স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
অপারেশন ‘রেজপিল’: এনসিবি একটি বিশাল আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করেছে; মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ব্যবহৃত একটি সাইকোট্রপিক দ্রব্য — ‘ক্যাপটাগন’ — ভারতে প্রথমবারের মতো বাজেয়াপ্ত হয়েছে
প্রকাশিত:
16 MAY 2026 2:06PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৬ মে ২০২৬
সীমান্তপারের মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে এক বড়সড় সাফল্যের অংশ হিসেবে, নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি) 'অপারেশন রেজপিল'-এর আওতায় ক্যাপটাগন পাচারে জড়িত একটি আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সন্ধান পেয়েছে। এর ফলে প্রায় ২২৭.৭ কেজি ক্যাপটাগন ট্যাবলেট ও পাউডার বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং ওই চক্রের সদস্য এক সিরীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান করছিলেন। ক্যাপটাগনে মূলত ফেনেটাইলিন এবং অ্যাম্ফিটামিন থাকে, যা এনডিপিএস আইনের অধীনে 'সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্স' বা মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব সৃষ্টিকারী পদার্থ হিসেবে গণ্য হয়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ 'অপারেশন রেজপিল' সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য এনসিবি-র সদাসতর্ক ও সাহসী সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। শ্রী শাহ বলেন যে, 'অপারেশন রেজপিল'-এর মাধ্যমে আমাদের সংস্থাগুলো তথাকথিত "জিহাদি মাদক" হিসেবে পরিচিত ক্যাপটাগন বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে এই প্রথম সাফল্য অর্জন করেছে।
শ্রী অমিত শাহ সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে লিখেছেন, "মোদী সরকার একটি 'মাদকমুক্ত ভারত' গড়ে তোলার লক্ষ্যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, 'অপারেশন রেজপিল'-এর মাধ্যমে আমাদের সংস্থাগুলো তথাকথিত 'জিহাদি মাদক' হিসেবে পরিচিত ক্যাপটাগন — যার বাজারমূল্য ১৮২ কোটি টাকা, বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে এই প্রথম সাফল্য অর্জন করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে পাচারের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত রাখা মাদকের এই চালানটি বাজেয়াপ্ত করা এবং এক বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের 'শূন্য সহনশীলতা' নীতির প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমি আবারও বলছি, ভারতে প্রবেশকারী কিংবা আমাদের ভূখণ্ডকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে দেশ থেকে বাইরে পাচার হতে যাওয়া প্রতি গ্রাম মাদকের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এনসিবি-র সাহসী ও সতর্ক সদস্যদের জানাই কুর্নিশ।"
একটি বিদেশি মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে যে ভারত 'ক্যাপটাগন' পাচারের একটি ট্রানজিট বা করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নয়াদিল্লির নেব সরাই এলাকায় একটি বাড়ি চিহ্নিত করা হয়। ২০২৬ সালের ১১ মে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩১.৫ কেজি ক্যাপটাগন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ট্যাবলেটগুলো একটি বাণিজ্যিক 'চাপাতি কাটার যন্ত্রের' ভেতরে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে লুকিয়ে রাখা ছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, এই চালানটি সৌদি আরবের জেড্ডায় রপ্তানির উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে আরও বেরিয়ে আসে যে, ওই সিরীয় নাগরিক ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর পর্যটন ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর ভিসার মেয়াদ ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি শেষ হয়ে যায়। এরপরও তিনি অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান করছিলেন এবং নেব সরাইয়ের ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন।
অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, ২০২৬ সালের ১৪ মে গুজরাটের মুন্দ্রায় অবস্থিত 'কন্টেনার ফেসিলিটেশন স্টেশন'-এর একটি কন্টেনার থেকে আরও প্রায় ১৯৬.২ কেজি ক্যাপটাগন পাউডার উদ্ধার করা হয়। ওই কন্টেইনারটি সিরিয়া থেকে আমদানি করা হয়েছিল এবং নথিপত্রে এর ঘোষিত পণ্য হিসেবে 'ভেড়ার পশম' উল্লেখ করা ছিল। কন্টেনারটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করে তিনটি ব্যাগ পাওয়া যায়, যার ভেতরে মোট ১৯৬.২ কেজি ক্যাপটাগন পাউডার ছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, বাজেয়াপ্ত করা এই চালানটি উপসাগরীয় অঞ্চল, বিশেষ করে সৌদি আরব এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাঠানো হচ্ছিল। উল্লেখ্য, ওইসব অঞ্চলে ক্যাপটাগনের অপব্যবহার বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
'অপারেশন রেজপিল'-এর আওতায় পরিচালিত এই অভিযানে সব মিলিয়ে প্রায় ২২৭.৭ কেজি ক্যাপটাগন ট্যাবলেট ও পাউডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে এই মাদকের অবৈধ আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য আনুমানিক ১৮২ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই অভিযানটি ভারতে ক্যাপটাগন বাজেয়াপ্ত করার প্রথম ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। একই সাথে, এটি আন্তর্জাতিক মাদক চক্রগুলোর ভারতকে একটি 'ট্রানজিট হাব' হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টাকেও উন্মোচিত করেছে। এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে যে, কীভাবে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা, একাধিক জায়গা জুড়ে সক্রিয় আন্তঃদেশীয় মাদক পাচার চক্রগুলোকে চিহ্নিত করা, প্রতিহত করা এবং নির্মূল করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে এবং কীভাবে বিশ্বজুড়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করে এই আন্তঃদেশীয় মাদক চক্রগুলোকে গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়। মুম্বাইতে সম্প্রতি এনসিবি-র আরেকটি বড় অভিযান এবং মাদক আটকের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান এই বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওই ঘটনায় ইকুয়েডর থেকে আসা একটি কন্টেনারের ভেতর লুকিয়ে রাখা ৩৪৯ কিলোগ্রাম কোকেন উদ্ধার করা হয়েছিল। এই ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, বিভিন্ন অঞ্চলের বাণিজ্য পথগুলোকে মাদক পাচারের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার প্রবণতা আন্তর্জাতিক মাদক চক্রগুলোর মধ্যে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মাদকের উৎস, আর্থিক ও 'হাওয়ালা' সংযোগ, পরিবহণ ও লজিস্টিক সহায়তাকারী, আন্তর্জাতিক প্রাপক এবং এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত বৃহত্তর আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ককে চিহ্নিত করার লক্ষ্যে এনসিবি একটি ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে। মাদক পাচার ও মাদকের অপব্যবহারের মতো বৈশ্বিক সমস্যার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, মাদক সম্রাটদের প্রত্যর্পণ এবং মাদক-সন্ত্রাসবাদ ও মাদক চক্রগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে ভারত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহের নির্দেশে, এনসিবি মাদকের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে 'শূন্য সহনশীলতা' নীতি বাস্তবায়নে তাঁদের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে। পাশাপাশি, সীমান্ত পেরিয়ে সক্রিয় আন্তর্জাতিক মাদক চক্রগুলোকে নির্মূল করার লক্ষ্যে সংস্থাটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ে কাজ করে চলেছে। এনসিবি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য তারা যেন 'মানস' (MANAS) হেল্পলাইনের মাধ্যমে (টোল-ফ্রি নম্বর: ১৯৩৩) কর্তৃপক্ষকে জানান। তথ্য প্রদানকারীদের পরিচয় কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়।
SC/SB/DM
(রিলিজ আইডি: 2261730)
ভিজিটরের কাউন্টার : 11