প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর

উত্তরপ্রদেশে গ্রামীণ পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

Posted On: 22 NOV 2020 2:54PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২২ নভেম্বর, ২০২০

 

দেখুন, জীবনের একটি বড় সমস্যা যখন সমাধান হতে শুরু করে, তখন একটি ভিন্ন ধরনের বিশ্বাস কিংবা আস্থাবোধ চেহারায় প্রতিফলিত হয়। আপনাদের সকলের সঙ্গে বার্তালাপ কর্মসূচি আয়োজনের কথা ছিল, কিন্তু প্রযুক্তিগত বিপত্তির কারণে প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলতে পারিনি, কথা বলা সম্ভব হয়নি। কিন্তু আমি আপনাদের দেখতে পাচ্ছিলাম, আর আপনাদের চেহারায় সেই বিশ্বাসের ঝলক দেখতে পাচ্ছিলাম। যেভাবে আপনারা উৎসবের যেরকম জামা-কাপড় পরেন, সেরকম জামা-কাপড় পরে, সেজেগুজে আমাকে দেখছিলেন। তার মানে কতটা উৎসাহ ও উদ্দীপনায় আপনারা ভরপুর, আমি যেন আপনাদের মনের কথা বুঝতে পারছিলাম। এই উৎসাহ, এই উদ্দীপনাই বুঝিয়ে দিচ্ছে যে এই প্রকল্পটির গুরুত্ব কত বেশি। জলের প্রতি আপনাদের প্রত্যেকের সংবেদনশীলতা কতটা, আপনারা বাড়িতে বিয়ে লাগলে যেরকম আবহ গড়ে ওঠে, আপনারা আজ এরকম আবহ গড়ে তুলেছেন।

 

তার মানে হল, সরকার আপনাদের সমস্যাগুলি বুঝতে পারে। সমস্যাগুলির সমাধানের জন্য সঠিক লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। যখন আপনারা এত বিপুল সংখ্যায় আজকের অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছেন, এত উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে যুক্ত হয়েছেন, তখন আমার মনের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হল যে এই প্রকল্প যতটা দ্রুত ভেবেছি তার থেকেও তাড়াতাড়ি বাস্তবায়িত হবে। সম্ভবত, আপনাদের অনেক অর্থ সাশ্রয় হবে এবং কাজও ভালো হবে, কারণ গণ-অংশীদারিত্বের মাধ্যমে যে কোনও কাজেই খুব ভালো পরিণাম পাওয়া যায়।

 

আমাদের সকলের ওপর মা বিন্ধবাসীনির অশেষ কৃপা রয়েছে। আজ এই অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ পরিবারের জন্য এই বিশেষ প্রকল্প শুরু হতে চলেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ পরিবার তাদের বাড়িতে নলের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানীয় জল পাবেন। এই অনুষ্ঠানে আজ আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল শ্রীমতী আনন্দিবেন প্যাটেলজি, শোনভদ্রে আপনাদের সঙ্গে উপস্থিত হয়েছেন উত্তরপ্রদেশের যশস্বী মুখ্যমন্ত্রী শ্রী যোগী আদিত্যনাথ, আমার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সহযোগী শ্রী গজেন্দ্র সিং-জি, উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী ভাই মহেন্দ্র সিং-জি, অন্যান্য মন্ত্রীগণ, সাংসদ ও বিধায়কগণ, বিন্ধ্যাঞ্চলের সমস্ত বোনেরা এবং অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে উপস্থিত সমস্ত ভাইদের আমি অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই।

 

বন্ধুগণ,

 

বিন্ধ পর্বত সংলগ্ন এই সমস্ত এলাকায় পুরাতনকাল থেকেই বিশ্বাস, পবিত্রতা এবং আস্থার একটি বড় কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। উত্তরপ্রদেশে অনেকেই জানেন, রহিমদাসজি কী বলে গেছেন! রহিমদাসজি বলেছেন – “যাপর বিপদা পরথে, সো আবত ইয়েহি দেশ!”

