স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
নতুন দিল্লিতে আয়োজিত ২৬তম সর্বভারতীয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্মেলন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে ভাষণ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহের
प्रविष्टि तिथि:
19 JUN 2026 5:46PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ১৯ জুন ২০২৬
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ২৬তম 'অল ইন্ডিয়া ফিঙ্গারপ্রিন্ট কনফারেন্স ২০২৬'-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন। এছাড়া, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি)-র 'অভিজ্ঞান', 'ই-প্রসিকিউশন ২.০' এবং 'ই-ফরেনসিকস ২.০' অ্যাপ্লিকেশনগুলির সূচনা করেন; এই অ্যাপ্লিকেশনগুলি বিচারাধীন মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তিতে সহায়তা করবে এবং যথাসময়ে ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। এই অনুষ্ঠানে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)-র অধিকর্তা, ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি)-র অধিকর্তা এবং সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (সিএফএসএল)-র অধিকর্তা সহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ বলেন, ভারত বর্তমানে তার ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সংবিধান নাগরিকদের যে অধিকারের নিশ্চয়তা দিয়েছে, তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে একটি কার্যকর ও উপযুক্ত হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলার সময় এসেছে।
শ্রী অমিত শাহ জানান, ২০১৯ সালের অগাস্ট মাস থেকে মোদী সরকার ফৌজদারি আইনগুলিতে মৌলিক সংস্কার আনার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, এর উদ্দেশ্য কেবল ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার আধুনিকীকরণই নয়, সেইসঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে এর অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করা। এফআইআর দায়ের করা থেকে শুরু করে দোষী সাব্যস্ত হওয়া পর্যন্ত – এই পুরো প্রক্রিয়াটি তিন বছরের মধ্যে সম্পন্ন করে ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করা মোদী সরকারের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা সংস্কারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। শ্রী শাহ বলেন, তিন বছরের মধ্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকার একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তুলছে। তিনি আরও বলেন যে, গত সাত বছরে দেশ এই গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং এই যাত্রায় এনসিআরবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নতুন ফৌজদারি আইনগুলির কার্যকর বাস্তবায়ন সুনিশ্চিত করতে তিনি ২৪টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পাশাপাশি, ব্যুরো অফ পুলিশ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং এনসিআরবি এই প্রচেষ্টায় প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করেছে। শ্রী শাহ বলেন, এনসিআরবি একটি মায়ের মতো ভূমিকা পালন করে সব রাজ্যের পুলিশ বাহিনীকে সহায়তা করেছে; তারা কেবল পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টাকেই উৎসাহিত করেনি, বরং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও প্রদান করেছে। শ্রী শাহ বলেন যে, এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে নতুন ফৌজদারি বিচার সংক্রান্ত আইনগুলি কার্যকর হওয়ার পর সারা দেশের থানাগুলিতে সুষ্ঠুভাবে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
শ্রী অমিত শাহ বলেন, অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক প্রমাণই হল সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। তিনি বলেন, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার স্থান থেকে শুরুতেই বৈজ্ঞানিক প্রমাণাদির সংরক্ষণ দোষী সাব্যস্ত করার অন্যতম কার্যকর উপায়। তিনি বলেন যে, ফিঙ্গারপ্রিন্ট হল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। আঙুলের ছাপের রেকর্ড কার্যকরভাবে সংগ্রহ ও ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি এবং এই কাঠামোর একটি প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে 'ন্যাশনাল অটোমেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম' (এনএএফআইএস)। তিনি বলেন, অত্যন্ত জটিল মামলাগুলোর রহস্য উন্মোচনেও এনএএফআইএস উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এনএএফআইএস-কে শুধুমাত্র অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়। এর কার্যকারিতা নির্ভর করে প্রতিটি অপরাধস্থল থেকে সংগৃহীত আঙুলের ছাপ আপলোড করে ডেটাবেসটিকে ক্রমাগত সমৃদ্ধ করার ওপর। তিনি এনএএফআইএস-কে একটি দ্বিমুখী ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেন, যা অপরাধ প্রমাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে এর জন্য ক্রমাগত ডেটা বা তথ্য সংযোজন করাও আবশ্যক। তাই, প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কেবল ডেটাবেস অনুসন্ধানের ওপরই নয়, বরং ডেটাবেসকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অপরাধস্থল থেকে প্রাপ্ত আঙুলের ছাপ পদ্ধতিগতভাবে আপলোড করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য স্পষ্ট: কোনও অপরাধীই – সে যত বুদ্ধিমানই হোক না কেন – আইন ও বিজ্ঞানের সম্মিলিত শক্তির হাত থেকে যেন রেহাই না পায়। বৈজ্ঞানিক তদন্ত, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং সমন্বিত ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি বলেন যে, কেবল অপরাধীদের গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়; অপরাধ প্রতিরোধের স্থায়ী সমাধান তখনই সম্ভব, যখন সমাজে এই বিশ্বাস গড়ে ওঠে যে, অপরাধমূলক কাজের জন্য শাস্তি অনিবার্য।