অর্থমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

২০২২-২৩ কেন্দ্রীয় বাজেটের উল্লেখযোগ্য দিক

Posted On: 01 FEB 2022 1:18PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
 
ম্যাক্রো তথা বৃহৎ অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে সার্বিক কল্যাণের উপর গুরুত্ব দিয়ে এবারের কেন্দ্রীয় বাজেট ম্যাক্রো অর্থনীতির বিকাশের ক্ষেত্রে পরিপূরক হয়ে উঠতে চায়। কেন্দ্রীয় অর্থ তথা কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী আজ সংসদে ২০২২-২৩ এর কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেছেন। 
 
এই বাজেটের উল্লেখযোগ্য দিক নিম্নরূপ:
 
প্রথম অংশ
• ভারতের আর্থিক বিকাশ ৯.২ শতাংশ অনুমান করা হয়েছে, যা বৃহৎ অর্থনীতিগুলির মধ্যে সর্বাধিক হয়ে উঠবে। 
• ১৪টি ক্ষেত্রে উৎপাদন সংযুক্ত উৎসাহভাতা কর্মসূচির আওতায় ৬০ লক্ষ নতুন কাজের সুযোগ। 
• পিএলআই কর্মসূচিতে অতিরিক্ত ৩০ লক্ষ কোটি টাকার সমপরিমাণ উৎপাদনের সম্ভাবনা।
• অমৃতকালে আগামী ২৫ বছরে ভারত যখন স্বাধীনতার ১০০ বছরে পৌঁছবে, সেই লক্ষ্যে এবারের বাজেট ৪টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করবে। এগুলি হ’ল:
 
 পিএম গতিশক্তি
 সার্বিক উন্নয়ন 
 উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ, উদীয়মান ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা, শক্তি ক্ষেত্রে রূপান্তর এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কর্মপরিকল্পনা।
 বিনিয়োগে অর্থ সহায়তা
 
পিএম গতিশক্তি
• যে ৭টি ক্ষেত্র পিএম গতিশক্তির চালিকাশক্তি, সেগুলি হ’ল – সড়ক, রেল, বিমানবন্দর, বন্দর, গণপরিবহণ, অভ্যন্তরীণ জলপথ এবং লজিস্টিক পরিকাঠামো।
 
পিএম গতিশক্তি ন্যাশনাল মাস্টার প্ল্যান
• আর্থিক রূপান্তরণ, বাধা-বিপত্তিহীন বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং লজিস্টিক ক্ষেত্রে পারদর্শিতার জন্য পিএম গতিশক্তি ন্যাশনাল মাস্টার প্ল্যান উপরোক্ত ৭টি ক্ষেত্রের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে। 
• জাতীয় পরিকাঠামো শৃঙ্খলে এই ৭টি ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত প্রকল্পকে পিএম গতিশক্তি কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা হবে। 
 
সড়ক পরিবহণ
• ২০২২-২৩ এ জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের ২৫ হাজার কিলোমিটার সম্প্রসারণ।
• জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার সংস্থান। 
 
মাল্টিমোডাল লজিস্টিক পার্ক
• দেশের ৪টি জায়গায় মাল্টিমোডাল লজিস্টিক পার্ক গড়ে তোলার জন্য ২০২২-২৩ এ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বরাত। 
 
রেল
• ‘এক স্টেশন, এক পণ্য’ উদ্যোগ স্থানীয় ব্যবসা ও সরবরাহ-শৃঙ্খলের সহায়ক হবে।
• ২০২২-২৩ এ সম্পূর্ণ দেশীয় বিশ্বমানের প্রযুক্তি ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ‘কবচ’ কর্মসূচির আওতায় ২ হাজার কিলোমিটার রেল নেটওয়ার্ককে নিয়ে আসা হবে। 
• আগামী তিন বছরে নতুন প্রজন্মের ৪০০টি বন্দে ভারত ট্রেন তৈরি করা হবে। 
• আগামী তিন বছরে মাল্টিমোডাল লজিস্টিক ক্ষেত্রে ১০০টি পিএম গতিশক্তি কার্গো টার্মিনাল গড়ে তোলা হবে। 
 
