অর্থমন্ত্রক
আর্থিক সমীক্ষা ২০২৫-২৬: মূল বিষয়সমূহ
प्रविष्टि तिथि:
29 JAN 2026 2:18PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬
কেন্দ্রীয় অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী শ্রীমতী নির্মলা সীতারমন আজ সংসদে আর্থিক সমীক্ষা ২০২৫-২৬ পেশ করেছেন। এই আর্থিক সমীক্ষার মূল দিকগুলি হ’ল –
অর্থনীতির পরিস্থিতি:
১) বৈশ্বিক বাতাবরণ এখনও ভঙ্গুর হওয়া সত্ত্বেও প্রত্যাশার থেকে অনেক ভালো আর্থিক বিকাশ হয়েছে। কিন্তু, ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগ ঘনিভূত হওয়ায় ঝুঁকির প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এইসব ঝুঁকিগুলির প্রভাব কম-বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে।
২) এই প্রেক্ষাপটে ভারতের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। আর্থিক বছর ২০২৬ – এর প্রাথমিক মূল্যায়নে জিডিপি’র মূল বৃদ্ধি ৭.৪ শতাংশ, জিভিএ বৃদ্ধি ৭.৩ শতাংশের মধ্য দিয়ে পরপর চার বছর দ্রুততম বিকাশশীল ভারতের অবস্থানকে নিশ্চয়তা প্রদান করছে।
৩) আর্থিক বছর ২০২৬ – এ ব্যক্তিগত চূড়ান্ত ব্যয় খরচ ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে জিডিপি-র ৬১.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০১২ সালের পর থেকে যা সর্বাধিক (২০২৩ আর্থিক বছরেও এই সংখ্যা ৬১.৫ ছিল)। এই বৃদ্ধি নিম্ন মুদ্রাস্ফীতি, স্থায়ী কর্মসংস্থান এবং প্রকৃত ক্রয় ক্ষমতা পাওয়ায় সহায়ক হয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য গ্রামাঞ্চলে ব্যয় ক্ষমতার প্রসার ঘটিয়েছে। সেইসঙ্গে, শহরের ব্যয় ক্ষমতার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটেছে। বাস্তবানুগ কর এই বৃদ্ধির সহায়ক হয়েছে।
৪) ২০২৬ আর্থিক বছরে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। মোট মূলধন ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ভাগ জিডিপি’র ৩০ শতাংশ দৃঢ় স্থিতিস্থাপকতা বজায় রেখেছে। স্থিতিশীল সরকারি মূলধনী খরচ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। কর্পোরেট ঘোষণার মধ্য দিয়ে যা প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে।
৫) সরবরাহ ক্ষেত্রে পরিষেবা মূল চালিকাশক্তি হয়ে দেখা দিয়েছে। ২০২৬ আর্থিক বছরের প্রথমার্ধে পরিষেবা ক্ষেত্রে মোট আরোপিত মূল্য (জিভিএ) ৯.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সামগ্রিক অর্থ বছরে ৯.১ শতাংশ বৃদ্ধি অনুমেয়। সমস্ত ক্ষেত্র জুড়ে বৃহত্তম ব্যয় প্রবণতা এর নির্ণায়ক।
আর্থিক উন্নয়নসমূহ: স্থিতিশীল বিশ্বাসযোগ্য সমন্বয়কে তুলে ধরা হচ্ছে
১) সরকারের বিচক্ষণ আর্থিক ব্যবস্থাপনা এই বিশ্বাসযোগ্যতাকে বৃদ্ধি করেছে। ভারতের ম্যাক্র অর্থনীতি এবং আর্থিক পরিকাঠামো ক্ষেত্রে আস্থাকে শক্তিশালী করেছে। এরফলে, ২০২৫ – এ ৩টি সার্বভৌম ক্রেডিট রেটিং – মর্নিংস্টার ডিবিআরএস, এস অ্যান্ড পি গ্লোবাল রেটিংস এবং রেটিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইনফরমেশন – এ তার প্রতিফলন ধরা পড়েছে।
২) কেন্দ্রের রাজস্ব সংগ্রহ ২০১৬ আর্থিক বছর - ২০২০ আর্থিক বছর পর্যন্ত জিডিপি’র ৮.৫ শতাংশ যেখানে গড় ছিল, তা ২০২৫ অর্থ বছরে ৯.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই অগ্রগতি সঞ্চারিত হয়েছে অ-কর্পোরেট কর সংগ্রহের মধ্য দিয়ে। অতিমারীর আগে জিডিপি’র ২.৪ শতাংশ থেকে অতিমারী পরবর্তী সময়ে তা প্রায় ৩.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
