পেট্রোলিয়ামওপ্রাকৃতিকগ্যাসমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

ভারতের জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি নিরাপদ; উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর প্রচার নস্যাৎ করে দিয়েছে সরকার

প্রকাশিত: 26 MAR 2026 2:15PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ২৬ মার্চ ২০২৬

 

পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক নির্দিষ্টভাবে জানিয়েছে যে, ভারতে পেট্রোলিয়াম এবং এলপিজি সরবরাহের পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ এবং নিয়ন্ত্রণে। সব খুচরো জ্বালানি বিক্রয় কেন্দ্রে যথেষ্ট সরবরাহ আছে। দেশের কোথাও কোন পেট্রোল, ডিজেল অথবা এলপিজি-র ঘাটতি নেই। মন্ত্রক সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অনিষ্টকর, বিভ্রান্তিমূলক প্রচার, যা অযৌক্তিক আতঙ্ক ছড়াচ্ছে তার থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। 

ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম তৈল শোধনকারী দেশ এবং পঞ্চম বৃহত্তম পেট্রোপণ্য রপ্তানিকারক দেশ। ১৫০টির বেশি দেশে পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহ করে ভারত। যেহেতু ভারত বিশ্বকে রপ্তানি করে থাকে, তাই স্বাভাবিক ভাবে দেশে পেট্রোল এবং ডিজেলের লভ্যতা নিশ্চিত। এক লক্ষের বেশি খুচরো জ্বালানি বিক্রয় কেন্দ্র খোলা আছে এবং কোন রকম ব্যাঘাত ছাড়া বেচা-কেনা চলছে। একটিও বিক্রয় কেন্দ্রকে রেশনিং করতে বলা হয়নি। সারা বিশ্বে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে অনেক দেশ রেশনিং করছে, জোড়-বিজোড় সংখ্যায় গাড়ি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বাধ্যতামূলক স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনেক দেশ ‘ন্যাশনাল এনার্জি এমার্জেন্সি’ জারি করেছে। এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি ভারত। অন্য দেশগুলি রেশনিং করলেও ভারতে সরবরাহে ঘাটতি নেই। অনেক সময় কোন কোন পাম্পে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে মানুষকে কিনতে দেখা গেছে। তারা চালিত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকটি ভিডিওর অপপ্রচারে। ওই সব পাম্পগুলিতে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া সত্বেও সব ক্রেতাকে জ্বালানি দেওয়া হয়েছে। তেল কোম্পানিগুলি সারা রাত ধরে যোগান অব্যাহত রেখেছে। এছাড়াও তেল কোম্পানিগুলি পেট্রোল পাম্পগুলিকে পূর্বের এক দিনের পরিবর্তে তিন দিন ধারে তেল দিচ্ছে। 

হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি সত্বেও ভারত সারা বিশ্বের ৪১-এর বেশি সরবরাহকারীদের কাছ থেকে অশোধিত তেল পাচ্ছে, যা আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আনা হতো। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচুর পরিমাণে অশোধিত তেল লভ্য, বিশেষ করে পশ্চিম গোলার্ধে। এতে সংঘর্ষের ফলে যে ব্যাঘাত ঘটেছে তার থেকে অনেক বেশি পাওয়া যাচ্ছে। প্রত্যেকটি ভারতীয় শোধনাগার ১০০ শতাংশ কাজ করছে। আগামী ৬০ দিনে অশোধিত তেল সরবরাহ নিয়ে ভারতীয় তেল কোম্পানিগুলির সঙ্গে চুক্তিও হয়ে গেছে। সরবরাহে কোন ঘাটতি নেই। 

অনেক ভুল তথ্য বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে কিছু নিবন্ধ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও'র মাধ্যমে। সেখানে বলা হচ্ছে নাকি দেশে মাত্র ৬ দিনের মজুত আছে। ভারতে সব মিলিয়ে ৭৬ দিনের মজুত রাখার ক্ষমতা আছে। বর্তমানে মজুত আছে ৬০ দিনের মতো অশোধিত তেল, পেট্রোপণ্য এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চিত মজুত। যদিও মধ্য প্রাচ্যের সঙ্কটের ২৭ দিন পার হয়ে গেছে। তাই বিশ্বে যাই ঘটুক না কেন, প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের প্রায় ২ মাস সুষ্ঠু সরবরাহ পেতে অসুবিধা হবে না। আগামী ২ মাসের অশোধিত তেল সংগ্রহ নিশ্চিত আছে। ভারত পুরোপুরি আগামী কয়েক মাসের জন্য নিরাপদ এবং কৌশলগত মজুতের পরিমাণ এই অবস্থায় গৌন। সেই জন্য ভারতের মজুত কমে গেছে অথবা যথেষ্ট নয়, এই ধরনের প্রচারকে পুরোপুরি বাতিল করা উচিত। 

