পরিবেশ, অরন্য ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক
ব্রিকস দেশগোষ্ঠীর পরিবেশ মন্ত্রীদের দ্বাদশ বৈঠক
प्रविष्टि तिथि:
18 AUG 2026 1:05PM by PIB Agartala
নয়াদিল্লি, ১৮ অগাস্ট, ২০২৬
ভারতের ব্রিকস ২০২৬-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পরিবেশ মন্ত্রীদের দ্বাদশ বৈঠকে ভারত সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শ্রী ভূপেন্দ্র যাদব ব্রিকস সদস্য রাষ্ট্রগুলির প্রতিনিধিদলের প্রধানদের সঙ্গে যৌথভাবে ব্রিকস পরিবেশ কর্মীগোষ্ঠীর লেখা চারটি জ্ঞানভিত্তিক সংকলন প্রকাশ করেছেন। এই নথিগুলিতে ব্রিকস সদস্য দেশগুলির অনুসরণ করা কার্যপদ্ধতি, জ্ঞানব্যবস্থা এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রতিফলন ঘটেছে।
ব্রিকস পরিবেশ কর্মীগোষ্ঠীর গঠনমূলক ও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনার ফলস্বরূপ এই সংকলনগুলি প্রস্তুত হয়েছে। এই চারটি সংকলন সম্মিলিতভাবে পারস্পরিক সহযোগিতার চেতনাকে ধারণ করে এবং ব্রিকস সদস্য দেশগুলির জাতীয় অভিজ্ঞতা, অগ্রণী কার্যপদ্ধতি, উদ্ভাবনী সমাধান ও স্থানীয় জ্ঞানব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটায়।
১. সুস্থিত জীবনধারার প্রসারে জাতীয় অভিজ্ঞতা, অগ্রণী কার্যপদ্ধতি ও সাফল্যের কাহিনি-সংবলিত সংকলন: ভারতের ব্রিকস ২০২৬-এর সভাপতিত্বকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক প্রণীত এই সংকলনটি একটি সম্মিলিত জ্ঞানভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে। এতে ব্রিকস সদস্য দেশ—ব্রাজিল, চিন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে সংগৃহীত অনুসরণযোগ্য বিভিন্ন কেস স্টাডি স্থান পেয়েছে। সংকলনটিতে দেখানো হয়েছে, কীভাবে ব্রিকস সদস্য দেশগুলি নীতিগত উদ্ভাবন, আচরণগত পরিবর্তনের উদ্যোগ, পরিবেশ শিক্ষা, গোষ্ঠী অংশগ্রহণ, সুস্থিত ভোগ ও উৎপাদন, চক্রাকার অর্থনীতির পদ্ধতি, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর এবং পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে সুস্থিত জীবনধারার ধারণাকে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ দিচ্ছে।
ভারতের অবদানগুলির মধ্যে রয়েছে মিশন LiFE, পরিবেশ শিক্ষা কর্মসূচি এবং SAMBHAV Campaign—যেগুলি নাগরিক-নেতৃত্বাধীন সুস্থিত জীবনধারা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সরকারের সর্বস্তরের সমন্বিত উদ্যোগ এবং সমগ্র সমাজের অংশগ্রহণভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে। এই উদ্যোগগুলি সম্মিলিতভাবে দেখায়, কীভাবে ব্যক্তিগত পছন্দ, বাজারে পণ্য ও পরিষেবা সরবরাহের পরিবর্তন এবং নীতিগত কাঠামো পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হয়ে ব্যবস্থাগত রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে পারে। সর্বোপরি, নাগরিকদের সক্রিয় মালিকানা ও অংশগ্রহণ, স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী সমাধান এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এই সংকলনটি পরিবেশবান্ধব জীবনধারার প্রসারে পারস্পরিক শিক্ষাগ্রহণ, যৌথ গবেষণা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার জন্য একটি বাস্তবায়নযোগ্য রূপরেখা প্রদান করে।
২. সুসমন্বিত অগ্নি ব্যবস্থাপনার জন্য সর্বোত্তম কার্যপদ্ধতি ও উদ্ভাবনী পদ্ধতিসমূহের সংকলন: বিশ্বজুড়ে পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতি, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে দাবানলের ঘটনা ও তীব্রতা বাড়ছে। এর ফলে বাস্তুতন্ত্র, জীববৈচিত্র্য, জীবিকা এবং জনসমাজ ক্রমশ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এই অভিন্ন চ্যালেঞ্জকে স্বীকৃতি দিয়ে ভারত ব্রিকস ২০২৬-এর সভাপতিত্বকালে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সুসমন্বিত দাবানল ব্যবস্থাপনাকে বিশেষ গুরুত্বের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ একত্রিত হয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা, উদ্ভাবনী সমাধান এবং বাস্তবভিত্তিক পদ্ধতি বিনিময় করেছে—যার মধ্যে রয়েছে জনসম্প্রদায়-নেতৃত্বাধীন দাবানল প্রতিরোধ, আদিবাসী ও স্থানীয় জ্ঞান, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রস্তুতি এবং সমন্বিত মোকাবিলা ব্যবস্থা।
