প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

হরিয়ানার পানিপথে উন্নয়নমূলক কাজের সূচনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বঙ্গানুবাদ

প্রকাশিত: 09 DEC 2024 5:54PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪

 

ভারত মাতা কি জয় ! 
ভারত মাতা কি জয় ! 
ভারত মাতা কি জয় ! 
হরির আবাস হরিয়ানা। এখানে একে অন্যকে অভ্যর্থনা জানায় রাম রাম রাম রাম বলে। হরিয়ানার রাজ্যপাল শ্রী বান্দারু দাত্তাত্রেয় জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী নায়েব সিং সাইনি মন্ত্রিসভায় আমার সহকর্মী শ্রীমতী নির্মলা সীতারমন এখানকার ভূমিপুত্র সাংসদ এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সরকারে আমার সহকর্মী শ্রী মনোহর লাল, শ্রী কিষাণ লাল, হরিয়ানা সরকারের মন্ত্রী শ্রুতি জী, আরতি জী, সাংসদ ও বিধায়কগণ এবং দেশজুড়ে বিভিন্ন এলআইসি কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত কর্মীবৃন্দ আমার ভাই ও বোনেরা 
ভারত আজ মনহিলা ক্ষমতায়নে আরও এক নতুন উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। আমাদের ধর্মগ্রন্থে ৯ এই সংখ্যাটির উল্লেখযোগ্য স্থান রয়েছে। দেবী দুর্গার নটি শক্তির সঙ্গে এই সংখ্যা জড়িত। নবরাত্রিতে তাঁরা পূজিত হন। এই দিনটি মহিলাদের সম্মানে উৎসর্গীকৃত। 

বন্ধুগণ, 
৯ ডিসেম্বরের এই দিনে সংবিধান সভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দেশ যখন সংবিধানের ৭৫ বছর উদযাপন করছে তখন এই দিন সমতার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের নীতি ও আদর্শকে তুলে ধরে।  

বন্ধুগণ, 
এই পুণ্যভূমিতে আজ এই পবিত্র দিনে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ হয়েছে যা বিশ্বের কাছে নৈতিকতার জ্ঞান ও ধর্মকে তুলে ধরেছে। কুরুক্ষেত্রে আজ এই সময় আন্তর্জাতিক গীতা জয়ন্তী উদযাপিত হচ্ছে। এক হ্যায় তো সেফ হ্যায় – অর্থাৎ একত্রিত হলে আমরা নিরাপদ। হরিয়ানার পবিত্র ভূমি এই মন্ত্রকেই সমগ্র জায়গায় তুলে ধরেছে। 

বন্ধুগণ, 
হরিয়ানার সঙ্গে আমার নিবিড় সম্পর্ক অজানা নয়। আপনাদের অকুন্ঠ সমর্থন ও আশীর্বাদে বিজেপি তৃতীয়বারের জন্য এখানে সরকার গঠন করেছে। হরিয়ানার প্রত্যেকটি পরিবারকে এই ব্যাপারে আমি আমার কৃতজ্ঞতা জানাই। 

বন্ধুগণ, 
নির্বাচনের সময় হরিয়ানার মহিলারা আওয়াজ তুলেছিল মহারা হরিয়ানা অপ্রতিরোধ্য হরিয়ানা – এই স্লোগানকে আমরা আমাদের সংকল্প বলে গ্রহণ করেছি। দেশের মহিলা ও কন্যাদের ক্ষমতায়নে বীমা সখি যোজনা চালু হয়েছে এতে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। এই বীমার শংসাপত্র আজ কন্যাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দেশজুড়ে সমস্থ মহিলাকে আমি আমার অভিনন্দন জানাচ্ছি। 

বন্ধুগণ,
পানিপথ থেকেই কয়েক বছর আগে আমি বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও অভিযানের সূচনা করেছিলাম। শুধুমাত্র হরিয়ানা নয়, সমগ্র দেশজুড়ে এর সদর্থক প্রভাব পড়ে। কেবলমাত্র হরিয়ানাতে বিগত এক দশকে কয়েক হাজার কন্যার জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। আজ ১০ বছর পর বীমা সখি যোজনার সূচনা মহিলা ক্ষমতায়নের এক প্রতীক হয়ে থাকবে। 