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অপরাধ প্রমাণ নিশ্চিত করার ওপরও ক্রমাগত জোর দিতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আজ, ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষ – যেমন পুলিশ, কারা প্রশাসন, সরকারি কৌঁসুলি বা প্রসিকিউশন সংস্থা, আদালত এবং ফরেনসিক ল্যাবরেটরি – কেবল এই সংস্কারগুলিকেই গ্রহণ করেনি, বরং এগুলির অগ্রগতিতে অবদানও রেখেছে।
শ্রী অমিত শাহ জানান, নতুন ফৌজদারি আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে এমন বেশ কিছু মামলা হয়েছে, যেখানে ৯০ দিনের মধ্যে অপরাধীদের সাজা (যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সহ) হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলি কেবলমাত্র অ্যাপ্লিকেশন বা সফটওয়্যার ব্যবহারের পদ্ধতি শেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। প্রশিক্ষণের আওতায় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহ এবং চার্জশিট দাখিল পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অন্তর্ভুক্ত থাকা প্রয়োজন। শ্রী অমিত শাহ বলেন, নতুন আইনগুলিতে এমন সব বিধান রাখা হয়েছে, যা সরকারি কৌঁসুলি এবং বিচার বিভাগ – উভয়ের কাজকেই সহজতর করবে। সেকেলে বা অপ্রচলিত পদ্ধতিগুলির পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে গতিশীল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা বিচার প্রক্রিয়ার সময়সীমা কমাতে সহায়তা করছে। তিনি বলেন, পুলিশ, সরকারি কৌঁসুলি, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং বিচার বিভাগ – সবাই যখন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে, তখনই কেবল অর্থবহ ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হবে। ভার্চুয়াল মাধ্যমে উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেওয়া বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ প্রধানদের (ডিজিপি) প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহ্বান জানান যে, তাঁরা যেন এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রশিক্ষণের জন্য প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন সময় বরাদ্দ করেন এবং অন্তত এক বছর ধরে এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন। তিনি তথ্যকে 'ইন্টেলিজেন্স' বা গোয়েন্দা তথ্যে রূপান্তরের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং বলেন যে, বিশাল তথ্যভাণ্ডারকে এমন কার্যকর গোয়েন্দা তথ্যে রূপান্তরের দিকেই এখন বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে, যা অপরাধীদের দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়তা করতে পারে।
শ্রী অমিত শাহ সব রাজ্যকে ডেটাবেসের গুণমান ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি মন্তব্য করেন যে, নিষ্ক্রিয়ভাবে পড়ে থাকা ডেটা সম্পদের পরিবর্তে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়; ডেটা তখনই প্রকৃত মূল্য পায় যখন তাকে গোয়েন্দা তথ্যে রূপান্তর করা হয়। তিনি প্রতিটি রাজ্যে বিশেষ দল গঠনের আহ্বান জানান, যারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং এবং ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে অপরাধের ধরন বিশ্লেষণ করবে, বারবার অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, প্রশিক্ষণকে আরও ব্যবহারিক করে তুলতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র সংক্ষিপ্ত হওয়া উচিত এবং এতে কেবল প্রাসঙ্গিক প্রমাণাদিই অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান যে, রাজ্য পুলিশ বাহিনীর চেষ্টায় সারা দেশের ১৭,৮৪০টি থানাতেই এখন 'ক্রাইম অ্যান্ড ক্রিমিন্যাল ট্র্যাকিং নেটওয়ার্ক অ্যান্ড সিস্টেমস' (সিসিটিএনএস) সফলভাবে কার্যকর করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের কাছে ৩৭ কোটি ৬৮ লক্ষ এফআইআর-সহ বিপুল পরিমাণ পুরনো বা 'লেগাসি' ডেটা বা তথ্যভাণ্ডার রয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, ২২,০০০ আদালতকে 'ই-কোর্ট' ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে এবং পুরনো বিচার-সংক্রান্ত নথিপত্র ডিজিটাইজ করার কাজ চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, 'ই-প্রিজনস' ব্যবস্থায় ২ কোটি ২৯ লক্ষ বন্দির তথ্য রয়েছে এবং 'ই-ফরেনসিক' ডেটাবেসে ৩৪ লক্ষ ৪৮ হাজার মামলার তথ্য সংরক্ষিত আছে। এছাড়া 'ক্রাইম মাল্টি এজেন্সি সেন্টার'-এ ৪৩ লক্ষ ১৬ হাজার সতর্কবার্তা বা অ্যালার্ট রেকর্ড রয়েছে। শ্রী শাহ বলেন, এই সমস্ত তথ্য একটি ঘরের আলমারিতে রাখা জিনিসের মতো; যদি না আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সেগুলিকে বিশ্লেষণ করে কার্যকর গোয়েন্দা তথ্যে রূপান্তর করা হয়, তবে তা সম্পদের পরিবর্তে বোঝা হয়েই থাকে। তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ইতিমধ্যেই এই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে এবং এই প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক তরুণ পেশাজীবীকে যুক্ত করেছে।
