সহযোগ মন্ত্রক
স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন সুদৃঢ় করতে বহু-রাজ্য সমবায় সমিতির জন্য নতুন নিরীক্ষা প্রতিবেদন কাঠামো চালু করল সমবায় মন্ত্রক
প্রকাশিত:
14 OCT 2026 4:47PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
বহু-রাজ্য সমবায় সমিতিগুলির নিরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন সুনিশ্চিত করতে মাল্টি-স্টেট কো-অপারেটিভ সোসাইটিজ (অডিটর্স রিপোর্ট) অর্ডার, ২০২৬ (এমএসসিএআরও, ২০২৬) কার্যকর করেছে কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রক। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘সহকার সে সমৃদ্ধি’ ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে গৃহীত এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল সমবায় সমিতিগুলির আর্থিক শৃঙ্খলা ও পেশাদার পরিচালন ব্যবস্থা সুদৃঢ় করা এবং সদস্যদের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা।
বহু-রাজ্য সমবায় সমিতি (সংশোধনী) আইন, ২০২৩-এর ৭৩(৬) ধারায় কেন্দ্রীয় সরকারকে বহু-রাজ্য সমবায় সমিতিগুলির নিরীক্ষা ও হিসাব সংক্রান্ত মানদণ্ড নির্ধারণের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। ওই বিধানের পরিপ্রেক্ষিতে সমবায় মন্ত্রক এমএসসিএআরও, ২০২৬ প্রণয়ন করেছে। এই নির্দেশ প্রণয়নের সময় ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ ইন্ডিয়া (আইসিএআই), ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) এবং বহু-রাজ্য সমবায় সমিতিগুলির কাছ থেকে প্রাপ্ত মতামত ও পরামর্শ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
কর্পোরেট ক্ষেত্রের জন্য প্রযোজ্য কোম্পানিজ (অডিটরস রিপোর্ট) অর্ডার (সিএআরও)-এর আদলে প্রণীত এমএসসিএআরও-র মাধ্যমে বহু-রাজ্য সমবায় সমিতিগুলির বিধিবদ্ধ নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রস্তুতের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন, সুনির্দিষ্ট ও ঝুঁকিভিত্তিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই নির্দেশ অনুযায়ী, নিরীক্ষকদের নির্ধারিত অভিন্ন বিন্যাসে আর্থিক অবস্থা, প্রশাসনিক ব্যবস্থা, পরিচালন কাঠামো এবং বিধিবদ্ধ অনুবর্তিতা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির উপর প্রতিবেদন পেশ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক মন্তব্য-সহ ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ উত্তরের মাধ্যমে নিরীক্ষার পর্যবেক্ষণ নথিভুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে নিরীক্ষা প্রতিবেদনের অভিন্নতা ও সামঞ্জস্য বৃদ্ধি পাবে, সম্ভাব্য অনিয়ম চিহ্নিত করা সহজ হবে এবং নিয়ন্ত্রক নজরদারি আরও কার্যকর হবে।
এই কাঠামোর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রক নজরদারি ব্যবস্থা প্রবর্তন। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লিখিত পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি নিবন্ধক (সিআরসিএস) আর্থিক অবস্থা বা পরিচালন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ সমিতিগুলিকে চিহ্নিত করতে পারবেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট সমিতিগুলির উপর লক্ষ্যভিত্তিক পরিদর্শন, অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে নজরদারির কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে এবং যথাসময়ে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ নিশ্চিত করা যাবে।
এ ছাড়া, অনুৎপাদক সম্পদ (এনপিএ), বকেয়া ঋণ, তারল্য পরিস্থিতি, আমানত, অগ্রিম, ঋণ পরিশোধে খেলাপ এবং ঋণগ্রহণ সংক্রান্ত তথ্যের পদ্ধতিগত প্রতিবেদনের মাধ্যমে আর্থিক সঙ্কটের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য আর্থিক দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং তা গুরুতর আর্থিক বা পরিচালনগত সমস্যায় পরিণত হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