পর্বতমালা
• সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে জাতীয় রোপওয়ে উন্নয়ন কর্মসূচি ‘পর্বতমালা’ গ্রহণ করা হবে। 
• ২০২২-২৩ এ ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ ৮টি রোপওয়ে প্রকল্পের বরাত। 
 
সার্বিক উন্নয়ন
কৃষি
• গম ও ধান সংগ্রহের জন্য ১ কোটি ৬৩ লক্ষ কৃষককে ২ লক্ষ ৩৭ হাজার কোটি টাকা পাওনা মেটানো হয়েছে। 
• সারা দেশে রাসায়নিক মুক্ত প্রাকৃতিক কৃষি কাজে অগ্রাধিকার। গঙ্গানদী বরাবর ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ করিডরে চাষের জমিতে প্রাথমিকভাবে এ ধরনের কৃষি কাজে গুরুত্ব। 
• কৃষি কাজ ও গ্রামীণ শিল্পোদ্যোগের জন্য স্টার্টআপগুলিকে অর্থ সহায়তা যোগাতে নাবার্ড তহবিল সংস্থান করবে। 
• ফসল চাষের এলাকার মূল্যায়ন, ভূমি রেকর্ডের ডিজিটাইজেশন, কীটনাশক ছড়ানো প্রভৃতি কাজের জন্য ‘কিষাণ ড্রোন’।
 
কেন-বেতোয়া প্রকল্প
• কেন – বেতোয়া সংযুক্তিকরণ প্রকল্প রূপায়ণের জন্য ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ। 
• কেন – বেতোয়া সংযুক্তিকরণ প্রকল্পে ৯ লক্ষ ৮ হাজার হেক্টর কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা।
 
অতিক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ
• উদ্যম, ই-শ্রম, এনসিএস এবং আসীম পোর্টালগুলির সংযুক্তিকরণ।
• আপৎকালীন ঋণ সাহায়তা নিশ্চয়তা কর্মসূচির আওতায় ১৩০ লক্ষ ছোট ও মাঝারি শিল্পকে অতিরিক্ত ঋণ সুবিধা।
• আপৎকালীন ঋণ সহায়তা নিশ্চয়তা কর্মসূচির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৩-এর মার্চ পর্যন্ত। 
• আপৎকালীন ঋণ সহায়তা নিশ্চয়তা কর্মসূচির আওতায় গ্যারান্টি কভার ৫০ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লক্ষ কোটি টাকা। 
• অতিক্ষুদ্র ও ছোট শিল্প সংস্থাগুলির জন্য ঋণ সহায়তা নিশ্চয়তা ট্রাস্টের মাধ্যমে অতিরিক্ত ২ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা। 
• ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রাইজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেলারেটিং এমএসএমই পারফর্ম্যান্স (আরএএমপি) কর্মসূচি শুরু হবে। 
 
দক্ষতা উন্নয়ন
• অনলাইন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দক্ষতার মানোন্নয়নে ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ফর স্কিলিং অ্যান্ড লাইভলিহুড বা দেশ-স্ট্যাক ই-পোর্টাল চালু হবে। 
• স্টার্টআপগুলিকে ড্রোন শক্তি ও ড্রোন অ্যাস এ সার্ভিস ক্ষেত্রে সাহায্যের জন্য উৎসাহ। 
 
শিক্ষা
• পিএম ই-বিদ্যা কর্মসূচিতে ওয়ান ক্লাস – ওয়ান টিভি চ্যানেল অনুষ্ঠান ২০০টি চ্যানেলে দেখা যাবে। 
• সৃজনশীল চিন্তাভাবনা-নির্ভর দক্ষতার প্রসারে এবং অনুকূল শিক্ষণ পরিবেশ গড়ে তুলতে ভার্চ্যুয়াল ল্যাব এবং স্কিলিং ই-ল্যাব গড়ে তোলা হবে। 
• ডিজিটাল টিচারদের মাধ্যমে উচ্চ গুণমানসম্পন্ন ই-শিক্ষণ পদ্ধতি উদ্ভাবন।
• ব্যক্তিগত শিক্ষণ অভিজ্ঞতা সহ বিশ্বমানের সর্বজনীন শিক্ষার জন্য ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে।
 
