উপ-রাষ্ট্রপতিরসচিবালয়
azadi ka amrit mahotsav

নয়াদিল্লিতে ‘ভারত রিনিউয়েবল এনার্জি সামিট অ্যান্ড এক্সপো ২০২৬’-এর সমাপ্তি অধিবেশনে ভাষণ দিলেন উপরাষ্ট্রপতি

প্রকাশিত: 05 NOV 2026 2:43PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ৫  নভেম্বর  ২০২৬

 

ভারতের উপরাষ্ট্রপতি শ্রী সি. পি. রাধাকৃষ্ণন আজ বলেছেন যে, নবীকরণযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে ভারতের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রমাণ করে যে, পরিবেশগত প্রতিশ্রুতি অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পথে কোনো বাধা নয়, বরং তা দেশের উন্নয়নের যাত্রায় একটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।

নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ‘ভারত রিনিউয়েবল এনার্জি সামিট অ্যান্ড এক্সপো ২০২৬’-এর সমাপ্তির অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় উপরাষ্ট্রপতি নবীকরণযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্য, সুস্থায়ী উন্নয়নের প্রতি দেশটির অঙ্গীকার এবং সারা দেশের পরিবার, কৃষক ও জনপদকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির রূপান্তরমূলক ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন।

https://x.com/VPIndia/status/2118267609338785811?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E2118267609338785811%7Ctwgr%5E86d824dd6f8b98b37322c01cfa7ba0c5cd4e1a9f%7Ctwcon%5Es1_&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.pib.gov.in%2FPressReleasePage.aspx%3FPRID%3D2333027reg%3D48lang%3D2

ভারতের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক বৃদ্ধি বজায় রাখতে পারবে কি না—এমন সংশয়ের কথা উল্লেখ করে উপরাষ্ট্রপতি বলেন যে, ভারত তার অর্জনের মাধ্যমে এই সংশয়গুলোর জবাব দিয়েছে।

তিনি তুলে ধরেন যে, ভারতে জীবাশ্ম জ্বালানি-বহির্ভূত উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ৩০০ গিগাওয়াট অতিক্রম করেছে। ২০২৫ সালের মধ্যেই—অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের পাঁচ বছর আগেই—ভারত তার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৫০ শতাংশ জীবাশ্ম জ্বালানি-বহির্ভূত উৎস থেকে অর্জনের লক্ষ্য পূরণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত এক দশকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ৩ গিগাওয়াটেরও কম থেকে বেড়ে ১৭০ গিগাওয়াটের বেশি হয়েছে।

উপরাষ্ট্রপতি জানান, একসময় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের তুলনায় সৌরবিদ্যুৎ কয়েক গুণ বেশি ব্যয়বহুল ছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি ভারতের অন্যতম সস্তা বিদ্যুৎ উৎস হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, এই রূপান্তরটি সুচিন্তিত নীতি, বেসরকারি উদ্যোগ এবং বিভিন্ন রাজ্য ও নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন।

উপরাষ্ট্রপতি লক্ষ্য করেন যে, ভারতে হাইড্রোজেন জ্বালানির ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হচ্ছে। তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির ফলে আগামী বছরগুলোতে হাইড্রোজেন জ্বালানি আরও সাশ্রয়ী হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, ভারতের নবীকরণযোগ্য জ্বালানি রূপান্তর কেবল দেশটির জন্যই একটি দৃষ্টান্তমূলক অর্জন নয়, বরং এটি ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যও একটি আদর্শ।

উপরাষ্ট্রপতি বলেন, গত এক দশকে অর্জিত এই অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সেই দূরদর্শী চিন্তাকেই সত্য প্রমাণ করে যে, পরিবেশগত প্রতিশ্রুতিগুলো আসলে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। এগুলি জ্বালানির সহজলভ্যতা বৃদ্ধি, শিল্পক্ষেত্রে ব্যয় হ্রাস, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পথ প্রশস্ত করে। শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও শক্তিশালী সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “২০৪০ সালের প্রযুক্তিগুলো আজকের গবেষণাগার এবং স্টার্টআপগুলো থেকেই উঠে আসবে।” তিনি গবেষণা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