মন্ত্রকের জারি করা এলপিজি কন্ট্রোল অর্ডারের পরে ঘরোয়া শোধনাগারে উৎপাদন ৪০ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন এলপিজি উৎপাদন হচ্ছে ৫০ টিএমটি (আমাদের প্রয়োজনের ৬০ শতাংশের বেশি)। দৈনিক আমদানির পরিমাণ স্বাভাবিক ভাবে কমে হয়েছে মাত্র ৩০ টিএমটি। অর্থাৎ ভারত যা উৎপাদন করছে তা রপ্তানির পরিমাণের থেকে অনেক বেশি। ঘরোয়া উৎপাদন ছাড়াও ইতিমধ্যেই আমেরিকা, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং অন্যান্য দেশ থেকে আসছে ৮০০ টিএমটি এলপিজি ভর্তি জাহাজ। এগুলি আসবে ভারতের ২২টি এলপিজি টার্মিনালে। এই সংখ্যা ২০১৪-য় ছিল ১১টি। আনুমানিক এক মাসের সরবরাহের পুরোপুরি ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত সংগ্রহের বিষয়টি নিয়মিত চূড়ান্ত করা হচ্ছে। তেল কোম্পানিগুলি প্রতিদিন ৫০ লক্ষ সিলিন্ডার সরবরাহ করছে। ক্রেতারা আতঙ্কিত হয়ে বুকিং করায় একসময় সিলিন্ডারের চাহিদা বেড়ে হয়েছিল ৮৯ লক্ষ। তা এখন কমে হয়েছে ৫০ লক্ষ। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে, রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে আলোচনা করে মজুতদারি এবং কালোবাজারি এড়াতে। 

পিএনজি-র প্রসার ঘটানো হচ্ছে রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় রেখে, কারণ এটা সস্তা, পরিচ্ছন্ন এবং গৃহস্থ বাড়ির জন্য নিরাপদ। দৈনিক প্রয়োজন ১৯১ এমএমএসসিএমডি-র মধ্যে দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস তৈরি হচ্ছে ৯২ এমএমএসসিএমডি। ফলে, এলপিজি-র তুলনায় গ্যাসে অনেক কম আমদানি নির্ভরতা রয়েছে ভারতের। ২০১৪-য় ৫৭টি জায়গায় পাইপের গ্যাস সরবরাহ হতো, এখন তা হচ্ছে ৩০০টি জায়গায়। গ্যাস সংযোগ ২৫ লক্ষ থেকে বেড়ে হয়েছে দেড় কোটির বেশি। এলপিজি ফুরিয়ে গেছে বলে পিএনজি-তে জোর দেওয়া হচ্ছে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিকই আছে। পিএনজি সাধারণভাবে ভারতীয় পরিবারের জন্য আরও ভাল, আরও সাশ্রয়ী এবং আরও সুবিধাজনক। 

মন্ত্রক গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লাইন দেওয়ার ছবি, অন্য দেশের রেশনিং-এর ফুটেজ এবং লকডাউনের একেবারে ভিত্তিহীন গুজব, আপৎকালীন জ্বালানি ব্যবস্থাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর ভিডিও এবং পোস্ট ছড়ানো হচ্ছে, যা দেখে মনে হতে পারে ভারতে ঘাটতি আছে। 

কিছু কিছু পোস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি নির্দেশকে অন্যভাবে উপস্থাপিত করা হচ্ছে। যেমন, ন্যাচারাল গ্যাস কন্ট্রোল অর্ডার এবং এলপিজি কন্ট্রোল অর্ডার। যাকে দেখানো হচ্ছে জরুরি ঘোষণা হিসেবে, সঙ্কটের ইঙ্গিত দিতে। অথচ সেগুলি খুবই সাধারণ বিজ্ঞপ্তি সরবরাহের অগ্রাধিকার সংক্রান্ত, যা জারি করা হয় সঠিক এবং আগাম ব্যবস্থা নিতে। 

এই সমস্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে দুষ্কৃতীরা এবং সেগুলিকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখাচ্ছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এক শ্রেণীর মানুষ। ফলে, জনমনে অনাবশ্যক আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। তাই মন্ত্রক সকল নাগরিকের কাছে আবেদন জানিয়েছে, জ্বালানি এবং গ্যাস সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে শুধুমাত্র সরকারি বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করতে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার সংশ্লিষ্ট আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং যাদের ইচ্ছাকৃতভাবে আতঙ্ক তৈরি করতে দেখা যাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার দ্বিধা করবে না। 

 

SC/AP/AS


(রিলিজ আইডি: 2245683) ভিজিটরের কাউন্টার : 24
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Khasi , Urdu , हिन्दी , Nepali , Marathi , Gujarati , Odia , Telugu , Kannada