স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ মুম্বাইতে আয়োজিত ‘হিন্দি দিবস ২০২৬’ এবং ষষ্ঠ সর্বভারতীয় সরকারি ভাষা সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন
প্রকাশিত:
14 SEP 2026 5:19PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ মুম্বাইতে 'হিন্দি দিবস ২০২৬' এবং ষষ্ঠ 'সর্বভারতীয় সরকারি ভাষা সম্মেলন'-এ প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন। এই অনুষ্ঠানে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, উপ-মুখ্যমন্ত্রী শ্রী একনাথ শিন্ডে ও শ্রীমতী সুনেত্রা পাওয়ার, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্রী নিত্যানন্দ রাই ও শ্রী বন্দি সঞ্জয় কুমার এবং সরকারি ভাষা বিভাগের সচিব শ্রীমতী অংশুলি আর্য সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
হিন্দি দিবস ও গণেশ চতুর্থীর শুভেচ্ছা জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ বলেন যে, একই দিনে হিন্দি দিবস ও গণেশ চতুর্থী উদযাপিত হওয়া এক বিরল ও শুভ সংযোগ বা 'মণিকাঞ্চন যোগ'। তিনি বলেন, বিঘ্নহর্তা ভগবান গণেশ ভারতীয় ভাষাগুলির বিকাশের পথ প্রশস্ত করবেন এবং সেই পথের সমস্ত বাধা দূর করবেন। এই উপলক্ষে লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলকের কথা স্মরণ করে শ্রী শাহ বলেন যে, ১৮৯৩ সালে লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক মহারাজ মহারাষ্ট্রে গণেশ উৎসবের সর্বজনীন উদযাপন শুরু করেছিলেন। তিনি বলেন, তিলক মহারাজ দেশের নাড়ির স্পন্দন সঠিকভাবে বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন যে, ভারতের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের মাধ্যমেই কেবল সচেতনতা ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের জাগরণ ঘটানো সম্ভব। তাই তিনি গণেশ উৎসব এবং ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের জন্মবার্ষিকী উদযাপনের সূচনা করেছিলেন। তিনি বলেন যে, অল্প সময়ের মধ্যেই এই দুটি উৎসব সারা দেশজুড়ে উদযাপিত হতে শুরু করে। এই দুটি উৎসব ব্রিটিশদের মধ্যে যথেষ্ট উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। এই উৎসবগুলির মাধ্যমে তিলক মহারাজ জনগণের মধ্যে দেশপ্রেমের এক প্রবল জোয়ার সৃষ্টি করেছিলেন। শ্রী শাহ বলেন, মহারাষ্ট্র হলো ঐতিহ্য ও উদার চিন্তাধারার ভূমি। তিনি বলেন, ভক্তি আন্দোলনের সময় মহারাষ্ট্রের বহু সাধু-সন্ত এমন সব রচনা সৃষ্টি করেছিলেন যা সারা দেশে ভক্তি আন্দোলনকে বিশেষ গতি প্রদান করেছিল। তিনি বলেন, মহারাষ্ট্র হলো ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের ভূমি। তিনি 'স্বরাজ, স্বধর্ম ও স্বভাষা', অর্থাৎ নিজস্ব শাসন, নিজস্ব ধর্মবিশ্বাস ও নিজস্ব ভাষাকে স্বরাজের মূল উপাদান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। প্রশাসনের কাজে মারাঠি ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি নিজের ভাষায় পরিভাষার এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার গড়ে তুলেছিলেন। ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ এবং হিন্দবী স্বরাজের যুগেও এই ব্যবস্থাটিই শাসনকার্যের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল।