স্বাস্থ্য
• জাতীয় ডিজিটাল হেলথ ইকোসিস্টেমের জন্য একটি ওপেন প্ল্যাটফর্ম চালু হবে।
• মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পরিষেবা ও মতামত দেওয়ার জন্য ন্যাশনাল টেলিমেডিসিন হেলথ প্রোগ্রাম শুরু হবে।
• নিমহ্যান্সকে নোডাল সেন্টার হিসাবে গণ্য করে ২৩টি টেলি-মেন্টাল উৎকর্ষ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। ব্যাঙ্গালোরের ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজি প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে। 
 
সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি
• মিশন শক্তি, মিশন বাৎসল্য, সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি ও পোষণ ২.০-র মাধ্যমে মহিলা ও শিশুদের আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা প্রদান।
• ২ লক্ষ অঙ্গনোয়াড়িকে সক্ষম অঙ্গনওয়াড়িতে পরিবর্তন। 
 
হর ঘর, নল সে জল
• হর ঘর, নল সে জল - কর্মসূচিতে ২০২২-২৩ এ ৩ কোটি ৮০ লক্ষ পরিবারকে নিয়ে আসতে ৬০ হাজার কোটি টাকার সংস্থান।
 
সকলের জন্য আবাসন
• প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ২০২২-২৩ এ ৮০ লক্ষ গৃহ নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করতে ৪৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ।
 
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নমূলক উদ্যোগ (পিএম-ডিইভিআইএনই)
• উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পরিকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিতে তহবিল সংস্থানে পিএম-ডিইভিআইএনই নামে একটি নতুন কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। 
• কর্মসূচির মাধ্যমে যুবসম্প্রদায় ও মহিলাদের উপার্জনে সক্ষম করে তুলতে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ।
 
প্রাণবন্ত গ্রাম কর্মসূচি
• উত্তর সীমান্ত লাগোয়া স্বল্প জনসংখ্যাবিশিষ্ট, সীমিত যোগাযোগ ও পরিকাঠামো ব্যবস্থাসম্পন্ন গ্রামগুলির উন্নয়নে এই কর্মসূচি। 
 
ব্যাঙ্কিং 
• ১ লক্ষ ৫০ হাজারটি ডাকঘরের সবগুলিকে কোর ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় নিয়ে আসা হবে। 
• তফশিলভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলি ৭৫টি জেলায় ৭৫টি ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং ইউনিট (ডিবিইউ) গড়ে তুলবে। 
 
ই-পাসপোর্ট
• চিপ সংযুক্ত এবং ভবিষ্যতমুখী প্রযুক্তি সহ ই-পাসপোর্ট পরিষেবা শুরু হবে।
 
শহরাঞ্চলীয় পরিকল্পনা
• ভবন নির্মাণ সম্পর্কিত নতুন বিধি প্রণয়ন, নগর পরিকল্পনা কর্মসূচি এবং পরিবহণ-কেন্দ্রিক আধুনিক ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। 
• শহরাঞ্চলে ব্যাপকভাবে চার্জিং স্টেশন গড়ে তোলার জন্য ব্যাটারি স্বপিং পলিসি।
 
ভূমির খতিয়ান ব্যবস্থাপনা
• ভূমির খতিয়ান লিপিবদ্ধ করে রাখতে তথ্য প্রযুক্তি-ভিত্তিক ইউনিক ল্যান্ড পার্সেল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর।
 
অ্যাক্সিলারেটেড কর্পোরেট এক্সিট 
• কোম্পানিগুলি বন্ধ করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সেন্টার ফর প্রসেসিং অ্যাক্সিলারেটেড কর্পোরেট এক্সিট ব্যবস্থা চালু হবে। 
 
এভিজিসি ক্ষেত্রের প্রসারে কর্মীগোষ্ঠী
• অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্ট, গেমিং ও কমিক ক্ষেত্রের সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করতে কর্মীগোষ্ঠী গঠন করা হবে।
 
টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্র
• উৎপাদন সংযুক্ত উৎসাহভাতা কর্মসূচির অঙ্গ হিসাবে ফাইভ-জি ক্ষেত্রে এক অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে ডিজাইন-কেন্দ্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং কর্মসূচির সূচনা হবে।
 
রপ্তানিতে উৎসাহ
• শিল্প সংস্থা ও পরিষেবা হাবগুলির উন্নয়নে রাজ্যগুলিকে অংশীদার করতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইনের পরিবর্তে একটি নতুন আইন আনা হবে।
 