উপরাষ্ট্রপতি জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা’-র আওতায় ৬৫ লক্ষেরও বেশি পরিবার সৌরবিদ্যুৎ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি পাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘পিএম-কুসুম’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৩০ লক্ষ কৃষক উপকৃত হয়েছেন। সৌরচালিত পাম্প ব্যবহারের ফলে কৃষকরা ডিজেল বাবদ খরচ বাঁচাতে পারছেন, অতিরিক্ত আয় করতে পারছেন এবং ‘উর্জাদাতা’—অর্থাৎ খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহকারী—হয়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছেন। উপরাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, ‘পিএম-জানমান’ এবং ‘ধরতি আবা জনজাতীয় গ্রাম উৎকর্ষ অভিযান’-এর মতো উদ্যোগগুলির মাধ্যমে দুর্গম উপজাতীয় এলাকাগুলিতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে প্রচলিত গ্রিড সংযোগ স্থাপন হয়তো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সুবিধা মানুষের জীবন বদলে দেয়—শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ও জীবিকার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, জ্বালানি সংক্রান্ত সমাধানগুলি এমন হতে হবে যা শহর, গ্রাম এবং দুর্গম বসতি—প্রতিটির ভিন্ন ভিন্ন চাহিদাকে পূরণ করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পরিকল্পিত নবীকরণযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের এই প্রক্রিয়াকে একটি ‘জন আন্দোলন’ হিসেবে অভিহিত করে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, কেবল সরকারের পক্ষে এই আন্দোলন সফল করা সম্ভব নয়। তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা এবং সাধারণ নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই আন্দোলনে জনগণের অংশগ্রহণ কেবল নবীকরণযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারকেই ত্বরান্বিত করবে না, বরং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করবে, জীবিকার পথ প্রশস্ত করবে এবং প্রতিটি পরিবারের সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।

‘মিশন লাইফ’ -এর প্রসঙ্গ টেনে উপরাষ্ট্রপতি জ্বালানি-সাশ্রয়ী অভ্যাস গড়ে তোলা, সচেতনভাবে সম্পদ ব্যবহার করা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোটি কোটি মানুষের ছোট ছোট ব্যক্তিগত পদক্ষেপও একটি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতোই সুস্থায়ী উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

উপরাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ব জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আগামী দশকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার এবং ২০৭০ সালের মধ্যে ‘নেট-জিরো’ নিঃসরণ অর্জনের ভারতের লক্ষ্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০৭০ সাল নাগাদ ভারতে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় সাত গুণ বেড়ে যেতে পারে। তাই পরিবেশ রক্ষা করে কীভাবে পরিচ্ছন্ন, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুতের মাধ্যমে এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা যায়, তার ওপর তিনি জোর দেন।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের আলোচনার বিষয়গুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, “আলোচনাকে প্রকল্পে রূপান্তর করুন, আর প্রকল্পগুলোকে শক্তিতে পরিণত করুন।” তিনি বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যদি পৃথিবীকে সূর্যের আলোয় আলোকিত করতে হয়, তবে আসুন আমরা সবাই মিলে হাত মিলিয়ে সেই কাজ করি।”

এই অনুষ্ঠানে উপরাষ্ট্রপতি নবীকরণযোগ্য জ্বালানি খাতে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘এক্সেলেন্স ইন রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাওয়ার্ডস’ এবং ‘পিএম সূর্য ঘর অ্যাওয়ার্ডস’ প্রদান করেন। এই পুরস্কারগুলি সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনকারী বিভিন্ন রাজ্য, সরকারি বিভাগ, বিক্রেতা, ব্র্যান্ড মালিক এবং সরকারি খাতের ব্যাঙ্কগুলিকে দেওয়া হয়।

https://x.com/VPIndia/status/2118267870283268171?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E2118267870283268171%7Ctwgr%5E86d824dd6f8b98b37322c01cfa7ba0c5cd4e1a9f%7Ctwcon%5Es1_&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.pib.gov.in%2FPressReleasePage.aspx%3FPRID%3D2333027reg%3D48lang%3D2

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নব ও নবীকরণযোগ্য শক্তি বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী প্রহ্লাদ জোশী; নব ও নবীকরণযোগ্য শক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শ্রী শ্রীপাদ ইয়েসো নায়েক; ভারত সরকারের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ড. অজয় কুমার সুদ; এবং নব ও নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের সচিব শ্রী সন্তোষ কুমার সারাঙ্গি। এছাড়াও, এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন সহযোগী দেশগুলোর প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী, শিল্প নেতৃবৃন্দ, জ্ঞান সহযোগী, প্রদর্শক এবং অন্যান্য প্রতিনিধিরা।


MH/AP/NS….      


(রিলিজ আইডি: 2333170) ভিজিটরের কাউন্টার : 12