প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

উত্তর প্রদেশে নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বঙ্গানুবাদ

প্রকাশিত: 28 MAR 2026 2:47PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ২৮ মার্চ ২০২৬

 

 

ভারত মাতা কি জয়!

 

ভারত মাতা কি জয়!

 

ভারত মাতা কি জয়!

 

উদ্বোধন কি শেষ? শেষ? না, এটা তো মাত্র অর্ধেক কাজ হয়েছে। আমি কেবল পর্দা সরিয়েছি, কিন্তু আজ আমি চাই এখানে উপস্থিত প্রত্যেকেই এই বিমানবন্দরটির উদ্বোধন করুন। তাই, আপনাদের মোবাইল ফোন বের করুন, মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালান এবং আপনারাই এটি উদ্বোধন করছেন। একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে এখানে উপস্থিত প্রত্যেক ব্যক্তি আজ এই বিমানবন্দরটি উদ্বোধন করছেন। এটি আপনাদের আস্থা, এটি আপনাদের ভবিষ্যৎ, এটি আপনাদের প্রচেষ্টা, এবং সেই কারণেই, এর উদ্বোধনও আপনাদের হাতেই হচ্ছে। বলুন ভারত মাতা কি জয়, হাত তুলুন এবং আপনাদের ফ্ল্যাশলাইট পুরোপুরি দেখান। ভারত মাতা কি জয়! ভারত মাতা কি জয়! ভারত মাতা কি জয়! আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। এখন উদ্বোধন শেষ হলো।

 

উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য, ব্রজেশ পাঠক, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আমার সহকর্মীবৃন্দ, শ্রী রামমোহন নাইডু, পঙ্কজ চৌধুরী, জুরিখ বিমানবন্দরের চেয়ারম্যান জোসেফ ফেল্ডার, অন্যান্য মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা।

 

আমি আজ যেদিকেই তাকাচ্ছি, সেদিকেই তরুণদের দেখতে পাচ্ছি। উদ্যম ও উদ্দীপনায় ভরপুর তরুণরা এখানে উপস্থিত। এই তরুণেরা জানে যে এই কাজ ভবিষ্যতের যুব সমাজকে নতুন সুযোগ করে দেবে। আজ আমরা ‘উন্নত উত্তরপ্রদেশ-উন্নত ভারত’ অভিযানে একটি নতুন অধ্যায় শুরু করছি। দেশের বৃহত্তম রাজ্যটি এখন সর্বাধিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরযুক্ত রাজ্যগুলির মধ্যে একটি হয়ে উঠেছে। আর আজ আমার গর্ব ও আনন্দের দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, আপনারা সবাই আমাকে এই বিমানবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সৌভাগ্য অর্জন করতে দিয়েছিলেন এবং আপনারা আমাকে এটি উদ্বোধন করার সৌভাগ্যও দিয়েছেন। কিন্তু আমি সেই সৌভাগ্য আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছি এবং আপনাদের হাতেই এর উদ্বোধন করিয়েছি। দ্বিতীয়ত, এই চমৎকার বিমানবন্দরের নামটি সেই উত্তর প্রদেশের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যে উত্তরপ্রদেশ আমাকে তার প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছে, যে উত্তর প্রদেশ আমাকে তার সাংসদ বানিয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

 

নয়ডা, আগ্রা, মথুরা, আলিগড়, গাজিয়াবাদ, মিরাট, ইটাওয়া, বুলন্দশহর, ফরিদাবাদ এবং এই সমগ্র অঞ্চলের এই বিমানবন্দরটি ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। ভারত, এবং প্রকৃতপক্ষে উত্তর প্রদেশও উপকৃত হবে। এই বিমানবন্দরটি পশ্চিম উত্তর প্রদেশের কৃষক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং যুবকদের জন্য অনেক নতুন সুযোগ নিয়ে আসবে। এখান থেকে শুধু বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলই হবে না, এটি একটি উন্নত উত্তর প্রদেশের উত্থানের প্রতীকও হবে। এই চমৎকার বিমানবন্দরের জন্য আমি উত্তর প্রদেশকে, বিশেষ করে পশ্চিম উত্তর প্রদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানাই।

 

বন্ধুগণ,

 