৩) প্রত্যক্ষ কর সংগ্রহে স্থায়ী প্রসার ঘটেছে। আয়কর রিটার্ন ২০২২ অর্থ বছরে ৬.৯ কোটি থেকে বেড়ে ২০২৫ অর্থ বছরে ৯.২’তে দাঁড়িয়েছে। এই উচ্চ আয়কর রিটার্ন এক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। এর পাশাপাশি, কর প্রশাসনে প্রযুক্তির বৃহত্তম ব্যবহার এবং আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক বেশি মানুষ কর ব্যবস্থার আওতায় এসেছেন।
৪) ২০২৫ – এ এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর সময়কালে মোট জিএসটি সংগ্রহ ১৭.৪ লক্ষ কোটি টাকা। বার্ষিক বৃদ্ধির হার ৬.৭ শতাংশ। বার্ষিক হিসেবের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে যে, ২০২৫ – এ এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ই-ওয়ে বিলের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
৫) কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যকরি মূলধনী খরচ অতিমারীর আগে জিডিপি’র গড় ২.৭ শতাংশ থেকে অতিমারী পরবর্তীতে ৩.৯ শতাংশ হয়েছে। ২০২৫ অর্থ বছরে এক্ষেত্রে বৃদ্ধি জিডিপি’র ৪ শতাংশ প্রতিফলিত হয়েছে।
৬) মূলধনী খরচ থেকে রাজ্যগুলিকে বিশেষ সহায়তার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে, মূলধনী খরচ বজায় রাখতে কেন্দ্র, রাজ্যগুলিকে অনুদানের পরিমাণ ২০২৫ অর্থ বছরে জিডিপি’র প্রায় ২.৪ শতাংশ।
৭) রাজ্য সরকারগুলির যৌথ আর্থিক ঘাটতি অনেকটাই স্থিতিশীল, তা অতিমারী পরবর্তী সময়কালে জিডিপি’র ২.৮ শতাংশ, যা কিনা অতিমারী পূর্ববর্তী সময়ের অনুরূপ। তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ অর্থ বছরে ৩.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। রাজ্য আর্থিক ক্ষেত্রে এতে বর্ধিত চাপ পরিলক্ষিত হচ্ছে।
৮) ভারত জিডিপি হারে সাধারণ সরকারি ঋণ ৭.১ শতাংশ কয়েন ২০২০ সাল থেকে কমিয়ে আনা সত্ত্বেও সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি বজায় রেখেছে।
আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক মধ্যস্থতা: নিয়মতান্ত্রিক ক্ষেত্রে শুদ্ধিকরণের পরিচায়ক
আর্থিক দিক:
১) ভারতের অর্থ বিষয়ক এবং আর্থিক ক্ষেত্র ২০২৬ অর্থ বছরে (এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর, ২০২৫) বিপুল সাফল্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। কৌশলগত নীতি এবং কাঠামোগত স্থিতিস্থাপকতা সমস্ত আর্থিক মধ্যস্থতাকারীর ক্ষেত্রে বিশেষ কার্যকরি হয়ে দেখা দিয়েছে।
ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে সাফল্য
২) তপশিলভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কের (এসসিবি) সম্পদের গুণগত মানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করা গেছে, যা স্পষ্টতই প্রতীয়মান ২০২৫ – এর সেপ্টেম্বরে তাদের জিএনপিএ – র অনুপাত ২.২ শতাংশ এবং এনপিএ – এর অনুপাত ২০২৫ – এর সেপ্টেম্বরে ০.৫ শতাংশে। এই হার অত্যন্ত নিম্নমুখী।
৩) ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫ – এ বার্ষিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এসসিবি-গুলির বকেয়া ঋণ ১৪.৫ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ – এর ডিসেম্বরে যা ছিল ১১.২ শতাংশ।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ
৪) প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনার সূচনা হয় ২০১৪ সালে। ২০২৫ সালের মার্চে এই আমানতের পরিমাণ ৫৫.০২ কোটি টাকা। গ্রামীণ ও আধা-শহর এলাকায় ৩৬.৬৩ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে পূর্বের ব্যাঙ্কিং সুবিধাবিহীন এলাকাগুলিতে ব্যাঙ্কিং পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং ভিত্তিমূলক সঞ্চয় প্রসার ঘটিয়েছে।
৫) স্ট্যান্ডআপ ইন্ডিয়া প্রকল্প ১০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত এসসি/এসটি এবং মহিলা উদ্যোগপতিদের ব্যাঙ্ক ঋণের সুবিধা সঞ্চার করেছে। এতে নতুন নতুন উদ্যোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
