প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
গুজরাটের দাহোদে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
প্রকাশিত:
26 MAY 2025 6:47PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ২৬ মে ২০২৫
সবাই জাতীয় পতাকা ওড়াতে থাকুন
ভারত মাতা কি জয়,
ভারত মাতা কি জয়,
ভারত মাতা কি জয়,
ভারত মাতা কি জয়।
গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র ভাই, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবজি, গুজরাট সরকারের মন্ত্রিসভার সহকর্মীবৃন্দ, সাংসদ, বিধায়ক, অন্যান্য সম্মানিত অতিথিবর্গ এবং আমার প্রিয় দাহোদের ভাই ও বোনেরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? একটু জোরে বলুন, আজ দাহোদের প্রভাব অনেক বেড়ে গেছে।
আজ ২৬শে মে। ২০১৪ সালের এই দিনেই আমি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলাম। গুজরাটে আপনাদের সবার অকুণ্ঠ আশীর্বাদ পেয়েছিলাম এবং পরে দেশের কোটি কোটি মানুষও আমাকে আশীর্বাদ দিতে কসুর করেননি। আপনাদের সেই আশীর্বাদের শক্তিতেই আমি দিন-রাত দেশসেবায় নিয়োজিত থেকেছি। এই কয়েক বছরে দেশ এমন সব ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আগে অকল্পনীয় ছিল। দেশ বহু দশকের শৃঙ্খল ভেঙে প্রত্যেক দিকে অগ্রগতি করেছে। আজ দেশ হতাশার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আস্থা ও আশার আলোয় তিরঙ্গা উড়িয়ে দিচ্ছে।
সাথিরা,
আজ ১৪০ কোটি ভারতীয় মিলে উন্নত ভারত গড়ার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করছে। দেশের অগ্রগতির জন্য যা কিছু প্রয়োজন, তা ভারতেই তৈরি হোক—এটাই সময়ের দাবি। ভারত আজ দ্রুত গতিতে বিশ্বের অন্যতম উৎপাদনশীল শক্তি হয়ে উঠছে। দেশের প্রয়োজনীয় সামগ্রী হোক বা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের তৈরি পণ্যের রপ্তানি—সব ক্ষেত্রেই ভারত এগিয়ে যাচ্ছে। আজ আমরা স্মার্টফোন থেকে শুরু করে গাড়ি, খেলনা, সেনাবাহিনীর অস্ত্রশস্ত্র, ওষুধ—অসংখ্য জিনিস বিশ্বের বহু দেশে রপ্তানি করছি। শুধু তাই নয়, ভারত আজ নিজেই রেল, মেট্রোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি তৈরি করছে এবং বিশ্বে রপ্তানি করছে। আর আমাদের এই দাহোদ তার জীবন্ত প্রমাণ।
কিছুক্ষণ আগে এখানে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গৌরবময় প্রকল্প হলো দাহোদের ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ ফ্যাক্টরি। তিন বছর আগে আমি এ কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলাম। তখন অনেকেই সমালোচনা করেছিল—বলেছিল, নির্বাচন এসেছে বলে মোদিজি ফ্যাক্টরির শিলান্যাস করেছেন, কিন্তু কিছুই তৈরি হবে না। আজ তিন বছর পর আমরা দেখছি এই কারখানায় প্রথম ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ তৈরি হয়েছে এবং কিছুক্ষণ আগে আমি নিজেই সেটিকে সবুজ পতাকা দেখিয়েছি। এটি গুজরাটের জন্য এবং গোটা ভারতের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত।
আজ গুজরাট আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে—গুজরাটের শতভাগ রেল নেটওয়ার্কের বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে। এর জন্য আমি গুজরাটের সকল ভাই-বোনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
সাথীরা,