 

ভাই ও বোনেরা, রহিমদাসজির এই বিশ্বাসের কারণ এই অঞ্চলের অপার সম্পদ। এই অঞ্চলের অপার সম্ভাবনা। এই বিন্ধ পর্বত থেকে শিপ্রা বেণগঙ্গা, শোন, মহানদ, নর্মদা, কত না নদী ধারা বেড়িয়ে এসেছে। মা গঙ্গা, বেলন আর কর্মনাশা নদীগুলির আশীর্বাদও এই অঞ্চলের মানুষরা পান। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে অনেক দশকের উপেক্ষার শিকারও হয়েছে এই অঞ্চল। উপেক্ষার শিকার হয়েছে বিন্ধ্যাচল, বুন্দেলখন্ডের এই গোটা এলাকা। এত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও এই অঞ্চলের মানুষ অভাবগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। এত নদী থাকা সত্ত্বেও এই অঞ্চলের পরিচয় সবচাইতে বেশি তৃষ্ণার্ত এবং খরা প্রভাবিত অঞ্চলের মধ্যে ধরা হয়। এর ফলে, এখানকার অনেক মানুষ পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

 

বন্ধুগণ,

 

বিগত বছরগুলিতে বিন্ধ্যাঞ্চলের এই কঠিন সমস্যাগুলি দূর করার নিরন্তর কাজ করা হয়েছে। এখানে বাড়িতে বাড়িতে জল পৌঁছে দেওয়া এবং সেচের সুবিধা গড়ে তোলা এই প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গত বছর বুন্দেলখন্ডে জল সরবরাহ সংক্রান্ত বড় প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছিল। তার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। আজ ৫,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে 'বিন্ধ জলাপূর্তি যোজনা’র শিলান্যাস করা হল। এই প্রকল্পের জন্য শোনভদ্র এবং মির্জাপুর জেলার লক্ষ লক্ষ বন্ধুদের, আর বিশেষ করে মা, বোন এবং কন্যাদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। এটা আমার জন্য একটি বড় সুযোগ। আজ যখন এই এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলছি তখন অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই আমি আমার পুরনো বন্ধু স্বর্গীয় সোনেলাল প্যাটেলজিকে স্মরণ করছি। তাঁর কথা খুব মনে পড়ছে। তিনি এই এলাকার জলের সমস্যা নিয়ে সবসময় অত্যন্ত চিন্তিত থাকতেন। এই প্রকল্পগুলি চালু হতে দেখে আজ সোনেলালজির আত্মা যেখানেই থাকুন না কেন, তিনি অনেক আনন্দ পাবেন আর আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করবেন।

 

ভাই ও বোনেরা, আগামীদিনে যখন এখানে ৩ হাজার গ্রামে নলের মাধ্যমে পানীয় জল পৌঁছবে, তখন ৪০ লক্ষেরও বেশি মানুষের জীবন বদলে যাবে। এর মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশ তথা দেশের প্রত্যেক বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার সঙ্কল্প আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এই প্রকল্প করোনা সংক্রমণ সত্ত্বেও আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বিশেষ করে, উত্তরপ্রদেশে এই কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। আগে যাঁরা উত্তরপ্রদেশ সম্পর্কে ভাবতেন, অনুমান করতেন, আজ যেভাবে উত্তরপ্রদেশে একের পর এক বিভিন্ন প্রকল্প চালু হচ্ছে, উত্তরপ্রদেশ সরকারের কর্মচারীদের ভাবমূর্তি মানুষের মনে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হচ্ছে।

 

এভাবে এই সময়কালের মধ্যে উত্তরপ্রদেশে করোনার বিরুদ্ধে যেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছে, প্রবাস থেকে গ্রামে ফিরে আসা শ্রমিক বন্ধুদের সুখ-সুবিধার প্রতি যেভাবে লক্ষ্য রাখা হয়েছে, তাঁদের রোজগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে, এটা ছোট কাজ নয়। এতবড় প্রদেশে এত সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্মভাবে একসঙ্গে এতদিকে কাজ করা কম কথা নয়। উত্তরপ্রদেশ অসাধ্যসাধন করছে। আমি উত্তরপ্রদেশের জনগণকে, উত্তরপ্রদেশের সরকারকে এবং যোগীজির নেতৃত্বাধীন সম্পূর্ণ টিমকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

 

বন্ধুগণ,

 

প্রত্যেক বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার অভিযান শুরু হওয়ার পর এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এই সময়ের মধ্যে দেশের ২ কোটি ৬০ লক্ষের বেশি পরিবারে নলের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর এর মধ্যে আমাদের উত্তরপ্রদেশের কয়েক লক্ষ পরিবার উপকৃত হয়েছে।

 

