত ধরনের উদ্বেগ ও আশঙ্কা থেকে মুক্ত করতে পারে। আজ আমাদের জাতীয় চেতনা একথাই প্রমাণ করেছে যে ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি হল আস্থা ও বিশ্বাস। আমাদের আস্থা রয়েছে প্রতিটি মানুষের ওপরই, আবার তাঁদের প্রত্যেকেরই আস্থা রয়েছে সরকারি প্রচেষ্টার ওপর। সর্বোপরি, ভারতের ওপর আস্থা রয়েছে সমগ্র বিশ্বেরও। আমাদের নীতি, আমাদের ব্যবস্থা – সবকিছুর ওপরই তাঁরা আস্থা স্থাপন করেছেন। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপই সুচিন্তিত। তাই, তার ওপর আস্থা স্থাপিত হয়েছে। আমাদের এই ধরনের পদক্ষেপই এই উজ্জ্বলতর ভবিষ্যতের দিকে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। 
ভাই ও বোনেরা,
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন, ভারতের ক্ষমতা, দক্ষতা ও সম্ভাবনা নতুন নতুন বিশ্বাসের জন্ম দিতে পারে, একথা নিশ্চিতভাবেই বলা যেতে পারে। আমাদের শক্তির ওপর এই আস্থা ও বিশ্বাসের মানসিকতাকে অটুট রাখা প্রয়োজন। জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের সুযোগ আমাদের দেশ লাভ করেছে। ভারতের প্রতিটি প্রান্তে যেভাবে গত বছর থেকে আমরা জি-২০ কর্মসূচির আয়োজন করেছি তা সাধারণ মানুষের ক্ষমতা ও দক্ষতাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে পেরেছে। আমাদের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভারতের বৈচিত্র্যকেই আমরা মেলে ধরতে পেরেছি। ভারতের এই বৈচিত্র্য এখন বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করেছে। তাই, ভারতের প্রতি তাঁদের আকর্ষণ এখন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। ভারত সম্পর্কে জানার, ভারত সম্পর্কে বোঝার ইচ্ছা ও আগ্রহ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। ভারতের রপ্তানি বাণিজ্য দ্রুততার সঙ্গে প্রসার লাভ করেছে। সারা বিশ্বের বিশেষজ্ঞরা এ সমস্ত কিছুই খতিয়ে দেখে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে ভারতের শক্তি এখন অপ্রতিরোধ্য। বিশ্বে এমন কোনো রেটিং এজেন্সি এখন নেই, যাদের কথায় ভারতের প্রতি প্রশংসার মনোভাব ফুটে উঠছে না। করোনা পরিস্থিতি অতিক্রম করে আসার পর বিশ্ব এখন ভারত সম্পর্কে আরও নতুনভাবে চিন্তাভাবনা করতে শুরু করেছে। আমি নিশ্চিতভাবেই বিশ্বাস করি যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বে যেমন একটি তৃতীয় বিশ্ব শৃঙ্খলা গড়ে উঠেছিল, সেরকই একটি নতুন বিশ্ব শৃঙ্খলা গড়ে উঠতে চলেছে করোনা-পরবর্তীকালে। ভৌগোলিক তথা রাজনৈতিক সমস্ত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণই এখন ক্রমশ পরিবর্তিত হচ্ছে। সংজ্ঞা নির্ধারিত হচ্ছে নতুন করে, নতুনভাবে। আমার প্রিয়-পরিজন, আপনারা একথা জেনে গর্বিত হবেন যে বিশ্বকে এক পরিবর্তিত রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বিশ্ববাসী এখন আমার ১৪০ কোটি সহ-নাগরিকদের ক্ষমতা ও দক্ষতার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। এমনই এক সন্ধিক্ষণে আমরা এখন উপনীত। 
করোনা পরিস্থিতিকালে ভারত যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছে তাতে বিশ্ববাসীর কাছে প্রকাশ ঘটেছে আমাদের ক্ষমতা ও দক্ষতার। সারা বিশ্বের যোগান শৃঙ্খল যখন ভেঙে পড়েছিল, বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতির দেশগুলি যখন চাপ সামাল দিতে ব্যস্ত, সেই সময়েও আমরা বলেছিলাম, বিশ্বের উন্নয়নে আমরা প্রত্যাশী। যে বিশ্ব হয়ে উঠতে পারবে মানব-কেন্দ্রিক এবং মানবিকতা-ভিত্তিক। সেই সময় আমরা সমস্যার সঠিক সমাধানের দিশা বাৎলে দিতে পারব। মানুষকে বাদ দিয়ে যে বিশ্বকল্যাণ সম্ভব নয়, কোভিড পরিস্থিতি আমাদের সেই শিক্ষা দিয়েছে বা অন্যভাবে বলতে গেলে সেই শিক্ষা আমরা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছি কোভিড মহামারীকালে। 
ভারত বর্তমানে দক্ষিণ বিশ্বের কন্ঠস্বর হয়ে উঠেছে। ভারতের সমৃদ্ধি, ভারতের ঐতিহ্য এখন বিশ্বের সামনে নতুন নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনা মেলে ধরছে। বন্ধুগণ, বিশ্বের অর্থনীতি এবং বিশ্বের যোগান শৃঙ্খলে ভারতের অংশগ্রহণ ভারতকে এক নিজস্ব অবস্থান খুঁজে নিতে সাহায্য করেছে। তাই, বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপটে আমি গভীর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলতে পারি যে ভারত বর্তমানে বিশ্বকে স্থায়িত্ব তথা স্থিতিশীলতার এক নিশ্চিত পথের সন্ধান দিতে পেরেছে। আমাদের কাছে ‘যদি’ বা ‘কিন্তু’র এখন আর কোনো স্থান নেই। আমার ১৪০ কোটি পরিবার-পরিজনও এখন মানসিক দিক থেকে কোনভাবেই দ্বিধাগ্রস্ত নন। আমরা সৃষ্টি করতে পেরেছি আস্থা এক পূর্ণ বাতাবরণ।
আমার প্রিয় দেশবাসী,
সুযোগ এখন আমাদের জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে মাত্র। এই সুযোগকে আমরা কখনই হাতছাড়া করতে পারি না। আমাদের তা করাই কখনই উচিত নয়। আমি দেশবাসীকে অভিনন্দন জানাই কারণ, সমস্যার মূল বা কারণ সম্পর্কে বোঝার ক্ষমতা তাঁদের রয়েছে। এই কারণেই দীর্ঘ ৩০ বছরের অভিজ্ঞতার পর ২০১৪ সালে দেশবাসী দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মনস্থির করেন। তাঁরা বুঝতে পারেন একটি স্থায়ী ও শক্তিশালী সরকার তাঁদের প্রয়োজন। তা হওয়া দরকার এমন একটি সরকার যার পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তাই, দেশবাসী সেই সময় একটি স্থায়ী ও শক্তিশালী সরকার গঠন করে। তিন দশকের অনিশ্চয়তা, অস্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার কবল থেকে দেশ তখন বেরিয়ে আসে।
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
দেশে এখন এমন এক সরকার রয়েছে যে তার প্রতিটি মুহূর্ত এবং জনসাধারণের প্রতিটি অর্থ দেশের সুষম উন্নয়নে কাজে লাগাচ্ছে। কারণ, ‘সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়’ – এই লক্ষ্য ও নীতিকে অবলম্বন করেই সরকারের কর্মপ্রচেষ্টা পরিচালিত হচ্ছে। আমার সরকার ও দেশবাসীর গর্ব একটি বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত। তা হল, আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি লক্ষ্য একটিমাত্র দিকেই ধাবিত। তা হল, ‘জাতিই সর্বপ্রথম’। ‘জাতিই সর্বপ্রথম’ – এই নীতি ও মানসিকতা আমাদের সুদূরপ্রসারী এবং ইতিবাচক ফল এনে দিয়েছে। দেশে এখন বিরাট কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। তাই আমি বলব যে ২০১৪ এবং ২০১৯ সালে আপনারা শক্তিশালী সরকারই গঠন করেছেন। এই কারণেই আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সংস্কারমূলক কর্মপ্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার মতো সাহস অর্জন করেছি। আপনারা এমন এক সরকার গঠন করেছেন যা আমাকে সাহস যুগিয়েছে সংস্কারের পথে এগিয়ে যাওয়ার। আমি যখন একটার পর একটা সংস্কার প্রচেষ্টার দিকে এগিয়ে গিয়েছি, তখন দেশের আমলাতন্ত্র এবং শত শত সরকারি কর্মী ভারতের প্রতিটি প্রান্তেই রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন। তাঁরা তাঁদের দায়িত্বশীলতা যথাযথভাবে পালন করেছেন। এই কর্মযজ্ঞে সাধারণ মানুষ যখন সামিল হয়েছেন তখন সেই রূপান্তর আমরা সুস্পষ্টভাবে অনুভব করেছি, উপলব্ধি করেছি। এই কারণে এই সংস্কারের সময়কালে ‘রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করো’ – এই মানসিকতাই ভবিষ্যতের ভারতকে আকার দিতে চলেছে। দেশের মধ্যে আমরা সেই সমস্ত শক্তিকে উৎসাহদান করছি যারা আগামী হাজার বছর ধরে দেশের ভিতকে অটুট রাখার জন্য, শক্তিশালী করে তোলার জন্য নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশ্বের বর্তমানে প্রয়োজন যুবশক্তি, যুব দক্ষতা। দক্ষতা বিকাশের জন্য আমরা একটি পৃথক মন্ত্রকও গঠন করেছি যা শুধু ভারতের আশা-আকাঙ্ক্ষাই পূরণ করবে না, বিশ্বের প্রয়োজনকে পূর্ণ করতে সাহায্য করে যাবে।
