প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগ ২০২৬-এ বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
प्रविष्टि तिथि:
12 JAN 2026 9:12PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ নতুন দিল্লিতে বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগ ২০২৬-এর সমাপ্তি অধিবেশনে ভাষণ দেন। শ্রী মোদী বলেন, তিনি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম শপথ নিয়েছিলেন, তখন আজকের নতুন নাগরিকদের অনেকের জন্মই হয়নি। ২০১৪ সালে তিনি যখন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তখন তাদের অনেকেই শিশু ছিলো। এতটা সময় পেরিয়ে গেলেও তরুণতর প্রজন্মের প্রতি তাঁর আস্থা একইরকম অটল রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সক্ষমতা ও প্রতিভা থেকে আমি উৎসাহ পাই। আজ আপনারা সকলেই বিকশিত ভারতের লক্ষ্য সামনে রেখে এগিয়ে চলেছেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতার শতবর্ষ পূর্ণ করবে। এই সময়কাল সমগ্র জাতি ও যুব সমাজের কাছে এক নির্ণায়ক কালখণ্ড। তরুণ ভারতীয়দের সামর্থ ও সক্ষমতা ভারতের শক্তির পরিচায়ক হবে, তাদের সাফল্য দেশকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে। বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগে অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী উন্নত ভারতের সংকল্প পূরণে যুব নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার উপর বিশেষ জোর দেন।
স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকীর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর স্মরণে প্রতি বছর ১২ জানুয়ারি দিনটি জাতীয় যুব দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়। তাঁর ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই এই দিনটিকে বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগ আয়োজনের দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দের জীবন সকলের কাছেই এক উজ্জ্বল দিশা।
শ্রী মোদী বলেন, ভারতের উন্নয়নের যাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগ যুব সমাজের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের এক শক্তিশালী মঞ্চ। তিনি বলেন, কোটি কোটি তরুণ এই প্রয়াসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ৫০ লক্ষেরও বেশি তরুণ-তরুণী এতে নাম নথিভুক্ত করেছেন, ৩০ লক্ষেরও বেশি বিকশিত ভারত চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণ করে দেশের উন্নয়নে নিজেদের ভাবনা-চিন্তা ভাগ করে নিয়েছেন। যুব শক্তির এত বড় মাপের অংশগ্রহণ নজিরবিহীন।
এই ডায়ালগে মহিলা নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন ও গণতন্ত্রে যুব অংশগ্রহণের মতো প্রধান ভাবনাগুলির উপর যে ধরনের গভীর ভাবনা চিন্তার উপস্থাপনা করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তার ভুয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ভারতের অমৃত প্রজন্ম যে উন্নত দেশ গড়ে তোলার সংকল্পে অটল রয়েছে, এ তারই প্রতিফলন। জেন-জি-র সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার তারিফ করেন প্রধানমন্ত্রী।
২০১৪ সালের আগের সময়ের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে ছিল নীতিপঙ্গুত্ব, লাল ফিতের ফাঁস এবং তরুণদের জন্য সীমায়িত সুযোগের যুগ। তরুণদের কর্মসংস্থান, পরীক্ষা বা ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে জটিল প্রক্রিয়ার সামনে পড়তে হতো। সিদ্ধান্ত ও নীতি রূপায়ণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা ছিল। আজ যা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে, এক দশক আগে সেটাই ছিল বাস্তব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পরিবর্তনের আর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো ভারতের স্টার্টআপ পরিমণ্ডল। ২০১৪ সালের আগে দেশে ৫০০-রও কম নথিভুক্ত স্টার্টআপ ছিল। স্টার্টআপ সংস্কৃতি না থাকায় প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকারের খবরদারি চলতো। প্রতিভা ও সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের যুব সমাজ নিজেদের স্বপ্ন পূরণের কোনো সুযোগ পেতো না।
প্রধানমন্ত্রী স্টার্টআপ ইন্ডিয়া, ডিজিটাল ইন্ডিয়া, ব্যবসা করার সহজতা, কর ও বিধিগত বাধ্যবাধকতার সরলীকরণের মতো বিভিন্ন সংস্কারমুখী প্রয়াসের উল্লেখ করে বলেন, এগুলির ফলে ভারতের স্টার্টআপ বিপ্লবের গতি বেড়েছে। আগে যেসব ক্ষেত্রে সরকারের আধিপত্য ছিল সেগুলি এখন নতুন উদ্যোগের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