সমবায় সমিতির সদস্যদের তহবিল ও আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাও এমএসসিএআরও ২০২৬-এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। এই নির্দেশে নির্ধারিত নিরীক্ষার মাধ্যমে বিনিয়োগ, তহবিলের ব্যবহার, শেয়ার মূলধন, সদস্যপদ সংক্রান্ত নথি এবং প্রাসঙ্গিক বিধিবদ্ধ অনুমোদনের যথার্থতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হবে। আর্থিক লেনদেন এবং সমবায়ের সম্পদের ব্যবহার সম্পর্কে নিবিড় পর্যালোচনার ব্যবস্থা করে এই কাঠামো আর্থিক সততা বজায় রাখা এবং সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি সদস্যদের আস্থা সুদৃঢ় করতে সহায়তা করবে।
সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই নির্দেশে পরিচালন পর্ষদের গঠন, পরিচালকদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা, বার্ষিক সাধারণ সভা ও পরিচালন পর্ষদের বৈঠক, বিধিবদ্ধ কমিটিগুলির গঠন ও কার্যপ্রণালী এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে লেনদেন সংক্রান্ত বিধি মেনে চলার বিষয়গুলি নিয়মিত পর্যালোচনার আওতায় আনা হয়েছে। এই বিধানগুলির মাধ্যমে বহু-রাজ্য সমবায় সমিতিগুলিতে স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, গণতান্ত্রিক পরিচালন ব্যবস্থা এবং প্রযোজ্য বিধিবদ্ধ বিধানের যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর নিয়ন্ত্রক নজরদারি জোরদার করার লক্ষ্যে এমএসসিএআরও-তে নির্ধারিত অভিন্ন কাঠামোয় সংগৃহীত নিরীক্ষা সংক্রান্ত তথ্য কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি নিবন্ধকের (সিআরসিএস) পোর্টালের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এই সংযুক্তির ফলে স্বয়ংক্রিয় তথ্য যাচাই, নিয়ন্ত্রক ড্যাশবোর্ড, ঝুঁকি নিরূপণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে সমবায় সমিতিগুলির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ আরও দক্ষ হবে, বিধি অনুবর্তিতার ঘাটতি চিহ্নিত করা সহজ হবে এবং প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে উপযুক্ত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
এই নির্দেশে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা এবং অর্থপাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিধিবিধান মেনে চলার বিষয়গুলিও নিরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর আওতায় সাইবার নিরাপত্তার সুরক্ষাব্যবস্থা, সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন, গ্রাহক পরিচয় যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা এবং অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ) অনুযায়ী মনোনীত পরিচালক ও প্রধান আধিকারিক নিয়োগ সংক্রান্ত বিধানগুলির অনুবর্তিতা পরীক্ষা করা হবে। এই ব্যবস্থাগুলি আর্থিক অনিয়ম, সাইবার ঝুঁকি এবং বিধিবদ্ধ অনুবর্তিতার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য দুর্বলতা মোকাবিলায় সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলির প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা আরও সুদৃঢ় করবে।
সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলিকে তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা ও কার্যপ্রণালী উন্নত করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার উদ্দেশ্যে সমবায় মন্ত্রক এমএসসিএআরও ২০২৬ পর্যায়ক্রমে কার্যকর করার ব্যবস্থা করেছে। দীর্ঘমেয়াদে নির্ধারিত আর্থিক মাপকাঠির ক্ষেত্রে ৫০ কোটি টাকার সীমা অতিক্রমকারী বহু-রাজ্য সমবায় সমিতিগুলির উপর এই কাঠামো সম্প্রসারণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১,০০০ কোটি টাকার নির্ধারিত সীমা অতিক্রমকারী বৃহত্তর সমবায় সমিতিগুলিকে এর আওতায় আনা হবে। এর ফলে অপেক্ষাকৃত ছোট সমবায় সমিতিগুলি নতুন প্রতিবেদন সংক্রান্ত বিধানগুলি কার্যকর করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে অতিরিক্ত সময় পাবে।
অভিন্ন বিধিবদ্ধ নিরীক্ষা প্রতিবেদন, ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রক নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার সমন্বয়ে এমএসসিএআরও ২০২৬ সমবায় ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, পেশাদার পরিচালন ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি, সদস্যদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং ‘সহকার সে সমৃদ্ধি’—অর্থাৎ সমবায়ের মাধ্যমে সমৃদ্ধির লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হবে।
SC/PM/DM
(রিলিজ আইডি: 2323735)
ভিজিটরের কাউন্টার : 3