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা 
• ২০২২-২৩ এ দেশীয় শিল্প সংস্থাগুলি থেকে মোট মূলধনের ৬৮ শতাংশের সমতুল সামগ্রী সংগ্রহ করতে হবে। সংগ্রহের এই পরিমাণ ২০২১-২২ এর তুলনায় ৫৮ শতাংশ বেশি। 
• শিল্প সংস্থা, স্টার্টআপ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ। তবে, গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে ২৫ শতাংশ বাজেট সংস্থান করতে হবে।
• কার্যকরিতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় স্বীকৃতিদানের জন্য নিরপেক্ষ কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। 
 
উদীয়মান ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা
• কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জিওস্পেশিয়াল সিস্টেম ও ড্রোন, সেমিকন্ডাক্টর ও তার অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলা, মহাকাশ অর্থনীতি, জেনোমিক্স ও ফার্মাসিউটিকাল, গ্রিন এনার্জি এবং দূষণহীন যাতায়াত ব্যবস্থার মতো উদীয়মান ক্ষেত্রে গবেষণা ও উন্নয়নে সরকারি অনুদান।
 
শক্তি ক্ষেত্রে রূপান্তর ও জলবায়ু পরিবর্তনে মোকাবিলা 
• ২০৩০ সালের মধ্যে ২৮০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে উচ্চ ক্ষমতাবিশিষ্ট সোলার মডিউল উৎপাদনে অতিরিক্ত ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা উৎপাদন সংযুক্ত উৎসাহভাতা।
• তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে ৫-৭ শতাংশ জৈব গ্যাস ব্যবহার। 
• বার্ষিক ৩৮ এমএমটি কার্বনডাই অক্সাইড নির্গমন হ্রাস। 
• কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। 
• শিল্প সংস্থাগুলির জন্য কয়লাকে গ্যাসে রূপান্তর ও রাসায়নিক পদার্থে পরিণত করতে ৪টি পাইলট প্রোজেক্ট গ্রহণ করা হবে। 
• তপশিলি জাতি/উপজাতির যেসব মানুষ কৃষি-বনায়ন উদ্যোগ গ্রহণ করবেন, তাঁদের আর্থিক সহায়তা। 
 
সার্বজনিক মূলধন বিনিয়োগ
• ২০২২-২৩ এ বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ও চাহিদা বাড়াতে সার্বজনিক লগ্নি অব্যাহত থাকবে। 
• মূলধনী ব্যয়ের পরিমাণ ২০২২-২৩ এ লক্ষ্যণীয় হারে বেড়ে হয়েছে ৭ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবর্ষের ৫ লক্ষ ৫৪ হাজার কোটি টাকা থেকে ৩৫.৪ শতাংশ বেশি। 
• কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যকরি মূলধন ব্যয়ের পরিমাণ ২০২২-২৩ এ দাঁড়াবে আনুমানিক ১০ লক্ষ ৬৮ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপি-র প্রায় ৪.১ শতাংশ।
 
গিফট্ – আইএফএসসি
• গিফট্‌ সিটিতে আন্তর্জাতিক মানের বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে অনুমতি।
• আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে সময় মতো বিবাদ নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। 
 
সম্পদ সংস্থান
• ডেটা সেন্টার এবং এনার্জি স্টোরেজ ব্যবস্থাকে পরিকাঠামো ক্ষেত্রের মর্যাদা দেওয়া হবে। 
• সানরাইজ বা উদীয়মান ক্ষেত্রের জন্য ব্লেন্ডেড তহবিল সংস্থানে উৎসাহ। 
• পরিবেশ-বান্ধব পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সম্পদ সংস্থানের জন্য সার্বভৌম গ্রিন বন্ড জারি করা হবে। 
 
ডিজিটাল রুপি
• ২০২২-২৩ এ ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ডিজিটাল রুপি চালু করবে। 
 
