পেট্রোলিয়ামওপ্রাকৃতিকগ্যাসমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রক সাংবাদিক বৈঠক

প্রকাশিত: 11 MAR 2026 7:56PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ১১ মার্চ ২০২৬

 

আজ ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টারে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দেওয়া হল আন্তঃমন্ত্রক বৈঠকের পরে। এই অঞ্চলে প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তিত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে সেই সম্পর্কে সংবাদ মাধ্যমকে জানালেন পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক, বিদেশ মন্ত্রক, বন্দর, জাহাজ, জলপথ মন্ত্রক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের শীর্ষ স্থানীয় আধিকারিকরা। সাংবাদিক বৈঠকে জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তুতি, জলপথের সুরক্ষা, বিদেশে থেকে যাওয়া ভারতীয়দের কল্যাণ এবং সরকার গৃহীত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে জানানো হল। 


পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের আধিকারিকরা জানালেন :
 
•    ভারতের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ সুরক্ষিত। ভারতে প্রতিদিন লাগে ৫৫ লক্ষ ব্যারেল এবং এই সময় এটি বেশি করে জোগাড় করা হচ্ছে অন্যান্য নানা সূত্রে, যা সাধারণত হরমুজ প্রণালী দিয়ে আনা হতো। 
•    ভারত প্রায় ৪০টি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। বর্তমানে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৭০ শতাংশ আসছে হরমুজ প্রমাণীর বদলে অন্য পথে। এর আগে এই পরিমাণ ছিল ৫৫ শতাংশ। 
•    দুটি অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ কয়েক দিনের মধ্যে পৌঁছোবে, যাতে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার হবে। 
•    দেশে থাকা শোধনাগারগুলি তাদের পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ ক্ষমতার ব্যবহার করা হচ্ছে। 
•    ভারতের প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার হয় ১৮৯ এমএমএসসিএমডি। তার মধ্যে দেশে উৎপাদন হয় ৯৭.৫ এমএমএসসিএমডি। অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে প্রায় ৪৭.৪ এমএমএসসিএমডি সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। 
•    বিঘ্নের মোকাবিলায় বিকল্প সরবরাহকারী এবং পথের মাধ্যমে জোগাড় করার কাজ চলছে। গ্যাস কোম্পানিগুলিও নতুন উৎস থেকে এলএনজি কার্গো জোগাড় করেছে এবং দুটি এলএনজি কার্গো দেশে আসার পথে। 
•    অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনে ২০২৬-এর ৯ মার্চ সরকার ন্যাচারাল গ্যাস কন্ট্রোল অর্ডার জারি করেছে গ্যাস সরবরাহ সচল রাখতে এবং অগ্রাধিকারভুক্ত ক্ষেত্রগুলিকে রক্ষা করতে। 
•    ঘরোয়া পিএনজি সরবরাহ এবং গাড়ির জন্য সিএনজি পাওয়া যাবে ১০০ শতাংশ। 
•    চা শিল্প, উৎপাদন শিল্প এবং অন্যান্য শিল্পগ্রাহকরা যাঁরা গ্যাস গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত তাঁরা পূর্ববর্তী ৬ মাসের গড় সরবরাহের ৮০ শতাংশ পাবে। 
•    সার কারখানাগুলি পাবে প্রায় ৭০ শতাংশ, অন্যদিকে শোধনাগার এবং পেট্রোকেমিক্যাল ইউনিটগুলি প্রায় ৩৫ শতাংশ হ্রাস করবে, যাতে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলিকে রক্ষা করা যায়। 
•    দেশে মোট এলপিজি-র চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানি করে ভারত এবং এর মধ্যে ৯০ শতাংশ আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে, যাতে প্রভাব পড়েছে বর্তমান ঘটনাবলির কারণে। 
•    ২০২৬-এর ৮ মার্চ সরকার শোধনাগারগুলি এবং পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সগুলিকে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। এই সব পদক্ষেপের ফলে ঘরোয়া এলপিজি উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ এবং ঘরোয়াভাবে উৎপাদিত এলপিজি পুরোটাই দেওয়া হচ্ছে গৃহস্থের ব্যবহারের জন্য। 
•    গৃহস্থ ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে এলপিজি সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মতো অত্যাবশ্যকীয় ক্ষেত্রগুলিকে। 
•    আইওসি, এইচপিসি এবং বিপিসি-র কার্যনির্বাহী অধিকর্তাদের নিয়ে একটি ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের জন্য বরাদ্দ পুনর্বিবেচনা করতে এবং সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছভাবে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে। 
•    দিল্লিতে বর্তমানে গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সাম্প্রতিক ৬০ টাকা বৃদ্ধির পরে দাঁড়িয়েছে ৯১৩ টাকা। পিএমইউওয়াই সুবিধাপ্রাপকদের জন্য দাম সিলিন্ডার পিছু ৬১৩ টাকাই আছে। 
•    পিএমইউওয়াই সুবিধাপ্রাপকদের জন্য এই দাম বৃদ্ধি হচ্ছে মাত্র দৈনিক ৮০ পয়সারও কম। 
•    যদিও সৌদি চুক্তি মূল্য ২০২৩-এর জুলাই থেকে প্রায় ৪১ শাতংশ বেড়েছে, পিএমইউওয়াই মূল্যে ওই একই সময়ে কমেছে প্রায় ৩২ শতাংশ সরকারি সাহায্যের কারণে। 
•    সরকার তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলির ক্ষতি এড়ানোর জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ অনুমোদন করেছে। 
•    সাধারণভাবে গৃহস্থের জন্য এলপিজি সরবরাহের সময় ২.৫ দিন এবং গ্রাহকদের অযথা সিলিন্ডার বুক না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 
•    ডেলিভারি অথেন্টিকেশন কোড (সিএসি) ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ গ্রাহককে, যাতে ডিস্ট্রিবিউটার স্তরে কোন অন্যথা না হয়। 
•    সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে দুটি এলপিজি বুকিং-এর মধ্যে ফারাকের ন্যূনতম সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হচ্ছে। 
•    বকেয়া এবং সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করতে ক্ষেত্রীয় স্তরে সমন্বয় রাখছে তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলি এবং প্রবর্তক দলগুলি। 
•    সরকার নিয়মিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে এবং জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে এবং গৃহস্থ ও অগ্রাধিকার প্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলিকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।  