এর উদাহরণ হিসেবে মহাকাশ ক্ষেত্রের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫-৬ বছর আগেও একমাত্র ইসরো এই ক্ষেত্রে কাজ করতে পারতো। মহাকাশ ক্ষেত্রকে বেসরকারি সংস্থার জন্য খুলে দেওয়ার ফলে বিভিন্ন সহায়ক কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়েছে। গড়ে উঠেছে মহাকাশ সংক্রান্ত ৩০০-ওর বেশি স্টার্টআপ। যুব নেতৃত্বাধীন উদ্ভাবনী উদ্যোগ কিভাবে নতুন প্রযুক্তিতে ভারতকে বিশ্ব সেরা আসনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তার উদাহরণ হিসেবে স্কাইরুট এরোস্পেস এবং অগ্নিকুল কসমসের সাফল্যের উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জটিল আইন ও লাইসেন্সের প্রক্রিয়ায় ভারাক্রান্ত ড্রোন ক্ষেত্রের নিয়মকানুন সহজ করার ফলে ড্রোন প্রযুক্তিতে যুব নেতৃত্বাধীন বিকাশ সম্ভব হয়েছে। এতে জাতীয় সুরক্ষা ও কৃষি ক্ষেত্রের উপকার হয়েছে। নমো ড্রোন দিদি-র মতো প্রয়াসের উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কারের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ভারতে ১ হাজারেরও বেশি প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত স্টার্টআপ কাজ করছে। কেউ যদি ড্রোন তৈরি করেন, অন্যজন তৈরি করছেন অ্যান্টি ড্রোন সিস্টেম। কেউ তৈরি করছেন এআই ক্যামেরা, আবার কেউ রোবটিক্স নিয়ে কাজ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল ইন্ডিয়ার উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিয়ে সংস্কৃতি, কনটেন্ট ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে গঠিত ভারতের কমলা অর্থনীতির বিকাশে সহায়ক হয়েছে। ভারত আজ মিডিয়া, চলচ্চিত্র, গেমিং, মিউজিক, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং ভিআর-এক্সআর -এর বিশ্বজনীন হাবে পরিণত হয়েছে। দেশের তরুণ ক্রিয়েটারদের সামনে ওয়েভস এক অসামান্য মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছে। আজকের ভারতে অসীম সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত।
জিএসটি সংস্কার এবং ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে কর রেহাইয়ের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে তরুণ পেশাদার ও সংস্থাগুলির সঞ্চয় বেড়েছে। অসামরিক পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে শান্তি আইন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, বিপুল কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতির উপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যেসব সুযোগের সৃষ্টি হচ্ছে তা গ্রহণ করার জন্য ভারতের যুব সমাজকে তৎপর হতে হবে। সেই জন্য দক্ষতা উন্নয়নের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতির মাধ্যমে ব্যাপক সংস্কারসাধন করা হয়েছে। বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়গুলি এখন ভারতে তাদের ক্যাম্পাস খুলছে। সম্প্রতি কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে পিএম সেতু কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। এর আওতায় হাজার হাজার আইটিআই-এর উন্নয়নসাধন করা হবে। যুব সমাজ এখানে শিল্পমহলের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা অনুসারে নিজেদের প্রশিক্ষিত করতে পারবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে উন্নত এবং স্বনির্ভর হয়ে উঠতে হলে আত্মবিশ্বাস থাকা একান্ত আবশ্যক। মেকলের ঔপনিবেশিক শিক্ষা নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর ফলে ভারতীয়দের মধ্যে নিজেদের ঐতিহ্য, পণ্য ও সক্ষমতা নিয়ে হীনমন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। এই মানসিকতা কাটিয়ে ওঠার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
বৈদিক শ্লোক উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সর্বত্র যেখানে যা কিছু ভালো হচ্ছে তা থেকে আমাদের শিখতে হবে, কিন্তু আমাদের মধ্যে যেন নিজেদের ঐতিহ্য ও ভাবনাকে ছোট করে দেখার প্রবণতা না সৃষ্টি হয়, সেদিকেও সমান নজর রাখা দরকার।
তিনি বলেন, স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বের যা কিছু ভালো তা গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি ভারতের সম্পর্কে ভুল ধারনার প্রতিবাদ করেছিলেন। যুব সমাজকে তিনি উৎসাহ দিয়েছিলেন, পূর্ণ উৎসাহ নিয়ে আনন্দের সঙ্গে শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক শক্তিতে ভরপুর হয়ে এগিয়ে যেতে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুব সমাজের সক্ষমতা ও শক্তির প্রতি তাঁর পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে।
SC/SD/SKD
(रिलीज़ आईडी: 2214083)
आगंतुक पटल : 5