পেট্রোলিয়ামওপ্রাকৃতিকগ্যাসমন্ত্রক
পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিকতম পরিস্থিতি বিষয়ে আন্ত: মন্ত্রক ব্রিফিং
प्रविष्टि तिथि:
15 JUN 2026 6:07PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লী, ১৫ জুন,২০২৬
পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যে ভারত সরকার নিয়মিত আপডেটের মাধ্যমে নাগরিকদের অবহিত রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এই বিষয়ে, আজ জাতীয় মিডিয়া সেন্টারে একটি মিডিয়া ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক, বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রক এবং বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকরা জ্বালানির উপলব্ধতা, সামুদ্রিক কার্যক্রম, ওই অঞ্চলে ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে তথ্য দেন। রাসায়নিক ও সার মন্ত্রকও দেশে সারের প্রাপ্যতা ও মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেট জানিয়েছে।
*সারের মজুত পরিস্থিতি ও প্রাপ্যতা*
* দেশে সার মজুতের সামগ্রিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক।
* খরিফ ২০২৬ মরশুমের জন্য কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তর (DA&FW) সারের প্রয়োজনীয়তা পুনর্মূল্যায়ন করে ৩৮৩.৯ লক্ষ মেট্রিক টন (LMT) নির্ধারণ করেছে। এর বিপরীতে আজ পর্যন্ত দেশে প্রায় ১৯৬.৬৫ LMT সার মজুত রয়েছে (৫১%-এর বেশি), যা সাধারণত থাকা প্রায় ৩৩%-এর স্তরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এটি সরকারের উন্নত পরিকল্পনা, আগাম মজুত ব্যবস্থা এবং দক্ষ পণ্য ব্যবস্থাপনারই প্রতিফলন।
* চলতি খরিফ মরশুমে ১৪.০৬.২০২৬ পর্যন্ত ভারতীয় কৃষকরা মোট ১০২.৭৮ LMT রাসায়নিক সার কিনেছেন, যা মোট প্রয়োজনের প্রায় ২৭%।
* দেশে জৈব সারের মজুত প্রায় ২২.৬০ LMT রয়েছে।
* যুদ্ধ পরিস্থিতির পর ভারতীয় কৃষকরা ১১.৮২ LMT জৈব সার (FOM/LFOM/PROM) কিনেছেন। এর মধ্যে
পাঞ্জাব ২.৯১ LMT
উত্তরপ্রদেশ ২.৯৪ LMT
হরিয়ানা ১.৪৪ LMT
মধ্যপ্রদেশ ১.৩৪ LMT
গুজরাট ১.০ LMT
এবং
মহারাষ্ট্র ০.৮৭ LMT।
* গত বছর একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৩.৩১ LMT। এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি জৈব পুষ্টি উৎস গ্রহণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রবণতা এবং রাসায়নিক সার থেকে ধীরে ধীরে জৈব বিকল্পের দিকে কৃষকদের ঝোঁকের ইঙ্গিত দেয়।
* চলতি খরিফ মরশুমে সারের প্রাপ্যতা নিয়ে কোনও বড় সমস্যা নেই।
* সংকট পরিস্থিতির পর আমদানি ও দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে মোট প্রায় ১৬৩.০১ LMT সার সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে।
চলতি সংকটকালীন সময়ে ভারত ৫০ LMT-এর বেশি ইউরিয়া এবং P&K সার নিশ্চিত করেছে।
* বিদেশে থাকা ২৮টি ভারতীয় মিশনের সমন্বয়ে ভারত ওমান, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, জর্জিয়া, নাইজেরিয়া, রাশিয়া, ফিনল্যান্ড, মিশর, আলজেরিয়া, তুরস্ক, নেদারল্যান্ডস থেকে ইউরিয়া এবং রাশিয়া, মরক্কো, মিশর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডন, দক্ষিণ কোরিয়া, তিউনিসিয়া, সৌদি আরব (রেড সি রুটের মাধ্যমে) থেকে DAP/NPKs-এর সরবরাহ নিশ্চিত করেছে।
* চলতি জুন মাসে ভারতীয় বন্দরে আমদানিকৃত ২৫ LMT-এর বেশি ইউরিয়া, DAP এবং NPK পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
* ভারত ১৭ LMT ইউরিয়া ক্রয়ের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র জারি করেছে, যার প্রক্রিয়া চলছে।
* ইউরিয়া এবং P&K সার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের প্রাপ্যতা সার দপ্তর (DoF) নিয়মিত পর্যালোচনা করছে।
* DoF নিয়মিতভাবে প্রতি সপ্তাহে সংস্থাগুলির জমা দেওয়া সমস্ত ভর্তুকির বিল পরিশোধ করছে এবং বর্তমানে সার ভর্তুকি প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট রয়েছে।
* পর্যাপ্ত সার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে এ পর্যন্ত EGoS-এর ১২টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং অধিকাংশ সরবরাহ সংক্রান্ত সমস্যা EGoS-এর মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে।