আমরা আমাদের গ্রামে বসবাসকারী ভাই ও বোনেদের জন্য শহরের মতো পরিষেবা প্রদানের নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছি। আজ যে প্রকল্পগুলি শুরু হচ্ছে, সেগুলির মাধ্যমেও এই অভিযান আরও গতিশীল হবে। তাছাড়া, 'অটল ভূ-জল যোজনা'র মাধ্যমে জলস্তর বৃদ্ধির জন্য যে কাজ করা হচ্ছে, তাও এই অঞ্চলের মানুষের অনেক উপকারে লাগবে।

 

ভাই ও বোনেরা,

 

আমাদের গুণীজনেরা বলেন, ‘এক পন্থ, দো কাজ'। কিন্তু আজ যে প্রকল্পগুলি রচিত হচ্ছে, সেখানে তো 'এক পন্থ অনেক কাজ'। একই কাজের মাধ্যমেও অনেক লক্ষ্য সিদ্ধ হচ্ছে। জল জীবন মিশনের মাধ্যমে বাড়িতে বাড়িতে নলের মাধ্যমে জল পৌঁছনোর ফলে আমাদের মা ও বোনেদের জীবন সহজ হচ্ছে। এর দ্বারা আমাদের গরীব পরিবারগুলির স্বাস্থ্য সুরক্ষিত হচ্ছে। এর ফলে, অপরিশ্রুত জল থেকে যে কলেরা, টাইফয়েড, এনসেফেলাইটিসের মতো অনেক রোগ হয়, সেগুলির প্রকোপ অনেক কমেছে। শুধু তাই নয়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের পাশাপাশি পশুধনদেরও অনেক উপকার হচ্ছে। পশুরা যদি পরিশ্রুত জল পান করে, তাহলে তারা অনেক বেশি সুস্থ থাকে। গৃহপালিত পশুরা সুস্থ থাকলে কৃষকের এবং পশুপালকদের জীবনের সমস্যা অনেক কমে যায়। তাঁদের জীবন থেকে এই সমস্যাগুলি মুছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। এখানে উত্তরপ্রদেশে যোগীজির সরকারের প্রচেষ্টায় যেভাবে এনসেফেলাইটিসের রোগীর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে তার চর্চা এখন অনেক দূর পর্যন্ত চলে গেছে। বিশেষজ্ঞরাও এই নিয়ে কথা বলছেন। নির্দোষ শিশুদের জীবন বাঁচানোর জন্য যোগীজি এবং তাঁর গোটা টিম যেভাবে কাজ করছেন, উত্তরপ্রদেশের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তাঁরা যেভাবে আশীর্বাদ পাচ্ছেন, তা আগে কেউ কল্পনাও করেনি। যখন বিন্ধ্যাচলের হাজার হাজার গ্রামে নলের মাধ্যমে পানীয় জল পৌঁছবে, তখন এই অঞ্চলের নির্দোষ শিশুদের স্বাস্থ্যও উন্নত হবে, তাদের শারীরিক এবং মানসিক বিকাশ আরও উন্নত হবে। শুধু তাই নয়, যখন বিশুদ্ধ পানীয় জল পাওয়া যাবে, তখন অপুষ্টির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইও আরও ভালো ফলদায়ক হবে। অপুষ্টির বিরুদ্ধে আমরা যে পরিশ্রম করছি তা অনেক বেশি সুফলদায়ক হবে।

 

বন্ধুগণ,

 

‘জল জীবন মিশন’ সরকারের সেই সঙ্কল্পের অঙ্গ যার মাধ্যমে স্বরাজের শক্তিকে গ্রামের বিকাশের মাধ্যম করে তোলা হচ্ছে। গ্রাম স্বরাজ – এই ভাবনা নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে, স্থানীয় সংস্থাগুলিকে যত বেশি সম্ভব অধিকার প্রদান করা হচ্ছে। জল জীবন মিশনের মাধ্যমে বাড়িতে বাড়িতে জল পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে জল ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আর এক্ষেত্রে গ্রামের মানুষদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। গ্রামে জলের উৎসগুলির সংরক্ষণ নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজও করা হচ্ছে, জল সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

 