জলশক্তি মন্ত্রকও গঠন করেছি আমরা। যদি কেউ আমাদের এই মন্ত্রকগুলির গঠন খতিয়ে দেখেন তাহলে তিনি বুঝতে পারবেন যে এই সরকার মন এবং মগজ দিয়ে পূর্ণ মাত্রায় কাজ করে চলেছে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের দুয়ারে যাতে পানীয় জল পৌঁছে যায় তা নিশ্চিত করতে জলশক্তি মন্ত্রক গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করে চলেছে। পরিবেশকে আরও উন্নত করে তুলতে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গীর কথা আমরা বারংবার উচ্চারণ করেছি। পরিবেশ রক্ষার কাজে সংবেদনশীল ব্যবস্থার প্রসারে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমাদের দেশ সাহসিকতার সঙ্গেই করোনার মোকাবিলা করেছে। বিশ্বের এখন প্রয়োজন সার্বিক স্বাস্থ্য পরিষেবা। বর্তমান যুগে এটার প্রয়োজনীয়তা যথেষ্ট গুরুত্বের দাবি রাখে। আমরা পৃথকভাবে আয়ুষ মন্ত্রকও গঠন করেছি কারণ, যোগাভ্যাস ও আয়ুষ এখন বিশ্বে নতুন চেতনার ঢেউ এনে দিয়েছে। বিশ্বের প্রতি আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। সেই কারণে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি এখন আমাদের দিকে। যদি আমাদের ক্ষমতাকে আমরা ছোট করে দেখি, তাহলে বিশ্ববাসী আমাদের স্বীকৃতি দেবে কিভাবে। যখন মন্ত্রক গঠন করা হয় তখন সারা পৃথিবীর মানুষও তার মূল্য বুঝতে পারে। এমনকি, দেশের মৎস্যচাষ ও মৎস্যপালন এবং আমাদের বড় বড় সমুদ্র সৈকতগুলির কথাও আমরা কখনও বিস্মৃত হইনি। তাই, কোটি কোটি মৎস্যজীবী ভাই-বোনদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের হৃদয়ে তাঁরা বরাবরই স্থান করে নিয়েছেন। এই কারণে পৃথকভাবে একটি মৎস্যপালন দপ্তরও আমরা গঠন করেছি। পশুপালন এবং গবাদি পালনের দিকেও দৃষ্টি দিয়েছি আমরা। 
আমাদের সরকারি অর্থনীতি বহুধাবিস্তৃত। কিন্তু, সমাজের অর্থনীতি পরিচালিত হচ্ছে সমবায় আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলির নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দরিদ্রতম মানুষটির কাছেও যাতে আমরা পৌঁছে যেতে পারি, সেই কারণেই আমরা গঠন করেছি সমবায় মন্ত্রক। এইভাবে সমবায় ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে সমৃদ্ধির পথকে আমরা অবলম্বন করেছি।
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
২০১৪ সালে আমরা যখন ক্ষমতায় আসি, তখন বিশ্ব অর্থনীতিতে দেশ ছিল দশম অবস্থানে। কিন্তু আজ ১৪০ কোটি দেশবাসীর নিরন্তর প্রচেষ্টায় আমাদের অবস্থান এখন উন্নীত হয়েছে পাঁচ-এ। এক সময় দেশ ছিল দুর্নীতিজর্জর। দুর্নীতির শৃঙ্খল তখন দেশকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছিল। লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারিও আমরা সেই সময়কালে প্রত্যক্ষ করেছি। কিন্তু আমরা দুর্নীতির সমস্তরকম পথ বন্ধ করে দিয়েছি। গড়ে তুলেছি এক শক্তিশালী অর্থনীতি। দরিদ্র মানুষের কল্যাণে আরও বেশি পরিমাণ অর্থ আমরা বিনিয়োগ করেছি। তাই, আজ আমি আমার দেশবাসীদের জানাতে চাই যে দেশ যখন অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যায়, তখন তা নাগরিকদেরও ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ফলে, ক্ষমতায়ন ঘটে সমগ্র জাতির। দেশের নাগরিকদের জন্য কোনো সরকার যদি অর্থ বিনিয়োগের সঙ্কল্প গ্রহণ করে, তখন তার সুফল অবশ্যম্ভাবী।
আমি গত ১০ বছরের হিসাব দেশবাসীর সামনে লালকেল্লার এই প্রাকার থেকে তুলে ধরতে পারি। আমাদের এই ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকা তার সাক্ষী থাকবে। যে অঙ্কের হিসাব আমি এখন আপনাদের সামনে তুলে ধরছি তা হল, পরিবর্তন সম্ভব করে তোলার এক বিশেষ কাহিনী। আপনারা জেনে আশ্চর্য হবেন যে কিভাবে তা সম্ভব হল। এই রূপান্তর সম্ভব করে তুলতে কিভাবে আমরা আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করে প্রচেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি। ১০ বছর আগে ৩০ লক্ষ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হত রাজ্য সরকারগুলিকে। গত ৯ বছরে এই অঙ্ক পৌঁছে গেছে ১০০ লক্ষ কোটি টাকায়। আগে সরকারি কোষাগার থেকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়নে ব্যয় করা হত ৭০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বর্তমানে এই পরিমাণ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। দরিদ্র মানুষদের জন্য বাসস্থান নির্মাণের কাজে আগে বিনিয়োগ করা হত ৯০ হাজার কোটি টাকা, কিন্তু আজ তা চারগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অঙ্কে দাঁড়িয়েছে। এই অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে সাধারণ দরিদ্র মানুষের বাসস্থান নির্মাণের জন্য।
দেশের দরিদ্র মানুষের স্বার্থে যে ইউরিয়া সার বিশ্ব বাজারে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে তা আমরা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি ব্যাগপিছু মাত্র ৩০০ টাকায়। এভাবে কৃষকদের কাছে কম দামে ইউরিয়া পৌঁছে দিতে সরকারকে দিতে হয়েছে ১০ লক্ষ কোটি টাকার ভর্তুকি। ৩ লক্ষ কোটি টাকা বাজেটের ‘মুদ্রা যোজনা’ স্বনির্ভর কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যিক প্রচেষ্টাকে সফল করে তুলেছে। মূলত যুব সমাজের জন্যই এই ‘মুদ্রা যোজনা’র সূচনা। এই যোজনার অর্থ সাহায্য নিয়ে ৮ কোটি মানুষ ইতিমধ্যেই তাঁদের নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করেছেন। এখানেই শেষ নয়, প্রতিটি শিল্পোদ্যোগী আবার দু-একজনকে তাঁদের সংস্থায় কাজেরও সুযোগ করে দিয়েছেন। আর এইভাবেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন ৮-১০ কোটি মানুষ। এটাই আমাদের ‘মুদ্রা যোজনা’র সাফল্যের দিক।