* ভারতের সার নিরাপত্তা শক্তিশালী, স্থিতিশীল এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। দেশের সমস্ত প্রধান সারের ক্ষেত্রে প্রাপ্যতা ধারাবাহিকভাবে প্রয়োজনীয়তার তুলনায় বেশি রয়েছে।
*শক্তি সরবরাহ ও জ্বালানির প্রাপ্যতা*
পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পেট্রোলিয়াম পণ্য ও এলপিজির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে গৃহীত পদক্ষেপগুলি তুলে ধরে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক বর্তমান জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি আপডেট দিয়েছে। এতে জানানো হয়েছে যে:
* অপরিশোধিত তেল পরিস্থিতি ও রিফাইনারি কার্যক্রম
* সমস্ত রিফাইনারি উচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে এবং পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণ পেট্রোল ও ডিজেলের মজুত বজায় রাখা হচ্ছে।
* দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের চাহিদা পূরণে সহায়তার জন্য রিফাইনারিগুলিতে দেশীয় এলপিজি উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে।
* দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোকেমিক্যাল ফিডস্টকের সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি আন্তঃমন্ত্রক যৌথ কর্মীগোষ্ঠী (Joint Working Group - JWG) গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার ০১.০৪.২০২৬ তারিখের আদেশের মাধ্যমে তেল শোধনকারী সংস্থাগুলিকে, যার মধ্যে পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সগুলিও রয়েছে, সেন্টার ফর হাই টেকনোলজি (CHT) নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলির জন্য নির্দিষ্ট ন্যূনতম পরিমাণ C3 ও C4 স্ট্রিম সরবরাহের অনুমতি দিয়েছে।
* ফার্মাসিউটিক্যালস বিভাগ, রাসায়নিক ও পেট্রোকেমিক্যাল বিভাগ (DCPC), শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য প্রসার বিভাগ (DPIIT)-এর কাছ থেকে প্রাপ্ত অনুরোধের ভিত্তিতে এলপিজি পুল থেকে প্রতিদিন ১১২০ মেট্রিক টন C3-C4 অণুর সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা ফার্মা, রাসায়নিক ও পেইন্ট শিল্পের সংস্থাগুলির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।
* ১ জুন ২০২৬ থেকে মুম্বই, কোচি, বিশাখাপত্তনম , চেন্নাই, মথুরা ও গুজরাটের শোধনাগারগুলি রাসায়নিক, ফার্মা ও পেইন্ট শিল্পগুলির কাছে ৫৮৬০ মেট্রিক টনের বেশি C3-C4 অণু (প্রোপিলিন ও বিউটিলিন সমন্বিত) এবং প্রায় ৫০৫০ মেট্রিক টন বিউটাইল অ্যাক্রিলেট বিক্রি করেছে।
*খুচরা জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য সংক্রান্ত পদক্ষেপ*
সারা দেশে সমস্ত খুচরো জ্বালানি কেন্দ্র (Retail Outlets) স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে অপরিশোধিত তেলের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটেছে। তবে ভোক্তাদের সুরক্ষার জন্য ভারত সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের উপর অন্ত শুল্ক প্রতি লিটারে ১০ টাকা কমিয়েছে।
কিছু এলাকায় খুচরা জ্বালানি কেন্দ্রগুলিতে অস্বাভাবিক বেশি বিক্রি ও অতিরিক্ত ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে সারা দেশের সমস্ত পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত পেট্রোল ও ডিজেলের মজুত রয়েছে।
*প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ ও PNG সম্প্রসারণ উদ্যোগ*
গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দিয়ে D-PNG এবং CNG-পরিবহনে ১০০% সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
* চলতি ইউরিয়া কারখানাগুলিতে বর্তমানে গত ছয় মাসের গড় ব্যবহারের প্রায় ১০০% হারে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
* সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন(CGD) নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরবরাহসহ অন্যান্য শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহ বাড়িয়ে ৮০% পর্যন্ত করা হয়েছে।
* বাণিজ্যিক LPG-এর প্রাপ্যতা সংক্রান্ত সমস্যার মোকাবিলায় CGD সংস্থাগুলিকে তাদের সমস্ত GA (Geographical Area)-তে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ক্যান্টিনের মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে PNG সংযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