প্রথমেই আমাকে এখানকার মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে, যাঁরা আমাকে আপনাদের সবার মাঝে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন। বহু পুরনো মানুষদের দেখা পেলাম, অনেক পরিচিত মুখ দেখলাম, পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে গেল। আমার দাহোদ-এর সঙ্গে সম্পর্ক রাজনীতিতে আসার পরের নয়। অনুমান করি প্রায় ২-৩ প্রজন্মের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে। আজ আমি প্যারেল গিয়েছিলাম—এইবার হয়তো ২০ বছর পর প্যারেল যাওয়া হল। পুরো প্যারেল বদলে গেছে। আগে আমি এখানে এলে, সূর্যাস্তের সময় চেষ্টা করতাম সাইকেল নিয়ে প্যারেল যাওয়ার। বর্ষার পরে যখন চারিদিকে সবুজ শোভা ছড়াতো, ছোট ছোট পাহাড়ের ফাঁক দিয়ে সরু রাস্তা বেরিয়ে আসতো—সেই সন্ধ্যা আমার ভীষণ ভালো লাগত। তারপর রেলওয়েতে কর্মরত ভাইদের সঙ্গে খেয়ে ফেরত আসতাম। এতটাই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আর আজ প্যারেলের এই নতুন রূপ দেখে সত্যিই ভালো লাগছে।
সাথীরা,
এখানকার সমস্ত সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা সবাই কাজ করে চলেছি, বহু পদক্ষেপ নিয়েছি। গর্বের সঙ্গে বলতে পারি—দাহোদ নিয়ে আমার যে স্বপ্ন ছিল, তা আজ বাস্তবে রূপ নিচ্ছে এবং নিজের চোখের সামনে তা দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। দৃঢ়ভাবে বলছি, ভারতে যদি কেউ দেখতে চায় আদিবাসী প্রধান একটি জেলা কীভাবে উন্নত হতে পারে, তবে সে দাহোদে এসে দেখে যাক। আদিবাসী জেলায় স্মার্ট সিটি তৈরি হবে—এমন কথা শুনে অনেকে বিস্মিত হন। গত ১০-১১ বছরে আমরা স্পষ্ট দেখেছি, কী দ্রুত গতিতে রেলওয়েতে পরিবর্তন এসেছে। রেল উন্নয়নের নতুন দিক, দ্রুত গতি, মেট্রো সেবার সম্প্রসারণ—সবই বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেমি-হাইস্পিড রেলওয়ে একসময় কল্পনাতেও আসত না। আজ তার দ্রুত বিকাশ হচ্ছে। দেশে প্রায় ৭০টি রুটে ‘বন্দে ভারত’ ট্রেন চলছে। আর আজ দাহোদ থেকে আহমেদাবাদ-ভেরাভল রুটে নতুন ‘বন্দে ভারত’ ট্রেন চালু হয়েছে। আগে দাহোদের ভাইদের উজ্জয়িনী যাওয়ার ইচ্ছে থাকত, আর এখন আপনাদের জন্য সোমনাথের পথও খুলে গেছে।
সাথীরা,
আজ ভারতে এত আধুনিক ট্রেন চলছে—এর বড় কারণ হলো আমাদের উন্নত প্রযুক্তি। আগে যে কোচ ও লোকোমোটিভ বিদেশ থেকে আনতে হতো, আজ তা ভারতে তৈরি হচ্ছে। অর্থও আমাদের, শ্রমও আমাদের, আর ফলও আমাদের। আজ ভারত রেল সম্পর্কিত বহু জিনিস তৈরি করে বিশ্বের অন্যতম বড় রপ্তানিকারক হয়ে উঠছে। জেনে খুশি হবেন—অস্ট্রেলিয়ার মেট্রো কোচও তৈরি হয়েছে আমাদের গুজরাতে। ইংল্যান্ড, সৌদি আরব, ফ্রান্সসহ বহু দেশে ভারতীয় কোচ ব্যবহৃত হচ্ছে। মেক্সিকো, স্পেন, জার্মানি, ইতালিতেও ছোট-বড় অনেক রেল উপকরণ ভারত থেকে যাচ্ছে। আমাদের ছোট ছোট শিল্পোদ্যোগীরা এমএসএমই-র মাধ্যমে এমন নিখুঁত যন্ত্রাংশ তৈরি করছেন, যা আজ বিশ্ববাজারে স্বীকৃতি পাচ্ছে। যাত্রী কোচ মোজাম্বিক, শ্রীলঙ্কা প্রভৃতি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ লোকোমোটিভ ও ইঞ্জিনও আজ ভারত বহু দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এটাই ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’-র শক্তি—যা দেখে ভারত গর্বে মাথা উঁচু করতে পারে।
এখন বলুন দাহোদের ভাই-বোনেরা, ভারতীয় জিনিসপত্র যখন সারা বিশ্বে সাড়া ফেলছে, তখন আমাদের ঘরেই বিদেশি জিনিস ব্যবহার করা উচিত কি না? জোরে বলুন—করতে হবে কি না? তিরঙ্গা উড়িয়ে বলুন—করতে হবে কি না? দেখুন, তিরঙ্গার ছায়ায় বসে আপনারাই বলছেন—ভারতে তৈরি জিনিস কেন ব্যবহার করব না? কিন্তু গণেশ চতুর্থীতে আমরা ছোট চোখওয়ালা বিদেশি গণপতি নিয়ে আসি, দীপাবলি ও হোলিতে বিদেশি আতশবাজি ও পিচকারি ব্যবহার করি। প্রশ্ন হলো—আমাদের কি ভারতীয় জিনিস ব্যবহার করা উচিত নয়? ভারতীয়দেরই উপার্জন করা উচিত নয়? ভারতের অগ্রগতির জন্য কি প্রতিটি ভারতীয়ের এটাই সংকল্প হওয়া উচিত নয়?