রাজ্যগুলিকে রাজস্ব ক্ষেত্রে আরও বেশি সুবিধা 
• মূলধনী বিনিয়োগের জন্য রাজ্যগুলিকে আর্থিক সহায়তা দিতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। চলতি বছরে এই খাতে বাজেট বরাদ্দ ১০ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। 
• অর্থ ব্যবস্থায় উৎসাহ দিতে রাজ্যগুলিকে সহায়তার জন্য ২০২২-২৩ এ অতিরিক্ত ১ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ, যা থেকে ঋণ সুবিধা গ্রহণে ৫০ বছর পর্যন্ত সুদ ছাড়। 
• ২০২২-২৩ এ রাজ্যগুলির গড় অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে ৪ শতাংশের সমতুল রাজস্ব ঘাটতিতে অনুমতি দেওয়া হবে। এর মধ্যে ০.৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের সংস্কারে সদ্ব্যবহার করতে হবে। 
 
রাজস্ব পরিচালনা
• ২০২১-২২ এ আনুমানিক বাজেট হিসাব : ৩৪ লক্ষ ৮৩ হাজার কোটি টাকা।
• ২০২১-২২ এ সংশোধিত হিসাব : ৩৭ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকা। 
• ২০২২-২৩ এ মোট আনুমানিক ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩৯ লক্ষ ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
• ২০২২-২৩ এ ঋণ গ্রহণ বাদে অন্যান্য খাতে সংগ্রহের আনুমানিক পরিমাণ ধরা হয়েছে ২২ লক্ষ ৮৪ হাজার কোটি টাকা।
• চলতি বছরে রাজস্ব ঘাটতি : জিডিপি-র ৬.৯ শতাংশ (বাজেটে অনুমান করা হয়েছিল ৬.৮ শতাংশ)।
• ২০২২-২৩ এ রাজস্ব ঘাটতি হিসাব করা হয়েছে জিডিপি-র ৬.৪ শতাংশ।
 
দ্বিতীয় অংশ
প্রত্যক্ষ কর
স্থিতিশীল ও প্রত্যাশিত কর ব্যবস্থা নীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া: 
• এক বিশ্বাসযোগ্য কর ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
• কর ব্যবস্থার আরও সরলীকরণ এবং মামলার সংখ্যা হ্রাস
 
নতুন আপডেটেড রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থার প্রবর্তন
• অতিরিক্ত কর মিটিয়ে আপডেটেড রিটার্ন দাখিলের সুবিধা
• আগে উল্লেখ না থাকা আয়ের পরিমাণ আপডেটেড রিটার্ন দাখিলে দেওয়া যাবে।
• সংশ্লিষ্ট মূল্যায়নবর্ষের শেষ থেকে দু’বছরের মধ্যে এই রিটার্ন ফাইল দাখিল করা যাবে।
 
কর্পোরেট সমিতি
• কর্পোরেটগুলির প্রদেয় বিকল্প ন্যূনতম কর হার ১৮.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ।
• কর্পোরেট সমিতি ও কোম্পানিগুলির মধ্যে সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদান।
• কর্পোরেট সমিতিগুলির উপর সারচার্জ ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ। তবে, এই সুবিধা সেই সমিতিগুলি পাবে, যাদের মোট আয় ১ কোটি টাকা থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত।
 
বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য কর ছাড়
• পিতা-মাতা/অভিভাবকদের জীবৎকালে অর্থাৎ এদের বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার সময় পর্যন্ত নির্ভরশীল বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা বিমা কর্মসূচিগুলি থেকে বার্ষিক সুযোগ-সুবিধা পাবে। 
 
জাতীয় পেনশন কর্মসূচিতে প্রিমিয়াম প্রদানে সমতা
• রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের এনপিএস অ্যাকাউন্টে নিয়োগকর্তার প্রিমিয়াম প্রদানের ক্ষেত্রে কর সংগ্রহের পরিমাণ ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৪ শতাংশ।
• এর ফলে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সমতা আসবে। 
• সামাজিক নিরাপত্তা সম্পর্কিত সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়বে।
 
স্টার্টআপগুলিকে উৎসাহ 
• কর সুবিধা গ্রহণে যোগ্য স্টার্টআপগুলির জন্য ইনকর্পোরেশনের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৩ – এর ৩১শে মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে। 
• আগে ইনকর্পোরেশনের সময়সীমা ছিল ২০২২-এর ৩১শে মার্চ পর্যন্ত।
 
