পেট্রোলিয়ামওপ্রাকৃতিকগ্যাসমন্ত্রক
পশ্চিম এশিয়া পরিস্থিতিতে মূল ক্ষেত্রগুলির সর্বশেষ পরিস্থিতি
প্রকাশিত:
26 MAR 2026 3:29PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ২৬ মার্চ, ২০২৬
পশ্চিম এশিয়ার চলতি পরিস্থিতির উপর ভারত সরকার নজর রেখেছে এবং সমস্ত মূল ক্ষেত্রগুলির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জ্বালানী সরবরাহ, সামুদ্রিক চলাচল ব্যবস্থা এবং ঐ এলাকায় বসবাসকারী ভারতীয়দের সহায়তাকল্পে প্রয়োজনীয় নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে ভারত সরকার দেশজুড়ে পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং এলপিজি-র নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। সমস্ত শোধনাগারগুলিতে পূর্ণ মাত্রায় কাজ করা হচ্ছে। অপরিশোধিত তেলের মজুত যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে। দেশে পেট্রোল এবং ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত ভাণ্ডার রয়েছে।
শোধনাগারগুলি থেকে গৃহস্থালীর জন্য এলপিজি উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশজুড়ে সমস্ত খুচরো বিক্রয় কেন্দ্রগুলি স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। কয়েকটি রাজ্যে কিছু কিছু খুচরো বিক্রয় কেন্দ্রে গুজবে কান দিয়ে ক্রেতারা ভিড় করছেন। যদিও দেশের সমস্ত পেট্রোল পাম্পগুলিতে পেট্রোল ও ডিজেলের যথেষ্ট মজুত রয়েছে। জনসাধারণকে গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রে ডি-পিএনজি এবং সিএনজি-র পরিবহণে ১০০ শতাংশ সরবরাহ বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্রেতাদের সরবরাহ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত এবং গড়ে ৮০ শতাংশ সরবরাহ বজায় রাখা হচ্ছে। আইজিএল, এমজিএল, গেইল গ্যাস এবং বিপিসিএল – এর মতো সিজিডি কোম্পানীগুলিকে গৃহস্থালী এবং বাণিজ্যিক পিএনজি সংযোগে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। ভারত সরকার বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রকগুলিকে সিজিডি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে আবেদনের ক্ষেত্রে দ্রুত অনুমোদন দিতে অনুরোধ করেছে।
সমস্ত সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরদের বিভিন্ন আবাসিক স্কুল ও কলেজ, হস্টেল, কম্যুনিটি কিচেন এবং অঙ্গনওয়াড়ি রান্নাঘরগুলিতে সংলগ্ন এলাকায়, যেখানে পাইপলাইন পরিকাঠামো রয়েছে, ৫ দিনের মধ্যে সেইসব জায়গায় পিএনজি সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করতে বলা হয়েছে।
এলপিজি সরবরাহ বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাবিত হচ্ছে। তবে, গৃহস্থালী এলপিজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ডিস্ট্রিবিউটরদের কোথাও কোনও ঘাটতি আছে বলে খবর নেই। গৃহস্থালীর জন্য এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। বাণিজ্যিক এলপিজি স্বাভাবিক করতে সরকার ইতিমধ্যেই ক্রেতাদের জন্য আংশিক এলপিজি সরবরাহ (২০ শতাংশ) বহাল করেছে। ভারত সরকার ১৮.০৩.২০২৬ তারিখে একটি চিঠি মারফৎ অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বাণিজ্যিক এলপিজি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে দিতে বলেছে। বিশেষত, ব্যবসার স্বাচ্ছন্দ্য বিধানে এবং সংস্কারের স্বার্থে পিএনজি প্রসারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রেস্তোরাঁ, ধাবা, হোটেল, শিল্প ক্যান্টিন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ/দুগ্ধ, রাজ্য সরকার চালিত ভর্তুকি যুক্ত ক্যান্টিন প্রভৃতির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ বরাদ্দ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ৫ কিলোগ্রামের সিলিন্ডার প্রদানের জন্য বলা হয়েছে।
সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে নিয়মিত বরাদ্দের বাইরেও অতিরিক্ত ৪৮ হাজার কিলো লিটার কেরোসিন বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে এলপিজি কালোবাজারি এবং বেশি করে মজুত করা রুখতে নজরদারি চালানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৬০০-রও বেশি অভিযান চালিয়ে গতকাল দিল্লি, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান ও তেলঙ্গনা থেকে ৪৫০টিরও বেশি সিলিন্ডার আটক করা হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও সরকার গৃহস্থালীর এলপিজি এবং পিএনজি’র সরবরাহ ক্ষেত্রে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়েছে। সেইসঙ্গে, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকেও সর্বাধিক অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে চাহিদা ও সরবরাহের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শহরাঞ্চলে গ্যাস বুকিং – এর ক্ষেত্রে ২১ দিনের সময়সীমাকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চলের ক্ষেত্রে সেই গ্যাস বুকিং – এর সময়সীমা করা হয়েছে ৪৫ দিন। এলপিজি চাহিদার উপর চাপ কমাতে কেরোসিন ও কয়লার মতো বিকল্প জ্বালানীর উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কয়লা মন্ত্রক কোল ইন্ডিয়া এবং সিঙ্গারেনী কয়লা খনিকে রাজ্যগুলিকে কয়লা সরবরাহ বাড়াতে বলেছে। এলপিজি বুকিং – এর জন্য গ্রাহকদের অকারণে এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে গিয়ে ভিড় না করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বুকিং করতে অনুরোধ করা হচ্ছে। এছাড়াও, নাগরিকদের বিকল্প জ্বালানী, যেমন – পিএনজি, ইন্ডাকশন/ইলেক্ট্রিক কুকটপস প্রয়োজনে ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। প্রাত্যহিক ব্যবহারে নাগরিকদের জ্বালানী সংরক্ষণে প্রয়োজনে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তার দিকে তাকিয়ে ভারতীয় ভেসেলগুলি এবং নাবিকদের নিরাপত্তায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বন্দর জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রক জাহাজ চলাচল, বন্দরের কাজকর্ম এবং নাবিকদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে নজরদারি চালাচ্ছে। এই অঞ্চলে সমস্ত ভারতীয় নাবিক নিরাপদে আছেন এবং ভারতীয় পতাকা বহনকারী ভেসেলগুলিতে গত ২৪ ঘন্টায় অনভিপ্রেত কোনও ঘটনা ঘটেনি। ভারতের পতাকা বহনকারী ২০টি ভেসেল এবং ৫০০ জন ভারতীয় নাবিক পশ্চিমাঞ্চল পারস্য উপসাগরে রয়েছেন। ডিজি শিপিং জাহাজ মালিক, আরপিএসএফ সংস্থা ও ভারতীয় দূতাবাসগুলির সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় বজায় রেখেছে এবং পরিস্থিতির উপর নজরদারি রাখা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় ৩৯ জন সহ ৬৭৪ জনেরও বেশি ভারতীয় নাবিককে এ পর্যন্ত নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছে ডিজি শিপিং।
ঐ এলাকায় ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার দিকে তাকিয়ে ভারতীয় দূতাবাসগুলির ভারতীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখছে। প্রয়োজনীয় যাবতীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। উপসাগরীয় ও পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের পরিস্থিতির উপর কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে বিদেশ মন্ত্রক। ভারতীয় সম্প্রদায়ের সুরক্ষা, কল্যাণকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ২৪X৭ কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রয়েছে। ভারতীয় মিশন এবং সেখানকার পদাধিকারীদের পক্ষ থেকে নাবিক, ছাত্র, আটকে পড়া ভারতীয়দের যাবতীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে স্বল্প সময়ের জন্য ভিসা প্রদান করা হচ্ছে।
ঐ এলাকা থেকে বিমান চলাচল পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার যাত্রীকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে সীমিত সংখ্যক বিমান চলাচল করছে। বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৮০টি বিমান আজ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সৌদি আরব ও ওমান থেকে ভারতে বিমান চলাচল করছে। কাতারে আকাশপথ আংশিক খোলা রয়েছে। আজ ৮-৯টি বিমান আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। কুয়েত ও বাহারিনে আকাশপথ বন্ধ। জাজিরা এয়ারলাইন্সের বিশেষ বিমান এবং গালফ এয়ার সৌদি আরবের দামাম হয়ে চলাচল করছে। ইরানের ক্ষেত্রে আরমেনিয়া ও আজারবাইজান হয়ে চলাচলের পথকে প্রশস্ত করা হয়েছে। ইজরায়েলের ক্ষেত্রে জর্ডন হয়ে বিমান চলাচল করছে। কুয়েত, বাহারিন এবং ইরাকের ক্ষেত্রে সৌদি আরব হয়ে চলাচলের পথ প্রশস্ত করা হয়েছে।
SC/AB/SB
(রিলিজ আইডি: 2245712)
ভিজিটরের কাউন্টার : 12