৬) রাস্তার হকারদের জন্য প্রধানমন্ত্রী আত্মনির্ভর নিধি প্রকল্প কোনও রকম জমানত ছাড়াই কার্যকরি মূলধনী ঋণের প্রসার ঘটিয়েছে।
৭) প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ ক্ষেত্রে অর্থায়ন ঘটাচ্ছে। নির্মাণ, ব্যবসা ও পরিষেবা সহ কৃষি ক্ষেত্রে তার প্রসার ঘটছে। ২০২৫ – এর অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই প্রকল্পে ৫৫.৪৫ কোটি ঋণ আমানতে ৩৬.১৮ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি প্রদান করা হয়েছে।
আর্থিক ক্ষেত্রের অন্যান্য দিক
৮) ২০২৬ অর্থ বছরে (২০২৫ – এর ডিসেম্বর পর্যন্ত) ২৩৫ লক্ষ ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট সংযোজিত হয়েছে। এতে মোট সংখ্যা ২১.৬ কোটি ছাপিয়ে গেছে। ২০২৫ – এর সেপ্টেম্বরে অনন্য বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ১২ লক্ষ কোটি ছাপিয়ে গেছে, যার এক-চতুর্থাংশই মহিলা।
৯) মিউচ্যুয়াল ফান্ড শিল্পের প্রসার ঘটেছে। ডিসেম্বর ২০২৫ – এর শেষ পর্যন্ত অনন্য বিনিয়োগকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫.৯ কোটি। (নভেম্বর, ২০২৫ – এর হিসেবানুযায়ী) যা ছিল ৩.৫ কোটি। এরা প্রত্যেকেই নন-টিয়ার ১ এবং নন-টিয়ার ২ শহরগুলি থেকে। প্রথাগতভাবে শহরাঞ্চলে আর্থিক অংশগ্রহণে যে বিষয় ছিল এক্ষেত্রে তার ভিন্নতা প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে।
১০) গিফট সিটি’তে ভারতের প্রথম আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিষেবা কেন্দ্র এমন পরিমণ্ডল গড়ে তুলেছে, যাতে বিশ্ব মূলধনকে আকর্ষণ করা যাচ্ছে।
ক্ষেত্রীয় দৃষ্টিভঙ্গী
১১) আর্থিক ক্ষেত্র মূল্যায়ন কর্মসূচি (এফএসএপি)-র মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক মূল্যমানের ক্রমিক বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। আইএনএফ এবং বিশ্ব ব্যাঙ্ক ২০২৫ – এ যৌথভাবে এই সমীক্ষা চালায়। উভয় প্রতিবেদনে স্পষ্ট ক্রমিক স্থিতিশীলতার বৃদ্ধি, বৈচিত্র্যকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক ব্যবস্থার প্রসার। মোট আর্থিক ক্ষেত্রের সম্পদ ২০২৪ ক্যালেন্ডার বছরে জিডিপি-র প্রায় ১৮৭ শতাংশ এবং মূলধনী বাজারের সম্প্রসারণ ক্যালেন্ডার বছর ২০১৭’য় জিডিপি’র ১৪৪ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ক্যালেন্ডার বছর ২০২৪ – এ ১৭৫ শতাংশ দাঁড়িয়েছে। এই মূল্যায়নের মধ্য দিয়েই পরিলক্ষিত যে, ব্যাঙ্ক এবং এনবিএফসি-গুলি ব্যাপক চাপ সত্ত্বেও যথেষ্ট পরিমাণ মূলধন রয়েছে।
বাহ্যিক ক্ষেত্র: বৃহত্তর নির্ণায়ক
১) ক্যালেন্ডার বছর ২০০৫ থেকে ক্যালেন্ডার বছর ২০২৪ – এর মধ্যে বৈশ্বিক পণ্য রপ্তানীতে ভারতের ভাগ ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১.৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় দ্বিগুণ। এর পাশাপাশি, বৈশ্বিক বাণিজ্যিক পরিষেবা রপ্তানীতে ভারতের ভাগ ২ শতাংশ থেকে দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৪.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
২) ইউএনসিটিএডি’র বাণিজ্য ও উন্নয়ন রিপোর্ট ২০২৫ অনুযায়ী, ভারতের স্থান বাণিজ্য অংশীদারদের মধ্যে অগ্রগণ্য। দক্ষিণী বিশ্বে এই স্থান তৃতীয় এবং বাণিজ্য বৈচিত্র্যকরণ সংখ্যার নিরিখে গ্লোবাল নর্থ অর্থনীতির দেশগুলির তুলনায় উচ্চ স্থানে রয়েছে।
৩) ভারতের মোট রপ্তানী ২০২৫ আর্থিক বছরে ৮২৫.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেকর্ড স্পর্শ করেছে। বার্ষিক অগ্রগতির ভিত্তিতে যা প্রায় ৬.১ শতাংশ। পরিষেবা রপ্তানী ক্ষেত্রে বিপুল সম্প্রসারণ প্রাথমিকভাবে এর নির্ণায়ক হয়ে উঠেছে।
