প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
ছত্তিশগড়ের বিলাসপুরের বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বঙ্গানুবাদ
Posted On:
30 MAR 2025 6:05PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ৩০ মার্চ, ২০২৫
ভারত মাতা কি জয় !
ভারত মাতা কি জয় !
ভারত মাতা কি জয় !
ছত্তিশগড়ের মহাকালীর জয় ! (জয় ছত্তিশগড়)
রত্নপুরের মাতা মহামায়ার জয় !
কর্ম মায়ার জয় ! বাবা গুরু ঘাসিদাসের জয় !
(কিছুটা অংশ স্থানীয় ভাষায়)
আমার মনের থেকে বলি জয় জোহার !
ছত্তিশগড়ের মাননীয় রাজ্যপাল মাননীয় শ্রী রমেন ডেকা জি; জনপ্রিয় এবং কর্মচঞ্চল মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বিষ্ণু দেও সাই জি; মন্ত্রিসভায় আমার সহকর্মী শ্রী মনোহর লাল জি; তোখান সাহু জি; সমবেত বিশিষ্টজনেরা এবং উপস্থিত অভ্যাগতবৃন্দ।
আজ নববর্ষের সূচনা। নবরাত্রির প্রথম দিনও আজ। এই ভূমি মাতা মহামায়ার আশীর্বাদধন্য। ছত্তিশগড় মাতা কৌশল্যার পিত্রালয়। স্বর্গীয় নারী শক্তির উদযাপনে এই ৯ দিন ছত্তিশগড়ের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নবরাত্রির প্রথম দিন ছত্তিশগড় আসতে পেরে আমি ধন্য। মাত্র কয়েকদিন আগেই ভক্ত শিরোমণি মাতা কর্মের সম্মানে একটি ডাক টিকিট প্রকাশ হয়েছে। আপনাদের সকলের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা।
বন্ধুরা,
নবরাত্রির সমাপন হবে রাম নবমীর মধ্যে দিয়ে। ভগবার রামের প্রতি ছত্তিশগড়ের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অতুলনীয়। আমাদের রামনামী সমাজ (একটি সম্প্রদায়)ভগবান রামের প্রতি উৎসর্গীকৃত। ভগবান রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং আপনাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলি, জয় শ্রী রাম !
বন্ধুরা,
এই পূণ্য লগ্নে, মহাভক্ত স্বয়ম্ভূ শিবলিঙ্গ মহাদেবের আশীর্বাদ নিয়ে আমি ছত্তিশগড়ের বিকাশে আরও গতি আনার সুযোগ পেয়েছি আবার। কিছুক্ষণ আগেই ৩৩,৭০০ কোটি টাকার একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস হয়েছে। এই প্রকল্পগুলি প্রধানত বঞ্চিত মানুষের আবাসন, বিদ্যালয়, সড়ক, রেল বিদ্যুৎ এবং গ্যাস পাইপলাইন সম্পর্কিত। এরফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্র্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানেও গতি আসবে।
বন্ধুরা,
আমাদের সংস্কৃতিতে কাউকে আশ্রয় দেওয়া মহান একটি কর্ম। কিন্তু নিজের বাড়ি থাকার ক্ষেত্রে মানুষের স্বপ্ন পূরণ করতে পারার মতো আনন্দ আর কী থাকতে পারে? আজ এই পূণ্য লগ্নে ৩ লক্ষ প্রান্তিক পরিবার নিজেদের বাড়ি পেলেন। কিছুক্ষণ আগেই তিনজন প্রাপকের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। এঁদের স্বপ্ন পূরণ হওয়ার কৃতিত্ব আপনাদের। কারণ আমরা এই কাজ করতে পেরেছি আপনারা আমাদের ওপর আস্থা রাখার কারণে। আগের সরকারের আমলে গরিব মানুষের পাকা বাড়ির স্বপ্ন চাপা পড়েছিল ফাইলে। কিন্তু এই স্বপ্নের বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম আমরা। সেজন্যই বিষ্ণুদেও জির সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই ১৮ লক্ষ বাড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। এরমধ্যে ৩ লক্ষ বাড়ি তৈরির কাজ হয়ে গেছে। আরও আনন্দের বিষয় যে এইসব বাড়ির একটি বড় অংশ তৈরি হয়েছে আদিবাসী প্রধান অঞ্চলে। বস্তার এবং সরগুজার বহু পরিবার এখন পাকাবাড়ি পেয়ে গেলেন। এঁরা দীর্ঘদিন ঝুপড়িতে বসবাস করেছেন। তাঁদের এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তাঁদের এই আনন্দ আমাকে দেশবাসীর জন্য কাজ করায় আরও অনুপ্রাণিত করে।