আজকের এই আয়োজন ভারতের নতুন চেতনার প্রতীক। আপনারা সবাই দেখছেন আজ গোটা বিশ্ব কতটা চিন্তিত। পশ্চিম এশিয়ায় এক মাস ধরে যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধের কারণে অনেক দেশ খাদ্য, পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস, সার এবং আরও অনেক প্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। প্রতিটি দেশ এই সংকট মোকাবেলায় সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। আর আমাদের ভারতও দেশবাসীর শক্তির উপর নির্ভর করে পূর্ণ শক্তিতে এই সংকটের বিরুদ্ধে লড়ছে। ভারত যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলো থেকে, যেখানে যুদ্ধ চলছে, সেখান থেকে বিপুল পরিমাণে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস আমদানি করে আসছে। তাই, সরকার সম্ভাব্য সবরকম পদক্ষেপ নিচ্ছে যাতে সাধারণ পরিবার, আমাদের কৃষক ভাইবোনেরা এই সংকটের কারণে ভারাক্রান্ত না হন।

 

বন্ধুগণ,

 

এই সংকটময় সময়েও ভারত তার দ্রুত উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে। শুধু পশ্চিম উত্তর প্রদেশের কথা বললেই, গত কয়েক সপ্তাহে এটি চতুর্থ বড় প্রকল্প যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বা উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নয়ডায় একটি বড় সেমিকন্ডাক্টর কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে, এই একই সময়ে দেশের প্রথম দিল্লি - মিরাট নমো-ভারত ট্রেন গতি পেয়েছে, এই একই সময়ে মিরাট মেট্রোর সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং এত অল্প সময়ের মধ্যেই আজ আপনাদের সকলের দ্বারা নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন করা হলো।

 

বন্ধুগণ,

 

এই সব প্রকল্প উত্তর প্রদেশের উন্নয়নে ডাবল-ইঞ্জিন সরকারের প্রচেষ্টার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সেমিকন্ডাক্টর কারখানাটি ভারতকে প্রযুক্তিগতভাবে আত্মনির্ভরশীল করে তুলছে। মিরাট মেট্রো এবং নমো ভারত রেল দ্রুত ও স্মার্ট সংযোগ ব্যবস্থা প্রদান করছে। আর আমাদের জেওয়ার বিমানবন্দর সমগ্র উত্তর ভারতকে বিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত করছে। আর আপনারা এইমাত্র ভিডিওতে দেখলেন : এই যে বিমানবন্দরটি তৈরি করা হয়েছে, সেখান থেকে প্রতি দুই মিনিটে একটি করে বিমান যাত্রা করবে। এর আগে সমাজবাদী পার্টি নয়ডাকে তাদের লুট করার এটিএম-এ পরিণত করেছিল। কিন্তু আজ, বিজেপি সরকারের অধীনে, সেই নয়ডাই উত্তর প্রদেশের উন্নয়নের এক শক্তিশালী চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে।

 

বন্ধুগণ,

 

এই জেওয়ার বিমানবন্দরটি ডাবল-ইঞ্জিন সরকারের কর্মসংস্কৃতির এক জ্বলন্ত উদাহরণ। ভাবুন তো, ২০০৩ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ীর সরকারের আমলে এই বিমানবন্দরটি ফাইলে অনুমোদন পেয়েছিল। আপনাদের মধ্যে অনেকেই ২০০৩ সালে জন্মানইনি, অনেকে তখন ২৫-৩০ বছর বা এমনকি ৩৫ বছর বয়সী ছিলেন এবং এখন অবসরপ্রাপ্ত, তবুও বিমানবন্দরটি তৈরিই হয়নি। তবে, কেন্দ্রে কংগ্রেস দল এবং পূর্ববর্তী সরকারগুলো বছরের পর বছর ধরে এই বিমানবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পর্যন্ত আটকে রেখেছিল। ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই বিমানবন্দরটি ফাইলের নিচে চাপা পড়ে ছিল। যখন আমাদের সরকার গঠিত হয়, তখন উত্তর প্রদেশে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) সরকার ক্ষমতায় ছিল। প্রথম দুই-তিন বছর সমাজবাদী পার্টি (এসপি) এর কোনো কাজ হতে দেয়নি। কিন্তু এখানে বিজেপি-এনডিএ সরকার গঠিত হওয়ার পর পরই জেওয়ার বিমানবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়, নির্মাণকাজ শুরু হয়, এবং এখন এর উদ্বোধন হয়ে গেছে।

 

বন্ধুগণ,

 