সাথীরা,
যখন রেলওয়ে শক্তিশালী হয়, তখন সুবিধাও বাড়ে এবং তার সুফল শিল্পে মেলে, কৃষিতে মেলে, ছাত্রছাত্রীদের মেলে, আমাদের বোনেদের বহু সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে। গত এক দশকে বহু অঞ্চলে প্রথমবারের মতো রেল পৌঁছেছে। গুজরাটেও এমন অনেক জায়গা ছিল, যেখানে ছোট ছোট ট্রেন ধীরে চলত। আমাদের ডভোই এর দিকের ট্রেন তো এমনই ছিল যে মাঝপথে নেমে আবার উঠেও যাওয়া যেত। সেই সব ন্যারো গেজ রুট এখন ব্রড গেজে রূপান্তরিত হয়েছে, ডভোইরও সেই ন্যারো গেজ ব্রডে বদলে গেছে। আজ এখানে অনেক রেলওয়ে রুটের উদ্বোধন হয়েছে। আজ দাহোদ ও ভালসাদের মধ্যেও এক্সপ্রেস ট্রেন চালু হয়েছে। আমার দাহোদের ভাইরা তো গোটা গুজরাট জুড়ে ছড়িয়ে আছেন। গুজরাটের যেকোনো ছোট্ট শহরেই দেখুন, দাহোদের একজন ভাইকে আপনি পেয়েই যাবেন। আর আজ যখন এই নেটওয়ার্ক তৈরি হবে, তখন দাহোদই সবচেয়ে বড় উপকার ভোগ করবে, আমার আদিবাসী সন্তানরা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।
সাথীরা,
যেখানে কারখানা গড়ে ওঠে, সেখানে পুরো ইকোসিস্টেম তৈরি হয়। ছোট ছোট জিনিস তৈরির কারখানাও সেখানে গড়ে ওঠে। আর এর ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। আমার যুবকরা এখানেই সেই সুযোগ পাক—তার জন্য আমি কাজ করছি। দাহোদের রেল কারখানা, এই কারখানা শুধু ভারতের জন্য নয়, বিশ্বেরও এক গুরুত্বপূর্ণ কারখানা হবে। দাহোদ এই অর্থে এক স্মরণীয় স্থান। শুধু এই লোকোমোটিভ কারখানার কথাই বলছি না। আগে তো সেখানে প্রায় সবকিছুই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তালা ঝুলে গিয়েছিল, কর্মীরাও চলে গিয়েছিলেন। আমি নিজ চোখে দাহোদের প্যারেলকে মরে যেতে দেখেছি, আর আজ নিজ চোখে দেখছি কেমন করে তা জীবন্ত ও দুর্দান্ত হয়ে উঠছে। এটা আপনাদের ভালোবাসা ও আশীর্বাদের ফল। আর এখন ৯০০০ হর্স পাওয়ারের লোকোমোটিভ—ভারতে কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে কোথায় তৈরি হচ্ছে, তার জবাব আসবে—দাহোদে। এখানে তৈরি লোকোমোটিভ ভারতের শক্তি ও সক্ষমতা দুটোই বাড়াবে। আর যেখানেই এগুলো যাবে, শুধু চাকা যাবে না, সঙ্গে দাহোদের নামও পৌঁছে যাবে। ভবিষ্যতে এখানে শত শত লোকোমোটিভ তৈরি হবে। খুব শিগগিরই এমন দিন আসবে, যখন দুই দিন অন্তর একটি লোকোমোটিভ প্রস্তুত হবে। ভাবুন তো, কত বড় কাজ—দুই দিনেই একটি! এত বড় লোকোমোটিভ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজে আমার দাহোদের ভাই-বোনেরা, আমার যুবসমাজ ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। এই কারখানাকে ঘিরে স্পেয়ার পার্টস তৈরির কাজ, ছোট ছোট শিল্প, এক বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি হবে। মূল কারখানার বাইরে আরও অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ শুরু হবে। তার মাধ্যমেও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আমার কৃষক ভাই-বোনেরা, আমাদের পশুপালকরা, ছোট দোকানদাররা, শ্রমজীবী ভাই-বোনেরা—সমাজের প্রতিটি স্তরই এর সুফল ভোগ করবে।