করোনা পরিস্থিতিকালে প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও অণু শিল্প সংস্থাগুলির কাছে যাতে সেগুলি কোনভাবেই বন্ধ না হয়ে যায়। ‘একটিমাত্র পদ, একটিই পেনশন’ - এর আওতায় ৭০ হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে দেশের সেনাকর্মীদের জন্য। অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের পরিবারের কাছে সেই অর্থ পৌঁছে গেছে। আমি কয়েকটি উদাহরণ দিলাম মাত্র। এই ধরনের বহু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি যা একদিকে দেশের উন্নয়ন এবং অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহায়তা করেছে।
আমার প্রিয়জনেরা,
দেশের ১৩ কোটি ৫০ লক্ষ দরিদ্র ভাই-বোন দারিদ্র্যের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হতে পেরেছেন সরকারি সহায়তায়। ক্ষমতা্সীন হওয়ার মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে এই সাফল্য আমরা অর্জন করেছি। মানুষের জীবনে বোধহয় এর থেকে বড় সন্তুষ্টি কিছু হতে পারে না।
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
এইভাবেই নানা ধরনের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমাদের আর্থিক সহায়তা পৌঁছে গেছে বহু মানুষের কাছে। ৫০ হাজার কোটির আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে ফুটপাত বিক্রেতাদের। ‘প্রধানমন্ত্রী স্বনিধি প্রকল্প’-এর আওতায় এইভাবেই আমরা ১৩ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্য সীমার বাইরে নিয়ে আসার কাজে ব্যয় করেছি। আগামীদিনে বিশ্বকর্মা জয়ন্তী উপলক্ষে আমরা সূচনা করব আরও একটি কর্মসূচি যাতে প্রথাগত শিল্পকর্মে অভিজ্ঞ ও দক্ষ বয়নশিল্পী, ছুতার মিস্ত্রী, স্বর্ণকার, রাজমিস্ত্রী, ধোপা, ক্ষৌরকার সহ বিভিন্ন পেশার মানুষের ক্ষমতায়ন ঘটবে। এই যোজনার আমরা নাম দিয়েছি ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’। ১৩ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এই যোজনার সূচনাকালে। অন্যদিকে, ‘প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি’র আওতায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকা আমরা পৌঁছে দিয়েছি কৃষকদের নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। আবার, ‘জল জীবন মিশন’-এর আওতায় প্রতিটি বাসস্থানে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দিতে আমরা ব্যয় করেছি ২ লক্ষ কোটি টাকা। ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’র আওতায় দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার খরচও আমরা অনেকটা কমিয়ে এনেছি। এই যোজনার আওতায় আমরা ব্যয় করেছি ৭০ হাজার কোটি টাকা যার সাহায্যে হাসপাতালে চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবস্থা করা সম্ভব দরিদ্র সাধারণ মানুষদের জন্য। করোনা সঙ্কটকালে বিনামূল্যে সকলকে ভ্যাক্সিন দেওয়ার জন্য আমরা ব্যয় করেছি ৪০ হাজার কোটি টাকা। এমনকি গৃহপালিত গবাদি পশুর করোনা প্রতিষেধক হিসেবেও আমরা বিনিয়োগ করেছি ১৫ হাজার কোটি টাকা। 
আমার প্রিয় নাগরিকবৃন্দ তথা আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
জন ঔষধি কেন্দ্রগুলি দেশের প্রবীণ নাগরিক ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিকে নতুনভাবে শক্তি যুগিয়েছে। একটি যৌথ পরিবারে একজন ডায়াবেটিস রোগীর চিকিৎসার জন্য ব্যয় প্রতি মাসে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। কিন্তু, যে ওষুধ বাজারে ১০০ টাকায় সংগ্রহ করতে হয়, সেই ওষুধই আমরা জন ঔষধি কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে রোগীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি মাত্র ১০, ১৫ বা ২০ টাকায়। দেশে বর্তমানে এই ধরনের কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার। এগুলির মাধ্যমে ওষুধ সংগ্রহের কাজে ২০ হাজার কোটি টাকার মতো সাশ্রয় হয়েছে দেশের সাধারণ মানুষের। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি এর সুফল বেশি করে লাভ করেছে। বিশ্বকর্মা জয়ন্তী উপলক্ষে আমরা আরও নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমাদের লক্ষ্য হল ২৫ হাজার জন ঔষধি কেন্দ্র গড়ে তোলা। 
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
দেশে দারিদ্র্য যখন হ্রাস পায় তখন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় বহুগুণে। আগামী পাঁচ বছর আমাদের দেশ বিশ্বের তিনটি শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতির মধ্যে স্থান করে নেবে। দেশের যে ১৩ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষ আজ দারিদ্র্য সীমার বাইরে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন, তাঁরা এখন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। দরিদ্র মানুষের ক্রয়ক্ষমতা যখন বৃদ্ধি পায়, তখন মধ্যবিত্ত মানুষের বাণিজ্যিক প্রচেষ্টাও শ্রীবৃদ্ধি লাভ করে।
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
শহরাঞ্চলে বসবাসকারী দরিদ্র শ্রেণীর মানুষকে নানা ধরনের সমস্যার মোকাবিলা করতে  হয়। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির আশা ও আকাঙ্ক্ষা একটি নিজস্ব বাসস্থানের। তাই, আগামী বছরগুলিতে আমরা এমন একটি নতুন কর্মসূচি আনতে চলেছি যার আওতায় শহরাঞ্চলে ভাড়া করা অথবা বস্তি বাড়িতে কিংবা ছাউনিতে বসবাসকারী পরিবারগুলি নতুন একটি বাসস্থানে বসবাস করার সুযোগ পাবেন। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আয়করে ছাড়ের সীমা ২ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭ লক্ষ টাকা। বেতনভোগী কর্মচারী এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণী এর থেকে প্রভূত উপকার পাবেন বলে আমি মনে করি। ২০১৪ সালের আগে দেশে ইন্টারনেট ডেটা ব্যবহারের খরচ ছিল অনেক বেশি। কিন্তু বর্তমানে পৃথিবীতে একমাত্র আমরাই সবথেকে সস্থায় ইন্টারনেট ব্যবহার সুযোগ সম্ভব করে তুলেছি। এভাবে প্রতিটি পরিবারের অর্থের এখন সাশ্রয় হচ্ছে।
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
করোনার বিরূপ প্রভাব থেকে এখনও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বেরিয়ে আসতে পারেনি। করোনার বিরুদ্ধে আমাদের সেই যুদ্ধ এখন আরেকটি সমস্যার জন্ম দিয়েছে। সেই সমস্যা হল মুদ্রাস্ফীতির সমস্যা। সারা বিশ্বের অর্থনীতি এখন মুদ্রাস্ফীতির চাপে বিপর্যস্ত। আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এখনও পণ্য আমদানি করে থাকি, একথা সত্য। দুর্ভাগ্যবশত, চড়া দামে আমাদের সেগুলি আমদানি করতে হয়। কাজেই মুদ্রাস্ফীতির ফলে সমগ্র বিশ্বই যে আজ ক্ষতিগ্রস্ত, একথা কোনো অংশে অসত্য নয়। 
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ভারত যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। পূর্ববর্তী সময়কালের তুলনায় এক্ষেত্রে আমরা কিছু সাফল্যও অর্জন করেছি। কিন্তু তাই নিয়ে আমাদের সন্তুষ্ট থাকলে চলবে না। আমরা কখনই একথা ভাবব না যে পৃথিবীর অন্যান্য অংশের তুলনায় আমরা এখন বেশ ভালো আছি কারণ তাহলে তা আত্মতুষ্টি হয়ে দাঁড়াবে। মুদ্রাস্ফীতির বোঝাকে ন্যূনতম মাত্রায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে আমাদের এখন অনেকদূর যাওয়া বাকি। তবে সেই পদক্ষেপ গ্রহণে আমরা এখন প্রস্তুত। যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে এখন প্রস্তুত আমরা।
