স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নতুন নীতি-নির্দেশিকা জারি

সংক্রমিত এলাকাগুলির বাইরে চতুর্থ পর্যায়ের আনলকের সময় আরও বেশি কর্মকান্ডে অনুমতি

সংক্রমিত এলাকাগুলিতে লকডাউন কঠোরভাবে আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে

Posted On: 29 AUG 2020 8:05PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২৯ অগাস্ট, ২০২০

 

 


সংক্রমিত এলাকাগুলির বাইরে আরও বেশি কর্মকান্ড শুরু করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আজ নতুন নীতি-নির্দেশিকা জারি করেছে। চতুর্থ পর্যায়ের আনলক প্রক্রিয়া আগামী পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে পর্যায়ক্রমে আরও বেশি কর্মকান্ড শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির কাছ থেকে পাওয়া মতামতের ভিত্তিতে এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও দপ্তরগুলির সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনার পর আজ এই নতুন নীতি-নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

নতুন নীতি-নির্দেশিকার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য

• স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা করে আবাসন ও শহরাঞ্চল বিষয়ক মন্ত্রক এবং রেল মন্রক আগামী ৭ই সেপ্টেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে মেট্রো রেল পরিষেবা চালু করতে অনুমতি দেওয়া হবে। এই প্রেক্ষিতে আবাসন ও শহরাঞ্চল বিষয়ক মন্ত্রক আদর্শ কার্যপরিচালন বিধি জারি করবে।

• সামাজিক /শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত/খেলাধূলা/বিনোদন/সাংস্কৃতিক/ধর্মীয়/রাজনৈতিক সভাসমিতি ও অন্যান্য জমায়েতগুলিতে সর্বাধিক ১০০ জন ব্যক্তি অংশ নিতে পারবেন। এই নিয়ম আগামী ২১শে সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হচ্ছে। অবশ্য, সীমিত সংখ্যায় এ ধরনের জমায়েতে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে বাধ্যতামূলকভাবে ফেসমাস্ক ব্যবহার করতে হবে, সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে চলতে হবে, জমায়েত-স্থলে থার্মাল স্ক্রিনিং – এর ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে, হ্যান্ড ওয়াশ বা স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করতে হবে।


• খোলা রঙ্গমঞ্চে অনুষ্ঠান আয়োজন আগামী ২১শে সেপ্টেম্বর থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

• রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিদ্যালয়, কলেজ, শিক্ষামূলক তথা কোচিং প্রতিষ্ঠানগুলি এবং এ ধরনের শিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলিতে নিয়মিতভাবে ক্লাস আয়োজন করা আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। অবশ্য, অনলাইন/দূরবর্তী শিক্ষায় উৎসাহ দেওয়া হবে। কেবল সংক্রমিত এলাকাগুলির বাইরে নিম্নলিখিত কর্মকান্ডে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগামী ২১শে সেপ্টেম্বর থেকে এই অনুমতি কার্যকর হচ্ছে। তবে, কর্মকান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে আদর্শ কর্মপরিচালন বিধি (এসওপি) জারি করা হবে :

ক) অনলাইন শিক্ষণ/টেলিকাউন্সেলিং এবং এ সম্পর্কিত কাজকর্ম পরিচালনার জন্য একবারে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীকে বিদ্যালয়ে আসার অনুমতি দিতে পারবে রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি।

খ) কেবল সংক্রমিত এলাকার বাইরে নবম থেকে দশম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীকে বিদ্যালয়ে আসার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছ থেকে অধ্যয়নের জন্য ছাত্রছাত্রীরা স্বেচ্ছায় বিদ্যালয়ে আসতে পারবে। বিদ্যালয়ে অধ্যয়নের জন্য আসতে ইচ্ছুক সংশ্লিষ্ট ছাত্রছাত্রীর পিতামাতা/অভিভাবককে এ ব্যাপারে লিখিত সম্মতিপত্র দিতে হবে।

গ) জাতীয় দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (আইটিআই), জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নিগম অথবা রাজ্য দক্ষতা উন্নয়ন মিশন অথবা ভারত সরকারের অন্যান্য মন্ত্রক বা রাজ্য সরকারের অধীন স্বল্প মেয়াদী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলিতে দক্ষতা বা শিল্পোদ্যোগ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের অনুমতি দেওয়া হবে।

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর এন্টারপ্রিনিয়রশিপ অ্যান্ড স্মল বিজনেস ডেভেলপমেন্ট (এনআইইএসবিইউডি), ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ এন্টারপ্রিনিয়রশিপ এবং এই  প্রতিষ্ঠানগুলির স্বীকৃত প্রশিক্ষণ পরিষেবা দাতাদের প্রশিক্ষণের অনুমতি দেওয়া হবে।