৪) অ-পেট্রোলিয়ামজাত রপ্তানী ২০২৫ অর্থ বছরে ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ সীমা ৩৭৪.৩ বিলিয়ন স্পর্শ করেছে। অ-পেট্রলিয়ামজাত, অ-রত্নালঙ্কার রপ্তানী গড় পণ্য রপ্তানীর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
৫) পরিষেবা রপ্তানী সর্বোচ্চকালীন উচ্চতা ২০২৫ অর্থ বছরে ৩৮৭.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ১৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রযুক্তি এবং ব্যবসায়ীক পরিষেবা ক্ষেত্রে ভারতকে বিশ্ব হাব হিসেবে তা জায়গা করে দিচ্ছে।
৬) ভারতে চলতি আর্থিক ঘাটতি সহনশীল। পরিষেবা রপ্তানী এবং ছাড়ের মাধ্যমে তা পণ্য বাণিজ্য ঘাটতিকে দূর করেছে। ২০২৬ অর্থ বছরে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতের সিএডি জিডিপি’র প্রায় ১.৩ শতাংশ, যা অন্যান্য প্রধান অর্থনীতির দেশগুলির তুলনায় অনেকটাই ভালো।
৭) ভারত বিশ্বের সর্ববৃহৎ রেমিটেন্স-প্রাপক দেশ। ২০২৫ অর্থ বছরে যা ১৩৫.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। স্থিতিশীলতা এবং বাহ্যিক আমানতে যা সহায়ক হয়েছে। উন্নত অর্থনীতিগুলি থেকে এই রেমিটেন্সের ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ক্রমবর্ধমান দক্ষ ও পেশাদারী কর্মীদের অবদান পরিলক্ষিত হয়।
৮) ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ ২০২৬ – এর ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে ৭০১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা ১১ মাসের রপ্তানী সহায়ক এবং বাহ্যিক ঋণের ৯৪ শতাংশ বহনে সক্ষম। এতে বাহ্যিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এর মাধ্যমে ভারতের স্থিতিশীলতাকে তা অনেক বেশি শক্তিশালী করছে।
৯) নিম্নমুখী বৈশ্বিক বিনিয়োগ বাতাবরণের মাঝে ভারত উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পেরেছে। মোট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ২০২৫ – এর এপ্রিল থেকে নভেম্বরের মধ্যে ৬৪.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।
১০) গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ ঘোষণায় ২০২৪ – এ ভারতের স্থান বিশ্বে চতুর্থ ছিল। ১ হাজারেরও বেশি প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২০-২০২৪ সময়কালের মধ্যে গ্রিনফিল্ড ডিজিটাল বিনিয়োগে ভারত বৃহত্তম গন্তব্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
মুদ্রাস্ফীতি: নমনীয় ও স্থিতিস্থাপক
১) ২০২৫ – এ এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরে ক্রেতা মূল্য সূচকের শুরু থেকে ভারতে সর্বনিম্ন মুদ্রাফীতির হার প্রত্যক্ষ করা যায়। গড় শিরোনাম মুদ্রাস্ফীতি দাঁড়ায় ১.৭ শতাংশে। খুচরো মুদ্রাস্ফীতির নমনীয়তা এর প্রধান নির্ণায়ক। জ্বালানী এবং খাদ্যদ্রব্যের মূল্যে সাধারণভাবে মুদ্রাস্ফীতির হার বৃদ্ধি না পাওয়ায় তারা যৌথভাবে ভারতের ক্রেতা মূল্যসূচকের ৫২.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
২) উল্লেখযোগ্য, প্রধান উদ্ভূত বাজার এবং উন্নয়নমূলক অর্থনীতিগুলির মাঝে ভারতে শিরোনাম মুদ্রাস্ফীতি ২০২৪ – এর তুলনায় ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা প্রায় ১.৮ শতাংশের মতো।
কৃষি এবং খাদ্য ব্যবস্থাপনা:
১) ২০১৫ অর্থ বছর থেকে ২০২৪ অর্থ বছরের মধ্যে পশুখাদ্য ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। জিবিএ বৃদ্ধির হার প্রায় ১৯৫ শতাংশ। মৎস্য ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য প্রত্যক্ষ করা গেছে। ২০০৪-২০১৪ এই সময়কালের থেকে ২০১৪-২০২৪ সময়কালে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪০ শতাংশেরও বেশি।