সাথীরা,
আজ গুজরাট শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, পর্যটন—যে কোনো শিল্পেরই নাম করুন না কেন, গুজরাটের তিরঙ্গা গর্বের সঙ্গে উড়ছে। হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এসেছে। তার ফলেই আজ গুজরাটে সেমিকন্ডাক্টরের প্ল্যান্ট তৈরি হচ্ছে। আর এই সব উদ্যোগের ফলে গুজরাটের লাখ লাখ যুবকের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
সাথীরা,
এক সময় এমনও ছিল যখন ভডোদরায় ছোট-বড় নানা কাজ চলছিল। আমার মনে আছে, যেদিন আমি পঞ্চমহল জেলাকে দুই ভাগ করে দাহোদকে আলাদা জেলা হিসেবে গড়ে তুলি, তখনই আমার স্পষ্ট ধারণা ছিল—এতে যেমন পঞ্চমহলের উন্নতি হবে, তেমনই দাহোদেরও স্বতন্ত্র উন্নয়নের পথ খুলবে। আর আজ চোখের সামনে সেই উন্নয়ন দেখে যে আনন্দ আমি পাচ্ছি, তা সত্যিই অসীম। বন্ধুরা, আমি তো আপনাদেরই অন্নজল খেয়েছি, তাই আপনাদের জন্য যতই করি না কেন, তা যথেষ্ট নয়। আজই দেখুন—ভডোদরা, হালোল, কালোল, গোধরা, দাহোদ—এই পাঁচ শহরে গড়ে উঠেছে ক্ষুদ্র শিল্প তালুক, নানা ধরনের আধুনিক ও হাইটেক উদ্যোগ, আর এর সম্প্রসারণে রয়েছে আমার আদিবাসী ভাই-বোনদের অবদান। ভডোদরা থেকে দাহোদ, সেখান থেকে মধ্যপ্রদেশের সীমান্ত পর্যন্ত এই উন্নয়নের ধারাপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়েছে। আজ ভডোদরায় বিমান নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। কয়েক মাস আগে এয়ারবাস অ্যাসেম্বলি লাইন উদ্বোধন হয়েছে। ভডোদরাতেই গড়ে উঠেছে দেশের প্রথম গতি শক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এখানকার সাভলীতে রেল কোচ কারখানায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ এসেছে, আর আজ তা বিশ্বে ভারতের গৌরব বাড়াচ্ছে। দাহোদে আজ তৈরি হচ্ছে ভারতের শক্তিশালী ৯০০০ হর্স পাওয়ারের রেল ইঞ্জিন। গোধরা, কালোল, হালোল—এই সব জায়গায় অসংখ্য শিল্প ও উৎপাদন ইউনিট গড়ে উঠছে। এই ক্ষুদ্র শিল্পগুলো আজ শিল্পোন্নয়নের শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে উঠেছে। গোটা গুজরাটে আজ উন্নয়নের জোয়ার বইছে।
সাথীরা,
আমি সেই দিন দেখতে পাচ্ছি যখন গুজরাটেই সাইকেল থেকে শুরু করে মোটরসাইকেল, রেল ইঞ্জিন, এমনকি বিমান পর্যন্ত আমাদের নবীন প্রজন্মই তৈরি করবে। গুজরাটের মাটিতেই এই হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানুফ্যাকচারিং করিডোর গড়ে উঠছে, যা বিশ্বের অন্য কোথাও সচরাচর দেখা যায় না। ভডোদরা থেকে দাহোদ পর্যন্ত, হালোল, কালোল, গোধরা হয়ে এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে।
সাথীরা,