শ্রী অমিত শাহ জানান যে, হিন্দি ওয়ার্ড প্রসেসিং, হিন্দি টাইপিং এবং শর্টহ্যান্ড বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সূচনা করা হয়েছে। এছাড়া শ্রী শাহ ‘রাজভাষা কীর্তি পুরস্কার’ এবং ‘রাজভাষা গৌরব পুরস্কার’ প্রদান করেন। তিনি এই সম্মাননা প্রাপকদের সকলকে অভিনন্দন জানান। শ্রী শাহ বলেন যে, ‘শিব অনাদি হ্যায়, অনন্ত হ্যায়’, ‘ভারতীয় জ্ঞান তন্ত্র: স্রোত ঔর স্বরূপ’, ‘অন্ধেরোঁ সে উজালোঁ তক’, জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-এর ওপর ভিত্তি করে দাপ্তরিক ভাষা বিভাগের পত্রিকা ‘রাজভাষা ভারতী’-র একটি বিশেষ স্মারক সংখ্যা এবং ‘১৫০ চ্যাপ্টারস অফ বন্দে মাতরম’ - এই প্রকাশনাগুলির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ বলেছেন যে "বন্দে মাতরম" কোনো সাধারণ গান নয়। ঔপনিবেশিক শাসনের কঠোর শৃঙ্খলে আবদ্ধ সেই সময়ে ভারতীয় চেতনাকে জাগ্রত করার লক্ষ্যে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এক মহান প্রচেষ্টা ছিল এটি। তাঁর কবিতার মাধ্যমে তিনি ভারতের সুপ্ত চেতনাকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। "আনন্দমঠ"-এ রচিত তাঁর "বন্দে মাতরম" গানটি শীঘ্রই সমগ্র ভারতে স্বাধীনতার এক ঘোষণায় পরিণত হয়। "বন্দে মাতরম"- এর আহ্বানের মধ্য দিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র কেবল স্বাধীনতার প্রতি গভীর আকাঙ্ক্ষা ও তীব্র বাসনাই জাগিয়ে তোলেননি, বরং ভারতের সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তিও স্থাপন করেছিলেন। শ্রী শাহ বলেন, দুর্ভাগ্যবশত পরবর্তীকালে "বন্দে মাতরম"-কে খণ্ডিত করা হয়েছিল। স্বাধীনতার পরেও এর পূর্ণাঙ্গ রূপটি গ্রহণ করতে সংসদের প্রায় ৮০ বছর সময় লেগেছিল। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীই সেই নেতা যিনি সরকারি অনুষ্ঠানে "বন্দে মাতরম"-কে পুনরায় তার পূর্ণাঙ্গ রূপে ও পূর্ণ মর্যাদায় গাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
শ্রী অমিত শাহ বলেন, "বন্দে মাতরম"-এর সার্ধশতবর্ষ (১৫০তম বর্ষ) উদযাপনের আবহে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের পুণ্যভূমিতে আয়োজিত এই হিন্দি দিবস কর্মসূচি আগামী দিনগুলিতে সরকারি ভাষা ও ভারতীয় ভাষাগুলির যাত্রাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। মহারাষ্ট্রের বহুভাষার সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শ্রী শাহ বলেন যে, এখানে মারাঠী ভাষাকে সম্মান করা হয় এবং তা হওয়াও উচিত। তিনি বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীই প্রথম মারাঠী ভাষাকে 'ধ্রুপদী ভাষা' বা 'ক্লাসিক্যাল ল্যাঙ্গুয়েজ'-এর মর্যাদা প্রদান করেছিলেন। মহারাষ্ট্রে কোঙ্কনি, গুজরাটি, সিন্ধি, হিন্দি, কন্নড়, ওয়ারলি এবং আরও অনেক ভাষার বিকাশ ঘটেছে এবং সেগুলি সম্মান ও স্বীকৃতি লাভ করেছে। তিনি বলেন, মহারাষ্ট্র হ’ল সমগ্র দেশের মধ্যে সর্বাধিক বহুভাষার রাজ্য। এছাড়া, রাজ্যের প্রশাসনে সবাইকে আপন করে নেওয়া এক অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য তিনি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ও উপ-মুখ্যমন্ত্রীদের অভিনন্দন জানান।