শ্রী অমিত শাহ বলেন, বর্তমানে ভারতের কাছে প্রায় ১ কোটি ২৯ লক্ষ আঙুলের ছাপের রেকর্ড, প্রায় ৯ লক্ষ ৯১ হাজার মাদক অপরাধীর রেকর্ড, ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার মানব পাচার সংক্রান্ত মামলার তথ্য এবং কারাগার বিষয়ক বিশাল ডেটাবেস রয়েছে। সামগ্রিকভাবে এগুলি একটি মূল্যবান জাতীয় সম্পদ। পরবর্তী পদক্ষেপ হলো অপরাধ বিচার ব্যবস্থার সমগ্র কাঠামোকে এই শক্তির সঠিক ব্যবহার শিখতে এবং তথ্যকে কার্যক্ষমতায় রূপান্তর করতে সক্ষম করে তোলা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে, আগামী পাঁচ বছরে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে তথ্যকে কার্যকরভাবে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা, ডেটাবেসগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন, শক্তিশালী বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতি গড়ে তোলা এবং অপরাধ দমনের অভিনব কৌশল বা মডিউল তৈরিতে তরুণ পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, নতুন ফৌজদারি বিচার আইনের লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট: দেশের যেখানেই কোনও অপরাধ নথিভুক্ত হোক না কেন, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আপিল সহ সম্পূর্ণ বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তিন বছরের মধ্যে অপরাধীর দোষ প্রমাণ করতে হবে। তিনি জানান, বিচারাধীন মামলার জট বা সংখ্যা কমানোর লক্ষ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টগুলির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।
নিজের বক্তব্যের শেষে শ্রী অমিত শাহ বলেন যে, যে লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এনসিআরবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই একই উদ্দীপনা নিয়ে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। বিপিআরঅ্যান্ডডি এবং এনসিআরবি-র অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন যে, এই প্রতিষ্ঠানগুলি ছাড়া ভারতে কার্যকরভাবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো না। এনসিআরবি-র আধিকারিক ও কর্মীদের নিষ্ঠার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী দিনগুলিতে এই সংস্থার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় 'ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যুরো'-কে একটি অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে অভিহিত করেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী আজ চারটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশনের সূচনা করেন:
১. এনসিআরবি-অভিজ্ঞান
২. সিআরপিআই অ্যাপ্লিকেশন
৩. ই-প্রসিকিউশন ২.০
৪. ই-ফরেনসিকস ২.০
এনসিআরবি-অভিজ্ঞান– এই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনটি পুলিশ কর্মীদের যে কোনও স্থান থেকে একটি প্রত্যয়িত ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার ব্যবহার করে 'জাতীয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডেটাবেস' অনুসন্ধান করার সুবিধা দেয়, যার মাধ্যমে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এটি মাঠপর্যায়ের পুলিশিং ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও তৎপর করে তোলে।
সিআরপিআই অ্যাপ্লিকেশন – এই ব্যবস্থায় ফেসিয়াল রিকগনিশন, আইরিস ম্যাচিং এবং ডিএনএ ম্যাচিং-এর মতো সক্ষমতাগুলোকে একত্রিত করা হয়েছে। এই মাল্টি-মোডাল বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি শনাক্তকরণের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ায়। এর প্রধান ব্যবহারের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে বারবার অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করা। এখন পর্যন্ত ২,১৯০টি সিআরপিআই ইউনিট বিতরণ করা হয়েছে এবং ৫,৫৩,০০০-এরও বেশি নথিভুক্তিকরণ সম্পন্ন হয়েছে।
ই-ফরেনসিকস ২.০ – এই প্ল্যাটফর্মটি সারা দেশের ফরেনসিক ল্যাবরেটরি এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ডিজিটালভাবে সংযুক্ত করে। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে, ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য কেস বা মামলা গ্রহণ ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং, নমুনা নিবন্ধন, ল্যাবরেটরির কাজের প্রবাহ ব্যবস্থাপনা, রিপোর্ট তৈরি, রিপোর্টের ডিজিটাল অ্যাক্সেস এবং 'চেইন অফ কাস্টডি' বা প্রমাণাদি সংরক্ষণের ধারাবাহিকতা ও নিরাপত্তা জোরদার করা।
ই-প্রসিকিউশন ২.০ – এই প্ল্যাটফর্মটি পুলিশ, সরকারি কৌঁসুলি এবং বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যে ডিজিটাল সমন্বয় গড়ে তোলে। এর ফলে কোনও অপরাধী শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
এই চারটি অ্যাপ্লিকেশন সম্মিলিতভাবে পুলিশিং কার্যক্রম, ফরেনসিক তদন্ত, বিচার সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা এবং অপরাধী শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে ‘ইন্টিগ্রেটেড ক্রিমিন্যাল জাস্টিস সিস্টেম’ (আইসিজেএস)-এর একটি নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে।
SC/MP/AS
(रिलीज़ आईडी: 2275817)
आगंतुक पटल : 6