MIFF banner

বহু কণ্ঠস্বর, এক অঞ্চল: উত্তর-পূর্ব ভারতের চলচ্চিত্র নিয়ে ১৯তম MIFF-এ বিশেষ বিভাগ

মুম্বাই, ১৭  জুন  ২০২৬

 

১৫ থেকে ২১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত আয়োজিত ১৯তম মুম্বাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (MIFF 2026)-এ উত্তর-পূর্ব ভারতের সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ রাজ্যগুলির স্বল্পদৈর্ঘ্যের কাহিনিচিত্র ও তথ্যচিত্র নিয়ে একটি বিশেষ নির্বাচিত বিভাগ রাখা হয়েছে। এই চলচ্চিত্রগুলির মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং পরিবেশগত বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়েছে।
 ‘কা পাতেং’ (খাসি)
সঙ্কিরাং এল. খংভির পরিচালিত এবং পোনবিশাল চিদাম্বরনাথন প্রযোজিত ‘কা পাতেং’ (২০২৩) ৩০ মিনিটের খাসি ভাষার স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র। এটি   ন্যাশনাল ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (NFDC)-এর জন্য নির্মিত হয়েছে।
মায়ের মৃত্যুর পরবর্তী পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ছবির কাহিনি এগিয়ে চলে। বহু বছরের বিচ্ছেদের পর তিন ভাইবোন আবার একই ছাদের নিচে একত্রিত হতে বাধ্য হয়। 
‘লেন্তিনা আও – পূর্ব দিগন্তের আলোকবর্তিকা’ (ইংরেজি, নাগামিজ ও আও)
‘লেন্তিনা আও – পূর্ব দিগন্তের আলোকবর্তিকা’ ২০২৩ সালের একটি তথ্যচিত্র, এটির পরিচালনা করেছেন সঞ্জীব পরাশর এবং নীলাক্ষী মেধি। ন্যাশনাল ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (NFDC) প্রযোজিত এই চলচ্চিত্রটি ইংরেজি, নাগামিজ ও আও ভাষায় নির্মিত।
চলচ্চিত্রটি সমাজকর্মী লেন্তিনা আও-এর অসাধারণ জীবন ও অবদানের কাহিনি তুলে ধরে। তিনি নাগা জনগণের কল্যাণ ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। 
‘মাই লাস্ট ফেস: ফ্ল্যাট-নোজ (মাই লাস্ট ফেস: কুংবারা)’ (ককবরক ও কাউব্রু)
এটি ২০২৪ সালের একটি তথ্যচিত্র। পরিচালনা করেছেন সুজিত দেববর্মা ও প্রণব জ্যোতি ডেকা। প্রযোজনা করেছেন প্রণব জ্যোতি ডেকা, দিলীপ দেববর্মা এবং সুজিত দেববর্মা। এটি ককবরক ও কাউব্রু ভাষায় নির্মিত।
ত্রিপুরার সবুজ-শ্যামল প্রাকৃতিক পরিবেশকে পটভূমি করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি রিয়াং (ব্রু) সম্প্রদায়ের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও অলঙ্কারের মাধ্যমে অনুসন্ধান করে। 