* CGD নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদনগুলির অনুমোদন দ্রুত করার জন্য ভারত সরকার রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকার এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রকগুলিকে অনুরোধ করেছে।
* ভারত সরকার ১৮.০৩.২০২৬ তারিখের চিঠির মাধ্যমে রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে অতিরিক্ত ১০% বাণিজ্যিক LPG বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে, যদি তারা দীর্ঘমেয়াদে LPG থেকে PNG-তে রূপান্তরে সহায়তা করতে পারে।
* ২২টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল PNG সম্প্রসারণ সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত অতিরিক্ত বাণিজ্যিক LPG বরাদ্দ পাচ্ছে।
* আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি সম্পন্ন ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে ভারত সরকার একটি খসড়া রাজ্য CBG নীতি তৈরি করেছে। এটি একটি নমনীয় ও সমন্বিত নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে, যাতে রাজ্যগুলি CBG (Compressed Bio Gas) উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগবান্ধব ও কার্যকর পরিবেশ তৈরি করতে পারে। যেসব রাজ্য এই নীতি গ্রহণ করবে, তাদের পরবর্তী পর্যায়ের অতিরিক্ত বাণিজ্যিক LPG বরাদ্দে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
* মার্চ ২০২৬ থেকে প্রায় ৯.৭৬ লক্ষ PNG সংযোগে গ্যাস সরবরাহ চালু করা হয়েছে এবং আরও ৩.১৯ লক্ষ সংযোগের জন্য পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ফলে মোট ১২.৯৫ লক্ষ সংযোগের ব্যবস্থা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৯.৭২ লক্ষ গ্রাহক নতুন সংযোগের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন।
*LPG সরবরাহ*
গৃহস্থালি LPG সরবরাহের অবস্থা:
* বর্তমান পরিস্থিতির কারণে LPG সরবরাহ এখনও প্রভাবিত হচ্ছে।
* গৃহস্থালি গ্রাহকদের LPG সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
* LPG ডিস্ট্রিবিউটরদের ক্ষেত্রে কোনো ‘ড্রাই-আউট’ (স্টক শেষ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি) রিপোর্ট করা হয়নি।
* গতকাল শিল্পভিত্তিক হিসাবে অনলাইন LPG সিলিন্ডার বুকিং প্রায় ৯৯%-এ পৌঁছেছে।
* ডিস্ট্রিবিউটর পর্যায়ে অপব্যবহার বা অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়া ঠেকাতে Delivery Authentication Code (DAC)-ভিত্তিক ডেলিভারি প্রায় ৯৬%-এ উন্নীত করা হয়েছে। DAC গ্রাহকের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে পাঠানো হয়।
* গত ৪ দিনে প্রায় ১.৮৪ কোটি LPG সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে, যেখানে বুকিং ছিল প্রায় ১.৬৬ কোটি LPG সিলিন্ডারের।
*বাণিজ্যিক LPG সরবরাহ ও বরাদ্দ সংক্রান্ত ব্যবস্থা*
* ভারত সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সংকট-পূর্ব স্তরের ৭০% পর্যন্ত মোট বাণিজ্যিক LPG বরাদ্দ করা হবে, যার মধ্যে ১০% সংস্কারভিত্তিক বরাদ্দ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
* গত ৪ দিনে—
° প্রায় ২.১৮ লক্ষ ৫ কেজির FTL (Free Trade LPG) সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে।
°৮৭১টি ক্যাম্পের মাধ্যমে ১৪,৫০০-এর বেশি ৫ কেজির FTL সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে।
মোট ২৪,১৮৪ মেট্রিক টন বাণিজ্যিক LPG বিক্রি হয়েছে।
°PSU OMC-গুলির মাধ্যমে প্রায় ৭২২ মেট্রিক টন Auto LPG বিক্রি হয়েছে।
°রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে সমন্বিত প্রচেষ্টা ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা
অত্যাবশ্যক পণ্য আইন, ১৯৫৫ এবং এলপিজি নিয়ন্ত্রণ আদেশ, ২০০০-এর অধীনে রাজ্য সরকারগুলিকে সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং মজুতদারি ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
°পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজি-সহ অত্যাবশ্যক পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকার/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসনের প্রধান ভূমিকা রয়েছে। ভারত সরকার একাধিক চিঠি ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সমস্ত রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে বিষয়টি পুনরায় জানিয়েছে।