সরকার একটি বন্ধুর মতো, সহায়কের মতো, আপনাদের উন্নয়ন যাত্রার অংশীদারের মতো আপনাদের পাশে আছে। শুধু জল জীবন মিশন নয়, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মাধ্যমে যে গরীব মানুষের জন্য পাকা বাড়ি তৈরি হচ্ছে, সেখানেও এই ভাবনার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। কোন এলাকায় কিরকম বাড়ি হবে, কী দিয়ে বাড়ি তৈরি হবে, আগের মতো এসব বিষয় আর দিল্লিতে বসে ঠিক করা হয় না। যদি কোনও আদিবাসী গ্রামে বিশেষ পরম্পরার বাড়ি তৈরি হয়, তাহলে দিল্লিতে বসে কেউ যেরকম ভাববে সেরকম বাড়ি বানালে চলবে না। সেখানকার আদিবাসী বন্ধুরা যেরকম চাইবেন, যেভাবে চাইবেন, তাঁদের আচার-আচরণ, তাঁদের স্বভাবের অনুকূল বাড়ি তৈরি হওয়া উচিত। সরকার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মাধ্যমে তাঁদের সামনে সেরকম বাড়ি তৈরি করার ব্যবস্থা করছে।

 

ভাই ও বোনেরা, মানুষ যখন নিজের গ্রামের উন্নয়নের জন্য নিজেরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা পান, আর তাঁদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ হয়, তখন সেই গ্রামের প্রত্যেক ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। আত্মনির্ভর গ্রামগুলি আত্মনির্ভর ভারত অভিযানকে অনেক শক্তিশালী করে তুলছে। এতে স্থানীয় স্তরে উৎপাদিত পণ্য বেশি ব্যবহার করা হয়। স্থানীয় স্তরের দক্ষ মানুষদের বেশি কর্মসংস্থান হয়। রাজমিস্ত্রী থেকে শুরু করে ফিটার, প্লাম্বার, ইলেক্ট্রিশিয়ান – এরকম অনেক বন্ধুরা গ্রামে কিংবা পার্শ্ববর্তী গ্রামেই তাঁদের কর্মসংস্থান হয়।

 

বন্ধুগণ,

 

উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমাদের গ্রামগুলিকে, গ্রামে বসবাসকারী দরিদ্র মানুষদের এবং আদিবাসী মানুষদের আমাদের সরকার যত অগ্রাধিকার দিচ্ছে তা অন্য কোন সরকার দেয়নি। দরিদ্র থেকে দরিদ্রতম মানুষকে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রাম ও অরণ্য সন্নিহিত অঞ্চলের মানুষদের দ্বিগুণ লাভ হয়েছে। প্রথমত, লাভবান হয়েছেন আমাদের মা ও বোনেরা। তাঁরা উনুনের ধোঁয়ায় রান্না করা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। জ্বালানি কাঠের খোঁজে তাঁদেরকে যে সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হত, তা থেকেও মুক্তি পেয়েছেন। এখানে এত বিপুল সংখ্যক মা ও বোনেরা বসে আছেন। আগে যখন আমরা কাঠের উনুন জ্বালিয়ে খাবার তৈরি করতাম, তখন মা ও বোনেদের শরীরে একদিনে ৪০০ সিগারেট খেলে যত ধোঁয়া যায়, ততটাই ধোঁয়া তাঁদের ফুসফুসে ঢুকত। বাড়ির বাচ্চারা ধোঁয়ায় কাঁদত। মা রান্না করত ৪০০ সিগারেটের সমান ধোঁয়া বাড়ির সকলের শরীরে যেত। তাহলে তাঁদের শরীরের অবস্থা কী হত? তা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমরা একটা বড় অভিযান শুরু করেছিলাম বাড়িতে বাড়িতে গ্যাসের উনুন, গ্যাস সিলিন্ডার প্রদানের মাধ্যমে যাতে আমার মা ও বোনেদের প্রতিদিন ৪০০টি সিগারেটের সমান ধোঁয়া আর শরীরে না নিতে হয়। অন্যদিকে, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের জন্য জঙ্গলে গিয়ে পরিশ্রম ও সময় নষ্ট না করতে হয়।

 

