পেট্রোলিয়ামওপ্রাকৃতিকগ্যাসমন্ত্রক
পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রক সাংবাদিক সম্মেলন
প্রকাশিত:
01 APR 2026 5:53PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি: ১ এপ্রিল ২০২৬
পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আজ পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস, বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ, বিদেশ, কৃষি ও কৃষককল্যাণ এবং অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রকের শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকরা ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিক সম্মেলনে বিবৃতি দেন। এই ধরনের সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে নিয়মিতভাবে।
কৃষিক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে কৃষি ও কৃষককল্যাণ মন্ত্রক জানিয়েছে যে ২০২৬-এর খরিফ মরশুমের জন্য বীজের প্রাপ্যতা পর্যাপ্ত। প্রয়োজন ১৬৬.৪৬ লক্ষ কুইন্টাল বীজ, মজুত রয়েছে ১৮৫.৭৪ লক্ষ কুইন্টাল। অতিরিক্ত ১৯.২৯ লক্ষ কুইন্টাল বাড়তি বীজ মজুত রয়েছে। প্রধান শস্যগুলির ক্ষেত্রেও মজুত পর্যাপ্ত। ৮০.৯ লক্ষ কুইন্টাল ধান, ৩৫.৭ লক্ষ কুইন্টাল সোয়াবিন, ২১.১ লক্ষ কুইন্টাল গ্রাউন্ডনাট এবং ডাল প্রভৃতি ১১.৯ লক্ষ কুইন্টাল হাতে রয়েছে। বীজ শুকনোর জন্য এলপিজি/পিএনজি-র সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। খরিফ মরশুমে চাষাবাদের জন্য ৩৯০.৫৪ এলএমটি সারের প্রয়োজন বলে হিসেব কষা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮০ এলএমটি অর্থাৎ, ৪৬ শতাংশ এখনই হাতে রয়েছে। সারের সরবরাহ আরও বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। ৩০.০৩.২০২৬ তারিখে সার দপ্তর বিভিন্ন রাজ্যের সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করে। প্রয়োজনমতো প্রতিটি জায়গায় সার পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে। সারের মজুতদারি বা কালোবাজারি যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে রাজ্যগুলিকে বলেছে কেন্দ্র। এক্ষেত্রে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে ধরিত্রীমাতা বাঁচাও আন্দোলন সমিতিগুলিকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কৃষিক্ষেত্র ব্যবহার্য রাসায়নিকের সরবরাহ পরিস্থিতিও অনুকূল। এই ধরনের রাসায়নিকের উৎপাদন ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৬১ হাজার ৯২ মেট্রিক টনে। মোট চাহিদার পরিমাণ হতে পারে ৭৪,২৬৬ মেট্রিক টন। ২০২৬-এর খরিফ মরশুমে ৪২ হাজার মেট্রিক টন প্রয়োজন হবে বলে অনুমান। এই উপাদানের সরবরাহ নিশ্চিত করতেও রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছে কৃষি মন্ত্রক। পাশাপাশি, জৈব কীটনাশক এবং ধারাবাহিক কৃষি পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহার্য রাসায়নিকের দামও মোটামুটি স্থিতিশীল। টোম্যাটো, পেঁয়াজ ও আলুর দামও নাগালের মধ্যে রয়েছে।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, পেট্রোপণ্য এবং এলপিজি-র সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। শোধনাগারগুলি পূর্ণ ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করছে। রান্নার গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। খুচরো বিপণন কেন্দ্রগুলি স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছে। সাধারণ পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে পেট্রোল ও ডিজেলে অন্তঃশুল্ক কমিয়ে দিয়েছে সরকার। কোনো কোনো জায়গা থেকে আতঙ্কিত হয়ে পেট্রোল ও ডিজেল কেনার খবর মিলেছে। এই প্রেক্ষিতেই গুজবে কান না দিতে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন রেখেছে কেন্দ্র। প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত রাখতে রাজ্য