পেট্রোলিয়ামওপ্রাকৃতিকগ্যাসমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

পশ্চিম এশিয়ায় উদ্ভুত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলির বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য

প্রকাশিত: 03 APR 2026 6:34PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি: ৩ এপ্রিল ২০২৬

 

পশ্চিম এশিয়ায় বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রের মধ্যে সুসংহত পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নানা ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ, সমুদ্রপথে নৌ-চলাচল এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে সর্বশেষ পরিস্থিতি এখানে তুলে ধরা হল।

জ্বালানি সরবরাহ এবং তার সহজপ্রাপ্যতার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক দেশজুড়ে রান্নার গ্যাস সহ অন্যান্য পেট্রোপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকার নাগরিকদের আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাস না কেনার পরামর্শ দিয়েছে। ভুয়ো সংবাদে বিভ্রান্ত না হয়ে শুধুমাত্র সরকারি সূত্রের থেকে পাওয়া খবরের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে। নাগরিকদের রান্নার গ্যাস বুকিং-এর ক্ষেত্রে অনলাইন পদ্ধতি ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাইপবাহিত প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের জন্য সকলকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। 

যুদ্ধের এই পরিস্থিতির মধ্যেও হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করা যায়, তার জন্য সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রান্নার গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে কেরোসিন তেল এবং কয়লা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যগুলিকে গৃহস্থালির কাজে এবং বাণিজ্যিক কারণে পাইপবাহিত প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারে উৎসাহ দিতে বলা হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত পরিস্থিতির বিষয়ে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের সচিবের পৌরোহিত্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব এবং খাদ্য ও গণবন্টন ব্যবস্থাপনার প্রধান সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যগুলিকে ভুয়ো তথ্য এবং মজুতদারদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা বিবেচনা করে ৫ কেজির রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার পরিযায়ী শ্রমিক সহ নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর নাগরিকদের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে রান্নার গ্যাস রয়েছে এবং এর সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটছে না। কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে জনসাধারণের কাছে এ সংক্রান্ত সঠিক বার্তা পৌঁছে দিতে সামাজিক ও বৈদ্যুতিন মাধ্যম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। বর্তমানে ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এ সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত প্রকাশ করছে। 

দেশজুড়ে কালোবাজারি রুখতে ৪ হাজারের বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে ১,৩০০ গ্যাস সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অনলাইনে রান্নার গ্যাসের বুকিং গতকাল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে বৃদ্ধি পেয়ে ৫৪ শতাংশে পৌঁছেছে। গতকাল ৫ কেজি ওজনের রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার ৬৭ হাজারের বেশি বিক্রি হয়েছে। এর ফলে, ২৩ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত এ ধরনের সিলিন্ডার প্রায় ৫ লক্ষ বিক্রি হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য বাণিজ্যিক বা অন্যান্য কারণে যে রান্নার গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে তার মোট পরিমাণ ৬৬,৬৯৩ মেট্রিক টন।

কেন্দ্রীয় সরকার সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনকে পাইপবাহিত রান্নার গ্যাসের সংযোগ রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং ক্যান্টিনগুলিতে আরও বেশি করে সরবরাহের পরামর্শ দিয়েছে। ১০টি রাজ্য বাণিজ্যিক কারণে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাস আরও বেশি পরিমাণে পাচ্ছে। এই গ্যাস পাইপলাইনের মধ্য দিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে। আরও একটি রাজ্যের এ সংক্রান্ত আবেদন বিবেচনাধীন রয়েছে। গত এক সপ্তাহে ৭৫ হাজার সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। মার্চ মাস থেকে এ ধরনের সংযোগ স্থাপন করার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৪২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে ৩ লক্ষ ৭০ হাজার গ্রাহকও নতুন করে সংযোগ স্থাপনের আবেদন জানিয়েছেন। 

দেশে অশোধিত তেল পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। পেট্রোল এবং ডিজেলের মজুতও যথেষ্ট আছে। রান্নার গ্যাসের চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন শোধনাগারে রান্নার গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি খুচরো ব্যবসা কেন্দ্রে যাতে যথেষ্ট জ্বালানি থাকে, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশীয় বাজারে বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানির সরবরাহ বজায় রাখার জন্য রপ্তানি বাবদ লেভি বসানো হয়েছে। ডিজেলের ক্ষেত্রে লিটারপিছু ২১.৫০ টাকা এবং বিমানের জ্বালানির ক্ষেত্রে লিটারপিছু ২৯.৫০ টাকা রপ্তানি লেভি বসেছে। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে নির্ধারিত সরবরাহের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৪৮ হাজার কিলোলিটার কেরোসিন তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। 

বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রক পশ্চিম এশিয়ায় চলাচলকারী ভারতীয় জলযান ও নাবিকদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। মন্ত্রক পরিস্থিতির দিকে প্রতি মুহূর্তে নজরদারি চালাচ্ছে। পাশাপাশি, সমুদ্রপথে ব্যবসা-বাণিজ্যের যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করা হচ্ছে। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত কন্ট্রোল রুমে মহানির্দেশকের দপ্তর সব সময়েই সতর্ক রয়েছে। তারা ৪,৯৮৪টি ফোন-কল এবং ১০,২৯৬টি ই-মেল-এর জবাব দিয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় ৯৯টি ফোন-কল এবং ৩৬২টি মেলের জবাব দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় এই অঞ্চল থেকে ১,১৩০ জন নাবিক নিরাপদে ফিরে এসেছেন। এর মধ্যে ১৫৫ জন আকাশপথে দেশে ফিরেছেন। গুজরাট, মহারাষ্ট্র, গোয়া, কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও পুদুচেরির সমুদ্রযাত্রা সংক্রান্ত পর্ষদকে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলির বন্দরে যাতে জাহাজগুলিকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে না হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। 

এই অঞ্চলে বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার জন্য সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ভারতীয় দূতাবাসগুলি নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে। রাশিয়ার প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মান্টুরোভ গতকাল ভারত সফরে রাশিয়া-ভারত আন্তঃসরকারি কমিশনের বৈঠকে পৌরোহিত্য করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎকালে দুই নেতা ব্যবসা-বাণিজ্য, সার, দু’দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ সহ পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। গত বছর ডিসেম্বরে রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফরের সময় ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি কতটা কার্যকর হয়েছে, বৈঠকে সেই বিষয়গুলিও স্থান পেয়েছে। বিদেশ মন্ত্রী ডঃ এস জয়শঙ্কর শ্রী মান্টুরোভ-এর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, জ্বালানি, সার ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।  

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার বিষয়টিকে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের দূতাবাসগুলি অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। জয়েন্ট এন্ট্রাস পরীক্ষা এবং ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট সহ বিভিন্ন শিক্ষা পর্ষদের পরীক্ষা যাতে যথাযথভাবে নেওয়া যায়, সেই বিষয়টিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৬ লক্ষ ৪৯ হাজার যাত্রী বিমানে ভারতে এসেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে নিয়ন্ত্রিতভাবে ভারতের উদ্দেশ্যে বিমান চালানো হচ্ছে। সৌদি আরব এবং ওমান থেকেও ভারতের বিভিন্ন বিমানবন্দরে উড়ান পরিষেবা চলছে। তবে কাতারের আকাশসীমা আংশিক খোলা হয়েছে। ভারতে ৮-১০টি কাতার এয়ারওয়েজের বিমান চলাচল করছে। তবে, কুয়েতের আকাশপথ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। জাজিরা এয়ারওয়েজ সৌদি আরবের দামমাম বিমানবন্দর থেকে বাণিজ্যিক উড়ান চালাচ্ছে। তবে, বাহরিনের আকাশপথ সম্পূর্ণ বন্ধ। ইরানের আকাশপথ বন্ধ থাকায় যেসব ভারতীয় নাগরিক সে দেশ থেকে ভারতে ফিরতে চাইছেন, তাঁরা আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান হয়ে দেশে ফিরছেন। ভারতীয় দূতাবাস ও ইরান কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ৮৬০ জন ছাত্রছাত্রী সহ ১,২৬৭ জন ভারতীয় নাগরিক দেশে ফিরেছেন। ইজরায়েলে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকরা মিশর ও জর্ডন হয়ে দেশে ফিরছেন। অন্যদিকে, ইরাকে বসবাসরত ভারতীয়রা সৌদি আরব ও জর্ডন হয়ে দেশে ফিরছেন।

 

SC/CB/DM


(রিলিজ আইডি: 2248905) ভিজিটরের কাউন্টার : 19
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , Marathi , Assamese , Gujarati , Odia , Tamil , Telugu , Kannada , Malayalam