আচার্য বিনোবা ভাবের উদ্ধৃতি দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, "আমি যদি হিন্দির সহায়তা না নিতাম, তবে কাশ্মীর, আসাম ও কেরালার প্রতিটি গ্রামের মানুষের কাছে 'ভূদান' ও 'গ্রামদান'-এর বৈপ্লবিক বার্তা পৌঁছে দিতে পারতাম না। অন্য কোনো ভাষার ওপর নির্ভর করলে আমি গ্রামগুলিতে আদৌ কাজ করতে পারতাম না। এই সরকারি ভাষাই আমাকে শিখিয়েছিল কীভাবে প্রতিটি গ্রামের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে হয়।" স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন যে, দেশের অন্যান্য সব ভাষার সঙ্গে সরকারি ভাষার এক গভীর সংযোগ রয়েছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই ভাষাগুলি ভারতের জনজীবনের নিত্য-কথোপকথনের অংশ হয়ে আছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে একে অপরের সংস্পর্শে ও মিথস্ক্রিয়ায় সমৃদ্ধ হয়েছে। তিনি বলেন যে, তিনি নিজে গুজরাটের বাসিন্দা, যেখানে হিন্দি নয়, বরং গুজরাটি ভাষায় কথা বলা হয়। তা সত্ত্বেও, জাতীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় সারা দেশজুড়ে কাজ করতে তাঁর কোনো অসুবিধাই হয়নি, কারণ তিনি হিন্দি ভাষা বোঝেন ও বলতে পারেন। তিনি বলেন, সরকারি ভাষা তাঁকে সারা দেশে কাজ করার এক অনন্য সুযোগ করে দিয়েছে।
শ্রী অমিত শাহ বলেছেন যে মহারাষ্ট্র হ’ল বীর সাভারকরের ভূমি। সাভারকর ছিলেন তাঁর সময়ের অন্যতম পণ্ডিত ভাষাবিদ। তিনি এমন অনেক শব্দ তৈরি করেছিলেন যা আগে ভারতীয় ভাষাগুলিতে ছিল না। এই শব্দগুলি মারাঠী (সরকারি ভাষা) এবং অন্যান্য ভারতীয় ভাষায় সহজেই গৃহীত হয়েছিল। তিলকের লেখায় প্রকাশিত ধারণাগুলিকে আত্মস্থ করে মারাঠি ভাষাকে পরিশীলিত করার জন্যও তিনি কাজ করেছিলেন। শ্রী শাহ বলেন, 'হিন্দি শব্দ-সিন্ধু' অনলাইন অভিধানে বীর সাভারকরের পরিমার্জিত ও উদ্ভাবিত শব্দগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে 'সরকারি ভাষা বিভাগ' তাঁকে সম্মানিত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সংবিধান প্রণেতারা সচেতনভাবে ও গভীর চিন্তাভাবনা করে ১৯৪৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর হিন্দিকে সরকারি ভাষা হিসেবে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। শ্রী শাহ বলেন, শ্রী নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে সরকারি ভাষা বিভাগ অনেক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে। তিনি জানান, জাতীয় শিক্ষা নীতির মাধ্যমে অন্যতম বড় একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রাথমিক শিক্ষায় মাতৃভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করেছেন। মাতৃভাষা না শিখে কোনো শিশু পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না, কারণ মাতৃভাষা ছাড়া মায়ের স্নেহ এবং ভাই বা বোনের ভালোবাসা পুরোপুরি অনুধাবন করা সম্ভব নয়। মাতৃভাষার মাধ্যমেই নিজের ভূমি, ভাষা, বিশ্বাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি গভীর সংযোগ গড়ে তোলা সম্ভব। তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রাথমিক শিক্ষায় মাতৃভাষাকে বাধ্যতামূলক করেছেন। শ্রী অমিত শাহ বলেন, মাতৃভাষা শেখার পরেই একটি শিশু প্রকৃত উন্নতি করতে পারে। চিন্তাভাবনার প্রক্রিয়াটি মাতৃভাষাতেই শুরু হয়। মানুষ যখন চিন্তা করে, বিশ্লেষণ করে এবং সিদ্ধান্ত নেয়, তখন মাতৃভাষায় তা করলে চিন্তাভাবনা, বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত - সবই আরও উন্নত ও সঠিক হয়। শ্রী শাহ আরও