প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে উইংস ইন্ডিয়া ২০২৬-এ বক্তব্য রেখেছেন

প্রকাশিত: 28 JAN 2026 6:43PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদে উইংস ইন্ডিয়া ২০২৬-এ বক্তব্য রেখেছেন। তিনি শিল্প জগতের নেতৃবৃন্দ, বিশেষজ্ঞ এবং বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিমান চলাচল শিল্পের আগামী যুগ উচ্চাকাঙ্ক্ষায় ভরপুর। ভারত এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চলেছে। বিমান তৈরি, পাইলটদের প্রশিক্ষণ, উন্নতমানের বিমান পরিবহণ, বিমান লিজ দেওয়া- সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলিতে ভারত অপার সম্ভাবনা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর তাই উইংস ইন্ডিয়া-র এই শীর্ষ সম্মেলন  প্রত্যেকের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূ্র্ণ।

শ্রী মোদী বলেন, গত এক দশকে ভারতের বিমান চলাচল ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। একটা সময় ছিল যখন ভারত ছিল সেই দেশগুলির তালিকায়, যেখানে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একটি শ্রেণীর নাগরিকরাই বিমানে চলাচল করতে পারতেন। কিন্তু আজ পরিস্থিতির সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে। এখন অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলের নিরিখে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আমাদের যাত্রী সংখ্যা অত্যন্ত দ্রুতহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির দ্রুত প্রসার ঘটছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলি ১৫০০-র বেশি বিমান কেনার জন্য বরাত দিয়েছে।   

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের বিমান চলাচল ক্ষেত্রে যে গতির সঞ্চার হয়েছে তার মূল কারণ বর্তমান সরকার দীর্ঘমেয়াদী এক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করছে। ভারতে বিমানে চলাচল এখন আর নির্দিষ্ট শ্রেণীর মধ্যে আবদ্ধ নেই, বরং বলা যায় এক অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এদেশের নাগরিকরা যাতে সহজেই বিমানে চলাচল করতে পারেন তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এখন দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্তরের শহরগুলিকে বিমান বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। ২০১৪ সালে দেশে ৭০টি বিমান বন্দর ছিল। আজ এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৬০ ছাড়িয়ে গেছে। ১০০র বেশি এয়ারডোম চালু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ব্যয়সাশ্রয়ী মূল্যে বিমানে চলাচল করার জন্য উড়ান প্রকল্পের সূচনা হয়েছে। উড়ান প্রকল্পে ১ কোটি ৫০ লক্ষের বেশি যাত্রী সংশ্লিষ্ট রুটগুলিতে সফর করেছেন। এর মধ্যে অনেকগুলি রুটের অতীতে কোনও অস্তিত্ব ছিল না।  

শ্রী মোদী জানান, আজ ভারত উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে। স্বভাবতই দেশের বিমান চলাচল ক্ষেত্র বহুগুণ প্রাসরিত হবে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতে ৪০০রও বেশি বিমান বন্দর থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ একটি বৃহৎ নেটওয়ার্ক তৈরি হবে। শুধু তাই নয়, বর্তমান সরকার উড়ান প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ নিয়ে কাজ করছে। এই নীতির আওতায় আঞ্চলিক স্তরে ব্যয়সাশ্রয়ী মূল্যে বিমানে চলাচল করা আরও সহজ হবে। উড়ান নীতির মাধ্যমে বিমান চলাচল ক্ষেত্র আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি সিপ্লেন পরিষেবাও বৃদ্ধি করা হবে। দেশের প্রতিটি প্রান্তে বিমান চলাচলকে আরও উন্নত করে তোলার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে এখন বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলির মানোন্নয়ন করা হচ্ছে। এইসব জায়গায় যাওয়ার জন্য বর্তমানে বহু মানুষ বিমানকেই বেছে নিচ্ছেন। আগামীদিনে বিমান পরিবহণের অভূতপূর্ব চাহিদা তৈরি হবে। ফলস্বরূপ বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।  

