প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর

‘আত্মনির্ভর উত্তরপ্রদেশ রোজগার অভিযান'-এর সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী

Posted On: 26 JUN 2020 2:24PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২৬ জুন, ২০২০

 

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে আজ নতুন দিল্লিতে 'আত্মনির্ভর উত্তরপ্রদেশ রোজগার অভিযান'-এর উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে গ্রামে ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ গড়ে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পোদ্যোগগুলিকে উৎসাহ প্রদান করা হবে। 

এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন,  "কোভিড-১৯ মহামারীর ফলে আমরা যে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি, আমরা সকলেই সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সক্ষম হব।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত এর কোনও প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কার না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত দুই গজের দূরত্ব বজায় রাখা এবং মাস্ক দিয়ে মুখ ঢাকা সবথেকে ভালো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।” যেভাবে উত্তরপ্রদেশ এই বিপর্যয়কে সুযোগে পরিবর্তিত করেছে তাতে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যেভাবে মানুষ এই মহামারীর সময়ে লাগাতার কাজ করে গেছেন সেই প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, অন্যান্য রাজ্যকেও 'আত্মনির্ভর উত্তরপ্রদেশ রোজগার অভিযান' থেকে অনেক কিছু শিখতে হবে এবং এ থেকে প্রেরণা নিতে হবে। 

প্রধানমন্ত্রী উত্তরপ্রদেশ প্রদর্শিত সাহস এবং বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করেন। "যখন সারা পৃথিবী করোনা সংক্রমণের এত বড় সঙ্কটে পর্যুদস্ত, সেই সময়ে উত্তরপ্রদেশের এই সাফল্য এবং যেভাবে তারা পরিস্থিতি সামলেছে সেটি অভূতপূর্ব এবং প্রশংসনীয়।" প্রধানমন্ত্রী উত্তরপ্রদেশের চিকিৎসকবৃন্দ, চিকিৎসাকর্মী, সাফাই কর্মচারী, পুলিশ, আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, ব্যাঙ্ক, ডাকঘর, পরিবহণ শিল্প এবং শ্রমিকদের অবদানের প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী কয়েকশ' শ্রমিক এক্সপ্রেস ট্রেন পরিষেবা প্রদান করে  রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশ সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “সারা দেশ থেকে ৩০ লক্ষেরও বেশি পরিযায়ী শ্রমিক বিগত কয়েক সপ্তাহে উত্তরপ্রদেশে নিজেদের গ্রামে ফিরে এসেছেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝেছেন এবং তাঁর সরকার এই পরিস্থিতি দেখে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করেছে।” 

প্রধানমন্ত্রী উত্তরপ্রদেশ সরকারের অভূতপূর্ব কাজের প্রশংসা করে বলেন, “রাজ্য সরকার এটি সুনিশ্চিত করেছে যাতে কোনও গরীব ক্ষুধার্থ না থাকেন।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যাণ অন্ন যোজনার অন্তর্গত গরীব ও পরিযায়ী শ্রমিকদের বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশ সরকার অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে কাজ করেছে। এর দ্বারা তাঁরাও লাভবান হয়েছেন যাঁদের কাছে কোনও রেশন কার্ড ছিল না” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এছাড়া, উত্তরপ্রদেশের ৭৫ লক্ষ গরীব মহিলার জন ধন অ্যাকাউন্টে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা সরাসরি প্রেরণ করা হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “উত্তরপ্রদেশ ভারতকে দ্রুতগতিতে আত্মনির্ভরতার পথে নিয়ে যাওয়ার অভিযানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে গরীব কল্যাণ রোজগার অভিযানকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।” তিনি আরও বলেন, “গরীব কল্যাণ রোজগার অভিযানের মাধ্যমে শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধির জন্য গ্রামে অনেক ধরনের কাজ শুরু করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষকে গ্রামীণ বিকাশ সংক্রান্ত প্রকল্পগুলির অন্তর্গত অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগগুলিতে নিযুক্ত করে তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাছাড়া, হাজার হাজার মানুষকে স্বরোজগার প্রকল্পে উৎসাহিত করতে মুদ্রা যোজনার মাধ্যমে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে।” 

শ্রী মোদী বলেছেন, “যখন সারা দেশে আত্মনির্ভর রোজগার অভিযানের মাধ্যমে এ ধরনের স্থানীয় পণ্যকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য শিল্পোদ্যোগগুলির ক্লাস্টার তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশ অনেক উপকৃত হবে।”

প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি কৃষিক্ষেত্রে সরকার ঘোষিত বিভিন্ন সংস্কার নিয়ে আলোকপাত করেন যাতে কৃষকদের অনেক আইনের বেড়াজাল থেকে হয়েছে। তিনি বলেন, “এখন ভারতের কৃষকরা দেশের যে কোনও জায়গায় নিজেদের উৎপাদিত ফসল স্বাধীনভাবে বিক্রি করতে পারবেন আর, নিজেরাই দর-দাম করে ফসলের দাম নির্ধারণ করতে পারবেন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের পশুধনের জন্য অনেক নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পশুধন এবং ডেয়ারি ক্ষেত্রের জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ বুনিয়াদি কাঠামো তহবিল গড়ে তোলা হচ্ছে।”

প্রধানমন্ত্রী কুশিনগর বিমানবন্দরকে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘোষণা করার কথা উল্লেখ করে বলেন, “বুদ্ধ সার্কিটকে উৎসাহ প্রদানের ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হবে। এর মাধ্যমে দেশের পূর্বাঞ্চলে বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশ-বিদেশ থেকে মহাত্মা বুদ্ধের কোটি কোটি ভক্ত সহজেই উত্তরপ্রদেশ আসতে পারবেন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শুধু তিন বছরে গরীবদের জন্য ৩০ লক্ষেরও বেশি পাকা বাড়ি বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশকে উন্মুক্ত স্থানে শৌচকর্ম মুক্ত ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ সরকার স্বচ্ছ পদ্ধতিতে ইতিমধ্যেই ৩ লক্ষ যুবক-যুবতীকে সরকারি চাকরি দিয়েছে।”

শ্রী মোদী রাজ্যে শিশুমৃত্যুর হার কম করার জন্য রাজ্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলির কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, “বিগত তিন বছরে পূর্বাঞ্চল ক্ষেত্রে এনসেফেলাইটিস রোগীদের সংখ্যা ৯০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী উত্তরপ্রদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ, জল সরবরাহ এবং সড়কপথ নির্মাণের মতো বুনিয়াদি পরিষেবাগুলির ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়নের কথা বলেন। তিনি বিভিন্ন সুবিধাভোগী ও উপকৃতদের সঙ্গে তাঁদের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথাবার্তা বলেন। তাঁদের মধ্যে শ্রীমতী বিনীতা পাল, যিনি গোন্ডা জেলার একটি স্বসহায়ক ক্লাস্টারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, শ্রী তিলক রাম, যিনি বহরাইচ জেলায় প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার একজন সুবিধাভোগী, শ্রী অমরেন্দ্র কুমার, যিনি সন্ত কবীর নগর জেলার একজন শিল্পোদ্যোগী ছিলেন। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিক যেমন শ্রী কুরবান আলি, যিনি মুম্বাই থেকে গোরক্ষপুর জেলায় ফিরেছেন, গোরক্ষপুর জেলার শ্রী নাগেন্দ্র সিং, জানোন জেলার শ্রী দীপুর সঙ্গেও কথা বলেছেন। 

 

 

CG



(Release ID: 1655217) Visitor Counter : 49