বিমানবন্দরের পাশাপাশি এই এলাকাটি দেশের দুটি প্রধান মালবাহী করিডোরের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠছে। এই মালবাহী করিডোরগুলো হলো মালবাহী ট্রেনের জন্য পাতা বিশেষ ট্র্যাক। এর ফলে বাংলা ও গুজরাটের উপকূলের সঙ্গে উত্তর ভারতের যোগাযোগ উন্নত হয়েছে। আর দাদরি হলো সেই জায়গা যেখানে এই দুটি করিডোর মিলিত হয়েছে। এর মানে হলো, এখানকার কৃষকেরা যা কিছু উৎপাদন করেন, এখানকার শিল্পকারখানাগুলো যা কিছু তৈরি করে, তা স্থল ও আকাশপথে দ্রুত বিশ্বের প্রতিটি কোণে পৌঁছাতে পারবে। এই মাল্টি-মোডাল সংযোগের ফলে উত্তর প্রদেশ বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি প্রধান আকর্ষণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে।

 

বন্ধুগণ,

 

নয়ডাকে আগে কুসংস্কারের কারণে পরিত্যক্ত ছিল। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ভয়ে এখানে কেই আসতে চাইত না। আমার মনে আছে, যখন এখানে এসপি সরকার ক্ষমতায় ছিল, তখন আমি নয়ডা সফরের পরিকল্পনা করেছিলাম, মুখ্যমন্ত্রী এতটাই ভয় পেয়েছিলেন যে তিনি অনুষ্ঠানে আসেননি। লোকজন আমাকেও ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছিল। অনেকেই বলেছিলেন যে, "নয়ডা যাবেন না, মোদীজি, আপনি সবে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। "আমি বলেছিলাম যে, আমি এই মাটির আশীর্বাদ নিতে যাচ্ছি, যা আমাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য এর সেবা করার সুযোগ দেবে। এখন, সেই একই অঞ্চল সমগ্র বিশ্বকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। এই সমগ্র অঞ্চল আত্মনির্ভর ভারতের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করছে।

 

বন্ধুগণ,

 

এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে কৃষির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আজ আমি আমার সেই কৃষক ভাই ও বোনদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই, যাঁরা এই প্রকল্পটিকে বাস্তবে রূপ দিতে তাঁদের জমি দান করেছেন। বন্ধুগণ, তাঁদের জন্য প্রাণভরে করতালি দিন। তাঁদের জন্য প্রাণভরে করতালি দিন। আমার কৃষক ভাই ও বোনেরা, আপনাদের অবদানই এই সমগ্র অঞ্চলে উন্নয়নের এক নতুন যুগের সূচনা করবে। এখানে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ পশ্চিম উত্তর প্রদেশে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করবে। এখন, এখানকার কৃষি পণ্য আরও কার্যকরভাবে বিশ্ব বাজারে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

 

বন্ধুগণ,

 

এখানে আমি আমার কৃষক বন্ধুদের আরও একটি কারণে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আপনাদের আখ থেকে উৎপাদিত ইথানল অপরিশোধিত তেলের উপর দেশের নির্ভরতা কমিয়েছে। যদি ইথানল উৎপাদন না বাড়ত এবং পেট্রোলের সঙ্গে এর মিশ্রণ না বাড়ত, তাহলে দেশকে প্রতি বছর বিদেশ থেকে ৪৫ মিলিয়ন ব্যারেল বা প্রায় ৭ বিলিয়ন লিটার অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে হতো। কৃষকদের কঠোর পরিশ্রম এই সংকটকালে দেশকে এমন উল্লেখযোগ্য স্বস্তি দিয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

 

ইথানল শুধু দেশেরই উপকার করেনি এ থেকে কৃষকরাও ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছেন। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রায় প্রায় ১.৫ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এর মানে হলো, যদি ইথানল উৎপাদিত না হতো, তাহলে এই টাকা বিদেশে চলে যেত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের কৃষক, আখ চাষিরা এত টাকা পেয়েছেন।

 

বন্ধুগণ,

 

এখানকার আখ চাষিরা এমন দিনও দেখেছেন যখন বছরের পর বছর ধরে আখের পাওনা বাকি থাকত। কিন্তু আজ, বিজেপির ডাবল-ইঞ্জিন সরকারের প্রচেষ্টায় আখ চাষিদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

 