°ভারত সরকার একাধিক চিঠি ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে—এই বিষয়ে নাগরিকদের আশ্বস্ত করতে সক্রিয় জনসংযোগের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে।
°২৬.০৫.২০২৬ তারিখের চিঠির মাধ্যমে ভারত সরকার সমস্ত রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য সচিবদের অনুরোধ করেছে যে, তাঁরা যেন রাজ্য ও জেলা কর্তৃপক্ষকে উপযুক্ত নির্দেশ দেন—জেলাভিত্তিক HSD/MS (হাই স্পিড ডিজেল/মোটর স্পিরিট) উত্তোলনের ধরণ পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করতে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং প্রধান পরিবহন/শিল্প করিডরগুলিতে পরিদর্শন ও প্রয়োগমূলক কার্যক্রম বাড়াতে, যাতে শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরা খুচরো বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে অননুমোদিতভাবে HSD সংগ্রহ করতে না পারে। পাশাপাশি, নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
°১০.০৬.২০২৬ তারিখের চিঠির মাধ্যমে ভারত সরকার সমস্ত রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য সচিবদের অনুরোধ করেছে যে, তাঁরা যেন জেলা শাসক/জেলা ম্যাজিস্ট্রেট/কমিশনার/শহরাঞ্চলীয় সংস্থার বিশেষ আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন, যাতে তাঁরা সংশ্লিষ্ট SLC/CGD সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে যেখানে PNG (পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস) উপলব্ধ রয়েছে সেখানে এলপিজি গ্রাহকদের সম্পূর্ণভাবে PNG ব্যবহারে উৎসাহিত করেন। জেলা ও শহর প্রশাসনের অংশগ্রহণ PNG নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে সরকারের চলমান প্রচেষ্টার ফলাফল আরও উন্নত করবে।
* ১১.০৬.২০২৬ তারিখের গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভারত সরকার তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে (OMC) নিম্নলিখিত নির্দেশ দিয়েছে—
* খুচরো বিক্রয় কেন্দ্রগুলিতে (Retail Outlet) শুধুমাত্র যানবাহনের ট্যাঙ্ক অথবা PESO অনুমোদিত পাত্রে ডিজেল সরবরাহ করা যাবে। প্রতি গ্রাহক/যানবাহনের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২০০ লিটার পর্যন্ত সীমা থাকবে। খুচরো বিক্রয় কেন্দ্র থেকে কেনা ডিজেল পুনরায় বিক্রি করা যাবে না।
* শিল্প ও প্রত্যক্ষ বা প্রাতিষ্ঠানিক এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের খুচরো বিক্রয় কেন্দ্র থেকে জ্বালানি সংগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাঁদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি কনজিউমার পাম্পের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে।
* নির্ধারিত বিধিনিষেধ মেনে চলা এবং আদেশের বিধান এড়িয়ে যাওয়ার যেকোনও প্রচেষ্টা রোধ করার দায়িত্ব তেল বিপণন সংস্থা (OMC) ও খুচরো বিক্রয় কেন্দ্রের ডিলারদের উপর থাকবে।
* কালোবাজারি বা অননুমোদিতভাবে জ্বালানি সরিয়ে নেওয়ার মতো অনিয়ম রোধ করতে এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
*প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা ও নজরদারি কার্যক্রম*
* পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজির মজুতদারি এবং কালোবাজারি বন্ধ করতে সারা দেশে রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির পক্ষ থেকে প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
*এলপিজি সংক্রান্ত ব্যবস্থা:*
* মার্চ ২০২৬ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট প্রায় ১,৩৩০টি FIR দায়ের করা হয়েছে, ৩১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় ৭৫,৯৬০টি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
*পেট্রোল ও ডিজেল সংক্রান্ত ব্যবস্থা:*
* ২৭ মে ২০২৬ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ১২,৩০৭ লিটার পেট্রোল এবং প্রায় ৯১,২৬৩ লিটার ডিজেল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৫০টিরও বেশি FIR দায়ের হয়েছে এবং প্রায় ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
* একইভাবে, সরকারি তেল বিপণন সংস্থাগুলির (PSU OMC) আধিকারিকদের দ্বারা আকস্মিক পরিদর্শনও অব্যাহত রয়েছে।
*খুচরো বিক্রয় কেন্দ্র (Retail Outlet):*
* গত ৪ দিনে ৩টি খুচরো বিক্রয় কেন্দ্রের উপর জরিমানা আরোপ করা হয়েছে এবং বাজার শৃঙ্খলা নির্দেশিকা লঙ্ঘনের কারণে ৮৬৬টি খুচরো বিক্রয় কেন্দ্রকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