এই উদ্যোগের অন্যতম ফল হল “সুসমন্বিত দাবানল ব্যবস্থাপনার জন্য সর্বোত্তম কার্যপদ্ধতি ও উদ্ভাবনী পদ্ধতিসমূহ” শীর্ষক সংকলন। এটি নিছক বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার সংকলন নয়; বরং এর মধ্যে একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে—প্রতিরোধ থেকে প্রস্তুতি, আগাম সতর্কীকরণ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ এবং মোকাবিলা থেকে পুনরুদ্ধার—দাবানল ব্যবস্থাপনায় আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
৩. সুসমন্বিত সবুজায়ন পদ্ধতির সংকলন: এই সংকলনে ব্রিকস সদস্য দেশগুলির অভিজ্ঞতা, সুনির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি এবং নীতিগত উদ্যোগ একত্রিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভূমির অবক্ষয়, মরুকরণ, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো পরস্পর-সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে। এতে সদস্য দেশগুলির সম্মিলিত অবদানের প্রতিফলন ঘটেছে এবং বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সঙ্গে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে সমন্বিত করে এমন উদ্যোগগুলির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংকলনটিতে ব্রিকসের সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিভিন্ন ক্ষেত্রও চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কারিগরি সহযোগিতা, যৌথ গবেষণা এবং পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য অভিন্ন পদ্ধতি গড়ে তোলা।
৪. উৎপাদক সম্প্রসারিত দায়বদ্ধতা কাঠামো এবং চক্রাকার অর্থনীতির অগ্রণী কার্যপদ্ধতির সংকলন: এই সংকলনে ব্রিকস সদস্য দেশগুলির অভিজ্ঞতা, নীতিগত পদ্ধতি, নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক মডেল একত্রিত করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হল একটি চক্রাকার ও সম্পদ-দক্ষ অর্থনীতিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের উদ্যোগ ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা। এতে জনসম্প্রদায়-নেতৃত্বাধীন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল বর্জ্য-বিনিময় প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে জাতীয় চক্রাকার অর্থনীতির রূপরেখা, ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি বা বর্জ্যের গতিপথ অনুসরণের ব্যবস্থা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্যের শংসাপত্র এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে।
এই সংকলনে ভারত কীভাবে কেন্দ্রীভূত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সহায়তায় বাজারভিত্তিক উৎপাদক সম্প্রসারিত দায়বদ্ধতা বা EPR কাঠামোর দিকে এগিয়ে চলেছে, তা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে এই কাঠামোর সম্প্রসারণের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিকস দেশগুলির সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রও এতে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি বা বর্জ্যের গতিপথ অনুসরণে সক্ষম প্রযুক্তির ব্যবহার, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং চক্রাকার ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে সম্পদ-দক্ষ, সহনশীল এবং সুস্থিত অর্থনীতি গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে।
*****
PS/Agt
(रिलीज़ आईडी: 2300896)
आगंतुक पटल : 4