কর ছাড় ব্যবস্থার আওতায় উৎসাহদান
• আয়কর আইনের ১১৫ বিএবি ধারার আওতায় উৎপাদন শুরু করার শেষ তারিখ ২০২৩-এর ৩১শে মার্চ থেকে আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৪-এর ৩১শে মার্চ করা হয়েছে। 
 
ভার্চ্যুয়াল ডিজিটাল সম্পদের ক্ষেত্রে কর আরোপ
• যে কোনও ধরনের ভার্চ্যুয়াল ডিজিটাল সম্পদের লেনদেন থেকে আয়ের উপর কর হার ৩০ শতাংশ।
• এ ধরনের সম্পদ অধিগ্রহণের খরচ বাদে যে কোনও ধরনের আয়ের হিসাব করার ক্ষেত্রে যাবতীয় খরচ বা ভাতায় কর ছাড়ের সংস্থান নেই। 
• ভার্চ্যুয়াল ডিজিটাল সম্পত্তি লেনদেন বাবদ হওয়া লোকসানকে অন্য কোনও আয়ের উৎস থেকে মেটানো যাবে না। 
• ভার্চ্যুয়াল ডিজিটাল সম্পত্তি উপহার হিসাবে যিনি পাবেন, তাঁকে কর মেটাতে হবে।
 
মামলা-মোকদ্দমার সুষ্ঠু সমাধান
• হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন কোনও মামলার ক্ষেত্রে আইনগত বিষয়গুলি যদি একই হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আদালত ঐ আইনের বিষয়ে সিদ্ধান্তে না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আপিল দায়ের করা থেকে বিরত থাকবে।
• এই ব্যবস্থা করদাতা ও কর বিভাগের মধ্যে মামলা-মোকদ্দমার পুনরাবৃত্তি কমাতে সাহায্য করবে। 
 
আইএফএসসি-কে কর ক্ষেত্রে উৎসাহ
• অফশোর ডিরাইভেটিভ ক্ষেত্র থেকে আয়ে যে কোনও অনাবাসীকে কর ছাড়। 
• জাহাজ লিজে দেওয়ার মাধ্যমে রয়্যালটি ও সুদের উপর কর ছাড়। 
• আইএফএসসি-তে পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট পরিষেবা থেকে আয়ে কর ছাড়।
 
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেস
• আয় ও মুনাফার ক্ষেত্রে যে কোনও ধরনের সারচার্জ বা সেসকে ব্যবসায়িক খাতে ব্যয় হিসাবে গণ্য করা হবে। 
 
কর ফাঁকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
• অভিযান ও তল্লাশির সময় গোপন রাখা আয়ের ক্ষেত্রে কোনও প্রকার ক্ষতির প্রশ্নে সমঝোতার অবকাশ নেই। 
 
টিডিএস ব্যবস্থার সরলীকরণ
• ব্যবসায়িক কর্মকান্ড বৃদ্ধির ক্ষেত্রে রণকৌশলের অঙ্গ হিসাবে প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এজেন্টদের কাছে করযোগ্য। 
• একটি অর্থবর্ষে এ ধরনের কর্মকান্ড থেকে লাভের পরিমাণ যদি ২০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে না যায়, সেক্ষেত্রে যে ব্যক্তি সুযোগ-সুবিধা পান, তার উপর কর ছাড় দেওয়া হয়। 
 
অপ্রত্যক্ষ কর
 
জিএসটি-তে লক্ষ্যণীয় অগ্রগতি 
• মহামারী সত্ত্বেও জিএসটি রাজস্ব খাতে লক্ষ্যণীয় অগ্রগতি – এই কৃতিত্ব করদাতাদের প্রাপ্য।
 
বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল
• বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলির শুল্ক কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ রূপে প্রযুক্তি-নির্ভর হয়ে উঠবে এবং কাস্টম ন্যাশনাল পোর্টালে কার্য সম্পাদন করবে। এই পোর্টাল ২০২২-এর ৩০শে সেপ্টেম্বর নাগাদ চালু হয়ে যাবে। 
সীমাশুল্ক ক্ষেত্রে সংস্কার ও কর হারে পরিবর্তন
• ফেসলেস কাস্টম ব্যবস্থা পুরোদমে চালু হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারীর সময় সীমাশুল্ক বিভাগ যাবতীয় বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে। 
 
