স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

'পুলিশ স্মরণ দিবস' উপলক্ষে পুলিশ কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহের

প্রকাশিত: 21 OCT 2026 1:41PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ 

 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ আজ নয়াদিল্লির জাতীয় পুলিশ স্মৃতিসৌধে ‘পুলিশ স্মরণ দিবস’ উপলক্ষে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই উপলক্ষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ‘মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই’-এর বার্তা নিয়ে আয়োজিত দেশব্যাপী মোটরসাইকেল র‍্যালির সূচনা করেন। পুলিশ স্মরণ দিবসের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য শ্রী কৃষ্ণ প্রসাদ তেনেটি ও শ্রী রাজীব কুমার, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব শ্রী গোবিন্দ মোহন সহ অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকরা।

 

 

তাঁর ভাষণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ বলেন, স্বাধীনতা থেকে আজ পর্যন্ত দেশের সেবায় যাঁরা সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন, সেই সাহসী পুলিশ কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তাঁরা আজ জাতীয় পুলিশ স্মৃতিসৌধে সমবেত হয়েছেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার প্রায় আট দশক পর ভারত আজ বিশ্বমঞ্চে এক সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা এবং সীমান্ত সুরক্ষার জন্য এই কর্মীরা যদি নিজেদের জীবন উৎসর্গ না করতেন, তবে আজ আমরা কোথায় থাকতাম, তা কল্পনাও করা যায় না।

 

 শ্রী শাহ জানান, ভারতীয় পুলিশের জন্য ২০২৬ সালটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ, ভারত নকশালবাদ থেকে মুক্তি লাভ করে, যে সমস্যাটি কয়েক দশক ধরে ভারতকে জর্জরিত করে রেখেছিল। ১৯৮১ সাল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত, নকশালবাদের কারণে ভারতকে বহু কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে অনেক সাহসী নিরাপত্তা কর্মী এবং নিরপরাধ সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ৩,৬০০ জনেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ১৩,৭০০ জন নিরপরাধ সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শহীদ কর্মীদের পরিবারের উদ্দেশে বলেন, পাঁচ দশক ধরে চলে আসা এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার পর দেশ যখন উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে, তখন এই ৩,৬০০ জন কর্মীর আত্মত্যাগই সেই অগ্রগতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। শহীদদের পরিবারের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, তাঁদের এই ক্ষতি কোনওভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়; তবে ১৪০ কোটি মানুষের এই দেশ তাঁদের পরিবারের নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।

 

 

 

‘পুলিশ স্মরণ দিবস’-এর ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে শ্রী অমিত শাহ বলেন, ১৯৫৯ সালের ২১ অক্টোবর লাদাখের দুর্গম ও প্রতিকূল ‘হট স্প্রিংস’ অঞ্চলে চিনা বাহিনীর আক্রমণের মুখে সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে সিআরপিএফ-এর ১০ জন জওয়ান প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন। হট স্প্রিংসের সেই ঘটনা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, সুউচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে যখন লড়াই চলছিল, তখন তার পরিণতি প্রায় নিশ্চিতই ছিল। তবুও এই অমর বীরেরা তাঁদের সংকল্পে অটল ছিলেন – দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন বিদেশিদের হাতে না যায়। কর্তব্য পালন করতে গিয়ে তাঁরা সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছিলেন। সেই সময় থেকেই প্রতি বছর ২১ অক্টোবর ‘পুলিশ স্মরণ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তিনি জানান, যে ‘জাতীয় পুলিশ স্মৃতিসৌধে’-আজ সবাই সমবেত হয়েছেন, তা ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বোধন করেছিলেন। সারা দেশে যে সব পুলিশকর্মী প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই স্মৃতিসৌধটি তৈরি করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল, পুলিশ বাহিনীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিজেদের দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকতে এবং প্রয়োজনে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে অনুপ্রাণিত করা। তিনি আরও বলেন, এই স্মৃতিসৌধটি এখন সারা দেশের নাগরিকদের কাছে শ্রদ্ধার একটি স্থানে পরিণত হয়েছে। কৃতজ্ঞ নাগরিকরা এখানে এসে ৩৬,৮৫২ জন পুলিশকর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের সেবা ও আত্মত্যাগের জন্য জাতির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন যে, সমস্ত সরকারি পরিষেবার মধ্যে পুলিশ পরিষেবা অন্যতম চ্যালেঞ্জিং একটি ক্ষেত্র। দেশের প্রতিটি নাগরিক যখন রক্ষা বন্ধন, হোলি, দীপাবলি ও ঈদের মতো উৎসব উদযাপন করেন, তখন পুলিশ কর্মীদের প্রায়ই এই উৎসবগুলি পালনের জন্য কোনও ছুটি থাকে না। তিনি বলেন, মানুষ যখন পরিবারের সঙ্গে উৎসব উদযাপন করেন, তখন পুলিশ কর্মীরা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে কর্তব্যরত থাকেন। 