শাংগ্রিলা – দ্য হিডেন প্যারাডাইস [সিকিমিজ (ভুটিয়া)]
২০২৫ সালে নির্মিত এই তথ্যচিত্রটি পরিচালনা করেছেন সামতেন ভুটিয়া, প্রযোজনা করেছে ন্যাশনাল ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (NFDC)। সিকিমিজ (ভুটিয়া) ভাষায় নির্মিত ৯০ মিনিটের এই তথ্যচিত্রের পটভূমি হল মহিমান্বিত কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতের সুরক্ষাময় ছায়ায় অবস্থিত হিমালয়-কন্যা সিকিম। 
সিকিমের বিশ্ববিখ্যাত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটক আকর্ষণের গণ্ডি অতিক্রম করে এই তথ্যচিত্র রাজ্যের তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভূগোলের গভীরে প্রবেশ করেছে। সিকিমের অতীত, সমাজ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের এক গভীর ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন উপস্থাপনার মাধ্যমে “শাংগ্রিলা – দ্য হিডেন প্যারাডাইস” দর্শকদের সামনে এক রহস্যময় অথচ সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের জগৎ উন্মোচন করে।
টিনস অব ১৯৪২ (বিয়াল্লিশর লৰালি) [অসমীয়া]
২০২৩ সালে নির্মিত এই অসমীয়া তথ্যচিত্রটি  পরিচালনা করেছেন সমীরণ ডেকা, প্রযোজনা করেছেন সমীরণ ডেকা ও ভাস্কর জ্যোতি দাস।
ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নির্মিত এই তথ্যচিত্রটি কিশোর স্বাধীনতা সংগ্রামী ভোলানাথ নাগরিয়া এবং রাধা বরা-র অসাধারণ দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে। 
দ্য হিলিং প্রিস্ট (পুইথিয়াম) [মিজো]
২০২৬ সালে নির্মিত এই মিজো ভাষার স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র  পরিচালনা করেছেন নেপোলিয়ন আর. জেড. থাঙ্গা। মাত্র ৯ মিনিটের এই চলচ্চিত্রটি ঐতিহ্য, বিশ্বাস এবং সমকালীন উদ্বেগের এক গভীর অনুসন্ধানের উপস্থাপন করে।
চলচ্চিত্রটির মূল প্রেরণা এসেছে মিজো সমাজের প্রাচীন চিকিৎসা-সংক্রান্ত আচার ‘দাইবাওল’ থেকে। এই প্রথায় একজন পুইথিয়াম বা আধ্যাত্মিক চিকিৎসক বিশেষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পাদন করতেন এবং ‘লেংলেপ’ ঝুলিয়ে দিতেন, যা অশুভ আত্মাকে দূরে রাখার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই অশুভ আত্মারাই নানা রোগব্যাধির কারণ।
চলচ্চিত্রটি এক হতাশাগ্রস্ত যুবকের কাহিনি অনুসরণ করে, যে তার অসুস্থ পিতার আরোগ্যের উপায় খুঁজে বেড়ায়। এই অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা-পদ্ধতি এবং আধুনিক স্বাস্থ্যচেতনা ও সুস্থতার আকাঙ্ক্ষার মধ্যকার  টানাপোড়েনকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
মণিপুর ব্রাউ-অ্যান্টলার্ড ডিয়ার (সাংগাই) [মণিপুরি ও ইংরেজি]
২০২৫ সালে নির্মিত এই ৩০ মিনিটের দ্বিভাষিক (মণিপুরি ও ইংরেজি) তথ্যচিত্র পরিচালনা করেছেন আকাঙ্ক্ষা সুদ সিং এবং প্রযোজনা করেছেন রোশনি নাদার মালহোত্রা ও ঋষিকেশ আত্মারাম চাভান।
তথ্যচিত্রটি একটি বিপন্ন হরিণ উপপ্রজাতি সাংগাই-এর কাহিনি তুলে ধরে। এটি মণিপুর রাজ্যের অন্যতম প্রতীক হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়ভাবে “নৃত্যরত হরিণ” নামে পরিচিত এই প্রাণীটি তার অনন্য চলাফেরা ও সৌন্দর্যের জন্য বিশেষভাবে খ্যাত।
জাতিগত ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনে প্রভাবিত এক অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে সাংগাইকে মণিপুরের অনন্য ভাসমান তৃণভূমির মধ্য দিয়ে বিচরণ করতে দেখা যায়। একই সঙ্গে তথ্যচিত্রটি এই বিরল প্রাণীর দীর্ঘদিনের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামকে তুলে ধরে।
 “মণিপুর ব্রাউ-অ্যান্টলার্ড ডিয়ার (সাংগাই)” কেবল একটি বন্যপ্রাণভিত্তিক তথ্যচিত্র নয়; এটি প্রকৃতি, সংরক্ষণ এবং মানবসমাজের পারস্পরিক নির্ভরতার এক সংবেদনশীল ও চিন্তাশীল উপস্থাপনা, যা মণিপুরের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীককে নতুনভাবে তুলে ধরে।


SC/SD/NS


Great films resonate through passionate voices. Share your love for cinema with #MIFF2026. Tag us @pibmumbai on X, and we'll help spread your passion! For journalists, bloggers, and vloggers wanting to connect with filmmakers for interviews/interactions, reach out to us at miff.mediadesk@pib.gov.in with the subject line: Take One with PIB.


रिलीज़ आईडी: 2274125   |   Visitor Counter: 4