শ্রী মোদী আর-ও বলেন, আজ ভারত বিমান চলাচল ক্ষেত্রের নিরিখে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট শিল্পে বিভিন্ন চাহিদা পূরণের জন্য আমাদের পরমুখাপেক্ষী হলে চলবে না, স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। এক্ষেত্রে ভারতে বিনিয়োগ করতে চাইলে, তা সংস্থাগুলির জন্য লাভজনক হবে। তাই বিমান তৈরি, বিমান তৈরির আগে নকশা বানানো এবং এয়ারক্র্যাফ্ট এমআরও-র ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে ভারত উদ্যোগী হয়েছে। বর্তমানে বিমানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি এবং সেগুলির সরবরাহকারী হিসেবে ভারত গুরুত্বপূর্ণ দেশ বলে বিবেচিত হচ্ছে। সামরিক ও অসামরিক বিমান তৈরির জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান করিডরে ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে এর ফলে দেশে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। দেশে বিপুল সংখ্যক বিমান যাত্রীর পাশাপাশি ভবিষ্যতে দূরপাল্লার বিমান পরিষেবাও বৃদ্ধি পাবে।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতে খুব শীঘ্রই বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে বিমান ওঠানামা করবে। এরফলে বিমান চলাচল শিল্প নতুন এক দিশায় এগিয়ে যাবে। এই প্রযুক্তি বিমান পরিবহণের ক্ষেত্রে সময় বাঁচাবে। এখন সুস্থায়ী পদ্ধতিতে বিমানের জ্বালানির বিষয়েও কাজ চলছে। আগামী দিনগুলিতে ভারত পরিবেশ বান্ধব বিমানের জ্বালানি উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এই জ্বালানি রপ্তানিও করা হবে।  

শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, বিমান চলাচল ক্ষেত্রে বেশ কিছু সংস্কার কার্যকর করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলির ফলে দক্ষিণী বিশ্ব এবং বাকি পৃথিবীর মধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ভারত প্রবেশ পথের ভূমিকা পালন করবে। বিনিয়োগকারী এবং বিমান উৎপাদকদের কাছে যা এক বড় সুযোগ তৈরি করেছে। 
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে এবং বাজারগুলির মধ্যে যোগাযোগ গড়ে তোলা হচ্ছে। শহরগুলি বিভিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্ত হচ্ছে। ভারতের বিমান চলাচল শিল্প পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। পণ্য পরিবহণ যাতে আরও দ্রুত ও দক্ষভাবে করা যায়, সেই উদ্দেশ্যে সরকার প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিয়ে আসছে। সম্পূর্ণ পদ্ধতি যাতে সহজ-সরল ও স্বচ্ছ হয় তার জন্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিমানে পণ্য পরিবহণের জন্য একটি ব্যবস্থাপনা তৈরির কাজ চলছে। এরফলে বিমান বন্দরগুলির ওপর চাপ কমবে। এ ছাড়াও আধুনিক গুদামঘর তৈরি করা হচ্ছে। ফলে বিমানের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণ আরও উন্নত হবে। আগামীদিনে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে সময় এবং অর্থ দুইই বাঁচবে। অচিরেই ভারত পণ্য পরিবহণের নিরিখে একটি বৃহৎ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।  তাই তিনি বিনিয়োগকারীকে এ দেশে গুদাম ঘর, পণ্য পরিবহণ, ই-কমার্স এবং এক্সপ্রেস লজিস্টিকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।  
 
শ্রী মোদী তাঁর ভাষণে আরও বলেছেন, আজ নীতি সংক্রান্ত ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থা এবং বিমান চলাচল ক্ষেত্রে উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলি ভাবনা-চিন্তা করছে গুটিকয় দেশ। তিনি পৃথিবীর প্রত্যেক রাষ্ট্র, শিল্প জগতের নেতৃবৃন্দ,  বিনিয়োগকারীদের এই সুবর্ণ সুযোগকে ব্যবহারের আহ্বান জানান। ভাষণের শেষে ভারতের উন্নয়ন যাত্রায় দীর্ঘমেয়াদী অংশীদার হবার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।    

 


SC/CB/NS….


(রিলিজ আইডি: 2220049) ভিজিটরের কাউন্টার : 35