২) ভালো বর্ষা মরশুমের ফলে ২০২৪-২৫ কৃষিবর্ষে ভারতের খাদ্যশস্য উৎপাদন ৩৫৭৭.৩ লক্ষ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ২৫৪.৩ লক্ষ মেট্রিক টন বেশি। চাল, আটা, ভুট্টা এবং মোটাদানার শস্য (শ্রীঅন্ন) উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়া এর উল্লেখযোগ্য কারণ।
৩) খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি ছাড়াও বাগিচা ক্ষেত্র, যা কৃষি জিভিএ – এর প্রায় ৩৩ শতাংশ কৃষি উৎপাদনের এক মূল চালিকাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ২০২৪-২৫ – এ বাগিচা উৎপাদনে ৩৬২.০৮ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে, যা অনুমিত খাদ্যশস্য উৎপাদন ৩৫৭.৭৩ মিলিয়ন টনকে ছাপিয়ে গেছে।
৪) কৃষি বিপনণ এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে দক্ষতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার কৃষি বিপণন পরিকাঠামো রূপায়ণ করছে। আইএসএএম এবং কৃষি পরিকাঠামো তহবিলের অধীন এই উপ-প্রকল্প খামার উৎপাদন সূচককে শক্তিশালী করবে এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণকে উৎসাহ দেবে। ই-ন্যাম প্রকল্পের মধ্যে প্রাইস ডিসকভারির প্রসার ঘটেছে। ২০২৫ – এর ৩১ ডিসেম্বর অনুযায়ী, ১.৭৯ কোটি কৃষক, ২.৭২ কোটি ব্যবসায়ী এবং ৪,৬৯৮ এফএকিউ ২৩টি রাজ্য ও ৪টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ১৫২২টি মাণ্ডিকে ঘিরে রয়েছে।
৫) ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের নিশ্চয়তা কৃষকদের উপার্জনে সহায়ক হয়েছে। নির্দিষ্ট ফসল এবং পিএম কিষাণ উপার্জন স্থানান্তর এর সহায়ক হয়েছে। এছাড়াও, পিএম কিষাণ মান ধন যোজনা পেনশন সহায়ক এবং কৃষকদের উপার্জন সুরক্ষাকে সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি, তাঁদের সামাজিক নিরাপত্তাকেও সুনিশ্চিত করেছে। শুরুর পর থেকে পিএম কিষাণের অধীন ৪.০৯ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি যোগ্য কৃষকদের ২১টি কিস্তির মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। পিএমকেএমওয়াই – এর অধীন ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত ২৪.৯২ লক্ষ কৃষক নথিভুক্ত হয়েছেন।
পরিষেবাসমূহ: স্থিতিশীলতা থেকে নতুন দিক
১) ২০২৬ অর্থ বছরে পরিষেবা ক্ষেত্রে জিডিপি’তে পরিষেবার ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৩.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জিভিএ-তে এই পরিষেবার ভাগ এ পর্যন্ত সর্বাধিক ৫৬.৪ শতাংশ। ২০২৬ অর্থ বছরে এফএই অনুযায়ী, আধুনিক, বিনিময়যোগ্য এবং ডিজিটাল পরিষেবার প্রসার বৃদ্ধি এর কারণ।
২) ভারত পরিষেবা ক্ষেত্রে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম রপ্তানীকারী দেশ। বিশ্ব পরিষেবা বাণিজ্যে এর ভাগ ২০২৫ – এ ২ শতাংশ থেকে দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৪ – এ ৪.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
৩) পরিষেবা ক্ষেত্রে বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৩ – ২০২৫ এই সময়কালের মধ্যে মোট বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগে যার গড় পরিমাণ ৮০.২ শতাংশ। ২০১৬-২০২০ অতিমারী পূর্ববর্তী সময়কালে এর পরিমাণ ছিল ৭৭.৭ শতাংশ।
শিল্পের পরবর্তী উত্থান: কাঠামোগত রূপান্তরীকরণ এবং বৈশ্বিক সংযোজন
১) ২০২৬ অর্থ বছরে শিল্পকর্ম অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। শিল্প জিভিএ ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব অস্থির পরিস্থিতি সত্ত্বেও এই বৃদ্ধি যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে।