বলেন, এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদী অন্য একটি ভারতীয় ভাষা শেখাও বাধ্যতামূলক করেছেন। তিনি বলেন, যারা ভারতীয় ভাষা শেখার বিরোধিতা করেন, তারা বুঝতে পারেন না যে তারা কতটা বড় ভুল করছেন। শিশুদের ভারতীয় ভাষা শেখা উচিত। দ্বিতীয় কোনো ভারতীয় ভাষা শেখার অর্থ হ’ল শিশুটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই 'এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত'-এর লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়বে। মাতৃভাষার পাশাপাশি অন্য কোনো ভারতীয় ভাষা শিখলে শিশুরা স্বাভাবিকভাবেই তাদের ভারতীয় সত্তার সঙ্গে সংযুক্ত হবে এবং সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে মুক্ত হয়ে ভারতের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ প্রকৃত নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। তিনি বলেন, সরকার ভারতের প্রতিটি ভাষাকে সমৃদ্ধ করতে চায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জানান যে, ২০১৯ সালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে ‘সর্বভারতীয় সরকারি ভাষা সম্মেলন’ শুধুমাত্র দিল্লিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আয়োজন করা হবে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের এই সম্মেলনটি হ’ল ষষ্ঠ আয়োজন। তিনি বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী মোদীজির নেতৃত্বে ২০১৯ সাল থেকে সরকারি ভাষা কমিটির প্রতিবেদনের চারটি খণ্ড মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ১৩টি খণ্ড সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে চারটিই মোদীর কার্যকালে তৈরি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী যখনই কোনো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বা অন্য কোনো দেশে গিয়ে ভাষণ দিয়েছেন, তিনি সর্বদা সরকারি ভাষা এবং ভারতীয় ভাষাতেই কথা বলেছেন। গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোরামে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিদেশি ভাষার পরিবর্তে নিজের ভাষায় কথা বলতে শুনে প্রতিটি ভারতীয় গর্ববোধ করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থাও সুগম করেছেন। ভারত সরকারের ৫ লক্ষেরও বেশি কর্মীকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই -ভিত্তিক ‘কণ্ঠস্থ ২.০’ প্ল্যাটফর্মটি বিদেশীদের জন্যও উন্মুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ৫ কোটিরও বেশি বাক্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ জানান যে, ‘লীলা রাজভাষা’ এবং ‘লীলা প্রবাহ’ অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ভারতীয় ভাষা শেখার এই উদ্যোগ অত্যন্ত ভালো ফলাফল দিয়েছে। ৫১,০০০ শব্দ নিয়ে শুরু হওয়া ‘হিন্দি শব্দ-সিন্ধু’ অভিধানটিতে এখন শব্দের সংখ্যা বেড়ে ৮ লক্ষে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, স্থানীয় ভাষাগুলি থেকে ৫০,০০০-এরও বেশি শব্দ ‘হিন্দি শব্দ-সিন্ধু’-তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা হিন্দিকে আরও নমনীয় ও অভিযোজনযোগ্য করে তুলেছে। ২০২৯ সালের মধ্যে এই অভিধানটি বিশ্বের বৃহত্তম অভিধানে পরিণত হবে বলে তিনি দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, হিন্দিতে যেখানে