 

 

 

শ্রী শাহ আরও বলেন, সারা দেশে এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে, যেখানে পুলিশ কর্মীরা অসাধারণ ধৈর্য, সংযম, শৃঙ্খলা, সাহস ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করেছেন। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মীরাই হলেন সুরক্ষার প্রথম ও শেষ প্রতিরক্ষা স্তর। তিনি সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন থাকা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেস-এর সব সদস্যের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

 

শ্রী শাহ বলেন, উত্তর প্রদেশ ও বিহারে নির্বাচনী হিংসা দূর করতে সফল হয়েছে ভারত, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচনী সহিংসতা অব্যাহত ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গ গত বিধানসভা নির্বাচনে নিরাপত্তা কর্মীরা কোনও প্রাণহানি ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন করার মাধ্যমে এক বড় সাফল্য অর্জন করেছেন। এর মধ্য দিয়ে সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেস একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। তিনি আরও বলেন, এখন পুরো দেশই স্বীকার করে যে, দেশে নির্বাচনী সহিংসতার অবসান ঘটেছে।

 

 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে দেশ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি চ্যালেঞ্জ কয়েক দশক ধরে চলে আসছিল। তিনি জানান, বর্তমানে তিনটি প্রধান সংবেদনশীল এলাকা —কাশ্মীর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং বামপন্থী চরমপন্থা প্রভাবিত অঞ্চলগুলিতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই অঞ্চলগুলিতে উন্নয়নের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং এখন সেগুলি উন্নয়নের নিরিখে দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামার জন্য প্রস্তুত। শ্রী শাহ জানান, কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর এবং হাজার হাজার মানুষের অস্ত্র সমর্পণের ফলে সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল শান্তির পথে এগিয়ে চলেছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা পাঁচ দশক ধরে চলে আসা নকশাল সমস্যার মূলোৎপাটনে বড় সাফল্য পেয়েছেন।

 

 

শ্রী অমিত শাহ বলেন, দেশ এখনও পুরোপুরি সমস্যা মুক্ত হয়নি এবং বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গিয়েছে। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশকে মাদক সমস্যা থেকে মুক্ত করার লক্ষ্য স্থির করেছে। ২০২৬ সালের অবশিষ্ট সময় এবং পরবর্তী তিন বছর ২০২৭, ২০২৮ ও ২০২৯ জুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে এক সমন্বিত লড়াইয়ের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন করা হবে। তিনি বলেন, মাদকের অপব্যবহার ও চোরাচালান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনাকে নষ্ট করে অর্থনীতির ওপর অনাবশ্যক বোঝা সৃষ্টি করে এবং প্রায়শই দেশবিরোধী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংগঠনগুলিকে আর্থিক সহায়তা জোগায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সারা দেশের পুলিশ বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ‘নেশা মুক্ত ভারত’ (মাদক মুক্ত ভারত)-এর রোডম্যাপ বাস্তবায়নে সর্বান্তকরণে শামিল হওয়ার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত করার কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

 

 

আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সূচনা করা এই মোটর সাইকেল র‍্যালিতে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড় ও দিল্লি), কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ, সিআইএসএফ, বিএসএফ, এসএসবি, আইটিবিপি ও এনএসজি) এবং কিছু কেন্দ্রীয় পুলিশ সংস্থা (আরপিএফ, এনডিআরএফ ও এনআইএ)-এর প্রায় ৯০ জন রাইডার অংশগ্রহণ করছেন। এই র‍্যালিটি ‘মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই’-এর বার্তাকে কেন্দ্র করে একটি দেশব্যাপী আয়োজিত প্রচারাভিযানের অংশ। এই অভিযানের আওতায় দেশের বিভিন্ন রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোটরসাইকেল আরোহীরা গুজরাটের একতা নগরে পৌঁছবেন এবং ‘একতা প্যারেড-২০২৬’-এ অংশগ্রহণ করবেন।

 

SC/MP/SB


(রিলিজ আইডি: 2326279) ভিজিটরের কাউন্টার : 7