২) নির্মাণ ক্ষেত্রে বৃদ্ধি প্রসারলাভ করেছে। ২০২৬ অর্থ বছরে প্রথম ত্রৈমাসিকে জিভিএ – এর প্রসার ৭.৭২ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে এই বৃদ্ধি ৯.১৩ শতাংশ, যাতে কাঠামোগত পুনরুদ্ধার পরিলক্ষিত হচ্ছে।
৩) উৎপাদন-ভিত্তিক অনুদান প্রকল্পে ১৪টি ক্ষেত্রে ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি প্রকৃত বিনিয়োগ হয়েছে। এর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উৎপাদন তথা বিক্রি ১৮.৭ লক্ষ কোটি টাকা ছাপিয়ে গেছে এবং ২০২৫ – এর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২.৬ লক্ষেরও বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে।
৪) ভারতের উদ্ভাবন ক্ষমতা স্থিতিশীলতাকে শক্তিশালী করেছে। বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকে ভারতের স্থান ২০১৯ – এ যেখানে ছিল ৬৬, ২০২৫ – এ তা ৩৮ হয়েছে।
৫) ভারতের সেমিকন্ডাক্টর মিশন অভ্যন্তরীণ দক্ষতার প্রসার ঘটিয়েছে। ৬টি রাজ্য জুড়ে ১০টি সেমিকন্ডাক্টর নির্মাণ এবং প্যাকেজিং প্রকল্পের সঙ্গে ১.৬০ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ যুক্ত হয়েছে।
বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো: সংযোগকে শক্তিশালী করায় দক্ষতা ও প্রতিযোগিতামুখীনতায় বৃদ্ধি
১) ভারত সরকারের মূলধনী ব্যয় প্রায় ৪.২ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮ অর্থ বছরে ২.৬৩ লক্ষ কোটি থেকে বেড়ে ২০২৬ অর্থ বছরে ১১.২১ লক্ষ কোটিতে পৌঁছেছে। ২০২৬ অর্থ বছরে কার্যকরি মূলধনী ব্যয়ের পরিমাণ ১৫.৪৮ লক্ষ কোটি টাকা। এতে নির্মাণ ক্ষেত্রকে মূল বৃদ্ধি সহায়ক হিসেবে তুলে হরা হয়েছে।
২) জাতীয় সড়ক পরিকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪ অর্থ বছরে ৯১,২৮৭ কিলোমিটার থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬ অর্থ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত তা দাঁড়িয়েছে ১,৪৬,৫৭২ কিলোমিটারে। কার্যকরি হাইস্পীড করিডর প্রায় ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪ অর্থ বছরে ৫৫০ কিলোমিটার থেকে ২০২৬ অর্থ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫,৩৬৪ কিলোমিটার।
৩) রেল পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ ঘটে চলেছে। ২০২৫ – এর মার্চ পর্যন্ত রেল নেটওয়ার্ক ৬৯,৪৩৯ রুট কিলোমিটারে পৌঁছেছে। ২০২৬ অর্থ বছরে ৩৫০০ কিলোমিটার লক্ষ্য সংযোজিত হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে ৯৯.১ শতাংশ বৈদ্যুতিকীকরণ অর্জন করা গেছে।
৪) ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ বিমান বাজার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ২০১৪’তে ৭৪টি বিমানবন্দর থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ – এ বিমানবন্দরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪’তে।
৫) বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সুস্থায়ী দক্ষতার রেকর্ড সম্প্রসারণ ঘটেছে। বার্ষিক হিসেবের ভিত্তিতে ২০২৫ – এর নভেম্বর অনুযায়ী, ৫০৯.৭৪ গিগাওয়াটে ১১.৬ শতাংশ দক্ষতা সম্প্রসারণ হয়েছে। চাহিদা ও যোগানের মধ্যে ২০১৪ অর্থ বছরে যেখানে ফাঁক ছিল ৪.২ শতাংশ, ২০২৫ – এর নভেম্বরে তা শূন্যতে দাঁড়িয়েছে।
৬) বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের সংস্কারে ঐতিহাসিক সাফল্য এসেছে। ডিসকম – এ কর প্রদান পরবর্তী লভ্যাংশ ২০২৫ অর্থ বছরে এই প্রথম ২৭০১ কোটি টাকা হয়েছে। এর পাশাপাশি, এটি অ্যান্ড সি’র ক্ষতির হ্রাস ২২.৬২ শতাংশ (অর্থ বছর ২০১৪) থেকে কমে (২০২৫ অর্থ বছরে) ১৫.০৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ২০২৫ – এর নভেম্বর পর্যন্ত মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ৪৯.৮৩ শতাংশ। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বে ভারতের স্থান তৃতীয়।