বন্ধুরা,
সরকার এইসব বাড়ি তৈরিতে সহায়তা দিয়েছে। কিন্তু কীভাবে তৈরি হবে তা ঠিক করে দিয়েছেন প্রাপকরাই। এই বাড়িগুলিতে শৌচালয়, বিদ্যুৎ, উজ্জ্বলা গ্যাস সংযোগ এবং নলবাহিত জলের সুযোগ থাকছে। বাড়িগুলির বেশিরভাগেরই মালিকানা নিবন্ধিত হয়েছে মহিলাদের নামে। তাঁদের আশীর্বাদ আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
বন্ধুরা,
এই বাড়িগুলি নির্মাণের উপকরণ সংগ্রহ করা হয়েছে স্থানীয় বাজার থেকে। ফলে উপকৃত হয়েছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। কর্মসংস্থানেও গতি এসেছে কারণ, নির্মাণে কাজে যুক্ত ছিলেন স্থানীয়রাই- রানী মিস্ত্রিরা (নির্মাণের কাজে যুক্ত প্রধান মহিলা মিস্ত্রি)।
বন্ধুরা,
বিজেপি সরকার ছত্তিশগড়ের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে অবিচল। তার ফলে মানুষের আস্থা লাভ করেছে এই দল। তার প্রতিফলন ঘটেছে সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলিতে।
বন্ধুরা,
ছত্তিশগড়ের মহিলাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিপূরণে আমরা দায়বদ্ধ। ধান চাষীরা দু বছরের বকেয়া পাওনা পেয়ে গেছেন- ধান কেনা হচ্ছে বর্ধিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে। আগেকার কংগ্রেস সরকারের আমলে নিয়োগের পরীক্ষাগুলিতে ব্যাপক দুর্নীতির সমস্যা ছিল। আমরা ছবিটা পাল্টে দিয়েছি।
বন্ধুরা,
ছত্তিশগড় রাজ্যের বয়স ২৫ পেরিয়েছে। আবার এ বছরই অটল জির জন্মশতবর্ষ। এই উপলক্ষ্যে ছত্তিশগড় সরকার ২০২৫ সালটিকে অটল নির্মাণ বর্ষ হিসেবে উদযাপন করছে।
বন্ধুরা,
সুযোগ ও সুবিধার সমবন্টনের জন্য ছত্তিশগড় রাজ্যটিকে তৈরি করার দরকার হয়ে পড়েছিল। কংগ্রেস আমলে উন্নয়নের গতি ছিল স্তব্ধ, ছিল সীমাহীন দুর্নীতি। আমরা চলি উল্টো পথে। আমাদের সরকার উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে চায় প্রতিটি প্রান্তে। আদিবাসী প্রধান প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে যাচ্ছে সড়ক পরিষেবা। নলবাহিত পানীয় জল এবং মোবাইল পরিষেবার বিস্তার হচ্ছে দ্রুত। তৈরি হচ্ছে একের পর এক স্কুল, কলেজ ও হাসপাতাল।
বন্ধুরা,
যেসব রাজ্যে রেললাইন বৈদ্যুতিকীকরণের কাজ ১০০% সম্পন্ন, তার মধ্যে একটি ছত্তিশগড়। এই রাজ্যে ৪০,০০০ কোটি টাকার রেল প্রকল্প রূপায়িত হচ্ছে। রেল খাতে এ রাজ্যের জন্য এ বছরের বাজেটে ৭০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বন্ধুরা,
আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি উন্নয়নের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কংগ্রেস আমলে আমরা সীমাহীন দুর্নীতি প্রত্যক্ষ্য করেছি। কয়লার উদাহরণ নেওয়া যাক- ছত্তিশগড়ে প্রচুর কয়লা রয়েছে, কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লা পাওয়া যেত না। বেহাল হয়ে পড়েছিল বিদ্যুৎ পরিষেবা। বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ পরিষেবা উন্নত করেছে।
বন্ধুরা,
সৌরশক্তির প্রসারে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। চালু হচ্ছে পিএম সূর্যঘর মুফত বিজলি যোজনা। এর আওতায় বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল বসানোর জন্য পরিবার পিছু ৭০,০০০-৮০,০০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে। ছত্তিশগড়র ২ লক্ষ পরিবার এই প্রকল্পে নাম লিখিয়েছে।
