পেট্রোলিয়ামওপ্রাকৃতিকগ্যাসমন্ত্রক

অপরিশোধিত তেলের মূল্য যাতে যথাযথভাবে নির্ধারিত হয় ভারত সেই উদ্দেশ্যেই কাজ করবে বলে শ্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন

Posted On: 02 DEC 2020 1:40PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২ ডিসেম্বর, ২০২০



পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী শ্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেছেন, অপরিশোধিত তেলের যথাযথ মূল্য নির্ধারণের ব্যাপারে ভারত সচেষ্ট রয়েছে। আত্মনির্ভর ভারতের ওপর আয়োজিত স্বরাজ্য ওয়েবিনারে মন্ত্রী বলেছেন, তেল উৎপাদক দেশগুলির একচেটিয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিন চলে গেছে। এখন উপভোক্তাদের চাহিদাগুলিকে বিবেচনা করা হবে। ভারত বর্তমানে পৃথিবীর তেলের মাত্র ৬ শতাংশ ব্যবহার করে। আন্তর্জাতিক হিসেব অনুসারে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারত মাথাপিছু এক-তৃতীয়াংশ তেল ব্যবহার করে। পরিস্থিতি এখন দ্রুত বদলাচ্ছে। ভারতের জ্বালানি ব্যবহার ২০৪০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ৩ শতাংশ করে বৃদ্ধি পাবে যা বিশ্বের বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তিগুলির তুলনায় অনেক বেশি। ২০৪০ সালের মধ্যে ভারতের জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ১১ শতাংশ।

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী জ্বালানির বিষয়ে ভারতের যথাযথ ন্যায় পাওয়ার একটি পরিকল্পনা করেছেন। মূলত প্রত্যেকের জন্য জ্বালানি, সমাজের দরিদ্রতম শ্রেণীর জন্য যথাযথ মূল্যে জ্বালানি, দক্ষভাবে জ্বালানির ব্যবহার, স্থিতিশীলভাবে জ্বালানির ব্যবহার এবং জ্বালানির সুরক্ষা - এই পাঁচটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫০ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি  উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেছেন, ভারত জ্বালানি ক্ষেত্রে সংস্কার হাতে নিয়েছে যাতে এ দেশের জ্বালানির সঙ্কট দূর হয়। ২০০৫ সালে মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের হিসেবে ৩৫ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ হত যা কমিয়ে ৩৩ শতাংশ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শ্রী প্রধান বলেছেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ভারত সাহসিকতার সঙ্গে আত্মনির্ভরতার ভাবনায় সমস্যার মোকাবিলায় উদ্যোগী হয়েছে। অর্থনীতি, পরিকাঠামো, ব্যবস্থাপনা, প্রাণবন্ত জনবিন্যাস ও চাহিদা - আত্মনির্ভর ভারতের এই পাঁচটি স্তম্ভের কথা উল্লেখ করে শ্রী প্রধান বলেছেন, কোভিড-পরবর্তী সময়ে দেশের উন্নয়নের নতুন অধ্যায় তৈরি হবে। ১৩০ কোটি ভারতবাসীর কাছে আত্মনির্ভরতা একটি মন্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেছেন, আত্মনির্ভর ভারত হল দেশের পরোক্ষ বাজারকে একটি সক্রিয় উৎপাদন ক্ষেত্র হিসেবে তৈরি করা যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবে। ভারত 'মেক ইন ইন্ডিয়া' মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে 'মেক ফর ওয়ার্ল্ড'-এর জন্য কাজ করছে।

মন্ত্রী জানিয়েছেন, গ্যাস-ভিত্তিক অর্থনীতির দিকে দেশ এগোচ্ছে। কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা যার মূল লক্ষ্য। সম্প্রতি দেশ জুড়ে ৫০টি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ফুয়েলিং স্টেশনের শিলান্যাস করা হয়েছে। তিন বছরের মধ্যে দেশে ১ হাজারটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের স্টেশন তৈরি করার লক্ষ্য ধার্য করা হয়েছে। পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি সহ বিকল্প জ্বালানির দিকে যেমন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, ২০৪০ সালের মধ্যে ভারতে তেলের চাহিদা দ্বিগুণ এবং গ্যাসের তিনগুণ হবে। ২০২০ সালের এপ্রিল মাস থেকে ভারত-৬-এর মান অনুসারে পরিবহণ ক্ষেত্রে গাড়ির ব্যবহার শুরু হয়েছে। স্থিতিশীল বিকল্প মূল্য সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনার দিকে দেশ এগিয়ে চলেছে। প্রতি বছর যাতে ১৫ এমএমটি বিদ্যুৎ তৈরি হয় তার জন্য ৫ হাজার কম্প্রেসড বায়ো-গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এর জন্য ২ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হবে। ২০২২ সালের মধ্যে বিদেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি ১০ শতাংশ করার লক্ষ্যমাত্রাও সরকার ধার্য করেছে। হাইড্রোজেন মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহারকে উৎসাহিত করার জন্য হাইড্রোজেন সমৃদ্ধ কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস তৈরির একটি কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। এই গ্যাস ব্যবহার করে যেসব বাস চলতে পারে সেগুলিও রাস্তায় নেমেছে।

মন্ত্রী আরও বলেছেন, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রে বিভিন্ন নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলার জন্য উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। ফুয়েল সেল, সৌরশক্তি, হাইড্রোজেনের সাহায্যে জ্বালানির চাহিদা মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শ্রী প্রধান আরও জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ভারতকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানির জন্য বিনিয়োগের কেন্দ্রস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে চান। সহজে ব্যবসা করার সুযোগ তৈরি করে দিতে এই সরকার বদ্ধপরিকর। এর জন্য সমস্ত মন্ত্রকে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ সংক্রান্ত সেল এবং বিভিন্ন প্রকল্প উন্নয়ন সেল তৈরি করা হয়েছে। কোভিড মহামারীর মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন সমস্যা দূর করার জন্য সরকার সচেষ্ট।

***



CG/CB/DM



(Release ID: 1677832) Visitor Counter : 250