৭) টেলিঘনত্ব পৌঁছেছে ৮৬.৭৬ শতাংশে। দেশের ৯৯.৯ শতাংশ জেলায় এখন ফাইভ-জি পরিষেবা পাওয়া যায়।
৮) ৮১ শতাংশেরও বেশি গ্রামীণ গৃহে ২০২৫ – এর অক্টোবরের হিসেবানুযায়ী, জল জীবন মিশনে নলবাহিত বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুযোগ রয়েছে।
৯) মহাকাশ পরিকাঠামো শক্তিশালী হয়েছে। ভারত স্বয়ংক্রিয় উপগ্রহ ডকিং (এসপিএডিইএক্স) – এর সাফল্যে চতুর্থ দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এর পাশাপাশি, দেশজ উৎপাদন লক্ষ্যের সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন: সুস্থায়ী প্রতিযোগিতামূলক এবং উন্নয়ন চালিত ভারত
১) ২০২৫-২৬ (৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত) মোট ৩৮.৬১ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষমতা দেশে গড়ে উঠেছে। এর অন্তর্ভুক্ত ৩০.১৬ গিগাওয়াট সৌরশক্তি এবং ৪.৬৭ গিগাওয়াট বায়ুশক্তি, ০.০৩ গিগাওয়াট জৈব শক্তি এবং ৩.২৪ গিগাওয়াট জলশক্তি।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: কতটা হয়েছে, কতটা হবে
২) ভারতে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বিদ্যালয় ব্যবস্থা রয়েছে। ১৪.৭১ লক্ষ বিদ্যালয় জুড়ে ২৪.৬৯ কোটি ছাত্র রয়েছে। শিক্ষকের সংখ্যা ১.০১ কোটিরও বেশি। ভারতে পরিকাঠামো সম্প্রসারণ, শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পোষণ শক্তি নির্মাণ ও সমগ্র শিক্ষা অভিযানের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে ভর্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ভর্তির সংখ্যা ৯০.৯ শতাংশ, উচ্চ প্রাথমিকে ৯০.৩ শতাংশ, মাধ্যমিকে ৭৮.৭ শতাংশ এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৫৮.৪ শতাংশ।
উচ্চ শিক্ষা
৩) উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০১৪-১৫’তে ৫১,৫৩৪ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালের জুন মাসে দাঁড়িয়েছে ৭০,০১৮। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় তা সম্ভব হয়েছে। উচ্চমানের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ – এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে এখন ২৩টি আইআইটি, ২১টি আইআইএম, ২০টি এইমস্ রয়েছে। এর পাশাপাশি রয়েছে – জঞ্জিবার ও আবুধাবিতে ২টি আন্তর্জাতিক আইআইটি ক্যাম্পাস।
৪) এনইপি-তে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার হয়েছে।
ক) ন্যাশনাল ক্রেডিট ফ্রেমওয়ার্ক, যা শিক্ষামান এবং দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যে কাজ করে। ১৭০টি বিশ্ববিদ্যালয় এর আওতাধীন।
খ) ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে অ্যাকাডেমিক ব্যাঙ্কের সুযোগ ২৬৬০টি প্রতিষ্ঠান প্রসারিত।
গ) ১৫৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং প্রস্থানের স্থিতিস্থাপক সুযোগ চালু করেছে।
৫) ১৯৯০ সাল থেকে প্রসবকালীন মৃত্যু হার ৮৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ৪৮ শতাংশ বৈশ্বিক গড়কে ছাপিয়ে গেছে।
৬) শিশু মৃত্যুর হার গত এক দশক ধরে ৩৭ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে।
কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বিকাশ
১) ২০২৬ অর্থ বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ৫৬.২ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