*সরকারের প্রস্তুতি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত পদক্ষেপ**
- চলতি ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও সরকার নিশ্চিত করেছে যে গৃহস্থালি এলপিজি, গৃহস্থালি PNG এবং CNG (পরিবহন)-এর ক্ষেত্রে ১০০% সরবরাহ বজায় রাখা হচ্ছে।
- বাণিজ্যিক এলপিজির ক্ষেত্রে হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ওষুধ শিল্প, ইস্পাত, অটোমোবাইল, বীজ, কৃষি ইত্যাদি ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
- অভিবাসী শ্রমিক, ছাত্রছাত্রী ইত্যাদির এলপিজি চাহিদা পূরণে সহায়তার জন্য ৫ কেজির FTL (ফ্রি ট্রেড এলপিজি) সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।
- সরকার ইতিমধ্যেই সরবরাহ ও চাহিদা—উভয় দিকেই একাধিক যুক্তিকরণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে শোধনাগারের উৎপাদন বৃদ্ধি, শহরাঞ্চলে বুকিংয়ের ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা, গ্রামাঞ্চলে তা ৪৫ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা এবং সরবরাহের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারভিত্তিক ক্ষেত্র নির্ধারণ করা।
**জনসচেতনতা ও নাগরিকদের জন্য পরামর্শ**
- পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজির সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নাগরিকদের আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পেট্রোল, ডিজেল কেনা বা এলপিজি বুকিং না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- গুজব থেকে সতর্ক থাকতে এবং সঠিক তথ্যের জন্য শুধুমাত্র সরকারি সূত্রের উপর নির্ভর করতে বলা হয়েছে।
- নাগরিকদের PNG, ইন্ডাকশন/ইলেকট্রিক কুকটপ ইত্যাদি বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
- বড় ও শিল্প গ্রাহকদের অনুমোদিত সংগ্রহ ব্যবস্থার মাধ্যমে ডিজেল সংগ্রহ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
- বর্তমান পরিস্থিতিতে সমস্ত নাগরিককে দৈনন্দিন ব্যবহারে শক্তি সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
**সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত কার্যক্রম**
বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রক পারস্য উপসাগরের বর্তমান সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি আপডেট দিয়েছে। ভারতীয় জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানানো হয়েছে:
- মাল্টার পতাকাবাহী LNG জাহাজ DISHA (IMO: 9250713), যা SCI-নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়ামের পরিচালনাধীন, আজ ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে হরমুজ প্রণালী নিরাপদে অতিক্রম করেছে। জাহাজটিতে প্রায় ৬২,৩৭০ মেট্রিক টন LNG (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) পণ্য রয়েছে, যা ভারতের দাহেজের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। জাহাজটি ১৮ জুন ২০২৬ নাগাদ ভারতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
- নৌপরিবহন মহাপরিদপ্তর (DG Shipping)-এর মাধ্যমে মন্ত্রক বিদেশ মন্ত্রক, বিদেশে অবস্থিত ভারতীয় মিশন, জাহাজ সংস্থাগুলি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রেখে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে।
- *DG Shipping কন্ট্রোল রুম আপডেট:*
- কন্ট্রোল রুম চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১২,৭৩৭টি ফোন কল এবং ২৮,২৯৯টির বেশি ই-মেইল করা হয়েছে। গত ৯৬ ঘণ্টায় নাবিক, তাঁদের পরিবার এবং সামুদ্রিক ক্ষেত্রের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির কাছ থেকে মোট ৪০৬টি ফোন কল এবং ৭৮৪টি ই-মেইল পাওয়া হয়েছে।
- *দেশে ফিরিয়ে আনা সংক্রান্ত আপডেট:* নৌপরিবহন মহাপরিদপ্তরের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৩,৫৮৭ জনের বেশি ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে গত ৯৬ ঘণ্টায় উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে ৫০ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
- ভারতের সমস্ত বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোথাও কোনও জটের খবর পাওয়া যায়নি।
SC......
(रिलीज़ आईडी: 2273292)
आगंतुक पटल : 6