বন্ধুগণ,
২০৪৭-এর মধ্যে উন্নত ভারত 
গঠনের লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে চলেছি। প্রত্যেক এলাকা এবং প্রত্যেক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত শক্তিতে ভারত আজ উন্নয়নের নতুন শিখর স্পর্শ করেছে। যদিও ২০৪৭-এর মধ্যে উন্নত ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্য পূরণে আরও নতুন শক্তিকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে এইরকমই একটি শক্তি হল, উত্তর পূর্বাঞ্চল- সহ পূর্ব ভারত। আরও এক শক্তি হল আমাদের দেশের নারী শক্তি। উন্নত ভারত গড়তে আমাদের দেশের অগনিত মা ও বোনের অনুপ্রেরণা আমাদেরকে শক্তি জোগাবে। আজ মহিলা পরিচালিত স্বনির্ভর গোষ্ঠী বীমা সখী, ব্যাঙ্ক সখী এবং কৃষি সখী উন্নত ভারতের মূল ভিত্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। 

বন্ধুগণ, 
মহিলাদের ক্ষমতায়নে এবং তাদের অগ্রগতির পতে যাবতীয় বাধাকে আজ দূর করা হচ্ছে। মহিলারা যদি এগিয়ে যেতে পারেন তাহলে দেশের কাছে সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে যাবে। বছরের পর বছর ধরে দেশের বিভিন্ন পেশাক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য দ্বার অবরুদ্ধ ছিল বিজেপি সরকার এই সমস্ত বাধাকে দূর করার চেষ্টা করেছে। আজ মহিলারা সেনাবাহিনীর প্রথম সারিতে আমাদের কন্যারা অনেক সংখ্যায় যুদ্ধবিমান চালাচ্ছেন। বিভিন্ন প্রথম সারির কোম্পানিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহিলারা। দেশজুড়ে ১২০০০-র বেশি উৎপাদক গোষ্ঠী অথবা কৃষক এবং গৃহপালিত পশু লালন পালনে সমবায় সমাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহিলারা। ক্রীড়া থেকে শিক্ষা সমস্থক্ষেত্রেই মহিলারা উল্লেখযোগ্য সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছেন। মহিলাদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি ২৬ সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ায় লক্ষাধিক মহিলা উপকৃত। 

বন্ধুগণ,
কোনও মহিলা ক্রীড়াবিদ যখন পদক পড়ে ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকায় নিজেকে ঢেকে অথবা মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় ত্রিবর্ণ পতাকা উত্তোলন করেন তা আমাদের গর্বের কারণ হয়। বীমা সখী কর্মসূচির ভিত্তি যা আজ এখানে সূচিত হল তা নিরলস প্রয়াসের এক ফল। স্বাধীনতার ৬০-৬৫ বছর পরেও বহু সংখ্যক মহিলার ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক আমানত নেই। প্রথাগত ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা থেকে মহিলারা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। এই ফাঁক জূর করতে মা ও বোনেদের জন্য জনধন ব্যাঙ্ক আমানত খোলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। আজকে আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি ৩০ কোটিরও বেশি মহিলা ও কন্যার জনধন আমানত রয়েছে। এই আমানত না থাকলে কি হতে হতে পারতো তা সহজেই অনুমেয়। গ্যাসে ভর্তুকির টাকা এই আমানতে সরাসরি জমা পড়ে। কোভিড-১৯ অতিমারির সময় আর্থিক সহায়তা আপনাদেরকে প্রদান করা হয়েছে। কিষাণ কল্যাণ নিধির অর্থ এই সুযোগ ছাড়া মহিলাদের আমানতে পৌঁছোতে পারতো না। সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার অধীন বাড়তি সুদের সুযোগেও আপনারা উপকৃত। এছাড়া, গৃহ নির্মাণের অর্থ মহিলাদের আমানতে সরাসরি স্থানান্তরিত হচ্ছে। এই ব্যাঙ্ক আমানতের সুযোগ ছাড়া আমাদের বোনেরা ক্ষুদ্র ব্যবসা গড়ে তুলতে পারতো না। মুদ্রা যোজনার জমানত মুক্ত ঋণের সুযোগে উপকৃত হচ্ছেন কোটি কোটি মহিলারা। ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক আমানত ছাড়া তারা মুদ্রা লোনের সুযোগ পেতেন না। এছাড়াও ব্যবসা শুরুর অন্যান্য সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হতেন। 