সীমাশুল্ক ছাড় পর্যালোচনা ও শুল্ক ব্যবস্থার সরলীকরণ
• ৩৫০টিরও বেশি ক্ষেত্রে সীমাশুল্ক ছাড় ও শুল্ক ব্যবস্থায় সরলীকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে – কৃষিজ সামগ্রী, রাসায়নিক পদার্থ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধপত্র প্রভৃতি।
• মেক ইন ইন্ডিয়া এবং আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাসায়নিক পদার্থ, বস্ত্র, ধাতব সামগ্রী, যেগুলি ভারতে উৎপাদন করা সম্ভব, সেই সমস্ত ক্ষেত্রে সীমাশুল্ক হার সরলীকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। 
 
ক্ষেত্র-ভিত্তিক প্রস্তাব
ইলেক্ট্রনিক্স
• দেশে ওয়্যারেবল ডিভাইস, শ্রবণ যন্ত্র এবং ইলেক্ট্রনিক স্মার্ট মিটার প্রভৃতি উৎপাদনে উৎসাহ দিতে পর্যায়ক্রমে সীমাশুল্ক হার সংশোধন করা হবে। 
• মোবাইল ফোন চার্জারের ট্রান্সফর্মারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং মোবাইল ক্যামেরার লেন্স ও নির্দিষ্ট কয়েকটি সামগ্রীর দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে সীমাশুল্কে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব।
 
রত্নালঙ্কার
• হীরে ও মূল্যবান পাথরের ক্ষেত্রে সীমাশুল্ক হার কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হচ্ছে। 
• ই-বাণিজ্যের মাধ্যমে গহনা রপ্তানিতে উৎসাহ দিতে এ বছরের জুন মাসের মধ্যে একটি নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামো গড়ে তোলা হবে। 
• প্রতি কেজি ইমিটেশন রত্নালঙ্কার আমদানিতে অন্ততপক্ষে ৪০০ টাকা সীমাশুল্ক দিতে হবে। কম মূল্যের ইমিটেশন রত্নালঙ্কারের আমদানিতে অনুৎসাহিত করতে এই ব্যবস্থা। 
 
রাসায়নিক পদার্থ
• মিথানল, অ্যাসেটিক অ্যাসিড, অশোধিত পেট্রোলিয়াম পরিশোধনে প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক সামগ্রী আমদানিতে সীমাশুল্ক কমানো হচ্ছে। তবে, সোডিয়াম সাইনাইড আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে, দেশে এ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ও সোডিয়াম সাইনাইডের মূল্য সংযোজন ঘটবে। 
 
অতিক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ
• ছাতার ক্ষেত্রে সীমাশুল্ক বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হচ্ছে। তবে, ছাতার বিভিন্ন উপকরণের উপর সীমাশুল্কে যে ছাড় ছিল, তা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। 
• ভারতে কৃষি ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সরঞ্জামের উপর শুল্ক ছাড় আরও সরল করা হচ্ছে। 
• বৃহত্তর জনস্বার্থে ধাতব সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি রুখতে স্টেনলেস স্টিল এবং কোটেড স্টিল ফ্ল্যাট সামগ্রীর উপর অ্যান্টি ডাম্পিং এবং সিভিডি কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। 
 
রপ্তানি
• সুনির্দিষ্ট চর্মজাত সামগ্রী, ফার্নিচার ফিটিং, প্যাকেজিং বক্স, বোতামের মতো কয়েকটি সামগ্রীর রপ্তানিতে উৎসাহদান। 
• রপ্তানি বাড়াতে চিংড়ি চাষের কিছু কাঁচা মালের উপর শুল্ক হার হ্রাস।  
 
জ্বালানীতে মিশ্রণে উৎসাহ দিতে শুল্ক সম্পর্কিত ব্যবস্থা
• জ্বালানীতে মিশ্রণে উৎসাহ দিতে অমিশ্রিত জ্বালানীর উপর ২০২২-এর পয়লা অক্টোবর থেকে প্রতি লিটারে ২ টাকা অতিরিক্ত উৎপাদন শুল্ক প্রযোজ্য হবে। 
 
 
CG/BD/SB


(Release ID: 1794466) Visitor Counter : 1334