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
ভারত বর্তমানে তার সর্বশক্তি নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। আধুনিক থেকে আরও আধুনিক হওয়ার পথে দেশ এখন এগিয়ে গেছে বেশ কয়েক কদম। পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে ভারত তার কাজকর্ম ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে। এমনকি, গ্রিন হাইড্রোজেনের ওপর আমাদের কাজ এখন চলছে। অন্যদিকে, আমাদের মহাকাশ গবেষণার কাজও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। 
সুতরাং, এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে গভীর সমুদ্র এলাকাতেও আমাদের কর্মপ্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দেশের রেল ব্যবস্থাকে আধুনিক করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। দেশে এখন যাতায়াত করছে বন্দে ভারত বুলেট ট্রেন। পাকা সড়ক সংযোগ তৈরি হয়ে গেছে প্রায় প্রত্যেকটি গ্রামেই। বিদ্যুৎচালিত বাস ও মেট্রো রেল দেশে চালু করা হচ্ছে। আমরা ইন্টারনেটের সুযোগ পৌঁছে দিয়েছি দেশের শেষ গ্রামটি পর্যন্ত। আমরা জোর দিয়েছি জৈব-কৃষি পদ্ধতির ওপরও। তৈরি হয়েছে কৃষক উৎপাদক সমিতির প্রযুক্তি-নির্ভর একটি অ্যাপও।
আমাদের লক্ষ্য এখন ‘অন্তর্ভুক্তি ভারত’ গঠনের অঙ্গীকারকে সর্বোতভাবে পূরণ করা। দেশের দিব্যাঙ্গজনদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছি। তাঁরা এখন প্যারালিম্পিক্সে ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকাও উত্তোলন করছেন। দিব্যাঙ্গ খেলোয়াড়দের আমরা এখন নানা ধরনের প্রশিক্ষণদানেরও ব্যবস্থা করেছি। পুরনো চিন্তাভাবনা, পুরনো সংস্কার, সবকিছুকে দূরে সরিয়ে দিয়ে ভারত এখন উন্নত ভবিষ্যতের লক্ষ্যে তার যাত্রা শুরু করেছে। কোনো প্রকল্পের যখন আমরা শিলান্যাস করি, তখন আমাদের মেয়াদকালের মধ্যেই সেটি সম্পন্ন হয়ে যায় এবং তার উদ্বোধন পর্ব আমরা সমাধা করি।
আমাদের কর্মসংস্কৃতিই হল উচ্চাকাঙ্ক্ষামূলক। আমরা বড় ধরনের চিন্তাভাবনাকে গ্রহণ করি। দূরদৃষ্টিকে আমরা স্বাগত জানাই। কারণ, আমাদের লক্ষ্য হল সর্বজনের সুখ এবং সর্বজনের কল্যাণ। এটাই হল আমাদের কর্মশৈলী। কিভাবে সাফল্যকে আরও আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেটাকে ঘিরেই আমাদের যাবতীয় কর্মকাণ্ড। স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসবকালে ৭৫ হাজার অমৃত সরোবর তৈরি করার সঙ্কল্প গ্রহণ করেছি। এই ব্যবস্থা একদিকে যেমন মানবশক্তির বিকাশ ঘটাবে, অন্যদিকে তেমনই জলশক্তির সাহায্যে ভারতের পরিবেশগত সম্পদকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। দেশের ১৮ হাজার গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেওয়া, সাধারণ মানুষের জন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা, দেশের মা-বোন ও কন্যাদের জন্য শৌচাগার নির্মাণ – এ সমস্ত কিছুরই লক্ষ্যমাত্রা আমরা পূরণ করব নির্দিষ্ট সময়কালের অনেক অনেক আগে। 
ভারত যখন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তখন তা রূপায়িত হয়। আমাদের সাফল্যের খতিয়ান থেকে এটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ২০০ কোটি করোনা প্রতিষেধকদানের মাধ্যমে আমরা সাফল্যের এক রেকর্ড সৃষ্টি করেছি। সমগ্র বিশ্ব আমাদের এই সাফল্যে বিস্মিত। দেশের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, আশা-কর্মী এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা মিলিতভাবে আমাদের এই উদ্যম ও প্রচেষ্টাকে সফল করে তুলেছেন। আমাদের দেশের এটাই হল শক্তি। ইন্টারনেট সংযোগের ক্ষেত্রে আমরা ৫জি চালু করেছি। পৃথিবীর মধ্যে আমরাই বোধহয় একমাত্র দেশ যারা দ্রুততার সঙ্গে এই কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছে। দেশের ৭০০টিরও বেশি জেলায় এই কাজে আমরা সফল হয়েছি। আমাদের এখন লক্ষ্য হল ৬জি চালু করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা। আমরা একটি টাস্ক ফোর্সও গঠন করেছি। পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রাকে আমরা অতিক্রম করে গিয়েছি। ২০৩০ সালের জন্য যে পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছিল তা ২০২১-২২ অর্থ বছরের মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। 
গত ২৫ বছর ধরে দেশে যা ছিল আলোচনার স্তরে তাকে আমরা বাস্তবায়িত করেছি। কারণ, নতুন সংসদ ভবনটি এখন তৈরি হয়ে গেছে। একমাত্র মোদী সরকারই নির্দিষ্ট সময়কালের আগেই দেশকে নতুন সংসদ ভবন উপহার দিতে পেরেছে। আমার প্রিয় ভাই-বোনেরা, এটাই হল আমাদের সরকারের কর্মসংস্কৃতি যে সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমার আগেই লক্ষ্যমাত্রা ছুঁয়ে ফেলতে পারে। এই ভারত আত্মবিশ্বাসী। এ হল এমন এক ভারত যা সঙ্কল্পকে বাস্তবায়িত করার জন্য সর্বদাই প্রস্তুত।
এক কথায়, ভারত এখন অপ্রতিরোধ্য। এই ভারতের কোনো ক্লান্তি নেই। কোনো কাজই মাঝপথে ত্যাগ করতে সে রাজি নয়। এই কারণেই অর্থনৈতিক বলে বলীয়ান হয়ে আমাদের শ্রমশক্তি, নতুন শক্তি ও উদ্যম প্রদর্শন করতে পারছেন। আমাদের সীমান্ত অঞ্চলগুলি এখন অনেক বেশি সুরক্ষিত।
স্বাধীনতা দিবসের এই শুভ তথা পবিত্র মুহূর্তে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই দেশের সেনাকর্মীদের যাঁরা দেশের সীমান্ত প্রহরার কাজে অবিরাম নিয়োজিত রয়েছে। এমনকি, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষার কাজে কাজ করে চলেছেন সেনা ও আধা-সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা। আমি মনে করি যে আমাদের সেনাবাহিনীরও আধুনিকীকরণ প্রয়োজন। প্রয়োজন তাদের ক্ষমতায়ন। আমি এমন এক সেনাবাহিনী গঠন করতে প্রস্তুত যে বাহিনীর মধ্যে কোনো জরা-বার্ধক্য স্থান পাবে না। যে বাহিনী প্রয়োজনে যুদ্ধ থেকেও পিছপা হবে না। যে সর্বদাই প্রস্তুত থাকবে দেশকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। এই কারণেই সেনাবাহিনীতে আমাদের সংস্কার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
এক সময় আমরা শুনতে পেতাম যে দেশের কোথাও না কোথাও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। এজন্য নাগরিকদের সতর্কও করে দেওয়া হত। কিন্তু আজ দেশবাসী এখন নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বাতাবরণের মধ্যে রয়েছেন। কারণ আমি বিশ্বাস করি, জাতি যদি সুরক্ষিত হয় তাহলে শান্তি প্রচেষ্টা সম্ভব। তাহলেই অগ্রগতির স্বপ্নকে আমরা সফল করে তুলতে পারি। তাই, উপর্যুপরি বোমা বিস্ফোরণের সেই ঘটনা এখন ইতিহাস মাত্র। সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ এখন দেশে ন্যূনতম মাত্র। এমনকি নকশাল অধ্যুষিত অঞ্চলগুলিতেও পরিবেশ ও পরিস্থিতির ব্যাপক রূপান্তর ঘটেছে। সেখানকার পরিবেশ হয়ে উঠেছে ক্রমশ শান্তি প্রতিষ্ঠার অনুকূল।
