স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে গুজরাটের ভুজ-এ জি-৭ সীমাচৌকিতে প্রহরারত জওয়ানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এবং জি-৭ ও জি-১৩ সীমাচৌকির উদ্বোধন করেছেন
পোস্ট করার দিনক্ষণ:
29 MAY 2026 4:53PM by PIB Agartala
নয়াদিল্লি, ২৯ মে, ২০২৬
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ আজ ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে গুজরাটের ভুজ-এ জি-৭ ও জি-১৩ — এই দুটি সীমাচৌকির উদ্বোধন করেছেন। তিনি ঐ অঞ্চলে প্রহরারত সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন। এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব সহ ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রী শাহ বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর জওয়ানরা চরম আবহাওয়ায় ও প্রতিকূল ভৌগোলিক অবস্থানে থেকে সীমানা প্রহরার কাজ করেন। তিনি বলেন, এই বাহিনীর ৬০ বছরের সময়কালে দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চলকে তারা পাহারা দিয়ে আসছে। মাইনাস ৪৫ ডিগ্রি থেকে প্লাস ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে বিএসএফ জওয়ানরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরা হলেন দেশের সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রথম প্রাচীর। তিনি ২ হাজারের বেশি শহীদ কর্তব্যরত জওয়ানের উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
শ্রী শাহ বলেন, কচ্ছ-এর রন এবং স্যর ক্রিক ও হারামি নালার মতো জলাভূমি অঞ্চলে বিএসএফ জওয়ানদের দেশের সীমানা রক্ষা করতে হয়। অন্যদিকে আবার রাজস্থানে মরুপ্রান্ত থেকেও তাঁরা এই কাজ করেন। কাশ্মীরের সুউচ্চ পর্বতমালা, সুন্দরবনের জঙ্গল, গঙ্গাসাগরের তীর, মেঘালয় ও আসামের ঘন জঙ্গলে ঢাকা পার্বত্য অঞ্চলে বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের কর্তব্য পালন করেন। তাই, কেন্দ্রীয় সরকার এবং দেশের ১৪০ কোটি জনসাধারণ বিএসএফ-কে অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখেন। কারণ, এই বাহিনীর সদস্যদের জন্যই সকলে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, বনসকান্থায় একটি কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে যেখানে বিএসএফ সদস্যদের কাজকর্ম সম্পর্কে জনসাধারণ জানতে পারেন। গত এক মাসে ২ লক্ষ ৫০ হাজার নাগরিক এই কেন্দ্রটি ঘুরে দেখেন। প্রাথমিক স্তরে একটি সমীক্ষা করা হয়। এই সমীক্ষায় বহু মা জানিয়েছেন, তাঁদের সন্তান যদি বিএসএফ-এ কাজ করার সুযোগ পান, তাহলে তাঁরা গর্ব অনুভব করবেন। বর্তমানে সরকারের একটি সুসংহত পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। সীমান্ত অঞ্চলে ওয়াচ টাওয়ার তৈরি, সড়ক নির্মাণ, জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা, চিকিৎসা পরিষেবা এবং বেড়া লাগানোর কাজ চলছে। এর ফলে গুজরাটের ঐ অঞ্চলটি দিয়ে আগামী দু’বছরের মধ্যে শত্রুদের ভারতে ঢোকা চিরতরে বন্ধ করা হবে।
শ্রী শাহ বলেন, বিএসএফ-এর ৬০ বছরের ইতিহাসে তারা ভবিষ্যতে একটি চতুর্মুখী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। এর ফলে, প্রথাগত সীমান্ত সুরক্ষার পরিবর্তে আঞ্চলিক সুরক্ষার ধারণা শক্তিশালী হবে। এই ব্যবস্থাপনায় জনসাধারণ, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং সেনাবাহিনী বিএসএফ-এর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। স্মার্ট সিটি প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে, ড্রোন, রেডার, ওয়াচ টাওয়ার সহ আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হবে।
মন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত অঞ্চলে বেড়া দেওয়ার কাজ দীর্ঘদিন বাকি ছিল। ভৌগোলিক অবস্থান যেহেতু পরিবর্তন করা যায় না, তাই ঐ অঞ্চলে বেড়া দেওয়া জরুরি। অতীতে সংশ্লিষ্ট জায়গায় জমি অধিগ্রহণ করে এই কাজটি সম্পন্ন করা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের জনসাধারণের আশীর্বাদে তাঁদের দল ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী এক সপ্তাহের মধ্যে সীমান্ত অঞ্চলে বেড়া দেওয়ার জন্য জমি চিহ্নিত করার কাজে গতি এনেছেন। ইতোমধ্যে কিছু জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্ত অঞ্চলে এই বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ হলে অনুপ্রবেশকারীদের ঢোকা বন্ধ করতে সাফল্য অর্জিত হবে। এছাড়াও জঙ্গল এবং নদী-নালা পরিবেষ্টিত সীমান্ত অঞ্চলে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নজরদারি করা হবে। মন্ত্রী বলেন সারা দেশ, বিএসএফ জওয়ানদের মানসিকতাকে শ্রদ্ধা জানায়। তাঁদের জন্যই গুজরাটের এই অঞ্চলে শান্তি বিরাজ করছে।
(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2266709)
ভিজিটরদের কাউন্টার : 5