বন্ধুরা,
গ্যাস পাইপলাইন পাতার কাজ হচ্ছে দ্রুত। এই রাজ্যে সমুদ্র উপকূল না থাকায় বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি, কারণ এরফলে জ্বালানী পরিবহণের খরচ কমে যায়। তাছাড়া সিএনজি পরিবেশ বান্ধবও বটে। ঠিক যেমন নলবাহিত জল সরবরাহ করা হয়, তেমনভাবেই গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা করছি আমরা।
বন্ধুরা,
বিগত দশকগুলিতে ভ্রান্ত নীতির কারণে বিভিন্ন রাজ্যে নকশালবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। উন্নয়নের প্রশ্নে ছিল ব্যাপক খামতি। সন্তানহারা হয়েছেন মায়েরা।
বন্ধুরা,
বিষয়টি নিয়ে উদাসীন ছিল আগেকার সরকার। দরিদ্র আদিবাসী পরিবারগুলির স্বার্থ পূরণে তেমন কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। আমরা চালু করেছি স্বচ্ছ ভারত অভান, আয়ুষ্মান ভারতের মতো প্রকল্প। পিএম জন ঔষধি কেন্দ্রগুলিতে ৮০ শতাংশ ছাড়ের ওধুষ মিলছে।
বন্ধুরা,
ধরতি আবা জনজাতি উৎকর্ষ অভিযানের আওতায় আদিবাসী প্রধান এলাকাগুলির উন্নয়নে ৮০,০০০ কোটি টাকা লগ্নি করা হয়েছে। এর আওতায় ছত্তিশগড়ের প্রায় ৬০,০০০ আদিবাসী গ্রাম সুবিধা পাচ্ছে। আদিবাসীদের মধ্যেও যাঁরা বিশেষভাবে সঙ্কটাপন্ন, তাঁদের জন্য চালু করা হয়েছে পিএম জনমান যোজনা। এর আওতায় ছত্তিশগড়ের ১৮টি জেলার ২০০০ বসতি এলাকায় উন্নয়নের কাজ চলছে। সারা দেশে আদিবাসী এলাকাগুলিতে ৫০০০ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২,৫০০ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হবে ছত্তিশগড়ের পিএম জনমান প্রকল্পের আওতায়।
বন্ধুরা,
ডবল-ইঞ্জিন সরকারের সুবাদে ছত্তিশগড় এগিয়ে চলেছে দ্রুত গতিতে। সুকমা জেলার স্বাস্থ্যকেন্দ্র উৎকর্ষের প্রশ্নে জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পেয়েছে। বহুদিন বন্ধ থাকার পর চালু হয়েছে দান্তেওয়াড়ার স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এরফলে নকশাল প্রভাবিত এলাকাগুলিতে শান্তি ফিরিয়ে আনার কাজে গতি আসবে। বস্তার অলিম্পিক্স-এ হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণ এই বার্তা দেয় যে, তরুণ প্রজন্ম হিংসা ছেড়ে শান্তির পথে ফিরতে চাইছেন।
বন্ধুরা,
জাতীয় শিক্ষানীতি সার্থকভাবে রূপায়িত হচ্ছে ছত্তিশগড়ে। সারা দেশের ১২,০০০ পিএম শ্রী স্কুলের মধ্যে ৩৫০টিই রয়েছে এই রাজ্যে। এখানকার একলব্য মডেল স্কুলগুলি যেভাবে কাজ করছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। নকশাল প্রভাবিত এলাকায় অনেক স্কুল আবার খুলেছে।
বন্ধুরা,
নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী হিন্দিতে ডাক্তারি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুবিধা মিলবে। এরফলে গ্রামাঞ্চলের ছাত্রছাত্রীরা অনেক সহজেই নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন।
বন্ধুরা,
ছত্তিশগড় প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। আগামীদিনে এই রাজ্য উন্নয়নের প্রশ্নে দেশে প্রথম সারিতে জায়গা করে নেবে। উন্নয়নের সুফল প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আমরা দায়বদ্ধ।
অনেক ধন্যবাদ !
প্রধানমন্ত্রীর মূল ভাষণটি ছিল হিন্দিতে।
SC/AC/NS….
(Release ID: 2117093)
Visitor Counter : 8