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
অগ্রগতির প্রতিটি পর্যায়ে আমরা আগামী ২০৪৭ সালের মধ্যে এক উন্নত ভারত গঠনের স্বপ্নকে অবলম্বন করে এগিয়ে যাই। কারণ, এ শুধু স্বপ্ন মাত্র থাকবে না, বরং ১৪০ কোটি ভারতবাসীর সঙ্কল্প বাস্তবায়িত হবেই। তবে, এই সঙ্কল্প পূরণে প্রয়োজন কঠোর ও নিরলস পরিশ্রম। আমাদের জাতীয় চরিত্রই হল আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। যে সমস্ত দেশ এখন এগিয়ে গেছে, তারা সকলেই তাদের জাতীয় চরিত্রকে অবলম্বন করেছে। অর্থাৎ, এগিয়ে যাওয়ার পথে, অগ্রগতির পথে কোনো দেশের জাতীয় চরিত্র একটি বিশেষ অনুঘটকের কাজ করে। তাই জাতীয় চরিত্রকে আরও ভালোভাবে গঠন করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। আগামী ২৫ বছরে একটিমাত্র মন্ত্রকে অবলম্বন করে আমরা এগিয়ে যাব। তা হল – জাতীয় চরিত্র গঠনের সঙ্কল্প। প্রতিটি মুহূর্তে আমি আমার চেষ্টাকে নিরন্তর রাখব যাতে উন্নয়নের স্বার্থে, দেশবাসীর কল্যাণের স্বার্থে আমাদের জাতীয় ঐক্য অটুট থাকে কারণ, ভারতের ঐক্য আমাদের আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে। 
ঐক্য ও বৈচিত্র্যের মাধ্যমে দেশের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব বা পশ্চিম, গ্রাম বা শহর – প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা জোরকদমে এগিয়ে যাব। আগামী ২০৪৭ সালের মধ্যে যদি উন্নত ভারতের স্বপ্নকে আমরা সাকার করে তুলতে চাই, তাহলে ‘শ্রেষ্ঠ ভারত’ – এই মন্ত্রকে অবলম্বন করে আমাদের কর্মযজ্ঞে সামিল হতে হবে। ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ - এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী আমরা ত্রুটিমুক্ত করে বাজারে ছাড়ার ব্যবস্থা করেছি। বিশ্ববাসীকে নিশ্চিত করতে হবে যে আমাদের উৎপাদিত পণ্য সেরার সেরা। আমাদের উৎপাদিত পণ্য, আমাদের পরিষেবা, আমাদের অঙ্গীকার, আমাদের প্রাতিষ্ঠানিকতা কিংবা আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া - সবকিছুই যেন সেরার সেরা হয়ে উঠতে পারে। তাহলেই আমরা উৎকর্ষের লক্ষ্যকে স্পর্শ করতে পারব। 
নারী পরিচালিত উন্নয়ন প্রচেষ্টা হয়ে উঠবে আমাদের অগ্রগতির পথে একটি বিশেষ শক্তি। বিশ্বের মধ্যে ভারতই বোধহয় হল একমাত্র দেশ যেখানে অসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে মহিলা পাইলটদের সংখ্যা হল সর্বোচ্চ। ‘চন্দ্রায়ন’ বা অন্য যে কোনো মহাকাশ প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে দেশের মহিলা বিজ্ঞানীরা রয়েছেন সামনের সারিতে। 
মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। নারীশক্তির সম্ভাবনাকে যেমন আমরা উৎসাহিত করছি, তেমনই আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি মহিলা পরিচালিত উন্নয়নের দিকেও। মহিলা পরিচালিত উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমাদের প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিয়েছে জি-২০ভুক্ত দেশগুলিও। কারণ তারা এর গুরুত্ব উপলব্ধি করেছে। একইভাবে, আমাদের দেশের যে সমস্ত এলাকা ও অঞ্চল উন্নয়নের দিক থেকে একদা অবহেলিত ও বঞ্চিত ছিল, সেগুলিকে উন্নয়নের মানচিত্রে আমরা নিয়ে এসেছি। ভারতমাতার কোনো অংশ যদি অনুন্নত থাকে, তাহলে আমরা কখনই দেশকে সম্পূর্ণ উন্নত বলে ঘোষণা করতে পারি না। এই কারণেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে, তাদের উচ্চাভিলাষকে আমরা উৎসাহ দিয়ে এসেছি। তার কারণ আমাদের লক্ষ্য হল সমাজ তথা প্রতিটি অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে প্রতিটি অঞ্চল যেন তার সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে।
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
ভারত হল গণতন্ত্রের জননী। বৈচিত্র্যের আদর্শরূপে ভারত বিশ্বের কাছে অনুসরণযোগ্য এক আদর্শ। বহু ভাষা, বহু উপ-ভাষা, বিভিন্ন পোশাক-পরিচ্ছদ – সমস্ত কিছু নিয়ে এই বৈচিত্র্য গড়ে উঠেছে আমাদের মাতৃভূমিতে। এ সমস্ত কিছুকে অবলম্বন করেই চরৈবেতি মন্ত্রকে সম্বল করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। 
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
আমি আপনাদের ঐক্যের কথা বলেছি। মণিপুরের ঘটনায় ব্যথা অনুভব করে মহারাষ্ট্র। আসাম যদি বন্যা কবলিত হয়, কেরলও তখন অস্থির হয়ে পড়ে। দেশের কোনো প্রান্তে যদি অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটে, তাহলে নিজেদের অঙ্গহানির মতোই সেই ব্যথা আমরা অনুভব করি। আমাদের সামাজিক দায়িত্ব তথা দায়বদ্ধতা দেশের কন্যা-সন্তানরা যাতে কোনভাবেই অত্যাচারিত ও নিপীড়িত না হয়, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া। এই বিষয়টিকে আমাদের পারিবারিক দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা বলে মনে করা প্রয়োজন। গুরু গ্রন্থ সাহিব যেদিন আফগানিস্তান থেকে এ দেশে নিয়ে আসা হয়, সমগ্র জাতি তখন গর্ব অনুভব করেছিল। কোভিড পরিস্থিতিকালে শুধু ভারতেই নয়, পৃথিবীর অন্যত্রও ভারতীয়রা ক্ষুধার্থ মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিয়েছেন। প্রয়োজনে তাঁদের পাশে সাহায্যের পসরা নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। বিশ্ব চমৎকৃত হয়েছে। ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে। ভারত তাই নিজেকে গর্বিত অনুভব করেছে।
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
নারী জাতির প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্ভ্রমের কথা আমি এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করব। এক বিদেশ সফরকালে আমাকে প্রশ্ন করা হয় যে আমাদের দেশের মেয়েরা বিজ্ঞান ও ইঞ্জিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করে কিনা। আমি তার জবাবে বলেছিলাম, আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং গণিতে যথেষ্ট দক্ষ ও পারদর্শী। কারণ, তারা এই বিষয়গুলি নিয়ে পড়াশোনা করেছে। তারা অবাক হয়, বিস্মিত হয় আমার উত্তর শুনে। এইভাবেই আমাদের দক্ষতা ও ক্ষমতা আজ বিশ্বের সামনে প্রতীয়মান।
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