কোনো ধারণার জন্য উপযুক্ত শব্দের অভাব ছিল, সেখানে সরকারি ভাষাকে আরও নমনীয় করার লক্ষ্যে স্থানীয় ভাষাগুলি থেকে ৫০,০০০-এরও বেশি শব্দ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তামিল, তেলুগু, মারাঠী, গুজরাটি, বাংলা, ওড়িয়া এবং অন্যান্য ভাষা। প্রতিটি ভাষা থেকে ৫০,০০০-এরও বেশি শব্দ ‘হিন্দি শব্দ-সিন্ধু’-তে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান যে, দাপ্তরিক ভাষা বিভাগ ‘ভারতী – বহুভাষী অনুবাদ সারথি’ তৈরি করেছে এবং ‘ভারতীয় ভাষা বিভাগ’-ও চালু করেছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে সরকার ভারতীয় ভাষাগুলিকে প্রশাসন ও বিজ্ঞানের ভাষায় পরিণত করতে, সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে এবং একটি বিশাল যৌথ ভাষাগত সম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই ভাষাগুলিকে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করতে চায়। JEE, NEET বা স্নাতক স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষা - এই পরীক্ষাগুলি এখন ১৩টি ভাষায় পরিচালিত হচ্ছে।
শ্রী অমিত শাহ বলেন, যারা বিভিন্ন ভাষার মধ্যে বিবাদ সৃষ্টির চেষ্টা করেন, তাদের তিনি বলতে চান যে একটি শিশু কেবল তার মাতৃভাষার মাধ্যমেই ভারতকে সত্যিকার অর্থে বুঝতে পারে। শিশুটি যদি কোনো বিদেশি ভাষার মাধ্যমে ভারতকে বোঝার চেষ্টা করে, তবে ভুল বোঝার আশঙ্কা থাকে। তাই তিনি রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে ভারতীয় ভাষাগুলির প্রসারে মনোযোগ দেওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন যে, লাল কেল্লার প্রাকার থেকে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে যে ‘পঞ্চ প্রণ’-এর (পাঁচটি সংকল্পের) কথা বলেছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো ভারতকে দাসত্বের মানসিকতা থেকে মুক্ত করার অঙ্গীকার।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ভাষার প্রসঙ্গ উত্থাপিত হলে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেয়ে বড় কোনো ব্যক্তিত্ব হতে পারেন না। তিনি বলেছিলেন, “ভারতীয় সংস্কৃতি ও ভারতীয় সাহিত্য হলো একটি পূর্ণ-বিকশিত শতদল পদ্মের মতো, যার প্রতিটি পাপড়ি আমাদের আঞ্চলিক ভাষাগুলিকে প্রতিনিধিত্ব করে। এমনকি একটি পাপড়ি নষ্ট হলেও সেই পদ্মের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে। আঞ্চলিক ভাষাগুলি নিজ নিজ প্রদেশে রানীর মতো বিরাজ করুক। আর হিন্দি, এই সমস্ত ভাষার মধ্যে কেন্দ্রীয় মণি হিসেবে, সেই শতদল পদ্মের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে থাকুক।” শ্রী অমিত শাহ বলেন, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গভীর চিন্তাভাবনার পরেই এই অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি বলেন, ভারতের ভাষাগুলি হয়তো ভিন্ন ভিন্ন সুর হতে পারে, কিন্তু গানটি একটাই - দেশপ্রেমের গান একটাই এবং আমাদের সংস্কৃতির গানও একটাই। বহু ভাষা থাকাতে কোনো আপত্তি নেই, তবে মূল ভাবনাটি হতে হবে ভারতীয়। উপভাষা অনেক থাকতে পারে, কিন্তু ভারতের কণ্ঠস্বর হতে হবে একটাই।
SC/PM/SB
(রিলিজ আইডি: 2310362)
ভিজিটরের কাউন্টার : 2
এই রিলিজটি পড়তে পারেন:
English
,
Urdu
,
Marathi
,
हिन्दी
,
Assamese
,
Punjabi
,
Gujarati
,
Odia
,
Telugu
,
Kannada
,
Malayalam