• গবেষণাগার/অনুসন্ধানমূলক কাজকর্মের জন্য কেবল উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির রিসার্চ স্কলার (পিএইচডি) এবং টেকনিক্যাল তথা প্রফেশনাল কর্মসূচি স্নাতকোত্তর ছাত্রছাত্রীদের গবেষণাধর্মী কাজকর্মে অনুমতি। অবশ্য, সংশ্লিষ্ট রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে কেন্দ্রীয় উচ্চ শিক্ষা দপ্তর এ ধরনের কর্মকান্ড পরিচালনায় অনুমতি দেবে।

• সংক্রমিত এলাকাগুলির বাইরে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলি বাদ দিয়ে সমস্ত কর্মকান্ডে অনুমতি দেওয়া হবে :

১) সিনেমা হল, সুইমিংপুল, বিনোদন পার্ক, রঙ্গমঞ্চ (মুক্ত রঙ্গমঞ্চ বাদ দিয়ে) এবং এ ধরনের জায়গা।
২) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুমতিপ্রাপ্ত পরিষেবা ছাড়া যাত্রীবাহী সমস্ত আন্তর্জাতিক বিমান সফর।

• সংক্রমিত এলাকাগুলিতে লকডাউন কঠোরভাবে আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

• কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের নীতি-নির্দেশিকাগুলি বিবেচনায় রেখে মাইক্রো লেভেল পর্যায়ে জেলা কর্তৃপক্ষগুলি সংক্রমিত এলাকার সীমানা নির্ধারণ করবে। তবে, এ ধরনের সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা কর্তৃপক্ষগুলিকে সংক্রমণ-শৃঙ্খল ভেঙ্গে ফেলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সংক্রমিত এলাকাগুলিতে বিধিনিষেধ কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে এবং জরুরি কর্মকান্ডেই কেবল অনুমতি দেওয়া হবে।


• সংক্রমিত এলাকার ভেতরে কঠোরভাবে বিধিনিষেধ ও সংক্রমণ-শৃঙ্খল ভেঙ্গে ফেলার নীতি মেনে চলতে হবে। সেই সঙ্গে, জরুরি কর্মকান্ডেই কেবল অনুমতি মিলবে।

• সংক্রমিত এলাকাগুলি সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের পাশাপাশি, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ওয়েবসাইটে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। সেই সঙ্গে, সংক্রমিত এলাকাগুলির বিবরণ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের সঙ্গে বিনিময় করতে হবে।

সংক্রমিত এলাকার বাইরে রাজ্যগুলি স্থানীয় পর্যায়ে কোনও রকম লকডাউন কার্যকর করতে পারবে না

কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে প্রাক্-আলোচনা ছাড়া রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত প্রশাসনগুলি রাজ্য/জেলা/মহকুমা/শহর/গ্রাম পর্যায়ে স্থানীয়ভাবে কোনও রকম লকডাউন আরোপ করতে পারবে না।

আন্তঃরাজ্য ও রাজ্যের মধ্যে যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা নেই

• আন্তঃরাজ্য ও রাজ্যের মধ্যে ব্যক্তি-বিশেষ তথা পণ্য সামগ্রীর যাতায়াতে কোনও নিষেধাজ্ঞা থাকছে না। এ ধরনের যাতায়াতের জন্য পৃথকভাবে কোনও রকম অনুমোদন/ছাড়পত্র/ই-পার্মিটের প্রয়োজন নেই।

কোভিড-১৯ মোকাবিলার জন্য জাতীয় নির্দেশিকা

• সামাজিক দূরত্ববিধি সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে সারা দেশে কোভিড-১৯ মোকাবিলা ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতীয় নীতি-নির্দেশিকাগুলি কার্যকর থাকবে। দোকানগুলিতে গ্রাহকদের মধ্যে যথাযথ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। জাতীয় নির্দেশিকাগুলির কার্যকর রূপায়ণের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নজর রাখছে।

সহজেই সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের সুরক্ষা

• জরুরি সাক্ষাৎ এবং স্বাস্থ্যগত বিষয় ছাড়া ৬৫ বছর বয়সের বেশি, অন্যান্য উপসর্গ বিশিষ্ট ব্যক্তি, গর্ভবতী মহিলা এবং ১০ বছরের কম বয়সী শিশু – যাদের সহজেই সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাদের বাড়িতেই থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরোগ্য সেতুর ব্যবহার

• আরোগ্য সেতু মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারে উৎসাহ দান অব্যাহত থাকবে।

 



CG/BD/SB



(Release ID: 1649665) Visitor Counter : 115