বন্ধুগণ, 
আমাদের বোনেরা প্রত্যেক গ্রামে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছে দিতে অনন্য ভূমিকা পালন করছেন। একদিন যে মহিলাদের ব্যাঙ্ক আমানত ছিল না আজ তারাই ব্যাঙ্ক সখী হিসেবে অন্যদেরকে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসছেন। এই মা ও বোনেরাই লোকেদের শিক্ষা দিচ্ছেন অর্থের কিভাবে সাশ্রয় করতে হয়, কি করে ঋণ নিতে হয়, ব্যাঙ্কিং সুযোগের কীভাবে সদ্ব্যবহার করতে হয়। 

বন্ধুগণ,
যেসব মহিলারা একদিন ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বাইরে ছিলেন আজ বীমা পরিমন্ডল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তারা যুক্ত হচ্ছেন। আজ এক অভিযানের সূচনা হল, যাতে লক্ষ লক্ষ মহিলা বীমা এজেন্ট অথবা বীমা সখী গড়ে তোলা যাবে। বীমা সখী যোজনার অধীন ২ লক্ষ মহিলার সামনে কর্ম সংস্থানের সুযোগ গড়ে উঠবে। দশম শ্রেণী পাশ করলে তাঁরা বিশেষ প্রশিক্ষণ, ৩ বছরের আর্থিক সহায়তা ও অন্যান্য ভাতার সুবিধা পাবেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী এলাইসি এজেন্টরা গড়ে মাসে ১৫,০০০ টাকা উপার্জন করেন। যার অর্থ আমাদের বীমা সখীরা বার্ষিক  ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা উপার্জন করতে পারবেন। 

বন্ধুগণ,
ডাবল ইঞ্জিন সরকার কৃষক কল্যাণকে নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। চৌধুরি চরণ সিং বিশ্ববিদ্যালয় ভূমিকার কথা আমরা জানি যা সবুজ বিপ্লবে হরিয়ানাকে নেতৃত্ব দিয়েছিল। আজ একবিংশ শতাব্দীতে মহারানা প্রতাপ হর্টিকালচার বিশ্ববিদ্যালয় ফল এবং সব্জী উৎপাদনে হরিয়ানাকে নির্ণায়ক ভূমিকা দেবে। আজ মহারানা প্রতাপ হর্টিকালচার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হল যা যুব সম্প্রদায়ের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিক অধ্যয়নের সুযোগ করে দেবে। 

বন্ধুগণ, 
আজ হরিয়ানার বোনেদের সহ সকলকে আমি এই স্থির নিশ্চয়তা দিতে চাই রাজ্য দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে, ডবল ইঞ্জিন সরকার তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় এসে তিনগুণ গতিতে কাজ করবে। এই অগ্রগতির পথে মহিলা ক্ষমতায়ন এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে। আপনাদের সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। 

আমার সঙ্গে গলা মিলিয়ে বলুন,  
ভারত মাতা কি জয়!
ভারত মাতা কি জয়!
ভারত মাতা কি জয়!
অনেক অনেক ধন্যবাদ ! 

প্রধানমন্ত্রীর মূল ভাষণ হিন্দিতে।। 

 

SSS/ AB /AG


(রিলিজ আইডি: 2177656) ভিজিটরের কাউন্টার : 20