একটি উন্নত ভারতের নির্মাণে আদিবাসী অঞ্চলের উন্নয়ন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। গুজরাটে আমি যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, তখনই আমার সেবা করার সুযোগ মেলে এবং আমি এই গুজরাটের পূর্বাঞ্চল, যেখানে আমার আদিবাসী ভাই-বোনদের বসবাস, তাদের উন্নতির জন্য নিজেকে নিবেদিত করেছিলাম। গত ১১ বছর ধরে আমি ভারত সরকারের কাজের অংশ হিসেবে আদিবাসী সমাজের অভূতপূর্ব উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করেছি। গুজরাটের আদিবাসী অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। প্রায় সাত দশক আগে থেকেই এই এলাকায় গিয়েছি, কাজ করেছি, আমার আদিবাসী ভাই-বোনদের বহু কথা শুনেছি। আমি সেই সময়ও দেখেছি, যখন উমরগাম থেকে অম্বাজি পর্যন্ত গোটা আদিবাসী অঞ্চলে দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগও ছিল না। আর আজ দেখুন—উমরগাম থেকে অম্বাজি পর্যন্ত গোটা এলাকায় গড়ে উঠেছে বহু কলেজ, আইটিআই, মেডিকেল কলেজ, এমনকি দুটি ট্রাইবাল বিশ্ববিদ্যালয়। গত ১১ বছরে একলব্য মডেল স্কুলের নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করা হয়েছে। দাহোদেও আজ বহু একলব্য মডেল স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সাথীরা,
আজ গোটা দেশে আদিবাসী সমাজের জন্য ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথমবার আদিবাসী গ্রাম উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্রকল্প তৈরি হয়েছে। বাজেটে আপনারা দেখেছেন, ‘ধরতি আবা’ নামে—যাকে আমরা বিরসা মুন্ডাজি নামে চিনি—এক বিশেষ উদ্যোগ শুরু হয়েছে। ধরতি আবা জনজাতীয় গ্রাম উৎকর্ষ অভিযান। এই প্রকল্পে কেন্দ্র সরকার প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে। এর আওতায় গুজরাটসহ সারা দেশের ৬০ হাজারেরও বেশি গ্রামে উন্নয়নের কাজ চলছে। বিদ্যুৎ, জল, সড়ক, স্কুল, হাসপাতাল—প্রয়োজনীয় ও আধুনিক সব ধরনের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। আমার আদিবাসী ভাই-বোনদের জন্য আজ সারা দেশে পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে।
সাথীরা,
যার কেউ খোঁজখবর নেয় না, তাকে-ই মোদীজি গুরুত্ব দেয়। আদিবাসী সমাজের ভেতরও অনেক সম্প্রদায় আছে, যারা আরও বেশি পিছিয়ে রয়েছে। তাদের নিয়েও আমরা গভীরভাবে চিন্তা করছি। সেই কারণেই সরকার “পিএম জন মন যোজনা” চালু করেছে। এই প্রকল্পের আওতায়, সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা আদিবাসী পরিবারের জন্য গ্রামে আধুনিক সুবিধা, পাকা বাড়ি, শিক্ষা, কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য আমরা কাজ করে চলেছি।
ভাই ও বোনেরা,
