প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
ফ্রান্সের এভিয়াঁ-তে জি ৭ শিখর সম্মেলনের ফাঁকে ‘আন্তর্জাতিক ঐকমত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নতুন অংশীদারিত্বের নির্মাণ’ শীর্ষক অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির বঙ্গানুবাদ
प्रविष्टि तिथि:
16 JUN 2026 10:12PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৬ জুন ২০২৬
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ,
মাননীয় অভ্যাগতবৃন্দ,
নমস্কার!
জি-৭ শিখর সম্মেলন উপলক্ষে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য আমি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
বন্ধুরা,
আজকের বিশ্ব আগের তুলনায় অনেক বেশি সংযুক্ত এবং বিভিন্ন অঞ্চলের পারস্পরিক নির্ভরশীলতাও অনেক বেড়েছে। একটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সেই দেশের অভ্যন্তরের ঘটনা প্রবাহের ওপরেই কেবলমাত্র নির্ভর করে না। যাতায়াত, ডেটা, অর্থ কিংবা প্রযুক্তি – সবক্ষেত্রেই আমরা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।
এমন এক সময়ে শক্তিশালী অংশীদারিত্বের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। কিন্তু অংশীদারিত্ব তখনই সফল হয়, যখন তা গড়ে ওঠে আস্থার ওপর ভিত্তি করে। আজ কৌশলগত দিক থেকে খনিজ, প্রযুক্তি কিংবা বাজার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয় – যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হল পারস্পরিক আস্থা।
প্রযুক্তি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল সর্বজনীন কল্যাণে ব্যবহৃত হওয়া উচিত, অস্ত্র হিসেবে নয়। এমন এক বাতাবরণ গড়ে ওঠা জরুরী, যেখানে উন্নয়নের সুফল কয়েকটি মাত্র দেশের হাতেই কেন্দ্রীভূত নয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রতিটি দেশের আশা-আকাঙ্খা পূরণ।
বন্ধুরা,
বিগত দশকে মানব সভ্যতা দুটি বিশ্বযুদ্ধের সাক্ষী থেকেছে। বহু ক্ষয়ক্ষতি এবং হানির পর বিশ্ব সমাজ শান্তি, সুস্থিতি ও সমৃদ্ধির অভিমুখে যাত্রার একটি কাঠামোগত ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। এরও ভিত্তি ছিল পারস্পরিক আস্থা।
কিন্তু দশকের পর দশক ধরে বিভিন্ন প্রজন্মের আবদানের সুবাদে যে আস্থা তৈরি হয়েছিল, তা আজ প্রশ্নের মুখে। কোভিড ১৯ দেখিয়ে দিয়েছে যে, পারস্পরিক আস্থা ও ঐক্যের মাত্রা যতটা ভাবা গিয়েছিল আসলে ততটা নয়।
বিশ্ব আজ সম্পদের অপ্রতুলতার কারণে বিপন্ন নয়। বিপদের কারণ হল আস্থার অভাব। আমাদের অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে এই আস্থার মাত্রা কোন পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে তার ওপর।
প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগান একবার বলেছিলেন, “বিশ্বাস কর, কিন্তু যাচাইও করে নাও।” আজও এই বার্তা প্রাসঙ্গিক। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিয়মনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা আমাদের কর্তব্য।
বন্ধুরা,
ভারত সবসময়ই বিশ্বাস করে যে, সারা বিশ্ব এক পরিবার। আমাদের নীতি হল, “সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়”- অর্থাৎ সকলের কল্যাণ ও সুখ।
ভারতের উন্নয়ন যাত্রা আমাদের এই শিক্ষা দিয়েছে যে, বিকাশ তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তার মূল লক্ষ্য হয় সাধারণ মানুষের আশা–আকাঙ্খা পূরণ। আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রেও আমাদের একই নীতি। সেজন্যই ভারত আন্তর্জাতিক সৌর জোট, বিপর্যয় প্রতিরোধী পরিকাঠামো সংক্রান্ত জোট, জৈব জ্বালানি জোট, মিশন লাইফ কিংবা ‘মায়ের সম্মান একটি গাছ’ কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছে।
বিপর্যয়ের মুখে পড়ার কোনো দেশে সবার আগে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া ভারত নিজের কর্তব্য বলে মনে করে। কোভিড ১৯ এর সময় ১৫০ টিরও বেশি দেশে প্রতিষেধক ও ওষুধ পাঠিয়েছে ভারত।
শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড়, আফগানিস্তানে ভূমিকম্প, মোজাম্বিকে বন্যা, কিউবা ও জামাইকায় ঝড় - সবক্ষেত্রেই ভারত “সর্বাগ্রে মানবিকতা”-র মন্ত্র নিয়ে এগিয়ে গেছে। একই মনোভাব নিয়ে গড়ে উঠেছে আমাদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্ব- যেথানে অংশীদার দেশের ক্ষমতায়ন ও দক্ষতায়নের বিষয়গুলি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত।
ভারত মনে করে অন্যদের জন্য কিছু তৈরি করে দেওয়াতেই কাজ শেষ নয়, অন্যরা নিজেরাও যাতে তা গড়ে তুলতে পারে এমন একটা অবস্থা গড়ে তোলা দরকার।
বন্ধুরা,
আজ দক্ষিণী বিশ্বের দেশগুলি আন্তর্জাতিক সমাজের থেকে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। তারা কিন্তু কেবল সহায়তা চায় না, চায় প্রকৃত অংশীদারিত্ব। তারা বিশ্বের উন্নয়ন যজ্ঞে অবদান রাখতে চায়, কেবল সুবিধাভোগী হয়ে থাকতে চায় না তারা।
আগের দাতা-গ্রহীতা নীতি ছাড়িয়ে আমাদের সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। অংশীদারিত্বের মধ্যে পারস্পরিক মর্যাদাবোধ থাকা জরুরী। তবেই গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের জন্য ধারাবাহিক বিকাশের মঞ্চ।
বন্ধুরা,
সকলের সামনে আসা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারলেই তবেই প্রকৃত অংশীদারিত্ব ও আন্তর্জাতিক বোঝাপড়া তৈরি হয়। ভারত দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে আলাপ আলোচনা ও কূটনীতিই একমাত্র পথ।
পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির উদ্যোগে যেভাবে এগোনো গেছে তাকে আমরা স্বাগত জানাই। এই সংঘাত ওই অঞ্চলে আমাদের বন্ধু দেশগুলিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পত্তি হানি ঘটিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। প্রাণ হারিছেন বেশ কয়েকজন ভারতীয়। আমাদের দায়িত্ব হল নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সমুদ্রপথ যাতে নিরাপদ থাকে এবং নাবিকরা যাতে নির্ভয়ে কাজ করতে পারেন তা নিশ্চিত করতেই হবে।
বন্ধুরা,
এই সব বিষয়ে ভারত সব অংশীদারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
অনেক ধন্যবাদ।
(প্রধানমন্ত্রী মূল ভাষণটি ছিল হিন্দীতে।)
SC/AC/SG
(रिलीज़ आईडी: 2274450)
आगंतुक पटल : 4