আজ দেশের ১০ কোটি মহিলা যুক্ত রয়েছেন মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে। যে কোনো মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যদি কোনো গ্রাম পরিদর্শনে যান তাহলে সেখানে আপনারা ‘ব্যাঙ্ক দিদি’, ‘অঙ্গনওয়াড়ি দিদি’ এবং ওষুধপত্র বণ্টন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত দিদিদের কাজ করতে দেখবেন। আমি এখন একটি স্বপ্ন দেখেছি। তা হল – দেশের মহিলাদের মধ্য থেকে ২ কোটি মহিলাকে আমি লাখপতি হিসেবে দেখতে ইচ্ছুক। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শক্তির ওপর নির্ভর করে সেই স্বপ্নকে আমাদের সফল করতে হবে। গ্রামীণ মহিলারা হলেন অনন্ত সম্ভাবনার উৎস। তাই, নতুন একটি কর্মসূচির কথা আমি চিন্তা করেছি। এর আওতায় মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বোনেদের কৃষি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর অবশ্যম্ভাবী ফল রূপে দেশের কৃষি-প্রযুক্তি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। ড্রোন মেরামতের কাজেও মহিলাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আমরা কাজে লাগাতে আগ্রহী। এই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার হাজার হাজার মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির মধ্যে ড্রোন বণ্টন করার পরিকল্পনা করেছে। সূচনায় এজন্য আমরা ১৫ হাজার মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে আমাদের কাজ শুরু করে দেব। 
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
দেশ এখন আধুনিক থেকে আধুনিকতর হয়ে ওঠার পথে। রেল, সড়ক, আকাশপথ, জলপথ – সর্বত্রই দেশ এখন আরও আরও অগ্রগতির পথে। তথ্যপ্রযুক্তি, তথ্য প্রকাশ ও তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রেও আমরা কোনভাবেই পিছিয়ে নেই। গত ৯ বছরে দেশের উপকূল এলাকাগুলির উন্নয়নে আমরা বিশেষভাবে জোর দিয়েছি। আমরা জোর দিয়েছি দেশের পার্বত্য অঞ্চল তথা আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলির উন্নয়নে। ‘পর্বতমালা’, ‘ভারতমালা’ সহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই বিশেষ বিশেষ দিকে আমাদের কর্মসূচি রূপায়িত হচ্ছে। গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে সমৃদ্ধ উত্তর ভারতকে যুক্ত করার কথাও রয়েছে আমাদের চিন্তাভাবনায়। এই লক্ষ্যে আমরা কাজও শুরু করে দিয়েছি। সুচিকিৎসার জন্য নতুন নতুন হাসপাতাল স্থাপনের মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছি আমরা। দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পঠনপাঠনের জন্য আমরা আসন সংখ্যাও বৃদ্ধি করেছি। এমনকি, মাতৃভাষার মাধ্যমে পঠনপাঠন ব্যবস্থা চালু করে আমরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে সকলের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছি। মাননীয় শীর্ষ আদালতের একটি সিদ্ধান্তকে আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। এখন থেকে যাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন, তাঁরা তাঁদের মাতৃভাষাতেই আদালতের গুরুত্বপূর্ণ আদেশের কপি হাতে পেয়ে যাবেন। মাতৃভাষার গুরুত্বকে সাম্প্রতিককালে আমরা আরও বেশি করে প্রাধান্য দিয়েছি। 
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
দেশের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে আমরা ‘উজ্জ্বল সীমান্ত গ্রাম’ নামে একটি কর্মসূচি চালু করেছি। এই সেদিন পর্যন্ত সীমান্ত গ্রামগুলিকে দেশের শেষ গ্রাম বলে চিহ্নিত করা হত। কিন্তু, এই চিন্তাভাবনার আমরা আমূল পরিবর্তন করেছি। সীমান্ত গ্রামগুলি এখন আর দেশের শেষ সীমায় অবস্থিত গ্রামমাত্র নয়, বরং সেগুলি এখন দেশের প্রথম গ্রাম হয়ে উঠেছে। পূর্বদিকে যখন সূর্যোদয় ঘটে তখন এই প্রান্তের মানুষও প্রথম সূর্যকিরণের স্পর্শ পান। সূর্য যখন অস্তগামী হয়, তখন শেষ রবিরশ্মির কল্যাণময় সুফলটিও তাঁদের স্পর্শ করে যায়। এইভাবে গ্রাম ও গ্রামের মানুষ রয়েছেন এখন আমার চিন্তাভাবনার মধ্যে। আমি আনন্দের সঙ্গেই জানাচ্ছি যে আজ ঐতিহাসিক লালকেল্লায় দেশের ৬০০ জন পঞ্চায়েত প্রধান আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথিরূপে উপস্থিত রয়েছেন। এই প্রথম তাঁরা দূরদুরান্ত থেকে ভ্রমণ করে এখানে এসে উপস্থিত হয়েছেন নতুন নতুন সঙ্কল্প ও দৃঢ় মানসিকতা নিয়ে। 
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
সুষম উন্নয়নের স্বার্থে আমরা উচ্চাভিলাষী জেলা ও উচ্চাভিলাষী ব্লকগুলির উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়েছি। এর ইতিবাচক ফল আজ আমরা প্রত্যক্ষও করছি। এক সময় এই জেলাগুলি ছিল উন্নয়নের মাপকাঠিতে অনেক পিছিয়ে। কিন্তু সেখানে এখন কাজের জোয়ার এসেছে। আগামীদিনগুলিতে এই সমস্ত জেলা ও ব্লক যে আরও উন্নত হবে, অগ্রগতির পথে আরও এগিয়ে যাবে, একথা আমি নির্দ্ধিধায় বলতে পারি। আমাদের জাতীয় চরিত্র প্রসঙ্গে আমি ভারতের ঐক্যের কথা উল্লেখ করেছি। আমি একথাও বলেছি যে উৎকর্ষের লক্ষ্যে ভারতকে সর্বোতভাবে কাজ করে যেতে হবে। নারী বিকাশের বিষয়টিও ছিল আমার বক্তব্যের মধ্যে। সেইসঙ্গে আরও একটি বিষয়েও আমি এখন আলোকপাত করতে চাই। সমগ্র বিশ্বের উন্নয়ন ও কল্যাণও আমাদের জাতীয় চরিত্রের একটি বৈশিষ্ট্য হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। আমরা দেশকে এতটাই শক্তিশালী করে তুলতে আগ্রহী যাতে বিশ্বের কল্যাণে ভারত এক অবদানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। করোনার মতো একটি বিশ্ব সঙ্কটের সফল মোকাবিলার মাধ্যমে আমাদের দেশের সম্মান ও মর্যাদাকে আমরা বিশ্বের সামনে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরতে পেরেছি। ফলে, ভারত এখন হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির বন্ধুস্থানীয়।
বিশ্বের একটি মিত্র দেশ হিসেবে আমরা আমাদের পরিচয় ও পরিচিতিকেও প্রতিষ্ঠিত করেছি। বিশ্বকল্যাণের কথা যখন আমরা বলি, তখন আমি ভারতের যে মৌলিক চিন্তাভাবনা তাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলি। আমি আনন্দের সঙ্গে আপনাদের জানাচ্ছি যে ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মার্কিন কংগ্রেসের মাননীয় কয়েকজন প্রতিনিধি আজ আমাদের মধ্যে এখানে উপস্থিত রয়েছেন। 
ভারতের বর্তমান প্রেক্ষাপট কি এবং কিভাবেই বা আমরা বিশ্বকল্যাণকে সম্ভব করে তুলতে পারি? আমরা একথা বলেছি যে ‘একটিমাত্র সূর্য, একটিমাত্র পৃথিবী, একটিমাত্র গ্রিড’। পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে একথার উল্লেখ করেছি আমি। আমাদের এই কথাকে বিশ্ব স্বীকৃতি দিয়েছে। কোভিড-পরবর্তীকালে আমরা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছি যে আমাদের লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গী হল ‘এক অভিন্ন পৃথিবী তথা এক অভিন্ন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা’। বিপর্যয়ের মুহূর্তে যখন মানবজাতি, প্রাণীজগৎ এবং আমাদের চারপাশের গাছপালাকে আমরা রক্ষা করতে পারব, তখনই যে কোনো সমস্যার সমাধান আমাদের দ্বারা সম্ভব হয়ে উঠবে। 
জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্‌-পর্বে আমরা ঘোষণা করেছি যে ‘এক অভিন্ন পৃথিবী, এক অভিন্ন পরিবার তথা এক অভিন্ন ভবিষ্যৎ’ – এই আদর্শ চিন্তাভাবনায় আমরা বিশ্বাসী এবং সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যেতে আগ্রহী। সমগ্র বিশ্ব যখন জলবায়ু সঙ্কটের মোকাবিলায় জেরবার, তখন আমরাই পথ দেখিয়েছি তাদের। আমরা তাদের জানিয়েছি আমাদের ‘মিশন লাইফ’ উদ্যোগ ও কর্মসূচির কথা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে আমরা সূচনা করেছি আন্তর্জাতিক সৌর সমঝোতাও। এমনকি, জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বকেও আমরা তুলে ধরেছি বিশ্ববাসীর সামনে। ‘বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স’-এর ধারণাটিকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে গিয়েছি বেশ কয়েক কদম।
প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে শুরু করে বিশ্ব উষ্ণায়ন, বিভিন্ন পরিকাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাই আমাদের এখন প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের। এই কারণেই আমরা সূচনা করেছি সিডিআরআই কর্মসূচি যা বিশ্ববাসীকে সমাধানের পথ বাৎলে দিতে পারবে। সমুদ্র এলাকায় সংঘর্ষ এড়াতে ‘সাগর মঞ্চ’ গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছি আমরাই, কারণ তা নৌ-শক্তিগুলিকে শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করবে। চিরাচরিত চিকিৎসার উপযোগিতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সম্যক ধারণা ও সচেতনতা তুলে ধরতে আমরা ভারতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজে মনোনিবেশ করেছি। যোগ ও আয়ুর্বেদের মাধ্যমে আমরা বিশ্ববাসীর স্বাস্থ্য ও কল্যাণকে নিশ্চিত করতে আগ্রহী। বিশ্বকল্যাণের লক্ষ্যে ভারত একটি শক্তিশালী ভিত এখন তৈরি করে দিয়েছে। এর ওপর নির্ভর করে সমবেতভাবে, মিলিতভাবে আমাদের বিশ্বকল্যাণের পথে অগ্রসর হতে হবে। 
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
আমাদের রয়েছে অনেক স্বপ্ন, স্থির সঙ্কল্প এবং সুনির্দিষ্ট নীতি। আমাদের সৎ অভিপ্রায় নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠতে পারে না। বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে তার সমাধানের পথ আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। তাই, আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন, আপনাদের সাহায্য ও আশীর্বাদের প্রত্যাশী হয়ে আজ আমি লালকেল্লায় উপস্থিত হয়েছি। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জাতির প্রয়োজন কতটা তা আমি উপলব্ধি করেছি। আমার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আমি বলতে পারি যে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে আমাদের বিভিন্ন সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে। স্বাধীনতার অমৃতকালে দেশ যখন ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন করবে, সেই সময় বিশ্বের সামনে আমাদের ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকা উত্তোলিত হবে উন্নত ভারতের একটি পতাকা রূপে। 
নাগরিক এবং একটি পরিবারের সদস্য রূপে সমবেত দায়িত্ব নিয়ে আমাদের তা নিশ্চিত করতে হবে। আমি যদি গত ৭৫ বছরের ইতিহাস খতিয়ে দেখি তাহলে দেখতে পাব যে ভারতে সম্পদ ও সম্ভাবনার কোনদিন কোনরকম ঘাটতি ছিল না। তাহলে আমরা আরও একবার আমাদের এই সম্পদ ও সম্ভাবনার বলে বলীয়ান হয়ে বিশ্বের সামনে নিজেদের একটি উন্নত দেশ রূপে কেন তুলে ধরতে পারব না? বন্ধুগণ এবং আমার পরিবার-পরিজন, আমার স্থির ও নিশ্চিত বিশ্বাস যে ২০৪৭ সালে স্বাধীনতা শতবর্ষ পূর্তিকালে আমরা উন্নত ভারত রূপে নিজেদের মেলে ধরতে পারব। ভুললে চলবে না, আমাদের রয়েছে এক বিশেষ যুবশক্তি যাদের সদস্যরা বয়সে খুবই তরুণ, খুবই নতুন। 
স্বপ্নকে যদি সফল করে তুলতে হয় তাহলে সঙ্কল্প পূরণ করা অবশ্য প্রয়োজন। আমাদের দেশের সমস্যার মূলে রয়েছে দুর্নীতি। উঁইপোকার মতো এই দুর্নীতি আমাদের সমগ্র ব্যবস্থাকে কুড়ে কুড়ে খেয়েছে। দেশের সমস্ত সম্ভাবনার বীজ লুপ্ত করে দিতে চেয়েছে। তাই, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং দুর্নীতি থেকে মুক্ত থেকে আমাদের কাজে এগিয়ে যাওয়া এখন আশু প্রয়োজন। দেশবাসী, আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন, এটাই হল মোদীর অঙ্গীকার। আমার ব্যক্তিগত অঙ্গীকারই হল দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। এখানেই শেষ নয়। পারিবারিক তথা বংশপরম্পরার রাজনীতি আমাদের দেশকে প্রায় ধ্বংস করে দিতে চেয়েছে। তা শুধু সমগ্র দেশকেই গ্রাস করেনি, সাধারণ মানুষের অধিকারকেও হরণ করে নিয়েছে। 
আমরা একইসঙ্গে তোষণ নীতির বিরুদ্ধে। এই তোষণ নীতি দেশের মৌলিক চিন্তাভাবনাকে কলঙ্কিত করেছে। আমাদের ঐক্য ও সম্প্রীতির জাতীয় চরিত্রকে নষ্ট করে দিতে চেয়েছে। কায়েমি স্বার্থের মানুষরা চেয়েছে দেশের সবকিছুকে তছনছ করে দিতে। তাই, এই সমস্ত কুফলের বিরুদ্ধে, কু-শক্তির বিরুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়ে আমাদের লড়াই করে যেতে হবে। দরিদ্র সাধারণ মানুষ, আমাদের দলিত ভাই, পিছিয়ে পড়া মানুষ, আমাদের আদিবাসী ভাই ও বোনেরা, আমাদের মা ও বোনেরা, আমাদের সকলকেই এই কুফল ও কু-শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে যেতে হবে। আমাদের পরিবেশকে করে তুলতে হবে দুর্নীতির কলুষতামুক্ত।
এই কারণেই প্রয়োজন সমগ্র ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও কলুষমুক্ত রাখা। প্রযুক্তির সাহায্যে দুর্নীতি দূর করার জন্য সরকার নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত ৯ বছরে আমরা এই ক্ষেত্রটিতে অসাধ্যসাধন করেছি বলা চলে। এইভাবেই আপনাদের মোদী দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। প্রায় ১০ কোটি মানুষ এক সময় অসৎ উপায়ে অর্থ আত্মসাৎ করার চেষ্টা করত। তারা অন্যায় করত, মানুষের প্রতি অবিচার করত। এই ১০ কোটি মানুষের খোঁজ বাস্তবের মাটিতে পাওয়া অসম্ভব কারণ, অন্যের নামে এবং বেনামে বা কাল্পনিক নামে অর্থ রোজগারের ফাঁকফোকর তারা খুঁজে বেরাত। এমনকি সরকারি কর্মসূচির বিভিন্ন সুফলও ছিল একদা তাদের করায়ত্ত। কিন্তু আমরা দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার সঙ্কল্প গ্রহণ করে ১০ কোটি বেনামি লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছি। 
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
এই ধরনের অসাধু ব্যক্তিরা আপনাদের কষ্টার্জিত অর্থ লুন্ঠন করে পালিয়ে বেরাত। এই ধরনের অসাধুতার বিরুদ্ধে আমরা আমাদের অভিযানকে জোরদার করে তুলেছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে আমরা চার্জশিটও দাখিল করেছি। আমাদের ব্যবস্থা এখন এতটাই জোরদার যে অভিযুক্তদের পক্ষে জামিন পাওয়াও এক প্রকার অসম্ভব। এইভাবে সরকারি ব্যবস্থার সর্বত্র আমাদের নিয়মকানুনকে আমরা যথেষ্ট কঠোর করে তুলেছি। কারণ, আমাদের উদ্দেশ্য সৎ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের এই কঠোর মনোভাব। 