আমরা গুজরাটে সিকল সেল রোগের কষ্ট ভালো করেই জানি। আমি গুজরাটে থাকর সময় থেকেই এই রোগ নির্মূলের জন্য কাজ শুরু করেছি, আর আজ তা দেশব্যাপী এক মিশনের রূপ নিয়েছে। আমার আদিবাসী ভাই-বোনেরা যেন সিকল সেল রোগ থেকে মুক্তি পায়, তার জন্য সরকার মিশন মোডে কাজ করছে। এর আওতায় লাখ লাখ আদিবাসী ভাই-বোনের স্ক্রিনিং চলছে। আমাদের সরকারের চেষ্টা হলো—যে অঞ্চল উন্নয়নে পিছিয়ে পড়েছে, তার দ্রুত উন্নয়ন নিশ্চিত করা। দুর্ভাগ্যবশত, একসময় দেশের ১০০টি জেলা কেবল “পিছিয়ে পড়া জেলা” বলে ফেলে রাখা হয়েছিল। তাদের ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে কোনো যোগ্য কর্মকর্তা চাকরি করতে চাইতেন না, স্কুলে শিক্ষক পাওয়া যেত না, পাকা বাড়ির অভাব ছিল, রাস্তার তো কোনো খবরই ছিল না। সেই পরিস্থিতি বদলেছে, আর এর মধ্যে বহু আদিবাসী জেলা ছিল। এক সময় দাহোদ জেলা-ও সেই তালিকায় ছিল। কিন্তু আজ দাহোদ জেলা, দাহোদ নগর—স্মার্ট সিটি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছে। উচ্চাকাঙ্খী জেলা কর্মসূচিতেও দাহোদ গর্বের সঙ্গে নিজের পরিচয় তৈরি করেছে। দাহোদ শহরের দ্রুত রূপান্তর ঘটছে, এখানে আধুনিক ও স্মার্ট সুবিধা গড়ে উঠছে।
সাথীরা,
দাহোদের দক্ষিণ অঞ্চলে বহু বছরের পুরনো এক বড় সমস্যা হলো জলের সমস্যা। আজ সেখানে শত শত কিলোমিটার লম্বা পাইপলাইন বসিয়ে ঘরে ঘরে জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। নর্মদা নদীর জল যাতে প্রত্যেক পরিবারের কাছে পৌঁছে যায়, তার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। গত বছরেই উমরগাম থেকে অম্বাজি পর্যন্ত প্রায় ১১ লক্ষ একর জমিতে সেচ চালু করা হয়েছে। এর ফলে আমাদের কৃষক ভাই-বোনেরা আজ তিনবার ফসল ফলাতে সক্ষম হচ্ছেন।
ভাই ও বোনেরা,
এখানে আসার আগে আমি ভডোদরায় ছিলাম। সেখানে হাজার হাজার মা-বোন সমবেত হয়েছিলেন। তাঁরা সবাই আমাদের সেনাবাহিনীকে সম্মান জানানোর জন্য সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। আমাকে এই পবিত্র কার্যক্রমের অংশীদার করার জন্য আমি আমাদের মাতভূমিকে প্রণাম জানাই। এখানেও দাহোদে, আপনাদের সকল মা-বোনেরা হাতে তেরঙ্গা নিয়ে অপারেশন সিন্দূর-এর জন্য অসংখ্য আশীর্বাদ দিয়েছেন। দাহোদের এই ভূমি তপস্যা ও ত্যাগের ভূমি। বলা হয়, দুধিমতী নদীর তীরে মহর্ষি দধিচি সৃষ্টির রক্ষার জন্য নিজের দেহত্যাগ করেছিলেন। এই সেই ভূমি, যা ক্রান্তিবীর তাতিয়া টোপেকে কঠিন সময়ে সহায়তা করেছিল। এখান থেকে মানগড় ধামও খুব দূরে নয়—যা গোবিন্দ গুরু এবং শত শত আদিবাসী সেনানীর আত্মবলিদানের প্রতীক। অর্থাৎ এই অঞ্চল মানবতা রক্ষার জন্য আমাদের তপস্যা ও ত্যাগের প্রতিচ্ছবি। যখন আমাদের ভারতীয়দের এমন সংস্কার, এমন আদর্শ আছে, তখন ভাবুন—জম্মু-কাশ্মীরের পাহেলগামে সন্ত্রাসবাদীরা যা করেছে, ভারত কি চুপ বসে থাকতে পারে? মোদী কি চুপ থাকতে পারে? যখন কেউ আমাদের বোনেদের সিঁদুর মুছে দেওয়ার চেষ্টা করবে, তখন তার মুছে যাওয়াও নিশ্চিত। সেই কারণেই অপারেশন সিন্দূর কেবল একটি সামরিক অভিযান নয়, এটি আমাদের ভারতীয়দের সংস্কার, আমাদের আবেগ ও অটল সংকল্পের প্রকাশ। যারা সন্ত্রাস ছড়াচ্ছিল, তারা স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি—মোদীর মুখোমুখি হওয়া কতটা কঠিন।