দেশের বাকি গ্রামগুলির মতো এই অঞ্চলের গ্রামগুলিতেও বিদ্যুতের সমস্যা ছিল। আজ এই অঞ্চল সৌরশক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশ্বে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। মির্জাপুরের সৌরশক্তি উৎপাদন কেন্দ্র এই অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন অধ্যায় লিখছে। এভাবে সেচের ক্ষেত্রে অনেক নতুন সুবিধা চালু হওয়ায় এতদিন অভাবগ্রস্থ হয়ে থাকা বিন্ধ্যাচল, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পিছিয়ে থাকা বিন্ধ্যাচল এখন দ্রুতগতিতে উঠে আসছে। এই এলাকায় দীর্ঘকাল ধরে ঝুলে থাকা সেচ প্রকল্পগুলি এখন সম্পূর্ণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ঊষর নিষ্ফলা জমিতে কৃষকরা যাতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে অতিরিক্ত উপার্জন করতে পারেন, সেজন্য তাঁদের সাহায্য করা হচ্ছে। আমাদের অন্নদাতারা এখন শক্তিদাতা হয়ে উঠছেন। তাঁরা যে শস্য উৎপাদন করেন, তা দিয়ে আমাদের পেট ভরে। এখন তাঁরা নিজেদের খেতে ফসলের পাশাপাশি শক্তিও উৎপাদন করছেন এবং নিজেদের পাশাপাশি অন্যদের জীবনকেও আলোকিত করে তুলছেন।

 

আমরা বিন্ধ এলাকার উন্নয়নের জন্য যথাসম্ভব চেষ্টা করছি। এই এলাকায় চিকিৎসা পরিকাঠামো উন্নত করা থেকে শুরু করে উন্নতমানের সড়ক নির্মাণ – এই ধরনের অনেক উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। বিদ্যুতের পরিস্থিতি আগে কেমন ছিল আর এখন কিরকম, তা আপনাদের থেকে আর ভালো কে জানে।

 

ভাই ও বোনেরা, গ্রামে বিশ্বাস এবং উন্নয়নের অভাবের প্রেক্ষিতে আরেকটি বড় সমস্যা ছিল বাড়ি এবং জমি নিয়ে বিবাদ। উত্তরপ্রদেশের এই অঞ্চলের বসবাসকারী মানুষের থেকে বেশি এই সমস্যাকে আর কারা বুঝবেন। এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে জমি হস্তান্তরের কোনও আইনসম্মত দলিল ছিল না। কারোর বাড়ি থাকলে সেই বাড়িটি কতটা লম্বা, কতটা চওড়া, তার উচ্চতা কত তার কোনও কাগজ ছিল না। দশকের পর দশক ধরে মানুষ এভাবেই বেঁচে ছিলেন আর এই সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন। বিবাদ, মামলা, মোকদ্দমা, মারপিট বেড়েই চলেছিল। কেউ কারোর গলা কেটে দিত, ভাই-ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া হত। এক ফুট জমির জন্য প্রতিবেশীর সঙ্গে লড়াই হয়ে যেত। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য 'স্বামীত্ব যোজনা'র মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশে ড্রোন প্রযুক্তি দিয়ে বাড়ি ও জমির মানচিত্রায়ন শুরু হয়েছে। এই মানচিত্রগুলির ভিত্তিতে বাড়ি ও জমির আইনসম্মত দলিল বাড়ি ও জমির মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে গ্রামে বসবাসকারী দরিদ্র, আদিবাসী, বঞ্চিত বন্ধুদের জমি ও বাড়ি জবরদখল হওয়ার আশঙ্কা থেকে নিশ্চিন্ত হয়ে তাঁরা জীবনযাপন করতে পারবেন। আমি জানি গুজরাটে আপনাদের অঞ্চল থেকে অনেক মানুষ কাজ করতে যান। তাঁদের সঙ্গে আমি অনেক কথা বলেছি আর এই সমস্যাগুলির কথা শুনেছি। এখন এই দলিল হাতে পাওয়ার পর আপনারা সবাই এই সমস্ত সঙ্কট থেকে মুক্ত হবেন। শুধু তাই নয়, প্রয়োজন পড়লে আপনার বাড়ি কিংবা জমির যে দলিল, সেই কাগজ ব্যাঙ্কে জমা রেখে আপনারা ঋণ নিতে পারবেন।

 

বন্ধুগণ,

 