বিমানবন্দর যেকোনো দেশের জন্য শুধু একটি সাধারণ সুবিধাই নয়, অগ্রগতির চালিকাশক্তিও বটে। ২০১৪ সালের আগে দেশে মাত্র ৭৪টি বিমানবন্দর ছিল। আজ দেশে ১৬০টিরও বেশি বিমানবন্দর রয়েছে। এখন মহানগরীগুলোর পাশাপাশি দেশের ছোট ছোট শহরগুলোতেও বিমান যোগাযোগ পৌঁছে যাচ্ছে। পূর্ববর্তী সরকারগুলো মনে করত যে বিমান ভ্রমণ শুধুমাত্র ধনীদের জন্যই সংরক্ষিত থাকা উচিত। কিন্তু বিজেপি সরকার সাধারণ ভারতীয়দের জন্য বিমান ভ্রমণকে সহজলভ্য করে দিয়েছে। আমাদের সরকার উত্তর প্রদেশে বিমানবন্দর নেটওয়ার্ক দ্রুত সম্প্রসারিত করে এর সংখ্যা বাড়িয়ে সতেরোটি করেছে।

 

বন্ধুগণ,

 

বিজেপি সরকার ধারাবাহিকভাবে বিমানবন্দর নির্মাণ এবং সাধারণ পরিবারের জন্য বিমান ভাড়া সাশ্রয়ী করার চেষ্টা করে আসছে। তাই আমরা উড়ান প্রকল্প চালু করেছিলাম। এই প্রকল্পের কল্যাণে, গত কয়েক বছরে ১৬ মিলিয়নেরও বেশি নাগরিক সাশ্রয়ী মূল্যে আকাশপথে ভ্রমণ করেছেন। আমি আরও একটি তথ্য জানাতে চাই। সম্প্রতি, কেন্দ্রীয় সরকার প্রায় ২৯,০০০ কোটি টাকা অনুমোদন করে উড়ান প্রকল্পকে আরও সম্প্রসারিত করেছে। এই প্রকল্পের অধীনে, আগামী বছরগুলিতে ছোট শহরগুলিতে ১০০টি নতুন বিমানবন্দর এবং ২০০টি নতুন হেলিপ্যাড নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর থেকে উত্তর প্রদেশও ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।

 

বন্ধুগণ,

 

ভারতের বিমান চলাচল ক্ষেত্র দ্রুতগতিতে বাড়ছে। ভারতে নতুন বিমানবন্দর তৈরি হওয়ায় নতুন বিমানের চাহিদাও বাড়ছে। তাই, সারা দেশের বিভিন্ন বিমান সংস্থা শত শত নতুন বিমানের জন্য অর্ডার দিয়েছে। নতুন বিমানগুলি আসার পর, সেগুলি ওড়ানো, পরিষেবা দেওয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি বিশাল সংখ্যক কর্মীর প্রয়োজন হবে। এটি যুবকদের জন্য একটি বিশাল সুযোগ। তাই, আমাদের সরকারও বিমান চলাচল ক্ষেত্রে খাতে প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারিত করছে।

 

বন্ধুগণ,

 

গাড়ি কেনার সময় আপনারা অবশ্যই দেখে নেন যে প্রস্তুতকারকের সার্ভিসিং সেন্টার কাছাকাছি আছে কি না। আপনারা জেনে অবাক হবেন যে, আমাদের দেশে উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত এবং ওভারহলের জন্য শক্তিশালী ব্যবস্থার অভাব ছিল। ভারতের ৮৫টি বিমানবন্দর এবং ৮৫ শতাংশ উড়োজাহাজকে এখনও রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত এবং ওভারহলের (এমআরও) জন্য বিদেশে পাঠাতে হয়। তাই, আমাদের সরকার এমআরও খাতে ভারতকে আত্মনির্ভরশীল করার সংকল্প নিয়েছে। ভারতে এখন বড় আকারের এমআরও কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। আজ জেওয়ারে একটি এমআরও কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এই কেন্দ্রটি প্রস্তুত হয়ে গেলে এটি দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে পরিষেবা দেবে। এর মাধ্যমে দেশের জন্য রাজস্ব আয় হবে, আমাদের অর্থ দেশেই থাকবে এবং যুবকদের জন্য অসংখ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

 

বন্ধুগণ,

 

বর্তমানে আমাদের সরকারের অগ্রাধিকার হলো নাগরিকদের সুবিধা। আমাদের লক্ষ্য হলো নাগরিকদের সময় বাঁচানো এবং তাদের পকেটের বোঝা কমানো। মেট্রো এবং বন্দে ভারতের মতো আধুনিক রেল পরিষেবাগুলো এই একই চেতনায় সম্প্রসারিত হচ্ছে। আমরা সকলেই দিল্লি-মিরাট নমো ভারত রেলের ব্যাপক সুফল প্রত্যক্ষ করছি। এখন পর্যন্ত ২৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ নমো ভারতে ভ্রমণ করেছেন। দিল্লি-মিরাট যাত্রা, যা আগে কয়েক ঘন্টা সময় নিত, এখন তা কয়েক মিনিটেই সম্পন্ন হয়।