তেরঙ্গা উড়তে থাকবে। তেরঙ্গার মান-সম্মান-গৌরব আমাদের প্রাণ। একবার ভাবুন—শিশুদের সামনে তাদের বাবাকে গুলি করা হলো। আজও সেই ছবি চোখে এলে রক্ত ফুটে ওঠে। সন্ত্রাসবাদীরা ১৪০ কোটি ভারতীয়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল। তাই মোদী সে কাজই করেছেন, যার জন্য আপনাদের প্রত্যেকে আমাকে প্রধান সেবক-এর দায়িত্ব দিয়েছেন। মোদী আমাদের তিন বাহিনীকে পুরো স্বাধীনতা দিয়েছেন, আর আমাদের বীরযোদ্ধারা তা করে দেখিয়েছেন—যা পৃথিবী বহু দশক ধরে দেখেনি। সীমার ওপারে চলা সন্ত্রাসের ৯টি সবচেয়ে বড় ঘাঁটি আমরা খুঁজে বের করেছি, তাদের অবস্থান নিশ্চিত করেছি, আর ২২ তারিখে তারা যে খেলা খেলেছিল, ৬ তারিখ রাতে ২২ মিনিটেই আমরা তাদের মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছি। ভারতের এই অভিযানে বেপরোয়া পাকিস্তানি সেনা দুঃসাহস দেখাতে চাইলে, আমাদের বাহিনী তাদেরও চরম শিক্ষা দিয়েছে। আমাকে বলা হয়েছে—এখানেও বহু সংখ্যায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা উপস্থিত আছেন। আমি তাঁদেরও স্যালুট জানাই। দাহোদের এই তপোবুমি থেকে আবারও আমি দেশের সেনাবাহিনীর শৌর্যকে প্রণাম জানাই।
সাথীরা,
বিভাজনের পর যে দেশ জন্ম নিয়েছে, তার একমাত্র লক্ষ্য ভারতকে শত্রু মনে করা, ভারতের ক্ষতি করা। কিন্তু ভারতের লক্ষ্য হলো—দারিদ্র্য দূর করা, অর্থনীতি মজবুত করা এবং আত্মনির্ভর, উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে ওঠা। উন্নত ভারত তখনই গড়ে উঠবে, যখন আমাদের সেনা শক্তিশালী হবে এবং অর্থনীতি সুদৃঢ় হবে। আমরা সেই দিকেই নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
সাথীরা,
দাহোদের ভেতরে বিরাট সম্ভাবনা আছে। আজকের এই অনুষ্ঠান তার এক ঝলক মাত্র। আমি আপনাদের পরিশ্রম ও বিশ্বাসের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখি। আপনারা এই নতুন সুবিধাগুলোর সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করুন এবং দাহোদকে দেশের সবচেয়ে উন্নত জেলায় পরিণত করুন। এই বিশ্বাস নিয়ে আবারও আপনাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এখন আসুন, অপারেশন সিন্দূর-এর সম্মানে দাঁড়িয়ে তেরঙ্গা উত্তোলন করুন এবং আমার সঙ্গে স্লোগান তুলুন—
ভারতমাতা কি জয়!
ভারতমাতা কি জয়!
ভারতমাতা কি জয়!
ভারতমাতা কি জয়!
এই স্লোগান থামা উচিত নয়।
(প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের অধিকাংশ অংশ গুজরাটি ভাষায় ছিল, যার এখানে ভাবানুবাদ করা হয়েছে)
SC/PK
(রিলিজ আইডি: 2158903)
ভিজিটরের কাউন্টার : 48
এই রিলিজটি পড়তে পারেন:
Odia
,
English
,
Urdu
,
हिन्दी
,
Marathi
,
Manipuri
,
Assamese
,
Punjabi
,
Gujarati
,
Tamil
,
Telugu
,
Kannada
,
Malayalam