২) বার্ষিক শিল্প সমীক্ষায় সংগঠিত নির্মাণ ক্ষেত্রে বার্ষিক হিসেবের ভিত্তিতে ২০২৪ অর্থ বছরে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে।
৩) শ্রমবিধিতে গিগ এবং প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের যুক্ত করা হয়েছে। এতে সামাজিক সুরক্ষা, কল্যাণ তহবিলের সুযোগ সম্প্রসারিত হয়েছে।
৪) ২০২৬ অর্থ বছরের জানুয়ারিতে ই-শ্রম পোর্টালে ৩১ কোটিরও বেশি অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মী নথিভুক্ত হয়েছে। এতে মহিলারা রয়েছেন ৫৪ শতাংশ।
৫) কর্মপ্রার্থী এবং কর্মদাতাদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে ন্যাশনাল কেরিয়ার সার্ভিস কাজ করছে। এতে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।
দক্ষতা পরিমণ্ডল
৬) আইটিআই-গুলির মানোন্নয়নে জাতীয় প্রকল্প ১ হাজারটি সরকারি আইটিআই-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গ্রামোন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতি: অংশগ্রহণ থেকে অংশীদারিত্ব
১) বিশ্ব ব্যাঙ্ক দারিদ্র্য সীমাকে দৈনিক ২.১৫ মার্কিন ডলার থেকে ৩ ডলার উপার্জন হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং তা হয়েছে ২০২১ – এর মূল্যসূচক অনুযায়ী ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে। পুনর্মার্জিত মূল্যায়নে ২০২২-২০২৩ এ ভারতের চরম দারিদ্র্য হার ছিল ৫.৩ শতাংশ। নিম্ন ও মধ্য আয়ের দারিদ্র্যের পরিমাণ ছিল ২৩.৯ শতাংশ।
২) সরকারের সামাজিক পরিষেবা খরচ ২০২২ অর্থ বছর থেকে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৩) এসএসই ২০২৫-২৬ এ জিডিপি-র ৭.৯ শতাংশ।
গ্রামীণ অর্থনীতির সাফল্য
৪) ডিসেম্বর, ২০২৫ – এ স্বামিত্বের অধীন ড্রোন সমীক্ষা সম্পূর্ণ হয়েছে ৩.২৮ লক্ষ গ্রামে। এর লক্ষ্য ধার্য করা হয়েছিল ৩.৪৪ লক্ষ গ্রাম। প্রায় ১.৮২ লক্ষ গ্রামের জন্য ২.৭৬ কোটি দারিদ্র্য কার্ড তৈরি করা হয়েছে।
ভারতে কৃত্রিম মেধা পরিমণ্ডল
ভারতের আর্থিক ক্ষেত্রে উদ্ভাবনের প্রসার ঘটানো হয়েছে। কেবলমাত্র অনুমিত বিষয়ের দিকে তাকিয়ে নয়, প্রকৃত সমস্যা নিরসনে কৃত্রিম মেধাকে কাজে লাগানোই ভারতের উদ্দেশ্য। স্বাস্থ্য ক্ষেত্র, কৃষি, নগর ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা প্রস্তুতি, জন প্রশাসন প্রভৃতি ক্ষেত্রে কৃত্রিম মেধার চাহিদা বাড়ছে।
নগরায়ন
নমো ভারত রিজিওনাল র্যাপিড ট্রান্সিট ব্যবস্থায় দ্রুতগতিশীল আঞ্চলিক ব্যবস্থার সম্প্রসারণে শহর ও আধা-শহরগুলির শ্রম বাজারের পরিবর্তন ঘটছে। শহরগুলি এবং সংলগ্ন এলাকা গুলির মধ্যে যাতায়াতের সময়সীমা দ্রুত কমিয়ে আনা হচ্ছে। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ যেমন প্রসারিত হচ্ছে, তেমনই মেট্রোপলিটন এলাকাগুলিতে চাপ কমানো সম্ভব হচ্ছে।
আমদানি পরিবর্ত থেকে কৌশলগত স্থিতিস্থাপকতা
১) স্বদেশী একটি সুশৃঙ্খল কৌশল। ত্রিস্তরীয় কাঠামোর মাধ্যমে দেশজ উৎপাদন পরিমণ্ডল গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য।
২) সাশ্রয়ী এবং নির্ভরযোগ্য উৎপাদন গড়ে তুলতে পরিকাঠামোকে প্রতিযোগিতামুখী করে তুলতে জাতীয় উৎপাদন ব্যয় হ্রাস কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
৩) স্বদেশী থেকে কৌশলগত স্থিতিস্থাপকতা এবং তা থেকে কৌশলগত অপরিহার্যতার লক্ষ্যে আমদানি হ্রাস করে প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উৎপাদনে দেশীয় ব্যবস্থা গ্রহণে জাতীয় শক্তি প্রসারে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। যাতে বিশ্ব পরিমণ্ডলের সঙ্গে ভারতীয় দ্রব্যকে বেশি করে যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।
SC/AB/SB
(रिलीज़ आईडी: 2220399)
आगंतुक पटल : 12