স্বজনপোষণ এবং তোষণ নীতি দেশকে দুর্ভাগ্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে। আমরা ভাবতে পারি না যে একটি গণতান্ত্রিক কাঠামোয় কিভাবে একটি রাজনৈতিক দল এইভাবে গণতন্ত্রের প্রভূত ক্ষতিসাধন করে গেছে। পারিবারিক তথা বংশপরম্পরার রাজনীতি কুড়ে কুড়ে খেয়েছে আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে। পারিবারিক দল এবং বংশপরম্পরায় শাসন কায়েম, এটাই ছিল তাদের নীতি ও মন্ত্র। মানুষে মানুষে বিভাজন সৃষ্টি করে স্বজনপোষণকে প্রশ্রয় দিয়ে দেশের মেধাশক্তিকে তারা বিনষ্ট করতে চেয়েছে। কিন্তু, দেশকে শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্যে আমরা স্থিরসঙ্কল্প। তাই, যে কোনো ধরনের দুর্নীতি, স্বজনপোষণ ও তোষণ নীতিকে দমন আমরা করবই। আমাদের নীতিই হল সর্বজনের কল্যাণ, সর্বজনের সুখ। তোষণ নীতি যে কোনো সময়েই সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। 
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
আমাদের সকলেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। আমরা সকলে যেভাবে জীবন অতিবাহিত করেছি, সেইভাবেই যদি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকেও জীবনধারণ করতে আমরা বাধ্য করি তাহলে তা শুধু একটি অন্যায়ই হবে না, তা হবে একটি সাংঘাতিক অপরাধ। তাই, আমাদের দায়বদ্ধতা হল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এক সমৃদ্ধ ভারত উপহার দেওয়া। মনে রাখতে হবে যে অমৃতকাল হল আমাদের কর্তব্যকাল এবং কর্তব্যের আহ্বানে সাড়া দিতে হবে আমাদের সকলকেই। তাই আমাদের দায়িত্বশীলতা ও দায়বদ্ধতাকে কোনভাবেই আমরা ঝেড়ে ফেলে দিতে পারি না। মহাত্মা গান্ধী একদা যে ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই ভারত আমাদের গড়ে তুলতে হবে। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীরাও এক উন্নত ভারত দেখে যেতে চেয়েছিলেন। দেশের স্বাধীনতার লক্ষ্যে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তাঁরা সকলেই স্বপ্ন দেখতেন এক উন্নত স্বাধীন ভারতের। 
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
২০১৪ সালে আমি যখন সরকার গঠন করি, তখন আমার প্রতিশ্রুতি ছিল সমগ্র ব্যবস্থার পরিবর্তনসাধন। ১৪০ কোটি ভারতবাসী আমার ওপর তাঁদের আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন। আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করে গিয়েছি তাঁদের সেই আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষার জন্য। সংস্কার প্রচেষ্টা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং রূপান্তর প্রচেষ্টা - এই তিনটি মন্ত্রকে সম্বল করে আমি নিরলস পরিশ্রম করে গিয়েছি। এইভাবে দেশে সেবা করে যাওয়া হল আমার একটি গর্বের বিষয়, কারণ আমার কাছে ‘জাতিই সর্বপ্রথম’। আমার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে আপনারা আমাকে আবার আশীর্বাদ করেছিলেন ২০১৯ সালে। আমি আবারও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে আগামী পাঁচ বছরকে আমি এক সোনালী ভবিষ্যৎ রূপে গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ যাতে আগামী ২০৪৭ সালের মধ্যে আমাদের স্বপ্নকে আমরা সফল করে তুলতে পারি। আশা করি, এর পরের স্বাধীনতা দিবসে আমি লালকেল্লার এই প্রাকার থেকে আমাদের সাফল্য, আমাদের দক্ষতা, আমাদের অগ্রগতির একটি উজ্জ্বল ছবি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে পারব।
আমার প্রিয়জনেরা,
আমি উঠে এসেছি আপনাদের মধ্যে থেকেই। আমি বেঁচে আছি আপনাদের সকলের মধ্যেই। আমার যদি কোনো স্বপ্ন থেকে থাকে তা হল আপনাদের জন্য। যদি আমার স্বেতবিন্দু নির্গত হয় তবে তাও কিন্তু আপনাদের জন্য। আপনারা যে শুধুমাত্র আমার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করেছেন তাই-ই একমাত্র কারণ নয়, আমি মনে করি আপনারা সকলেই আমার পরিবারের সদস্য, আমার একান্তই প্রিয়জন। তাই, আপনাদের পরিবারের একজন হয়ে আমি কখনই আপনাদের দুঃখ-কষ্ট দেখে যেতে পারি না। আপনাদের দু’চোখের স্বপ্নকে আমি কখনই ঝাপসা করে দিতে পারি না। তাই, আপনাদের সঙ্কল্প এবং আমার অঙ্গীকার দুইয়ে মিলেমিশে এক নতুন ভারত আমি আপনাদের উপহার দিতে চাই। স্বাধীনতা সংগ্রামকালে যাঁরা জীবন উৎসর্গ করে গেছেন তাঁদের সকলের আশীর্বাদ রয়েছে আমাদের ওপর। ১৪০ কোটি নাগরিকের কাছে এক বিশেষ সুযোগ এখন উপস্থিত। এই সুযোগ আমাদের সামনে অফুরন্ত সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। শক্তি যুগিয়েছে আমাদের সকলের মধ্যে। 
আমার প্রিয়জন,
অমৃতকালের প্রথম বছরটিতে এখানে এইভাবে যখন আমি আপনাদের সঙ্গে আলাপচারিতায় ব্যস্ত, তখন আমি পূর্ণ আস্থা নিয়ে আপনাদের বলতে চাই -
সময়ের চাকা যেমন সর্বদা থেমে থাকে না,
অমৃতকালে পৌঁছনোর চাকাও সেভাবেই আপন গতিতে এগিয়ে যাবে,
প্রত্যেকের স্বপ্ন সে তো আমারই স্বপ্ন,
সকল স্বপ্নকেই আমরা লালন করেছি, পালন করেছি, আমরা সাহসিকতার সঙ্গে আরও এগিয়ে গিয়েছি,
আমাদের নবীন ও যুব প্রতিভা রয়েছে আমাদের সঙ্গে,
সঠিক নীতি, ন্যায়নীতি, নতুন পথ, নতুন গতি সবকিছু নিয়ে আমরা এখন যাত্রাপথে রয়েছে
যে কোনো চ্যালেঞ্জ নির্ভীকভাবে মোকাবিলায় আমরা এখন প্রস্তুত, বিশ্বের সামনে আমাদের দেশের সম্মান ও মর্যাদা আমরা আরও আরও বাড়িয়ে তুলতে চাই।
আমার প্রিয় পরিবার-পরিজন,
ভারতের সর্বত্র প্রতিটি প্রান্তের মানুষই আমার পরিবার-পরিজন, আমার একান্ত আপন। আজ স্বাধীনতা দিবসের এই শুভ মুহূর্তে আমি আপনাদের সকলকেই জানাই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। মনে রাখতে হবে যে অমৃতকাল হল আমাদের কর্তব্যকাল। মা ভারতীর জন্য ভালো কিছু করে যাওয়ার শুভ মুহূর্ত হল এটাই। স্বাধীনতার যুদ্ধকালে যে প্রজন্মের জন্ম হয়েছিল ১৯৪৭ সালের আগে, তাঁরা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করে যাওয়ার সুযোগ লাভ করেছিলেন। দেশের জন্য মৃত্যুবরণ করতে তাঁরা ছিলেন সর্বদাই প্রস্তুত। কিন্তু এখন হয়তো দেশের স্বাধীনতার জন্য আমাকে মৃত্যুবরণ করতে হবে না। কিন্তু, আরও ভালভাবে বাঁচার জন্য আমাদের এখন নিরলসভাবে কাজ করে যেতে হবে। প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসে দেশের কল্যাণ, দেশের উন্নয়নই ধ্বনিত হচ্ছে। ১৪০ কোটি দেশবাসীর সঙ্কল্পকে অমৃতকালের মধ্যে রূপায়ণের অঙ্গীকার আমাদের গ্রহণ করতে হবে। ২০৪৭ সালে যখন আমাদের জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হবে, তখন সমগ্র বিশ্ব প্রশংসার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবে আমাদের উন্নত ভারতের দিকে। এই বিশ্বাস, এই সঙ্কল্প এবং এই শুভকামনা জানিয়ে আমি আমার বক্তব্য শেষ করছি। আপনাদের সকলকেই জানাই আমার উষ্ণতম অভিনন্দন।
জয় হিন্দ, জয় হিন্দ, জয় হিন্দ!
ভারতমাতার জয়, ভারতমাতার জয়, ভারতমাতার জয়!
বন্দে মাতরম! বন্দে মাতরম! বন্দে মাতরম!
সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ!

 

AC/SKD/DM



(Release ID: 1949517) Visitor Counter : 531