 

বন্ধুগণ,

 

আমাদের সরকার একটি উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে আধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণে অভূতপূর্ব বিনিয়োগ করছে। গত ১১ বছরে পরিকাঠামো বাজেট ছয়গুণেরও বেশি বাড়ানো হয়েছে। মহাসড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ের জন্য ১৭ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করা হয়েছে এবং ১ লক্ষ কিলোমিটারেরও বেশি মহাসড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত মাত্র ২০,০০০ কিলোমিটার রেললাইন বিদ্যুতায়িত ছিল। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে ৪০,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি রেললাইন বিদ্যুতায়িত হয়েছে। আজ ব্রডগেজ নেটওয়ার্ক প্রায় ১০০% বিদ্যুতায়িত। কাশ্মীর উপত্যকা হোক বা উত্তর-পূর্বের রাজধানী,- এই সবগুলোকেই প্রথমবারের মতো রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। গত দশকে বন্দরের ধারণক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। দেশে নদীপথের সংখ্যাও ক্রমাগত বাড়ছে। একটি উন্নত ভারত গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

 

বন্ধুগণ,

 

একটি উন্নত ভারত গড়তে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। এটা অপরিহার্য যে ১৪০ কোটি জনগন কঠোর পরিশ্রম করে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্তর্জাতিক সংকটের মোকাবেলা করবে।বর্তমানে যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া সংকট কীভাবে মোকাবেলা করা যায়, তা আমি সংসদে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছি। গতকাল, দেশের সমস্ত মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আমার একটি দীর্ঘ ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। আজ, আমি আপনাদের সকলকে, দেশের জনগণকে এবং আমার দেশবাসীকে আবারও একই কথা বলব। আমাদের অবশ্যই শান্তভাবে, ধৈর্য ধরে, ঐকতা এবং সংহতির সঙ্গে এই সংকটের মোকাবেলা করতে হবে। এটি এমন একটি সংকট যা সারা বিশ্বে সমস্যা সৃষ্টি করছে। আমাদের দেশের প্রতি সবচেয়ে বেশি মনোযোগী হতে হবে। আর এটাই আমাদের ভারতীয়দের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি উত্তর প্রদেশ এবং দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে এই ধরনের সংকটের সময় দেশের জন্য ক্ষতিকর কথা বলা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ ও আহ্বান জানাতে চাই। ভারতীয়দের স্বার্থ রক্ষাই ভারত সরকারের নীতি ও কৌশল। যারা রাজনৈতিক লাভের জন্য মিথ্যা বিবৃতি দেয়, তারা হয়তো রাজনৈতিক বিতর্কে কিছু পয়েন্ট জিততে পারে, কিন্তু দেশের মানুষ দেশের ক্ষতি করে এমন কাজকে কখনও ক্ষমা করে না। করোনা সংকটের সময়েও কিছু লোক ভ্যাকসিন নিয়ে গুজব ছড়িয়েছিল এবং মিথ্যা বলেছিল। তারা চেষ্টা করেছিল যাতে সরকারের কাজ কঠিন হয়ে পড়ে এবং দেশের ক্ষতি হয়। তার ফল কী হয়েছিল? নির্বাচনের সময় জনগণ এই ধরনের রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। আমি পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী যে দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলও এ থেকে শিক্ষা নেবে এবং দেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী ও ক্ষমতায়িত করবে। এই অনুরোধে জানিয়ে, এই চমৎকার বিমানবন্দরের জন্য উত্তর প্রদেশকে আবারও আমার শুভেচ্ছা।

 

আমার সঙ্গে বলুন-

 

ভারত মাতা কি জয়!

 

বন্দে মাতরম!

 

বন্দে মাতরম!

 

বন্দে মাতরম!

 

বন্দে মাতরম!

 

বন্দে মাতরম!

 

বন্দে মাতরম!

 

বন্দে মাতরম!

 

বন্দে মাতরম!

 

বন্দে মাতরম!

 

বন্দে মাতরম!

 

বন্দে মাতরম!

 

আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।

 

 

 

SC/PM/AS


(রিলিজ আইডি: 2246502) ভিজিটরের কাউন্টার : 6
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी , Assamese , Gujarati