সরকারগুলিকে উদ্যোগী হতে বলা হয়েছে। সাধারণ উপভোক্তাদের স্বার্থে পিএনজি এবং সিএনজি সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রেখেছে সরকার। পিএনজি সংযোগ নিতে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এলপিজি সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক নয়। তবে বাড়িতে ব্যবহার্য রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম বাড়েনি। ডিস্ট্রিবিউটারদের কাছে মজুত ফুরিয়েছে এমন কোনো খবরও নেই। গতকাল সারা দেশে ৬০ লক্ষ এলপিজি সিলিন্ডার বাড়িতে বাড়িতে সরবরাহ করা হয়েছে। বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় ৭০ শতাংশ। রাজ্যগুলির জন্য অতিরিক্ত ৪৮ হাজার কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ করা হয়েছে। জ্বালানির মজুতদারি এবং কালোবাজারি রুখতে প্রাদেশিক প্রশাসন ১৯৫৫-র নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। মজুতদারি রুখতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। ৫০০-রও বেশি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত হয়েছে। রাজ্যগুলির জন্য আরও বেশি পরিমাণে কয়লা বরাদ্দ করার উদ্যোগ নিয়েছে কয়লা মন্ত্রক। বিমানের জ্বালানি সরবরাহ যথাযথ মাত্রায় রাখা হচ্ছে। সেজন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।
পারস্য উপসাগর এলাকায় থাকা ভারতীয় জাহাজ এবং নাবিকদের নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রক বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। জানানো হয়েছে, ঐ এলাকায় ভারতীয় নাবিকরা নিরাপদে রয়েছেন। গত ২৪ ঘন্টায় কোনো অনভিপ্রেত ঘটনার খবর মেলেনি। বর্তমানে পশ্চিম পারস্য উপসাগরে ভারতের পতাকা লাগানো ১৮টি জাহাজ রয়েছে – তাতে মোট ৪৮৫ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘন্টার কন্ট্রোল রুম খুলেছে। এখনও পর্যন্ত ঐ অঞ্চল থেকে ৯৬৪ জন ভারতীয় নাবিককে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় ফিরেছেন পাঁচজন নাবিক। সংঘাতদীর্ণ অঞ্চলে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা সরকারের অগ্রাধিকার। ঐ অঞ্চলের ভারতীয় দূতাবাসগুলি পরিস্থিতির ওপর সদাসতর্ক নজর রেখে চলেছে। বিদেশ মন্ত্রী বিভিন্ন দেশের নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে চলেছেন। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি তিনি পর্তুগালের বিদেশ মন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। ইরানে থাকা ভারতীয়দের স্থলপথে আর্মেনিয়া বা আজারবাইজানে চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে চলেছে তেহেরানের ভারতীয় দূতাবাস। এখনও পর্যন্ত ৯৭৭ জন ভারতীয় আর্মেনিয়া চলে গেছেন। আজারবাইজান চলে গেছেন ১৯৪ জন।
পশ্চিম এশিয়ায় উড়ান পরিষেবা ক্রমে স্বাভাবিক হচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির পর এখনও পর্যন্ত ঐ অঞ্চল থেকে ভারতে ফিরেছেন ৫ লক্ষ ৯৮ হাজার মানুষ। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে আরও ৯০টি উড়ান ভারতে আসছে বলে জানা গেছে। সৌদি আরব এবং ওমান থেকেও ভারতে বিমান চলাচল করছে। কুয়েত এবং বাহরিনের আকাশপথ বন্ধ। সেখানে থাকা ভারতীয়রা দেশে ফিরতে চাইলে সৌদি আরব হয়ে ফিরতে পারেন।
আরও জানানো হয়েছে, দুবাইতে হামলার জেরে ৩ ভারতীয় নাগরিক সামান্য আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে। একজনকে ইতিমধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ইরাক উপকূলে ১১ মার্চ হামলার ঘটনায় এক ভারতীয় জাহাজ আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন। ২৯ মার্চ কুয়েতে হামলায় নিহত হয়েছেন একজন ভারতীয়। তাঁদের দেহ আজ সকালে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে সরকার।
SC/AC/DM…
(রিলিজ আইডি: 2248088)
ভিজিটরের কাউন্টার : 2