আজ আমাদের সরকার 'সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস' – এই মন্ত্র নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই মন্ত্র এখন দেশের প্রত্যেক অংশে, প্রত্যেক নাগরিকের বিশ্বাসের মন্ত্রে পরিণত হয়েছে। আজ দেশের প্রত্যেক এলাকার প্রতিটি মানুষ অনুভব করছেন যে সরকার তাঁদের কাছে পৌঁছচ্ছে আর তাঁরাও দেশের উন্নয়নের অংশীদার। আমাদের জনজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলিতেও আজ এই আত্মবিশ্বাস তাঁদের মধ্যে একটি নতুন শক্তি জোগাচ্ছে এটা আমি দেখতে পাচ্ছি। জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে মূল পরিষেবাগুলি এখন ঠিকঠাক পৌঁছচ্ছে। আর এই এলাকাগুলির জন্য রচিত বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমেও নতুন নতুন পরিষেবা পৌঁছচ্ছে। বিভিন্ন জনজাতির যুবক-যুবতীদের শিক্ষার জন্য সারা দেশে কয়েকশ' একলব্য আবাসিক মডেল স্কুল মঞ্জুর করা হয়েছে। এগুলির মাধ্যমে আমাদের জনজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলের শিশুরা ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা করতে পারবে। তাদের জন্য বেশ কিছু স্কুল উত্তরপ্রদেশেও খুলেছে। প্রত্যেক জনজাতি অধ্যুষিত ব্লকে এই ধরনের ছাত্রাবাস ও পড়াশোনার সুবিধা গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

পড়াশোনার পাশাপাশি রোজগারের সম্ভাবনাও খুঁজে দেওয়া হচ্ছে। অরণ্যজাত পণ্যসামগ্রীর ভালো দাম যেন আদিবাসীরা পান, সেজন্য সারা দেশে ১,২০০ বনধন কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এগুলির মাধ্যমে কয়েকশ' কোটি টাকার বাণিজ্য সম্ভব হয়েছে।

 

শুধু তাই নয়, এখন আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের মাধ্যমে অরণ্যজাত বিভিন্ন উপাদান-ভিত্তিক শিল্পোদ্যোগও আদিবাসী এলাকাগুলিতে চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। জনজাতি এলাকাগুলির উন্নয়নের জন্য যাতে অর্থের অভাব না হয়, সেজন্য জেলায় জেলায় ডিস্ট্রিক্ট মিনারেল ফান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। এর পেছনে ভাবনাটি হলো, জনজাতি অঞ্চলগুলি থেকে যে খনিজ সম্পদ পাওয়া যায়, সেগুলির একটা অংশ যেন সেই অঞ্চলের উন্নয়নে লাগে। উত্তরপ্রদেশেও এই তহবিলে এখনও পর্যন্ত ৮০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে ৬,৫০০ থেকেও বেশি প্রকল্প মঞ্জুর করা হয়েছে এবং কয়েকশ' প্রকল্প সম্পূর্ণ হয়ে গেছে।

 

বন্ধুগণ,

 

এভাবে অসংখ্য উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে প্রতিদিন ভারতে সাধারণ মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে। এই আত্মবিশ্বাসের ভিত্তিতেই আমরা আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার অভিযানে নেমে পড়েছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ‘বিন্ধ জলাপূর্তি যোজনা’র মাধ্যমে এই আত্মবিশ্বাস আরও মজবুত হবে।

 

হ্যাঁ, এর মধ্যে আপনাদের এটাও মনে রাখতে হবে যে করোনা সংক্রমণের বিপদ এখনও তেমনই রয়ে গেছে। দুই গজের দূরত্ব, মাস্ক পড়া এবং সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার যে নিয়ম আপনারা এতদিন ধরে পালন করে আসছেন তা যেন কোনভাবেই ভুলে না যান। সামান্য গাফিলতি নিজেকে, পরিবারকে, গ্রামকে আরও সঙ্কটের দিকে ঠেলে দিতে পারে। প্রতিষেধক উৎপাদনের জন্য আমাদের বৈজ্ঞানিকরা কঠিন তপস্যা করছেন। সারা পৃথিবীর বৈজ্ঞানিকরা এজন্য কাজ করছেন। সব থেকে ধনবান দেশের  বৈজ্ঞানিকরা কাজ করছেন, আবার গরীব দেশের বৈজ্ঞানিকরা কাজ করছেন। কিন্তু যতদিন পর্যন্ত এই ওষুধ না আসছে, ততদিন পর্যন্ত ঢিলে দিলে চলবে না।

 

আপনারা এই বিষয়গুলি মাথায় রাখবেন - এই বিশ্বাস নিয়ে আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ, অনেক অনেক শুভকামনা।

***

 

CG/SB/DM



(Release ID: 1674945) Visitor Counter : 58