বন্দর, জাহাজ এবং জলপথ মন্ত্রক জানিয়েছে :

•    বর্তমানে ২৮টি ভারতীয় জাহাজ পারস্য উপসাগরে আছে। এর মধ্যে ২৪টি জাহাজ রয়েছে হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে। তাতে আছেন ৬৭৭ জন ভারতীয় নাবিক। অন্যদিকে ৪টি জাহাজ আছে হরমুজ প্রণালীর পূর্ব দিকে, রয়েছেন ১০১ জন ভারতীয় নাবিক। তাঁদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। 
•    ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে একটি ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালানো হচ্ছে মন্ত্রক এবং ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং-এ। 
•    ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অ্যাডভাইসরি জারি করেছে ভারতীয় জাহাজ এবং নাবিকদের জন্য। 
•    ভারতজুড়ে বন্দরে কাজকর্ম স্বাভাবিক আছে। 
•    প্রধান প্রধান বন্দরগুলি জাহাজ চলাচলের তত্ত্বাবধান করছে। 
•    মন্ত্রক সতর্ক নজর রেখেছে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর। মন্ত্রক নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে শিল্পমহলের সঙ্গে, যাতে সমুদ্রপথে বাণিজ্যে প্রয়োজনীয় সাহায্য দেওয়া যায়। 
•    ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে এবং ভারতের স্বার্থ রক্ষা করতে সরকার পূর্বের মতোই দায়বদ্ধ। 


বিদেশ মন্ত্রক থেকে জানানো হয়েছে :

•    উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ভারতীয়ের বাস এবং তাঁদের কল্যাণ ও সুরক্ষায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। 
•    প্রধানমন্ত্রী আরব আমিরশাহি, কাতার, সৌদি আরব, ওমান, বাহরিন, কুয়েত, জর্ডন এবং ইজরায়েল সহ একাধিক উপসাগরীয় ও পশ্চিম এশিয় দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। 
•    বিদেশমন্ত্রী এই সব দেশগুলির পাশাপাশি ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। 
•    এই অঞ্চলের ভারতীয় দূতাবাসগুলি ভারতীয়দের জন্য নিয়মিত পরামর্শ জারি করছে। 
•    রাষ্ট্রদূত এবং বাণিজ্যদূতেরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তাঁদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার জন্য। 
•    দূতাবাসগুলি পর্যটক, বিমানযাত্রী সহ আটকে পড়া ভারতীয়দের সাহায্য করছে মাস্কট, রিয়াধ এবং জেড্ডার মতো জায়গাগুলি থেকে বাণিজ্যিক উড়ানে দেশে ফিরতে। 
•    বিদেশমন্ত্রক ভারতীয়দের সাহায্য করতে কন্ট্রোল রুম খুলেছে। 
•    জাহাজে আক্রমণের ঘটনায় দুই ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন, একজন নিখোঁজ। তাঁদের পরিবারকে সমবেদনা জানানো হয়েছে। 
•    কয়েকজন আহত ভারতীয়ের চিকিৎসা চলছে। তাঁদের সাহায্য করছে ভারতীয় দূতাবাস। ইজরায়েলে আহত এক ভারতীয় সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং দুবাইয়ে অন্য একজন আহতের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলেছে ভারতীয় দূতাবাস। 
•    বর্তমানে ইরানে আছেন প্রায় ৯ হাজার ভারতীয়। ভারতীয় দূতাবাস তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। 
•    ভারতীয় ছাত্র এবং তীর্থযাত্রীদের তেহরানের বাইরে নিরাপদ শহরে সরানো হয়েছে। 
•    আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের সীমান্তে ভারতে ফেরার বাণিজ্যিক উড়ান ধরতে সাহায্য করা হচ্ছে। 
•    বিদেশ মন্ত্রক এবং ভারতীয় দূতাবাসের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে নজর রাখার জন্য নাগরিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 


তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে :

•    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য সচিব এবং পুলিশের ডিজি-দের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। 
•    রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য মজুত করার বিরুদ্ধে এবং অত্যাবশ্যকীয় সরবরাহ অব্যাহত রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 
•    রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে একজন রাজ্য স্তরের মুখপাত্র মনোনয়ন করতে, যিনি নিয়মিতভাবে নির্ভরযোগ্য তথ্য জানাবেন জনসাধারণকে। 
•    সরকারি সোশ্যাল মিডিয়া, জেলা প্রশাসন এবং মিডিয়া পার্টনারদের মাধ্যমে নিয়মিত তথ্য জানানো হবে। 
•    স্থানীয় প্রশাসনকে কাজে লাগানো হবে, জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার এবং পুরসংস্থার মাধ্যমে জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে এবং তথ্য জানানোর নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে ব্যবহার করতে। 


 
SC/AP/AS


(রিলিজ আইডি: 2238794) ভিজিটরের কাউন্টার : 11